নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দামে অস্বস্তিতে রয়েছে সাধারণ মানুষ। বাজারে বেশিরভাগ সবজির দাম চড়া। একই অবস্থা মাছ, মাংস ও ডিমেও। স্বস্তি নেই মুদি দোকানের পণ্যের দামেও। আলু, পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের দাম তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক থাকলেও সামগ্রিক বাজারদরে তার প্রভাব খুব একটা নেই। কেবল পেপে বাদ দিলে বর্তমানে সবচেয়ে কম দামের সবজিও ৫০ টাকা কেজি। আর কয়েকটি সবজির দাম উঠেছে ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। ফলে আয়-ব্যয়ের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে চাপে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বরের কাঁচাবাজার সরেজমিনে ঘুরে এই চিত্র দেখা যায়।
সবজির বাজার চড়া
শুধু পেপে বাদ দিলে আজকে সবচেয়ে কম মূল্যের সবজির দাম ৫০ টাকা এবং সবচেয়ে বেশি মূল্যের সবজির দাম ২০০ টাকা।
আজকের বাজারে প্রতি কেজি টমেটো ১২০-১৩০ টাকা, দেশি গাজর ১০০ টাকা, চায়না গাজর ১২০-১৩০ টাকা, লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, সাদা গোল বেগুন ১২০ টাকা, কালো গোল বেগুন ১৪০ টাকা, শিম ২০০ টাকা, দেশি শসা ৮০-৯০ টাকা, উচ্ছে ১০০ টাকা, করল্লা ১০০ টাকা, কাকরোল ৮০-১০০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ টাকা, পটল (হাইব্রিড) ৭০ টাকা, দেশি পটল ১২০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ টাকা, ধুন্দল ৭০ টাকা, ঝিঙা ৮০ টাকা, বরবটি ৯০ টাকা, কচুর লতি ৮০-১০০ টাকা, মূলা ৬০ টাকা, কচুরমুখী ৭০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৪০ টাকা, ধনেপাতা (মানভেদে) ২৮০ টাকা, শসা (হাইব্রিড) ৬০ টাকা, পেপে ৩০-৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। আর মানভেদে প্রতিটি লাউ ৭০ টাকা, চাল কুমড়া ৬০ টাকা, ফুলকপি ৮০ টাকা, বাধাকপি ৭০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি হালি কাঁচা কলা ৪০ টাকা। এছাড়া প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা করে।
এ ক্ষেত্রে দেখা যায়, উপরে উল্লেখিত ৩২টি সবজির মধ্যে ৮০ থেকে ১০০ টাকা বা এর ওপরে দাম রয়েছে ১৯টি সবজির। আর বাকি সবজিগুলোর দাম রয়েছে ৩০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে।
বাজার করতে আসা সাইফুল ইসলাম বলেন, দিনকে দিন সবকিছুর দাম বাড়ছে। কীভাবে যে কী করবো সেটাই ভেবে পাই না। শুধু বাজার না, রিকশাভাড়া থেকে শুরু করে সব কিছুর দাম বাড়তি। এভাবে সবকিছুর দাম বাড়লে আমরা কীভাবে চলবো?
বাজারে অন্যের মালামাল বহন করেন তরিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, অন্য মানুষ বাজার করে, সেগুলো টেনে নিয়ে যে টাকা পাই সেটা দিয়েই আমার ঘরের বাজার করি। এখন চিন্তা করে দেখেন যে আমি কত টাকা আসলে প্রতিদিন পাই। সব জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। কিন্তু আমি কি কারও থেকে ৫০ টাকার জায়গায় ১০০ টাকা নিতে পারবো? এটা চাইলেই তো আমাকে গালাগালি শুরু করবে। নাইলে আমাকে মালামাল নিতেই দেবে না। তাহলে আমি কীভাবে চলবো?
এদিকে সবজি বিক্রেতা মো. শাহ আলম বলেন, নতুন সবজি ভালোভাবে আসলেই সবজির দাম কমে যাবে। তার উপর অসময়ে বৃষ্টির কারণেও কিছুটা দাম বাড়তি আছে।
স্বস্তি আছে আদা-রসুন-আলু-পেঁয়াজের দামে
আলু-পেঁয়াজ, আদা-রসুনের বাজারে এখনও কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। তবুও ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে আলু- পেঁয়াজের দাম।
আজকে আকার ও মানভেদে ক্রস জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায় এবং দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা কেজিতে। এছাড়া প্রতি কেজি লাল আলু ২৫ টাকা, সাদা আলু ৩০ টাকা, বগুড়ার আলু ৪০ টাকা, দেশি রসুন ১০০ টাকা, চায়না রসুন ১৬০ টাকা, চায়না আদা ১৪০-১৫০ দরে বিক্রি হচ্ছে।
ডিম-মুরগির দাম বাড়তি
আজকে বাজারে প্রতি কেজি বয়লার মুরগি ১৮০- ১৮৮ টাকা, কক মুরগি ২৯০-৩০০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩৫০ টাকা, দেশি মুরগি ৬২০-৬৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৮০০ টাকা ও খাসির মাংস ১২৫০ টাকা কেজি। আর প্রতি ডজন মুরগির লাল ডিম ১৪০-১৪৫ টাকা এবং সাদা ডিম ১৩৫-১৪০ টাকা, হাঁসের ডিম ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
আল-আমিন চিকেন হাউজের বিক্রেতা শিপলু আহমেদ সোহেল বলেন, এখন বয়লারের দাম কিছুটা বারতি আছে। আর ককের দাম প্রায় দুই আড়াই মাস ধরে একই আছে। কিন্তু তেল গ্যাসের দাম বাড়াতে এই দামে অবশ্যই প্রভাব পড়বে। তখন দাম আরও বাড়তেও পারে, আবার এমনও হতে পারে যে দাম আর কমবে না।
শহিদ ডিম ঘরের বিক্রেতা সামিউল ইসলাম বলেন, সব ডিমের দাম এখন বাড়তি। মানুষের চাহিদাও আছে, তাই পাইকাররা দাম কমায় না। কারণ যতই দাম বাড়ুক তাদের তো বিক্রি হচ্ছেই। তাহলে শুধু শুধু তারা কেন কমাবে? কারও লাভ বেশি হলে তি আর তারা লাভ কমাতে চায়? এখন যদি মানুষের চাহিদা কমে যায় তাহলে অটোমেটিক আবার তারা দাম কমিয়ে ফেলবে। এই হচ্ছে পাইকারদের অবস্থা!
এছাড়া আজকের বাজারে আকার ও ওজন অনুযায়ী, ইলিশ ১৫০০-২৮০০ টাকা, রুই মাছ ৪০০- ৬০০ টাকা, কাতল মাছ ৩৫০-৬৫০ টাকা, কালিবাউশ ৪০০-৬০০ টাকা, চিংড়ি মাছ ৮০০- ১৮০০টাকা, কাঁচকি মাছ ৫০০ টাকা, কৈ মাছ ২৬০ টাকা, পাবদা মাছ ৪০০-৬০০ টাকা, বাতাসি মাছ ১৬০০ টাকা, কাজলি মাছ ১৪০০-২০০০ টাকা, শিং মাছ ৪০০-১২০০টাকা, টেংরা মাছ ৬০০-৮০০ টাকা, বেলে মাছ ১২০০-১৪০০ টাকা, বোয়াল মাছ ৮০০-১২০০ টাকা, রূপচাঁদা ১৪০০-১৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মুদি দোকানের পণ্যও ঊর্ধ্বমুখী
আজকে প্রতি কেজি প্যাকেট পোলাওয়ের চাল ২৩০ টাকা, খোলা পোলাওয়ের চাল মান ভেদে ১৬০-২০০ টাকা, ছোট মুসরের ডাল ১৪০-১৫০ টাকা, মোটা মুসরের ডাল ৯০ টাকা, বড় মুগ ডাল ১৪০ টাকা, ছোট মুগ ডাল ১৭০ টাকা, খেশারি ৮৫ টাকা, বুটের ডাল ১২০ টাকা, ছোলা ১০৫ টাকা, মাশকালাইয়ের ডাল ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ২০৪ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল ২০৫ টাকা (১ কেজি), কৌটাজাত ঘি ১৪০০ টাকা, খোলা ঘি ১৪০০ টাকা, প্যাকেটজাত চিনি ১১০ টাকা, খোলা চিনি ১১০ টাকা, দুই কেজি প্যাকেট ময়দা ১৭০ টাকা, আটা দুই কেজির প্যাকেট ১৪০ টাকা, খোলা সরিষার তেল প্রতি লিটার ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া এলাচি ৫৪০০ টাকা, দারুচিনি ৫০০ টাকা, লবংগ ১৪০০ টাকা, সাদা গোল মরিচ ১৩০০ টাকা ও কালো গোল মরিচ ১৩০০ টাকা , জিরা ৫০০ টাকা, কাজু বাদাম ১৪০০ টাকা, কাঠ বাদাম ১৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।