বন্ধ কারখানা চালুতে ১৮ দিনে ঋণ ছাড় ৪৫০ কোটি টাকা

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৫৫ আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৫৫

বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে ঋণ বিতরণে গতি ফিরেছে। ১৮ দিনের ব্যবধানে এ স্কিমের আওতায় ঋণ বিতরণ বেড়েছে প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা। তবে তহবিল বিতরণের এ অগ্রগতির মধ্যেও পোশাক খাতের একাংশের কারখানামালিকদের মধ্যে অর্থ ছাড় না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত এ স্কিমের আওতায় মোট ১ হাজার ৪৯০ কোটি টাকার ঋণের আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৫৬০ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। আরও ৯২৯ কোটি টাকার ঋণ বিতরণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এর আগে ১ অক্টোবর পর্যন্ত এ স্কিমের আওতায় ৮০০ কোটি টাকার ঋণের আবেদন জমা পড়েছিল। তখন আটটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ছাড় করা হয়েছিল মাত্র ১১০ কোটি টাকা। অর্থাৎ, ১৮ দিনের ব্যবধানে ঋণ বিতরণ বেড়েছে ৪৫০ কোটি টাকা। একই সময়ে নতুন আবেদন জমা পড়েছে প্রায় ৬৯০ কোটি টাকার।

তবে আবেদন, অনুমোদন ও প্রকৃত অর্থ ছাড়ের মধ্যে ব্যবধান থাকায় স্কিমটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের যেসব কারখানা প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে অর্থায়নের যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে, তাদের অনেকেই এখনো অর্থের অপেক্ষায় রয়েছেন বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট সংগঠন।

২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল

বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানা পুনরায় চালু করা এবং শিল্প উৎপাদনে গতি ফেরানোর লক্ষ্যে চলতি বছরের জুনে বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন স্কিমটি ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আওতায় যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে কম সুদে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

তবে স্কিম ঘোষণার পর আবেদন গ্রহণ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই এবং ঋণ বিতরণের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অক্টোবর পর্যন্ত সময় লেগেছে। ফলে ঘোষণার পরপরই যে হারে অর্থ বিতরণ হওয়ার কথা ছিল, বাস্তবে তা হয়নি।

এ স্কিমে ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হচ্ছে। উদ্যোক্তারা প্রথমে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে আবেদন করেন। ব্যাংক নিজস্ব মূল্যায়নে ঋণগ্রহীতার সক্ষমতা ও প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করে যোগ্য আবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠায়। এরপর নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় অর্থায়ন করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক কম সুদে তহবিল সরবরাহ করলেও ঋণ পরিশোধ না হওয়ার ঝুঁকি বহন করতে হচ্ছে ঋণ বিতরণকারী ব্যাংকগুলোকে। ঋণগ্রহীতার ব্যবসায়িক সক্ষমতা, কারখানা পুনরায় চালুর সম্ভাবনা এবং বাজারে টিকে থাকার সামর্থ্য যাচাইয়ের মূল দায়িত্বও ব্যাংকগুলোর ওপর রয়েছে।

এ কারণে ঋণ অনুমোদন ও বিতরণের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া থেকে বোঝা যাচ্ছে।

অর্থ ছাড় না পাওয়ার অভিযোগ পোশাক খাতে

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণ করায় নিরীক্ষা সম্পন্ন করে প্রায় ২০০টি পোশাক কারখানাকে এ স্কিমের আওতায় অর্থায়নের জন্য প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হয়েছিল। তবে সংগঠনটির দাবি, এসব কারখানার একটিও এখন পর্যন্ত এ তহবিল থেকে অর্থ পায়নি।

এ পরিস্থিতিতে একদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে ঋণ বিতরণ বাড়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, অন্যদিকে পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের একটি অংশ অর্থ না পাওয়ার কথা বলছেন। ফলে কোন খাতের কতটি প্রতিষ্ঠান অর্থ পেয়েছে, কোন পর্যায়ে কত আবেদন আটকে আছে এবং অর্থ ছাড়ে বিলম্বের কারণ কী—এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কার্যকারিতা নির্ভর করছে দ্রুত অর্থ ছাড়ের ওপর

বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন স্কিমটির মূল লক্ষ্য শুধু ঋণ বিতরণ নয়, বরং বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু করে উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও শিল্প কার্যক্রম সচল করা। সে ক্ষেত্রে আবেদন গ্রহণ ও অনুমোদনের পাশাপাশি প্রকৃত অর্থ ছাড় এবং কারখানাগুলোর উৎপাদনে ফেরার অগ্রগতিও গুরুত্বপূর্ণ।

কারখানা পুনরায় চালুর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সময়মতো না পেলে উদ্যোক্তাদের উৎপাদন শুরু, শ্রমিক নিয়োগ, কাঁচামাল সংগ্রহ এবং বাজারে ফিরতে সমস্যা হতে পারে। ফলে তহবিলের কার্যকারিতা মূল্যায়নে কত টাকা বিতরণ হয়েছে, তার পাশাপাশি কতটি কারখানা পুনরায় চালু হয়েছে এবং কত মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে, সেসব তথ্যও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০ হাজার কোটি টাকার এ উদ্যোগ শিল্প খাতে অর্থায়নের একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে। তবে ঘোষিত তহবিলের সুফল বন্ধ কারখানাগুলোর কাছে পৌঁছাতে ঋণ যাচাই, অনুমোদন ও অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া কতটা দ্রুত ও কার্যকর করা যায়, তার ওপরই শেষ পর্যন্ত স্কিমটির সাফল্য নির্ভর করবে।

/জিএম/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
‘উদ্যোগ’ কর্মসূচি থেকে ঋণ পেতে ৮ জেলায় ১৮ হাজারের বেশি আবেদন
বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণ ব্যবসায় নতুন নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের
নিম্নআয়ের দেশগুলোর জন্য আইএমএফের বার্তা কী
সর্বশেষ খবর
সরাইল রিজিয়নে ৯৫৭ কোটি টাকার চোরাই পণ্য জব্দ
সরাইল রিজিয়নে ৯৫৭ কোটি টাকার চোরাই পণ্য জব্দ
আগামী গ্রীষ্মের আগেই ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুতের লক্ষ্য, অধ্যাদেশ অনুমোদন
আগামী গ্রীষ্মের আগেই ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুতের লক্ষ্য, অধ্যাদেশ অনুমোদন
কানাডার সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ আগুন, নিহত ৭
কানাডার সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ আগুন, নিহত ৭
একুশে বইমেলা কি ফেব্রুয়ারির ঐতিহ্য হারাচ্ছে?
একুশে বইমেলা কি ফেব্রুয়ারির ঐতিহ্য হারাচ্ছে?
সর্বাধিক পঠিত
শাহজালাল বিমানবন্দরের এমন রূপ কেউ কখনও দেখেননি আগে 
শাহজালাল বিমানবন্দরের এমন রূপ কেউ কখনও দেখেননি আগে 
সেনা সদস্যদের জীবনমান আরও উন্নত করতে ‘ওয়ান র‍্যাংক ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন
সাভার ক্যান্টনমেন্টে প্রধানমন্ত্রী  সেনা সদস্যদের জীবনমান আরও উন্নত করতে ‘ওয়ান র‍্যাংক ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন
‘আমির হামজার মাহফিলে রাজনৈতিক ও উসকানিমূলক বক্তব্য যেন দেওয়া না হয়’
‘আমির হামজার মাহফিলে রাজনৈতিক ও উসকানিমূলক বক্তব্য যেন দেওয়া না হয়’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফটকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টার
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফটকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টার
প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে? যা বললেন ডিবি প্রধান
প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে? যা বললেন ডিবি প্রধান