ঊর্ধ্বগতির সবজির বাজারে কিছুটা হলেও টান পড়েছে। প্রায় প্রতিটি সবজির দাম ১০ টাকা থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমে গেছে। তবে সবজি দাম কমলেও মাছ, মাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য অপরিবর্তিত রয়েছে।
বাজার করতে আসা ক্রেতারা বলছেন, শীতকালীন সবজি বাজারে পর্যাপ্ত, তারপরও কেন পটল ৫০ - ৬০ টাকা কেজি কিনতে হবে। কিংবা বেগুন কেন এখনও ১০০ টাকার ওপরে কিনতে হবে। ক্রেতারা বলছেন, সময় হিসাবে বাজারে সবজির দাম আরও কমা উচিত।
রাজধানীর বাজারে আজ রবিবার পটল ৬০, আলু ৩৫, করলা, ৮০- ১০০, কাকরল ৮০, ধুন্দল ৬০, ঝিঙা ৭০, চিচিঙ্গা ৫০, বেগুন ৮০- ১৩০, টমেটো ১৫০, সিম ১২০, ভেণ্ডি ৫০, ফুলকপি ৬০, মুলা ৬০, পেপে ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হতে দেখা যায়। গত কয়েকদিন আগে বেশিরভাগ সবজি ১০০- ১২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা যায়। টমেটোর কেজিও ছিল প্রায় ২৫০ টাকা। এছাড়া কাকরল, ধুন্দল, ঝিঙা ও চিচিঙ্গার দামও কমেছে। কমেছে বরবটির দামও। বরবটি ৬০-৭০ টাকা বিক্রি হতে দেখা যায়। বরবটি কদিন আগেও ১০০ থেকে ১২০ টাকা ছিল।
তবে পঞ্চগড়ে টাকায় ৪টি লাউ মিললেও রাজধানীর বাজারে ৫০- ৬০ টাকা প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ফুলকপি প্রতিপিস ৫০-৬০ টাকা, বাঁধাকপি প্রতি পিস ৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি প্রতি পিস ১০-১৫ টাকা কমে গেছে।
রাজধানীর মেরাদিয়া, খিলগাঁও, রামপুরা, বনশ্রী, বাড্ডাসহ আশপাশের বাজার ঘুরে সবজির এমন দাম দেখা যায়।
মেরাদিয়া বাজারের ব্যবসায়ী রুম্মান বলেন, বাজারে সবজির পর্যাপ্ততা বেড়েছে। আমরা দামেও কম পেয়েছি।
তিনি বলেন, বাজার দেখে মনে হচ্ছে আরও কমবে সবজির দাম। গত কয়েকদিনের যে ঊর্ধ্বগতি ছিল সেটি এখন কমতির দিকে।
রুম্মান বলেন, আমরা গত কয়েকদিন আগে টমেটো ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি সেটি এখন ১৬০ এ চলে এসেছে। কাঁচামরিজ ২০০ টাকা থেকে এখন ১৮০ টাকা। দাম এখন নিম্নমুখী।
ব্যবসায়ী সুজন বলেন, সবজির দাম কমতে শুরু করেছে। আরও কমবে মনে হচ্ছে। আসলে আমাদের দাম বাড়া বা কমাতে কিছু করার নেই। বেশি দামে কিনলে বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।
এদিকে বাজার করতে আসা কানিজ ফাতিমা নামের এক নারী বলেন, এই সময় কেন আমাদের বেশি দামে সবজি কিনতে হবে। এই সময় তো সবজির ভরা মৌসুমে। পটল এখনও ৫০- ৬০ টাকা কেজি। এই পটলের কেজি হওয়া উচিত ৩০ টাকা।
তিনি বলেন, গত কয়েকদিনের তুলনায় বাজারে সবজির দাম কম হলেও আরও কমা উচিত।
আকবর হোসেন নামের আরেক ক্রেতা বলেন, সবজির ভরা মৌসুমেও কেন ঊর্ধ্বগতি থাকবে। যে দাম কমেছে সেটি কমা বলে না। আরও কমতে হবে। মানুষের যে নাভিশ্বাস সেটি দূর হতে হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের মূল্য নাগালের ভেতরে থাকতে হবে। তবেও জনজীবনে স্বস্তি ফিরবে।
অন্যদিকে বাজারে মাছ মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মুরগির মধ্যে কক ৩৬০, ব্রয়লার ১৯০ এবং দেশি মুরগী ৬৬০ টাকা প্রতি কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৮২০ টাকা প্রতি কেজি। মুরগির ডিম ডজন প্রতি ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সবজি মাছ ছাড়াও বাজারে গত কিছুদিন থেকে বেড়ছে যেসব পণ্যের দাম সেগুলোর মধ্যে ময়দা ২ কেজি ১৪০ থেকে বেড়ে ১৮০ টাকা, চিনি ১১০, আটা প্যাকেট ৬৫ থেকে বেড়ে ৭০, আর খোলা ৪০-৫০ প্রতি কেজি। গায়ে দেওয়া সব ধরনের সাবানের দাম ৫-১০ টাকা বেড়েছে, হুইল গুড়া ১৪৫ থেকে বেড়ে ১৫৫ টাকা প্রতি কেজি। হুইল সাবান ৩০ থেকে বেড়ে ৩৫ টাকা। খোলা চাল সর্বন্মিন গুটি স্বর্ণা ৫০ টাকা। ডিমের দাম ডজনে ১০ টাকা কমে ১৪০, আদা ১৬০ টাকা থেকে বেড় ১৮০-২০০, রসুন ১৮০ থেকে বেড়ে ২০০, ডাল মোটা মসুর ১০০, চিকন ১৫০-১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর পোলাওয়ের চাল ২০০ টাকার কাছাকাছি প্রতি কেজি।
মাছের মধ্যে রুই সাইজ ভেদে ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা প্রতি কেজি। অন্যান্য মাছের মধ্যে পাঙ্গাস, তেলাপেয়া ৩৩০–৩৫০ টাকা কেজি।