রিজার্ভ চুরি: অন্তর্বর্তীকালীন তদন্ত প্রতিবেদন অর্থমন্ত্রীর হাতেবাংলাদেশ ব্যাংকের সাইবার সিস্টেম সুরক্ষার সুপারিশ তদন্ত কমিটির

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০১:১৬, এপ্রিল ২১, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:২৬, এপ্রিল ২১, ২০১৬

রিজার্ভের অর্থ চুরিবাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির ঘটনায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে অন্তবর্তীকালীন প্রতিবেদন জমা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি। বুধবার বিকেলে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর দফতরে গিয়ে এ প্রতিবেদন জমা দেয় তিন সদস্যের এই কমিটি। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির তদন্ত কমিটির সঙ্গে ছিলেন।  অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাইবার সিস্টেমকে অধিকতর সুরক্ষার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে।
জানা গেছে, অন্তর্বর্তীকালীন তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এর খুঁটিনাটি দিক নিয়ে তদন্ত কমিটি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী। বৈঠক শেষে ড. ফরাসউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্রতিবেদনটি অর্থমন্ত্রীর কাছে দিয়েছি। তিনি এটি প্রথমে পড়ে দেখবেন। এরপর যদি মনে করেন, এ বিষয়ে আপনাদের কিছু জানাবেন। তাহলে তিনিই তা জানাতে পারেন। আবার আমাকে বললেও আমি বিষয়টি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করব। এ মুহূর্তে এ বিষয়ে কিছুই বলব না।
তবে একটি সূত্র বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাইবার সিস্টেমকে অধিকতর সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।  পাশাপাশি রিজার্ভসহ ব্যাংকের যাবতীয় তথ্যসহ সম্পদরক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তাদের যেভাবে সতর্ক থাকা উচিত ছিল সেভাবে তারা সতর্ক ছিলেন না। এ ক্ষেত্রে তাদের গাফেলতি ছিল,  বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।    

আরও পড়তে পারেন: মো নজিবুর রহমানরাজস্ব আদায়ে হিসাবরক্ষণ অফিসের অবদান অনেক: নজিবুর রহমান


বিকেল সাড়ে ৫টার কিছু পরে ড. ফরাস উদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির সদস্যরা সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর দফতরে যান। 
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেমসের নিউইয়র্ক শাখায় রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরির ঘটনা তদন্তে সরকার ১৫ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব গকুল চাঁদ দাস এবং বুয়েটের কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কমিটিকে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য ৭৫ দিন সময় দেওয়া হয়। তবে কমিটি গঠিত হওয়ার ৩৫দিনের মাথায়  অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন দাখিল করেছে তদন্ত কমিটি।

চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল সম্পর্কে ড. ফরাসউদ্দিন বলেছেন, আশা করছি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তা দাখিল করতে পারব। বাড়তি সময় লাগবে বলে মনে হয় না।    
উল্লেখ্য, ১৫ মার্চ তদন্ত কমিটি গঠিত হওয়ার পরে ২০ মার্চ সন্ধ্যায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে তার হেয়ার রোডের সরকারি বাসায় বৈঠক করে ড. ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কমিটি। পরে ২২ মার্চ সকালে ড. ফরাসউদ্দিনের তদন্ত কমিটি বাংলাদেশ ব্যাংকে গিয়ে গভর্নর ফজলে কবিরের সঙ্গেও বৈঠক করে। পরে অবশ্য তদন্তের প্রয়োজনে বেশ কয়েকবার বাংলাদেশ ব্যাংকে গিয়েছিলেন ড. ফরাসউদ্দিনের কমিটির সদস্যরা।  
জানা গেছে, তদন্ত কমিটি প্রথমেই রিজার্ভ চুরির সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনও কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা এবং দায়িত্বের অবহেলা ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখেছে। রিজার্ভের অর্থ থেকে পরিশোধ বার্তার ইনফরমেশন টেকনোলজিতে কোনও দুর্বলতা ছিল কিনা, সেটাও খতিয়ে দেখেছে।

 

আরও পড়তে পারেন: শফিক রেহমান বিষয়ে হাইপ্রোফাইল ব্রিফিং দেবে, এফবিআই-এর কাছে তথ্য চাইবে বিএনপি


তদন্ত কমিটি চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধারের সম্ভাবনা এবং এ ব্যাপারে নেওয়া কার্যক্রমের পর্যাপ্ততা খুঁজে বের করারও চেষ্টা করেছে। এ ছাড়াও বেশ কয়েকটি বিষয়ে অনুসন্ধান করেছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কীভাবে ও কার বরাবর অবৈধভাবে অর্থ পরিশোধের নির্দেশ গেছে, অবৈধ অর্থ পরিশোধ ঠেকানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া পদক্ষেপ পর্যাপ্ত ছিল কিনা, রিজার্ভ চুরির বিষয়টি কেন বাংলাদেশ ব্যাংক শুর“তে সরকারের কাছে তথ্য গোপন করেছে, এর পিছনে যৌক্তিকতা কতটুকু কমিটি তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছে বলে জানা গেছে। অর্থমন্ত্রীর কাছে দাখিল করা প্রতিবেদনে তদন্ত কমিটি সংশি¬ষ্ট কিছু বিষয়ে বেশ কয়েকটি সুপারিশ করেছে বলে জানা গেছে। 
জানা গেছে, প্রতিবেদনটি আগামী ৩ দিনে (বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার) অর্থমন্ত্রী নিজে পড়ে দেখবেন আগে। এর পর সম্ভব হলে রবিবার বিষয়টি তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানাবেন।  এরপর প্রয়োজন মনে করলে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন অর্থমন্ত্রী।  
/এসআই/এমএনএইচ/

সম্পর্কিত সংবাদ

 
 
 
 

লাইভ

টপ