দেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে গ্যাসের উৎপাদন ক্রমে কমে আসছে। অন্যদিকে নতুন কোনও গ্যাসক্ষেত্রও আবিষ্কার করা যাচ্ছে না। এই অবস্থায় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানি করছে। চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে বাড়াতে হচ্ছে এলএনজির আমদানি। একের পর এক দেশের সঙ্গে চুক্তি করছে সরকার। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আনা এই এলএনজির দাম দেশিয় গ্যাসের তুলনায় স্বাভাবিকভাবেই বেশি।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েই চলেছে এলপিজির দাম। কাজেই সহনীয় দামে জ্বালানি সরবরাহ করা এখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। এমনই এক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে পালিত হতে যাচ্ছে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস।
১৯৭৫ সালের ৯ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিদেশি শেল ওয়েল কোম্পানির কাছ থেকে তিতাস, রশিদপুর, হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ এবং কৈলাসটিলা- এই ৫টি গ্যাসক্ষেত্র কিনে নেন। ওই সময়ে ৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন পাউন্ডে গ্যাসক্ষেত্রগুলো কিনে রাষ্ট্রীয় মালিকানা প্রতিষ্ঠা করেন তিনি।
বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ২০১০ সালের ১২ আগস্ট এক পরিপত্রে ৯ আগস্টকে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর থেকে প্রতিবছর এই দিন সরকার জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। দিবসটিতে আগে র্যালীসহ নানা অনুষ্ঠান করা হলেও এবার করোনার কারণে কয়েকটি ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
এদিকে সহনীয় দামে জ্বালানি সরবরাহের বিষয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ আবদুস সালেক সূফি বলেন, মাত্র সাড়ে তিন বছর সময়কালে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে বিদ্যুৎ জ্বালানি খাতের একটি শক্ত ভিত্তি দিতে সক্ষম হলেও তার হত্যাকাণ্ডের পর এতে ছন্দপতন ঘটে। দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় ডুবে যায় এই খাত। ১৯৯৬ সালে তার কন্যার হাত ধরে জ্বালানি বিদ্যুৎ খাতে নতুন ধারার সূচনা হলেও আবার ছন্দপতন ঘটে। এই খাতে অনেক অর্জন হলেও বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথে নিজস্ব জ্বালানি সম্পদকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া যায়নি। ফলে আমদানি নির্ভরতা বেড়েছে। তা আগামী দিনে টেকসই জ্বালানি সহনীয় দামে সরবরাহের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।
পেট্রোবাংলার সাবেক পরিচালক ও বিইআরসি বর্তমান সদস্য (গ্যাস) মকবুল-ই এলাহি চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলা গড়তে চেয়েছিলেন। তবে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, শুধু কৃষি দিয়ে তা হবে না। শিল্প-কারখানা লাগবে। বিদ্যুৎ লাগবে। বিদ্যুতের জন্য তেল গ্যাস কয়লা লাগবে। গ্যাসক্ষেত্র কেনার পাশাপাশি গ্যাস নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। কিন্তু এখন গ্যাস অনুসন্ধানে ব্যাপক অবহেলা করা হয়েছে। তিনি তেল গ্যাস অনুসন্ধানকে জোরদার করার জন্য পেট্রোবাংলায় সংরক্ষিত থাকা সকল তথ্য উপাত্ত আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেইন বলেন, বঙ্গবন্ধুর পর আবার ১৯৯৬ সাল থেকেই বিদ্যুৎখাতে সংস্কার এবং ব্যক্তিখাতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে অগ্রগতি শুরু হয়। তবে আমরা জ্বালানি আমদানি নির্ভর হয়ে যাচ্ছি। আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তা দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে।
দেশে এখন মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি ও দেশিয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সামিট গ্রুপের দুটি এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে। কাতার থেকে আনা হচ্ছে এই এলএনজি। সম্প্রতি মালয়েশিয়া, সুইজারল্যান্ড ও সিঙ্গাপুর থেকেও এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।









