‘প্রথম রোজায় হুট করে দুপুরের পরে গ্যাস কমে গেলো। যেভাবে চুলা জ্বলছে তাতে এক ঘণ্টায় এক কাপ চা-ও বানানো যাবে না। পরদিনও তাই। তৃতীয় দিন ন্যাড়া আর বেলতলা যাবে না ঠিক করলো। স্কুল থেকে শিশুকে নিয়ে আসার পরই বাজার করে ইফতারি বানানো শুরু করে দিতে হবে। এটা এখন বুঝে গেছি। সারাদিনের পর তো আর না খেয়ে থাকা যাবে না।’
কথাগুলো বলছিলেন মিরপুর ১১ নম্বরের আয়েশা জাফর। তিনি আরও বলেন, ‘এতদিন ছেলেদের বাইরের ইফতার কেন খাওয়া ঠিক না, সেসব বুঝিয়েছি। নিষেধ করেছি। এখন আমি বাসায় বানিয়ে দিতে পারছি না বলে কিনে আনতে বলবো? তাই সকালেই বানিয়ে রাখলাম, বিকেলে গরম করে খাবো।’
একই ভোগান্তি আজ মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) ঢাকার বেশিরভাগ ঘরেই। রামপুরা, বনশ্রী, মগবাজার, কাঁঠালবাগান, পশ্চিম ধানমন্ডি, মিরপুরসহ আশপাশের এলাকায় ১টার পরেই গ্যাস চলে যেতে শুরু করেছে। লালমাটিয়া, রায়েরবাজার, মোহাম্মদপুর, মগবাজার ইস্কাটনসহ কিছু এলাকায় গ্যাস আছে। তবে চাপ নেই।
সিলেটের শেভরন পরিচালিত বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রের ছয়টি কূপ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রমজানের প্রথম দিনই ভোগান্তিতে পড়ে রাজধানীবাসী।
বিবিয়ানার ছয়টি কূপ থেকে গত রবিবার রাতে গ্যাস উত্তোলনের সময় বালি উঠতে শুরু করে। এ কারণে বন্ধ করে দিতে হয় উৎপাদন। এতে রাতে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সংকট দেখা দেয়।
স্কুলের সামনে সন্তানের জন্য অপেক্ষারত এক মা বলেন, সেহরি খেয়ে ঘুমানোর সময় পাই না, বের হতে হয়। ফিরে একটু রেস্ট নিয়ে সময় পেতাম আগে। এবার মনে হয় সেটাও হবে না। বিকল্পও নেই। সিলিন্ডার কিনে চলার সক্ষমতাও নেই। এখন হয়তো সেদিকেই যেতে হবে। এ সমস্যা কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে কে জানে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি সামলে ওঠার জন্য বাড়ির নারীদের ওপর চাপ বেশি পড়ে গেছে।
এদিকে কোনও কোনও অঞ্চলে গ্যাস কখন থাকে সেই প্রশ্নের উত্তর জানে না কেউ। মিরপুর এভিনিউ-৫ এলাকায় কখনও ভোররাতে গ্যাস আসে, কখনও দুপুরে আসে, বিকালে চলে যায়।
এমনটা যে কেবল এই সময় ঘটে তা নয়। রাজধানীর এই এলাকায় বছরের পুরো সময়ই প্রেসারকুকারের সিটি পাওয়া যায় ভোররাতে।








