সিএনজি স্টেশন থেকে সিলিন্ডারের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের অনুরোধ করেছে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো। তারা বলছে, গ্যাস সংকটের কারণে তাদের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডারে গ্যাস পাওয়া গেলে তাদের উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে। অন্যদিকে সিএনজি মালিকদের সংগঠন বলছে, নিরাপত্তা ও আইনের কারণে সিলিন্ডারে করে শিল্প কারখানায় তারা গ্যাস দিতে পারেন না।
সম্প্রতি বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন এক চিঠিতে জানায়, ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত একটানা ১২ ঘণ্টা, এমনকি মাঝে মাঝে একটানা কয়েকদিন পর্যন্তও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকছে। এই অনিয়মিত গ্যাস সরবরাহের ফলে পণ্য এবং এর মূল্যবান যন্ত্রপাতিও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় ব্যবসায়ীদের প্রচুর পরিমাণে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হতে হচ্ছে।
অন্যদিকে প্রয়োজনীয় গ্যাসের অভাবে সময়মতো পণ্য উৎপাদন করতে না পারায় রফতানি ও স্থানীয় বাজারে নিয়মিত পণ্য সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। শিল্পে নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্যাস সরবরাহের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কয়েক দফা চিঠি দেওয়াসহ তাদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করা হলেও কার্যকর কোনও সুরহা হচ্ছে না।
বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনকে দেওয়া চিঠিতে তারা আরও জানায়, এই অবস্থায় উৎপাদন কার্যক্রম নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যেসব সিরামিক কারখানা সিএনজি স্টেশন থেকে সিলিন্ডারের মাধ্যমে গ্যাস নিতে চান, তাদের সহযোগিতা করা একান্ত প্রয়োজন। কিন্তু সিএনজি স্টেশনগুলো সিলিন্ডারের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।
এই অবস্থায় আমদানি বিকল্প ও রফতানিমুখী এই সিরামিক শিল্পে স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে বিষয়টি আবার বিবেচনায় নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে চিঠিতে। সিরামিক কারখানাগুলোর চাহিদার ভিত্তিতে আগ্রহীদের কাছে সিএনজি স্টেশন থেকে জরুরি ভিত্তিতে সিলিন্ডারের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে সমিতির কাছে বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন।
এর আগে গত ১৬ অক্টোবর তৈরি পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে সিএনজি স্টেশন থেকে সিলিন্ডারের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের অনুরোধ করে চিঠি দিয়েছিলেন তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ফারুক হাসান। তিনিও একই অনুরোধ করেন।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভারসেশন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফারহান নুর বলেন, প্রথমত এইভাবে সিলিন্ডারে গ্যাস দেওয়াটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। সম্প্রতি এইভাবে সিলিন্ডারে অনুমোদনহীনভাবে গ্যাস নেওয়ার সময় গাজীপুরে একটি স্টেশনে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর আগেও এই ধরনের ঘটনা আমরা দেখেছি। ফলে প্রথমেই আমাদের নিরাপত্তার বিষয়টি ভাবতে হচ্ছে। অন্যদিকে সিএনজির যে লাইসেন্স আমরা পাই, সে আইন অনুযায়ী আমরা শুধু সিএনজিচালিত যানবাহনে গ্যাস দিতে পারি। শিল্পে গ্যাস দেওয়ার অনুমতি আমাদের নেই। এজন্য আইনের পরিবর্তন প্রয়োজন।








