নোঙরের আঘাতে তুরাগ নদের নিচে ক্ষতিগ্রস্ত গ্যাস পাইপলাইন মেরামত করা হলেও পাইপে পানি ঢুকে গেছে। এ অবস্থায় মেরামতের কাজ করা হচ্ছে বুধবার (৭ জানুয়ারি) থেকে। এতে শীতে গ্যাসের সংকটের মধ্যে নতুন সংকটে রাজধানীবাসী।
আগেই রাজধানীর অনেক এলাকায় গ্যাসের চাপ কম ছিল। এখন চাপ কমানোয় সেসব এলাকায় একেবারেই গ্যাস নাই। ফলে বুধবার থেকেই গ্যাসের সংকট চরম আকার নিয়েছে।
বৃহস্পতিবারের মতো শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) তিতাস জানায়, মালবাহী ট্রলারের নোঙরের আঘাতে আমিন বাজারে তুরাগ নদের নিচে ক্ষতিগ্রস্ত বিতরণ গ্যাস পাইপলাইন মেরামত করা হলেও মেরামতকালীন সময়ে পাইপে পানি প্রবেশ করে। একইসঙ্গে ঢাকা শহরে গ্যাসের সরবরাহ কম থাকায় ঢাকা মহানগরীতে গ্যাসের মারাত্মক স্বল্পচাপ বিরাজ করছে। স্বল্পচাপ সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ছুটির দিনে গ্যাসের চাপ কম থাকায় দুপুরে রান্না করা হয়ে পড়েছে দুঃসহ। কোথাও গ্যাস নাই, আবার কোথাও নিভু নিভু আগুন। যে আগুনে পানিও ফোটানো যায় না।
রামপুরার বিলকিস আক্তার বলেন, এতদিন অল্প নিভু নিভু গ্যাস আসতো দিনের বেলা। তাতে রান্না করা যেতো না। সন্ধ্যার দিকে গ্যাসের চাপ বাড়লে রান্না করতাম। এই দুই দিন সেটাও বন্ধ। রাতেও গ্যাসের চাপ কম। রাইস কুকারে ভাত আর আগের তরকারি গরম করে বুধবার চালিয়েছি। বৃহস্পতিবার বাইরে থেকে কিনে এনে খেলাম। আজ ভেবেছিলাম গ্যাস আসবে। এলো না। এখন কোনোমতে রাইস কুকারেই কাজ চালানোর চেষ্টা করছি। এলপিজির চুলায় ব্যবহার করতাম। সিলিন্ডার সংকটের কারণে সেটাও এখন বন্ধ। বাড়তি দাম দিয়ে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে।
উলনের বাসিন্দা কাজী মিলি জানান, আগে কদিন নিভু নিভু আগুন। এখন একেবারেই গ্যাস নাই। ইলেকট্রিক চুলায় রান্না এখন অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছি। কী আর করবো। একদিকে গ্যাসের বিল দেই অন্যদিকে বিদ্যুতের চুলায় রান্না করে বিদ্যুৎ বিলও বেশি দেই।
এই অভিযোগ শুধু রামপুরায় না। এই পাইপলাইন লিকেজের ফলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে গাবতলি থেকে আসাদগেট, মোহম্মদপুর, বসিলা, লালমাটিয়া, ধানমন্ডিসহ আশেপাশের এলাকা বাসীন্দারা।
মোহাম্মদপুরের শাকিলা রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে গ্যাস এলো অনেক বেশি চাপে। এর ১০ মিনিটের মধ্যে আগুনই চলে গেলো। আজ আর আসেনি। রান্না আপাতত ইলেক্ট্রিক চুলায় চালাচ্ছি।
গ্যাসের চাপ বুধবার থেকে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর পাইপে লিকেজের মেরামত করে শেষ করার পর বৃহস্পতিবার আবারও পানি ঢুকে যায় লাইনে। এরপর সারা ঢাকায় গ্যাসের চাপ কমিয়ে মেরামতের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিতাস জানায়।









