নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াতে এনজিওর প্রতি জ্বালানিমন্ত্রীর আহ্বান

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট 
২০ জুলাই ২০২৬, ২২:০৬আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৬, ২২:০৬

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর (এনজিও) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “গ্রামাঞ্চলে সৌর বিদ্যুতের প্রসারে এনজিওগুলোর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখায় সুযোগ আছে। সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা ও ব্যবহার বাড়লে জ্বালানি আমদানি ব্যয় কমবে এবং সাশ্রয়ী অর্থ সরকারের উন্নয়ন খাতে ব্যয় করা সম্ভব হবে।” তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান সমাজকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে কাজ করছেন। এই জন্য সরকারের  অর্থ সাশ্রয় করা প্রয়োজন।”  

সোমবার (২০ জুলাই) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পিআরও (উপপ্রধান তথ্য অফিসার) মুহাম্মদ আরিফ সাদেকের সই করা প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলা হয়।  

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের (এনডিপি) আয়োজিত ভয়েস অব ডেভেলপমেন্ট শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, “আমরা যদি নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ১০ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারি, তাহলে আমদানি করা জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমে যাবে এবং সাশ্রয় হওয়া অর্থ উন্নয়ন খাতে ব্যয় করা যাবে।” এজন্য সরকার সৌর জ্বালানি সংক্রান্ত  নীতিমালাও করেছে।   

মন্ত্রী বলেন, “গ্রামীণ এলাকায় ক্লাস্টারভিত্তিক প্রকল্পের মাধ্যমে এনজিওগুলো বাড়ির ছাদে সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে সহায়তা করতে পারে এবং নেট মিটারিং ব্যবস্থার আওতায় বিদ্যুৎ বিক্রি করে বিনিয়োগ ফেরত পেতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “গভীর নলকূপের মালিকরা যেভাবে কৃষকদের কাছে সেচের পানি বিক্রি করেন, একইভাবে সৌরবিদ্যুতচালিত সেচ ব্যবস্থাও লাভজনক ব্যবসা হয়ে উঠতে পারে।” এক্ষেত্রে অর্থায়ন কোনও বড় বাধা হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বিশ্বব্যাংকসহ অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীরা নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে অর্থায়নের জন্য আগ্রহী। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে ফসিল ফুয়েলের প্রকল্পের জন্য কেউ অর্থায়ন করবে না।”  

নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রতি জনগণের আগ্রহের উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রী ফরিদপুরের এক নারীর কথা উল্লেখ করেণ যিনি গবাদিপশুর বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদন করে প্রতিবেশীদের রান্নার গ্যাস সরবরাহ করেন। মন্ত্রী  বলেন, “মানুষের মধ্যে আগ্রহ আছে, এই ধরনের উদ্যোগের বাণিজ্যিক সম্ভাবনাও যথেষ্ট।”  

জ্বালানি মন্ত্রী আরও বলেন, “বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জ্বালানি তেলসহ অন্যান্য জ্বালানি আমদানিতে অনেক ব্যয় করতে হয়েছে যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে।” তিনি আরও বলেন, “বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি  জ্বালানি নিরাপত্তাকে আরও চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে, যা নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালো করেছে।”  

মন্ত্রী বলেন, “দেশীয় গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাংলাদেশকে বেশি পরিমাণে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করতে হচ্ছে, যার ফলে সরকারের ভর্তুকি ব্যয় বাড়ছে।”  

জ্বালানিমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, “বিগত সরকার সমুদ্র জয়ের দাবি করলেও সামুদ্রিক জ্বালানি সম্পদ আহরণে উল্লেখযোগ্য কোনও উদ্যোগ নেয়নি। অথচ প্রতিবেশী দেশগুলো এই খাতে অনেক দূর অগ্রসর হয়েছে।” তিনি উল্লেখ করেন, “প্রতিবেশী দেশগুলো ইতোমধ্যে সমুদ্র উপকূলীয় ক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলন করছে, অথচ বাংলাদেশ এখনও অনুসন্ধান পর্যায়ে রয়েছে।” তিনি জানান, সরকার সমুদ্র উপকূলীয় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে। কিন্তু এই কাজে অনেক অর্থ ব্যয় করতে হবে।  

মন্ত্রী বলেন, “নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে সরকার সৌর প্যানেল ও ব্যাটারির উপর কর সুবিধা দিয়েছে।” তিনি এনজিওগুলোকে অনুদাননির্ভরতা থেকে সরে এসে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ব্যবহার করে ব্যবসাভিত্তিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “সাহায্যের ওপর নির্ভর করবেন কেন? টাকা নিন, বিনিয়োগ করুন, ব্যবসা চালান এবং তা ফেরত দিন। আপনারা ছাড় সুবিধাযুক্ত হারে অর্থ পাবেন।” মন্ত্রী এনজিওগুলোকে এই ট্যাক্স হলিডে সুবিধা গ্রহণ করে সোলার, বায়োফুয়েল, এই ধরনের খাতে বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানান যাতে গ্রামের অর্থনৈতিক উন্নতির পাশাপাশি এনজিওর অবস্থা পরিবর্তন হয়।  

/এসএনএস/এসটি/ 
সম্পর্কিত
৮ ঘণ্টা রাজধানীর যেসব এলাকায় গ্যাস থাকবে না
গুজবে তেলের পাম্পে হঠাৎ উপচে পড়া ভিড়, রাত পর্যন্ত দীর্ঘ লাইন
গ্যাস আসবে যখন, রান্না হবে তখন
সর্বশেষ খবর
পচে গেলো ৫৭ হাজার বস্তা আলু, কৃষকের মাথায় হাত
পচে গেলো ৫৭ হাজার বস্তা আলু, কৃষকের মাথায় হাত
মাইলস্টোন দুর্ঘটনার পরও বদলায়নি কিছুই, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণে অগ্রগতি নেই
মাইলস্টোন দুর্ঘটনার পরও বদলায়নি কিছুই, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণে অগ্রগতি নেই
সেই একই জায়গা দখল করেছে ককরোচ জনতা পার্টি, উত্তপ্ত দিল্লি
সেই একই জায়গা দখল করেছে ককরোচ জনতা পার্টি, উত্তপ্ত দিল্লি
রাজশাহীতে রেলপথ অবরোধ, সারা দেশের সঙ্গে ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ 
রাজশাহীতে রেলপথ অবরোধ, সারা দেশের সঙ্গে ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ 
সর্বাধিক পঠিত
পরবর্তী ২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজক কারা, জেনে নিন সূচি ও নতুন ফরম্যাট
পরবর্তী ২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজক কারা, জেনে নিন সূচি ও নতুন ফরম্যাট
সাবান-আইসক্রিমসহ চার প্রতিষ্ঠানের ৮ পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ 
সাবান-আইসক্রিমসহ চার প্রতিষ্ঠানের ৮ পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ 
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো ৪৯ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স প্রত্যাহার
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো ৪৯ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স প্রত্যাহার
মিত্রদের নিয়ে সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজ: কারা যাচ্ছেন, কারা যাচ্ছেন না
মিত্রদের নিয়ে সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজ: কারা যাচ্ছেন, কারা যাচ্ছেন না
ছাত্রনেতা থেকে যেভাবে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন
ছাত্রনেতা থেকে যেভাবে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন