সেকশনস

শিক্ষাক্রমের রীতি-নীতি এবং দেশপ্রেমের জ্যামিতি

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০১৭, ১৪:৩৩

লুৎফুল হোসেন কিবরিয়া অংকে ভালো। তবু একটা সরল অংকে ভুল করলো। অংক স্যারের নজরে পড়তেই একবার বোঝালেন। তারপর বললেন, স্কুল ছুটির পর হেড স্যারের রুমের সামনে থাকতে। ইংরেজি ক্লাসে বানান ভুলের জন্য রফিক, খারাপ হাতের লেখার জন্য আমিনুল একই নির্দেশ পেলো। বাংলা ব্যাকরণে সমাস নিয়ে ভুল করে বকা খেলো প্রদীপ, তাকেও থাকতে হবে। ভূগোল ক্লাসে ম্যাপ আঁকা আর লেবেলিং ঠিকঠাক করতে পারছিল না পারভীন। তাকেও থাকতে হবে।
শিক্ষার্থীদের প্রতি ভালবাসাপ্রসূত দায়বদ্ধতা, সেই সাথে কাজের প্রতি নিষ্ঠা উৎসারিত সংকল্পবদ্ধতা; বিনিময়ে অর্থ-কড়ি দূর, অধিকাংশ বাবা-মা হয়তো জানবেও না, তাদের কাছ থেকে যথাযথ ধন্যবাদটুকুও পাওয়া হত না এসব শিক্ষকের। অনুচ্চারিত সত্যটা এই যে, নির্ভুল না শেখা পর্যন্ত প্রাণান্ত চেষ্টা তিনি করবেন- শিক্ষকের কাছে গোটা সমাজের এমনই সাদামাটা দাবি।
স্কুল থেকে সব পড়া শেষ করে আসবে - এমনটা না-ই ভাবলাম। বিদ্যার জাহাজও না হোক, যা শিখবে তা নির্ভুল শিখবে, এটুকু তো আশা করবোই। অথচ আমার সন্তানের সময়ে এসে বারবার দেখলাম, তাকে ভুল শেখানো হচ্ছে। এক পৃষ্ঠায় পাঁচটা ভুলের দু'টা শুধরেছেন শিক্ষক বাকি তিনখানা ভুল রয়ে গেছে; যেমন ছিল ঠিক তেমনি। ক্লাস ওয়ার্ক, হোম ওয়ার্ক, এমন কী পরীক্ষার খাতায় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। তাহলে আজকের সন্তানদের ভুলগুলো শোধরাবে কে? এরকম পড়াশোনার প্রক্রিয়াটা একটা শিশুকে কোথায় নিয়ে ঠেকাচ্ছে! এতসব অভিযোগ শুনে এক বন্ধু একবার বললো, ক্লাসেই সব শিখিয়ে দিলে প্রাইভেট টিউশনিতে আর শেখাবার কী থাকবে! তা সেই প্রাইভেট টিউশনিতেও এসব ভুল আদৌ ঠিক মতো শুধরাতে পারছে আজকের ছাত্ররা?
আমাদের আমলে অংক করেছি বানরের পিঠা ভাগ, দুধে পানি মেশানো, এসব প্রসঙ্গ নিয়ে। পরে আবিষ্কার হলো এতে প্রকারান্তরে শিশু-কিশোরদের শঠতা শেখানো হচ্ছে। অন্য কথায় বলা যায় অপরাধের ব্যাপারে মনস্তাত্ত্বিক সহনশীলতা তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে শিশুমনে। আমরা পাঠক্রম থেকে এগুলোকে ছেঁটে ফেলতে উদ্যোগী হলাম। একই সময়ে আবার দেখতে পাচ্ছি ধর্মভিত্তিক একরৈখিক কথা ও দর্শনকে ঠেঁসে দেওয়া হচ্ছে অক্ষরজ্ঞান থেকে শুরু করে ভাষা ও সাহিত্যের অন্যান্য পাঠ্য বইতে। জানতাম যে ইসলাম ধর্মে বলা হয়েছে প্রয়োজনে জ্ঞানার্জনের জন্য চীন দেশে যেতে।  বলা হয়নি মুসলিম না হলে কারো কাছ থেকে জ্ঞানার্জন করা যাবে না। সে জায়গায় আজ যেভাবে পাঠ্যক্রম থেকে ধর্মের বিচারে প্রণিধানযোগ্য ও সেরা কবি-সাহিত্যিকদের লেখা বাদ দেওয়া হচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে - খুঁজলে বুঝি কোথাও এমনটা পাওয়াও যেতে পারে যে, বিধর্মী ডাক্তারের চিকিৎসা নেওয়াতেও ধর্মের কোথাও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া আছে।  প্রকৌশলীর নকশা কিংবা নির্মাণ সেবা নেওয়া যাবে না স্বধর্মের না হলে। ধর্ম কিংবা নৈতিকতার প্রশ্নে আজ আমরা কি কোনও শিক্ষণীয় নিয়ম রীতি চর্চা করছি? মনে হয় না। অন্তত তেমন কোনও নজির দৃষ্টিগোচর হয় না।  উলটো অক্ষরজ্ঞান অর্জনপর্ব শেষ না হতেই দেখছি এক বাচ্চা অন্য বাচ্চার দিকে আঙুল তুলে বলছে ‘ও একটা হিন্দু / বৌদ্ধ / খ্রিস্টান / চাকমা / মারমা’ এইসব।  ধর্ম কী তা কিছুমাত্র ঠাহর করার আগেই ধর্মীয় গোঁড়ামিতে দীক্ষিত করে তোলা হচ্ছে একটা শিশুকে। ভীষণ আহত বোধ করেছি। এসব তো বাচ্চারা একা একা রপ্ত করেনি। তারা শিখছে হয় পরিবার, নয় স্কুল থেকে। এ অপশিক্ষা আর নৈতিকতার অবক্ষয়ের বীজ যদি সমানুপাতিক নয় কিয়দাংশেও পরিপূর্ণ উদ্ভিদে বেড়ে ওঠে আগামী প্রজন্মের মধ্যে, তবে আমাদের ভবিষ্যৎ কী!

সারা পৃথিবীতে শিশুকে প্রথম পাঠ দেওয়ার বিষয়টা নিয়ে প্রচুর গবেষণা হয়েছে। সে অনুসারে সরাসরি বর্ণ বা শব্দে না গিয়ে বস্তু, রঙ, এবং মূলত ধ্বনি (আওয়াজ) দিয়ে প্রথমে বস্তু বা বিষয়কে জানিয়ে তারপর সেটাকে বর্ণ থেকে শব্দ হয়ে লেখবার-পড়বার পথে নিয়ে যাওয়ার পন্থাটি সর্বজনগ্রাহ্য হয়েছে। অডিও-ভিজুয়ালাইজেশনের বিষয়টা বৈজ্ঞানিক ভিত্তির কারণে শ্রেয়তর শিক্ষণ পদ্ধতি হিসেবে গোটা পৃথিবীতে প্রাধান্য পাচ্ছে। এদেশে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ইংরেজি শেখাবার জন্য এ পন্থা এবং তদনুসারে রচিত ব্রিটিশ রীতির বই-পত্তর এবং শিক্ষাসামগ্রী ব্যবহার করছে। পাশাপাশি সেই একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাংলা শেখাতে আদর্শলিপি-ধারাপাতের যুগের চেয়েও পশ্চাদপদ বই ও পাঠ্যক্রমের ওপর নির্ভর করা হচ্ছে। যা বছর বছর পাল্টাচ্ছে নানান পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে এবং উত্তরায়নের বদলে ক্রমাগত মানোবনয়নের শিকার হচ্ছে। ফলত বিদ্যমান শিক্ষাপদ্ধতি এবং নীতিনির্ধারকদের কাছে এদেশের শিশু-কিশোররা গিনিপিগের চেয়ে ভালো কিছু হিসেবে গণ্য হচ্ছে বলে একটুও মনে হচ্ছে না।

জাপানে স্কুল শুরুর প্রথম কয় বছর শিশুকে নৈতিকতা আর দায়িত্ববোধের শিক্ষাই শুধু দেওয়া হয়। তারপর তার বই-খাতা ভিত্তিক পড়াশোনা। প্রথম কয় বছর শিশুর কোনও পরীক্ষাও নেওয়া হয় না। কেন না তাকে যা শেখানোর তা যথাসম্ভব ভালো করে শিখানোটাই সেদেশে শিক্ষাক্রমের নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশ্য। তাকে ফার্স্ট সেকেন্ড বা নব্বই পঁচানব্বই পাওয়ার প্রতিযোগিতায় মেতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ফাঁসিতে ঝুলে ফায়দা নেওয়ার প্রক্রিয়াতে ফেলাটা তাদের উদ্দেশ্য নয়। আমাদের দেশে শিক্ষক পড়ান কী না পড়ান, ছাত্রের নম্বরের সিঁড়ি বাইবার পারদর্শিতা ঠিকই বিচার্য। সেখানে ভুল বানান, ভুল ব্যাকরণ, ভুল শব্দপ্রয়োগ যেনো কোনও বিবেচ্য বিষয়ই নয়। অথচ যুগের সাথে সাথে সময়ের বিবর্তনে সামাজিক, অর্থনৈতিক, কৌশল ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের ফলে শিশুর এবং গোটা সমাজের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনের অবশ্যম্ভাবী বিষয়টাকে মাথায় রেখে তার পাঠক্রম এবং পাঠ্য-পুস্তকে কী কী পরিবর্তন আনাটা জরুরি তা নিয়ে কেউ ন্যূনতম মাথা ঘামাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না। আধুনিক শিক্ষা উপকরণ ও পদ্ধতির কল্যাণে ভিনদেশি অতীত ঐতিহ্য কৃষ্টিকে জানবার পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের তার নিজ দেশের অতীত ঐতিহ্য কৃষ্টিকে জানবার মতোন যুতসই পাঠক্রম তৈরি না হলে তার মনোবিকাশে আপন কৃষ্টি ও ঐতিহ্যকে ধারণ করবার বা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার মতো কোনও গঠনশৈলীর ভেতর দিয়ে আমরা তাকে বড় করছি না। স্বভাবতই এই শিশু-কিশোরের কাছ থেকে আমরা দেশপ্রেমের সে’রকম গভীর কিছু আশাও করতে পারি না।

আরো অবাক হতে হয় যখন আমরা যখন জানতে পারি ঢাকা শহরের অধিকাংশ স্কুলগুলোতে সকালে অ্যাসেম্বলিই হয় না (জানি সবার ক্ষেত্রে এই অভিযোগ সমান ভাবে বর্তাবে না)। অথচ সাম্প্রতিক সময়ের বিবেচনায় উচিৎ বাংলা-ইংরেজি-মাদ্রাসা সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ভাবে প্রতিদিন না হোক যত বেশি দিন সম্ভব অ্যাসেম্বলি করা, জাতীয় সঙ্গীত এবং দেশাত্ববোধক গান গাওয়া।  প্লে গ্রুপ-নার্সারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা পর্যন্ত নিজ দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য কৃষ্টি গৌরবগাঁথার ক্রম বিবেচনায় প্রতি ক্লাসেই একটা বিষয় বাধ্যতামূলক ভাবে পাঠ্যক্রমভূক্ত করা। আপন সংস্কৃতির ধারা সমুন্নত রাখবার লক্ষ্যে বিবিধ বিষয় নিয়ে আন্তঃশিক্ষা প্রতিষ্ঠান নানান সম্মেলন-সভা-সেমিনার-প্রতিযোগিতার রীতি জোরদার ভাবে চালু করা।

শুধু প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম রীতি আর চর্চাই নয় আমাদের বিবর্তনশীল সমাজে প্রতিদিন জীবনযাত্রার যে পরিবর্তন ঘটছে তার প্রভাবেও শিশু-কিশোরদের মনে নানান মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন ঘটছে। এমনটা ঘটে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত নিরবে নিভৃতিতে সাধারণের বুঝে ওঠবার সক্ষমতার অগোচরে। আমাদের আমলে বিদ্যুৎ চলে গেলে হারিকেন, কুপি, মোমবাতি জ্বালাতে হতো সময় নিয়ে। এখনকার মতো অটো ট্রান্সফার সুইচের কল্যাণে লহমায় বিকল্প বিদ্যুৎ চালু হত না। ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হতো। সেসময় একটা তথ্য জানবার জন্য একের পর এক বই ঘাঁটতে হতো। সপ্তাহ মাস পার হত চেষ্টায় আর অপেক্ষায়। গুগুল করে লহমায় জানার সুযোগ ছিল না। চুলায় খাবার গরম করতে সময় লাগতো, মাইক্রোওয়েভে সেকেণ্ডে-মিনিটে তা সম্ভব ছিল না। আমাদের সময় কাগজের গায়ে হাতে লিখতে হত, কম্পিউটারে-নোটপ্যাডে-সেলফোনে লিখে নেওয়ার কাগজবিহীন সংস্কৃতি ছিল না। মাঠে দৌড়ঝাঁপ করে আরো আরো ছেলেমেয়ের সঙ্গে সামনাসামনি ভাব বিনিময়ের বিকল্প হয়ে দাঁড়াবে কম্পিউটার গেমস কিংবা ভার্চুয়াল সোশাল মিডিয়া ধারণা ছিল না।

আমাদের লিখতে হত পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা, প্রতিযোগিতা থাকতো পরীক্ষায় কে কত মোটাতাজা করতে পারে খাতা, কে কত বেশি প্রসঙ্গ বা যুক্তি সংযুক্ত করতে পারে লেখায়। না হোক ওই পদ্ধতিটুকু সঠিক, আজকের এমসিকিউ সিস্টেমে পেনসিলে শূন্য বৃত্ত ভরাট করে - জেনে কিংবা না জেনেও বেশ জুটিয়ে নেওয়া যায় কিছু নম্বর। তবে সামগ্রিক ভাবে গোটা শিক্ষাপদ্ধতি এবং পরীক্ষারীতি একজন শিক্ষার্থীর জন্য জ্ঞানার্জনের দরজা উন্মুক্ত করবার কাজটি করতে পারছে না। শিশু-কিশোরের চিন্তাশক্তিকে সঠিকভাবে উজ্জ্বীবিত করতে পারছে না। ব্যতিক্রম এখানে বিবেচ্য নয়। ক্লাসের প্রতিটি শিশু-কিশোরের জ্ঞানার্জন এবং দিব্যচক্ষুর উন্মোচন ঘটানোটাই আসল কথা।  দৈনন্দিন কার্যক্রম প্রতিদিন একটা শিশুকে ঘরে ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শেয়ারিং, কেয়ারিং, থিংকিং-এর ভেতর দিয়ে বিবেকবান ও চিন্তাশক্তিসম্পন্ন হয়ে বেড়ে ওঠবার মতো ব্যবস্থা নিশ্চিত করবার অনুকূল পদ্ধতির শিক্ষাক্রম ও পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে সক্রিয় এগিয়ে আসবার সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে। ফুরিয়ে যাচ্ছে বোধকে জাগ্রত করবার সুযোগ।  শিগগিরই কিছু না করতে পারলে অচিরেই অব্যবস্থাপনার শিকার এক বিশাল জনগোষ্ঠী তাদের অর্ধশিক্ষিত জ্ঞান ও প্রজ্ঞাহীন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আরো নাজুক কোনও নিয়মের দরোজায় পৌঁছে দেবে আমাদেরকে, ঠিকঠাক কিছু বুঝে উঠবার আগেই।

২.

কিছুদিন আগে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি পরীক্ষায় মাত্র দু’জন কৃতকার্য হওয়ার প্রসঙ্গটি নিয়ে তোলপাড় হলো খুব। ব্যস, ওইটুকুনই। এর কারণটা উদঘাটনে, পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কী কার্যক্রম আমরা গ্রহণ করেছি! আমরা কি উপলব্ধি করেছি এ অগ্রহণযোগ্য বাস্তবতার পেছনের প্রেক্ষিত দুটি! এক - যারা যোগ্য তারা এ শিক্ষা মাধ্যমের প্রতি আস্থাশীল নয় বলে পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি পরীক্ষাই দিচ্ছে না। দুই - যারা দিচ্ছে তাদের পড়াশোনার জন্য প্রয়োগকৃত শিক্ষাপদ্ধতি তাকে ভর্তি পরীক্ষায় পাসের মতোন ন্যূনতম শিক্ষার আলোটুকুনও পৌঁছে দিতে সক্ষম হচ্ছে না।

প্রি স্কুল, প্রাইমারি, সেকেণ্ডারি, হায়ার সেকেণ্ডারি সব পর্বেই পাঠ্যক্রম আধুনিকতা ও বৈশ্বিক মানদিণ্ডের বিচারে পিছিয়ে আছে। এক সময়ে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ যে মানে বিবেচিত হত তাও নেমে গেছে বহু ধাপ নিচে।  তখন দূরপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ন্যূনতম মানের একটা বিশ্ববিদ্যালয় খুঁজে পাওয়া যেতো না। সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তৈলাক্ত বাঁশ বেয়ে নেমেই যাচ্ছে, হাতে গোনা এক-আধটা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় এবং  বুয়েট হাঁটি হাঁটি পা পা করে কয়েক কদম এগিয়েছে বটে। বিপরীতে দূরপ্রাচ্যের দেশক’টাতে ভুড়ি ভুড়ি বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়েছে বৈশ্বিক মানদণ্ডে। এর কারণ শিক্ষাক্রম, শিক্ষক নিয়োগ এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক পেশাগত মানসিকতা বিদ্যমান ও চর্চিত থাকা। গবেষণাভিত্তিক কার্যক্রম ও প্রাসঙ্গিক শিক্ষাক্রমের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় সম্যক কার্যক্রম সচল থাকা।

যন্ত্র আর সেবা তৈরির কারিগররা যে মাপে সন্মানী পান; মানুষ গড়ার কারিগরেরা আমাদের দেশে সে অনুপাতে নগন্য সন্মানী পান। রুগ্ন আয়ের পেশা শিক্ষকতায় তাই সহসা কেউ আগ্রহ ভরে এগিয়ে আসতে চায় না। ব্যতিক্রম শুধু বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে, তবে যতোটা না যথাযথ বেতনের জন্য ততোধিক তার চাকরির সুবাদে অন্য কাজে আয়ের সুযোগ থাকার কারণে। তাতে করে যোগ্যতর মেধাবী কাউকে শিক্ষকতা পেশায় আগ্রহী হতে সচরাচর আমরা দেখি না। শিক্ষার আলো ছড়াবার ব্রতটি অন্ধকারে প্যাকেটবন্দী পড়ে আছে। সচল ও দৃশ্যমান হয়ে আছে তার বাণিজ্যিক ও পুঁজিবাদী চেহারাটা। এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথে সমাজকে পরিচালিত করবার প্রয়াস যখন খুব প্রয়োজন ছাত্র-ছাত্রীর চেয়ে তাদের বাবা-মায়ের মাঝে, তখন দেখা যাচ্ছে বাবা-মা’ই আকুল হয়ে প্রশ্নপত্র কিনতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। বোর্ডের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় কৃতকার্য হতে ব্যর্থ হচ্ছে।  বাবা-মা একবারও ভাবছে না এমন শঠতার পরিণামটা।

লেখক: কথাসাহিত্যিক

 

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

সর্বশেষ

শেষ দিনগুলোতে বাইডেনের ডানা ছাঁটার চেষ্টা পম্পেওর

শেষ দিনগুলোতে বাইডেনের ডানা ছাঁটার চেষ্টা পম্পেওর

আটক বাঙালি সৈন্যদের সীমান্ত থেকে পাঞ্জাবে আনা হচ্ছে

আটক বাঙালি সৈন্যদের সীমান্ত থেকে পাঞ্জাবে আনা হচ্ছে

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য অভিন্ন বৃক্ষরোপণ নীতিমালা

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য অভিন্ন বৃক্ষরোপণ নীতিমালা

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

কুমিল্লায় চুরি-ছিনতাইসহ বেড়েছে ৮ অপরাধ

কুমিল্লায় চুরি-ছিনতাইসহ বেড়েছে ৮ অপরাধ

সিটি নির্বাচনের আগে সিএমপির ৫ থানায় রদবদল

সিটি নির্বাচনের আগে সিএমপির ৫ থানায় রদবদল

সিআরইউ-এর সভাপতি হাসিব, সম্পাদক জাহাঙ্গীর

সিআরইউ-এর সভাপতি হাসিব, সম্পাদক জাহাঙ্গীর

‘সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের অপরাধের পরিমাণ অনেক কম’

‘সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের অপরাধের পরিমাণ অনেক কম’

‘বড় নগরগুলোতে ভ্যাকসিন দেওয়া চ্যালেঞ্জিং’

‘বড় নগরগুলোতে ভ্যাকসিন দেওয়া চ্যালেঞ্জিং’

২৩ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দেবেন মুজিববর্ষের উপহার

২৩ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দেবেন মুজিববর্ষের উপহার

বকশীগঞ্জে ট্রাক্টরের চাপায় স্কুলছাত্র নিহত

বকশীগঞ্জে ট্রাক্টরের চাপায় স্কুলছাত্র নিহত

ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে খুনের অভিযোগ, ৭ বছর পর গ্রেফতার

ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে খুনের অভিযোগ, ৭ বছর পর গ্রেফতার

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ


[email protected]
© 2021 Bangla Tribune
Bangla Tribune is one of the most revered online newspapers in Bangladesh, due to its reputation of neutral coverage and incisive analysis.