X

সেকশনস

অর্থনীতিতে একটা জোয়ার আসুক

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৫:০৭

সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা অর্থনীতির যেসব পরিসংখ্যান সাধারণভাবে আলোচিত হয়, সেগুলো বেশ উৎসাহের সঙ্গে সামনে আসে। প্রবৃদ্ধি ভালো, মাথাপিছু আয় ভালো এবং রেমিট্যান্সও আসছে বেশ। কিন্তু কোথায় যেন একটা নেই নেই ভাবও আছে। একদিকে পাঁচ লাখ কোটি টাকার বাজেট, অন্যদিকে দেশের শিল্পের কঠিন অবস্থা।
এ বছর জানুয়ারি মাসেই বড় শিরোনাম হলো—২০৩২ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের ২৫টি বড় অর্থনীতির একটি হবে। বর্তমান অবস্থান ৪১তম। বিদেশি সংস্থার গবেষণাতেই বলা হয়েছে, ২০১৮ থেকে ২০৩৩ সালের মধ্যে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) গড় ৭ শতাংশ ধরে রাখলে ২০৩৩ সালের মধ্যে ২৪তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে বাংলাদেশ।
এগুলো সবই আমাদের উৎসাহিত করে, আনন্দিত করে। কিন্তু যেটা বলছিলাম, কোথায় যেন একটা সমস্যাও আছে। এক কঠিন অবস্থায় আছে ব্যাংকার বন্ধুরা। তারা বলে এ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে তারা। অনেক ব্যাংকার সুযোগ নিয়েছে কিছু কিছু হরিলুটের, আবার কেউ কেউ মালিকপক্ষের আদেশে কাজ করতে গিয়ে এখন মামলায় পর্যুদস্ত। অবাধে ঋণ নেওয়ার নামে অবাধে ব্যাংক লুট হয়েছে বললে অনেকে মানতে চাইবেন না। কিন্তু দেশের ব্যাংক তথা আর্থিক খাত যে একটা বড় সময় অপশাসনের ভেতর দিয়ে গেছে, সেটা অস্বীকারও করার জো নেই। বেসিক ব্যাংক লুট হয়েছে, সোনালী ব্যাংক, হলমার্ক কেলেংকারির কথা সবাই জানে, জনতা ব্যাংকে কীভাবে কী হয়েছে সেই আলোচনাও এখানে করা হচ্ছে না। সরকারি ব্যাংকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই, অন্যদিকে বেসরকারি ব্যাংকের উদ্যোক্তারা মালিক সেজে নিজেদের অবস্থান ব্যাংক পরিচালনায় আরও শক্ত করেছেন। এর মধ্যেই অবসায়নে গেছে পিপল’স লিজিং এবং এরকম লাল বাতির অপেক্ষায় আছে আরও কয়েকটি লিজিং বা ফিন্যান্স কোম্পানি।

প্রচুর ব্যাংক। আরও ব্যাংক আসছে। কেমন চলছে ব্যাংক—এমন প্রশ্ন করলে প্রায় সব ব্যাংকারই বলবেন ভালো না। কারণ ঘুরেফিরে গুটি কয়েক বড় ক্লায়েন্টের কাছেই ছুটাছুটি করতে হচ্ছে সব ব্যাংককে। এখন অবশ্য বিভিন্ন বাহিনীর ব্যাংকও বিশেষ সুবিধা নিয়ে একই বাজারে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত।

ব্যবসা বাণিজ্য ও শিল্পে তেমন গতি নেই। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ যেমন কমেছে, তেমনি কমেছে এর উদ্যমও। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বহুগুণ বেড়েছে, সুযোগ-সুবিধা বাড়ছে আর বাড়ছে। আর এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বেসরকারি খাতের কর্মী ও সাধারণ মানুষের ওপর। এই কারণগুলো নিত্য মানুষের গায়ে কাঁটা ফোটাচ্ছে। প্রতিদিন বাজারে গেলে যে সরাসরি আঁচ সাধারণের গায়ে লাগছে, তা রাষ্ট্রযন্ত্র হয়তো টের পাচ্ছে না।

বেসরকারি খাতের নাজুক অবস্থায় কর্মসংস্থান পরিস্থিতি ভালো নেই। শেয়ারবাজারে সাম্প্রতিককালে ঘটে গেলো আরেক বড় ধস। এবার কোরবানির ঈদে চামড়া নিয়ে যা হয়েছে তা আমাদের পারিষ্কার বলে, কোনও কিছু স্বাভাবিক অবস্থায় নেই।

আসলে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে সরাসরি কোনও উদ্যোগ নেই। সরকার ব্যস্ত বড় বড় বা মেগা প্রকল্পসহ উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ বাড়াতে। কিন্তু জিডিপিতে দীর্ঘ সময় ধরে বেসরকারি বিনিয়োগে কোনও উন্নতি নেই। গত দশ বছরে নতুন করে ধনী হয়েছে অনেক, কিন্তু নতুন উদ্যোক্তা আসেনি তেমন। আর এর মাঝেই আর্থিক খাতে বড় কেলেংকারি ঘটেছে এবং একটা পক্ষ সেখানে নিজেদের অবস্থান সংহত করেছে।

আমি মিডিয়ায় কাজ করি। গত কয়েক বছর ধরে কর্মী ছাঁটাই চলছে অবাধে। বেতন বন্ধ আছে, অনিয়মিত হয়ে গেছে বহু মিডিয়া হাউজে। কারণ আয় নেই। বেসরকারি খাতে যারা কাজ করেন, বড় কিছু প্রতিষ্ঠান বাদ দিলে সেগুলোর কর্মীদের মাঝেও হতাশা অনেক। সর্বত্র কর্মী ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে। শিল্প এবং কৃষি দুটি ক্ষেত্রেই সঙ্গিন অবস্থা। কৃষি উৎপাদন বেড়েছে, কৃষকরা ধানের দাম পায়নি। ফলে গ্রামীণ মানুষের আয়ে আঘাত লেগেছে।

আসলে প্রকৃত অবস্থাটা বোঝাও বেশ কঠিন। কেউ বলছেন হতাশার কথা, আবার কেউ বলছেন অপূর্ব চলছে দেশের অর্থনীতি। মানুষ এসব সূচক, জিডিপি বোঝে না। কিন্তু নিত্যদিন সে ভালো আছে কিনা, সেটা সে বোঝে। পকেটে তার টান পড়ছে কিনা, সেটা সে বোঝে।

আমরা ভালো থাকতে চাই। অর্থনীতি ভালো হওয়া দরকার। রাজনীতির সংকীর্ণতা মুছে ভালো দেশ গড়াই তো সবার লক্ষ্য। সেখানে দেশের নিরাপত্তার জন্য যেমন অস্ত্র কেনা দরকার, সীমান্তে সুরক্ষা দরকার, প্রতিবেশী দেশে যা ঘটছে সেদিকে নজর দেওয়া দরকার, তেমনি দরকার মজবুত অর্থনীতি। দরকার দেশের প্রতিটি মানুষকে ভালো রাখার সুষ্ঠু পরিকল্পনা।

অর্থনীতির হাল ফেরাতে উদ্যোগ প্রয়োজন। দল-মত নির্বিশেষে উদ্যোগটুকু দরকার। দেশের স্বার্থে। নতুন দিনের লক্ষ্যে। বাংলাদেশের সমাজ ও অর্থনৈতিক জীবনে একটি সত্য ও তত্ত্ব লক্ষ করা যাচ্ছে, অর্থনীতি রাজনীতিকে এবং দৈনন্দিন জীবনযাপন বা অবলম্বনের বাস্তবতাকে মানতে হলে তথাকথিত আবেগকে টপকে যেতে হবে। শুধু পরিসংখ্যান নয়, অর্থনীতিতে একটা উদ্যোগ আসুক, জোয়ার আসুক সরকারের দিক থেকে। এটুকুই সাধারণ আর্জি সাধারণ মানুষের।

লেখক: প্রধান সম্পাদক, জিটিভি ও সারাবাংলা 

/এসএএস/এমএমজে/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

সম্পর্কিত

মির্জা কাদেরের 'ভোকাল টনিক'

মির্জা কাদেরের 'ভোকাল টনিক'

অপরাধের সঙ্গে দুর্নীতির যোগ

অপরাধের সঙ্গে দুর্নীতির যোগ

ঐতিহ্য ভুলিয়ে

ঐতিহ্য ভুলিয়ে

নতুন বছরে জাগুক নতুন উপলব্ধি

নতুন বছরে জাগুক নতুন উপলব্ধি

আরব বসন্তের সূর্য উঠেই ডুবে গেলো

আরব বসন্তের সূর্য উঠেই ডুবে গেলো

বিজয়ের রাজনীতি

বিজয়ের রাজনীতি

আবার বঙ্গবন্ধু

আবার বঙ্গবন্ধু

অবাক হওয়ার কী আছে?

অবাক হওয়ার কী আছে?

বেগম পাড়ার সাহেবরা

বেগম পাড়ার সাহেবরা

‘কাটমোল্লা’ নয়, গভীরভাবে ধর্মবিশ্বাসী মানুষ উদারপন্থী, সহনশীল

‘কাটমোল্লা’ নয়, গভীরভাবে ধর্মবিশ্বাসী মানুষ উদারপন্থী, সহনশীল

পুলিশ

পুলিশ

পাইয়ে দেওয়া, নিয়ে নেওয়া

পাইয়ে দেওয়া, নিয়ে নেওয়া

সর্বশেষ

সংক্রমণ কমছে, করোনা হটানোর এটাই সুযোগ!

সংক্রমণ কমছে, করোনা হটানোর এটাই সুযোগ!

৬ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ফেরি চলাচল স্বাভাবিক 

৬ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ফেরি চলাচল স্বাভাবিক 

১২৬ মাছে ভাগ্য খুলেছে রফিকুলের

১২৬ মাছে ভাগ্য খুলেছে রফিকুলের

বিশ্বে ২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্ত ৬ লাখ ৮৫ হাজার

বিশ্বে ২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্ত ৬ লাখ ৮৫ হাজার

সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে নিহত দু'জনের  লাশ ভারতে উদ্ধার

সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে নিহত দু'জনের লাশ ভারতে উদ্ধার

উপমহাদেশের স্বার্থে পাকিস্তানের স্বীকৃতি জরুরি

উপমহাদেশের স্বার্থে পাকিস্তানের স্বীকৃতি জরুরি

নতুন ঘর পেয়ে খুশি সুকজান বেগম

নতুন ঘর পেয়ে খুশি সুকজান বেগম

‘জীবনেও ভাবি নাই পাক্কা ঘরে ঘুমামু’

‘জীবনেও ভাবি নাই পাক্কা ঘরে ঘুমামু’

ঘর 'আপন' হওয়ার আগে আগলে রাখছেন তারা

ঘর 'আপন' হওয়ার আগে আগলে রাখছেন তারা

খুবির অস্থিতিশীল পরিবেশ প্রসঙ্গে সাবেক ২৭৩ শিক্ষার্থীর উদ্বেগ

খুবির অস্থিতিশীল পরিবেশ প্রসঙ্গে সাবেক ২৭৩ শিক্ষার্থীর উদ্বেগ

বিদ্যুতের লাইন ছিঁড়ে ঘরে আগুন, প্রতিবন্ধী শিশুসহ নিহত ৪

বিদ্যুতের লাইন ছিঁড়ে ঘরে আগুন, প্রতিবন্ধী শিশুসহ নিহত ৪

‘এত কাজ কেউ করতে পারেনি, জিতলে আরও করবো’

‘এত কাজ কেউ করতে পারেনি, জিতলে আরও করবো’

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ


[email protected]
© 2021 Bangla Tribune
Bangla Tribune is one of the most revered online newspapers in Bangladesh, due to its reputation of neutral coverage and incisive analysis.