সেকশনস

লিবিয়ায় সর্বশক্তি দিয়ে হামলা চালাচ্ছে হাফতার বাহিনী : এরদোয়ান

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২০, ১৭:৫৪

লিবিয়ার আমিরাত সমর্থিত বিদ্রোহী নেতা খলিফা হাফতারের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। রবিবার আলজেরিয়া সফরের প্রাক্কালে এমন অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, লিবিয়ায় সর্বশক্তি দিয়ে হামলা চালাচ্ছে হাফতার বাহিনী। তবে তারা সফল হবে না। রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান
আমিরাত ছাড়াও হাফতার বাহিনীকে সমর্থন দিচ্ছে মিসর, রাশিয়া ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলো। এ বাহিনীর নাম দেওয়া হয়েছে লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মি।

এরদোয়ান বলেন, হাফতার বাহিনী দফায় দফায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমর্থন তাকে ধ্বংসাত্মক ভূমিকায় নিয়ে এসেছে। আমাদের দেখতে হবে, হাফতারের পরিচয় কী? তিনি এমন একজন ব্যক্তি যিনি এর আগেও তার ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। এমন মানুষের কাছে যুদ্ধবিরতি চলাকালেও বোঝাপড়া আশা করা যায় না।

গত নয় মাস ধরে লিবিয়ায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও হাফতার বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। সম্প্রতি তুরস্ক ও রাশিয়ার মধ্যস্থতায় একটি অস্ত্রবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে দেশটির জাতিসংঘ সমর্থিত সরকার। কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষর না করেই মস্কো ছাড়েন খলিফা হাফতার। এ ঘটনায় এরদোয়ান বলেছেন, খলিফা হাফতার ও তার বাহিনী যদি লিবিয়ার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বিরুদ্ধে হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে তাদের উপযুক্ত শিক্ষা দেবে আঙ্কারা। কেননা, লিবীয় স্বজনদের রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, লিবিয়ার সঙ্গে তুরস্কের ঐতিহাসিক ও সামাজিক সম্পর্ক রয়েছে। আঙ্কারা হস্তক্ষেপ না করলে হাফতার পুরো দেশটি দখল করে ফেলতো।

এর আগে জানুয়ারির গোড়ার দিকে ত্রিপোলিতে সেনা মোতায়েনের জন্য একটি প্রস্তাব পাস করে তুরস্কের পার্লামেন্ট। আমিরাত সমর্থিত হাফতার বাহিনীর হামলা মোকাবিলায় লিবিয়া সরকারের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত অনুরোধ পাওয়ার পর ওই প্রস্তাব পাস করে তুর্কি পার্লামেন্ট।

জীবনযাপনের মানের দিকে থেকে তেলসমৃদ্ধ লিবিয়া একসময় আফ্রিকার শীর্ষে ছিল। স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা ছিল পুরোপুরি রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তবে যে রাজনৈতিক এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা ওই ঐশ্বর্য নিশ্চিত করেছিল, সেটি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায় ২০১১ সালে যখন পশ্চিমা সমর্থিত বিদ্রোহীদের হাতে কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতন হয়। তারপর থেকে লিবিয়ায় চলছে সীমাহীন সংঘাত। গাদ্দাফি ক্ষমতাচ্যুত ও নিহত হওয়ার পর ত্রিপোলিতে জাতিসংঘ সমর্থিত একটি মনোনীত সরকার রয়েছে। ওই কর্তৃপক্ষকে জাতীয় ঐকমত্যের সরকার বা জিএনএ নামে অভিহিত করা হয়। তবে দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর হাতে রয়ে গেছে। পশ্চিমাঞ্চলে জিএনএ-এর কর্তৃত্ব থাকলেও পূর্ব ও দক্ষিণের বেশিরভাগ অঞ্চল হাফতার বাহিনী এলএনএ-এর দখলে। ২০১৯ সালের এপ্রিলে এ বাহিনী লিবিয়ার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।

প্রায় পাঁচ বছর ধরে লিবিয়ায় দুটি সরকার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এদের মধ্যে একটি সরকারকে সমর্থন দিয়েছে জাতিসংঘ ও অন্যান্য দেশ। আরেকটি ফিল্ড মার্শাল হাফতারের নেতৃত্বাধীন। ত্রিপোলির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে জাতিসংঘ। তুরস্ক, ইতালি ও যুক্তরাজ্য এ সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে। আর হাফতার বাহিনীর সমর্থনে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, রাশিয়া, ফ্রান্স, মিসর ও সৌদি আরব। যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে (জিএনএ) সমর্থন করে এবং শান্তি আলোচনার আহ্বান জানায়। কিন্তু ২০১৯ সালের এপ্রিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খলিফা হাফতারকে ফোন দিয়ে লিবিয়ার ব্যাপারে ‘যৌথ স্বপ্নের’ কথা বলেন। সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা।

 

/এমপি/

সম্পর্কিত

তাইওয়ানের ওপর চাপ প্রয়োগ থামান: চীনকে যুক্তরাষ্ট্র

তাইওয়ানের ওপর চাপ প্রয়োগ থামান: চীনকে যুক্তরাষ্ট্র

এশিয়ার ড্রাগ লর্ড সে চি লপ গ্রেফতার

এশিয়ার ড্রাগ লর্ড সে চি লপ গ্রেফতার

রাশিয়াজুড়ে বিরোধীদের ওপর ব্যাপক ধরপাকড়, আটক তিন সহস্রাধিক

রাশিয়াজুড়ে বিরোধীদের ওপর ব্যাপক ধরপাকড়, আটক তিন সহস্রাধিক

করোনা শনাক্তের সংখ্যা ৯ কোটি ৯৩ লাখ ছাড়িয়েছে

করোনা শনাক্তের সংখ্যা ৯ কোটি ৯৩ লাখ ছাড়িয়েছে

ব্রাজিলে ব্যাপকভাবে কমেছে বলসোনারোর সমর্থন: জরিপ

ব্রাজিলে ব্যাপকভাবে কমেছে বলসোনারোর সমর্থন: জরিপ

আটক হলেন রাশিয়ার বিরোধী দলীয় নেতা নাভালনির স্ত্রী

আটক হলেন রাশিয়ার বিরোধী দলীয় নেতা নাভালনির স্ত্রী

করোনায় মারা গেলেন কিংবদন্তি মার্কিন টক শো উপস্থাপক

করোনায় মারা গেলেন কিংবদন্তি মার্কিন টক শো উপস্থাপক

লালু প্রসাদ যাদবের স্বাস্থ্যের অবনতি, নেওয়া হচ্ছে দিল্লি

লালু প্রসাদ যাদবের স্বাস্থ্যের অবনতি, নেওয়া হচ্ছে দিল্লি

সর্বশেষ

তিন ম্যাচ পর রিয়ালের জয়

তিন ম্যাচ পর রিয়ালের জয়

তাইওয়ানের ওপর চাপ প্রয়োগ থামান: চীনকে যুক্তরাষ্ট্র

তাইওয়ানের ওপর চাপ প্রয়োগ থামান: চীনকে যুক্তরাষ্ট্র

বাবার যৌন হয়রানি থেকে বাঁচতে আদালতে দুই মেয়ে, মিলছে না বিচার

বাবার যৌন হয়রানি থেকে বাঁচতে আদালতে দুই মেয়ে, মিলছে না বিচার

আলীকদমে বন্য হাতির আক্রমণে ২ জনের মৃত্যু

আলীকদমে বন্য হাতির আক্রমণে ২ জনের মৃত্যু

টিভিতে আজ

টিভিতে আজ

এশিয়ার ড্রাগ লর্ড সে চি লপ গ্রেফতার

এশিয়ার ড্রাগ লর্ড সে চি লপ গ্রেফতার

কমলাপুরের অলি গার্মেন্টসে আগুন

কমলাপুরের অলি গার্মেন্টসে আগুন

রাশিয়াজুড়ে বিরোধীদের ওপর ব্যাপক ধরপাকড়, আটক তিন সহস্রাধিক

রাশিয়াজুড়ে বিরোধীদের ওপর ব্যাপক ধরপাকড়, আটক তিন সহস্রাধিক

রোহিঙ্গা ও জলবায়ু বাস্তুচ্যুতদের জন্য সক্রিয় বৈশ্বিক সহায়তা চায় বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা ও জলবায়ু বাস্তুচ্যুতদের জন্য সক্রিয় বৈশ্বিক সহায়তা চায় বাংলাদেশ

‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বাংলাদেশ এখন খাদ্য রফতানি করে

স্বাধীনতার ৫০ বছর‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বাংলাদেশ এখন খাদ্য রফতানি করে

করোনা শনাক্তের সংখ্যা ৯ কোটি ৯৩ লাখ ছাড়িয়েছে

করোনা শনাক্তের সংখ্যা ৯ কোটি ৯৩ লাখ ছাড়িয়েছে

রেললাইনে কাজের সময় নিজ ট্রলিতে চালক নিহত

রেললাইনে কাজের সময় নিজ ট্রলিতে চালক নিহত

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

তাইওয়ানের ওপর চাপ প্রয়োগ থামান: চীনকে যুক্তরাষ্ট্র

তাইওয়ানের ওপর চাপ প্রয়োগ থামান: চীনকে যুক্তরাষ্ট্র

এশিয়ার ড্রাগ লর্ড সে চি লপ গ্রেফতার

এশিয়ার ড্রাগ লর্ড সে চি লপ গ্রেফতার

রাশিয়াজুড়ে বিরোধীদের ওপর ব্যাপক ধরপাকড়, আটক তিন সহস্রাধিক

রাশিয়াজুড়ে বিরোধীদের ওপর ব্যাপক ধরপাকড়, আটক তিন সহস্রাধিক

করোনা শনাক্তের সংখ্যা ৯ কোটি ৯৩ লাখ ছাড়িয়েছে

করোনা শনাক্তের সংখ্যা ৯ কোটি ৯৩ লাখ ছাড়িয়েছে

ব্রাজিলে ব্যাপকভাবে কমেছে বলসোনারোর সমর্থন: জরিপ

ব্রাজিলে ব্যাপকভাবে কমেছে বলসোনারোর সমর্থন: জরিপ

আটক হলেন রাশিয়ার বিরোধী দলীয় নেতা নাভালনির স্ত্রী

আটক হলেন রাশিয়ার বিরোধী দলীয় নেতা নাভালনির স্ত্রী


[email protected]
© 2021 Bangla Tribune
Bangla Tribune is one of the most revered online newspapers in Bangladesh, due to its reputation of neutral coverage and incisive analysis.