X
সকল বিভাগ
সেকশনস
সকল বিভাগ

দূরত্ব এখন উপেক্ষিত এবং আপেক্ষিক

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২২, ২০:০০
রাবেয়া রাবু যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পর্কিত যেকোনও বিষয় নিয়ে আলোচনা, তর্ক কিংবা যুক্তি উপস্থাপনের কথা উঠলেই আগে সড়ক, নৌ কিংবা বিমান পথ ব্যবস্থার কথা মনে করা হতো। কিন্তু হালের এই সময়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার ভাষা বদল করে ফেলেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। আর একে নেতৃত্ব দিয়েছে ইন্টারনেট ব্যবস্থা। দ্রুত এবং কম খরচের এই মাধ্যম এখন আবেগ, ব্যবসা-বাণিজ্যকে এতটাই সহজলভ্য করে ফেলেছে যে দূরত্ব নামক বিষয়টি এখন অনেকাংশেই উপেক্ষিত এবং আপেক্ষিক।

বিস্তৃত অর্থে বললে, সামাজিক যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন– ফেসবুক, টুইটার, হোয়াটসঅ্যাপসহ অন্যান্য মাধ্যমগুলোর মাধ্যমে মানুষ এখন একে অপরের সঙ্গে আরও নিরবচ্ছিন্ন এবং নান্দনিকভাবে যুক্ত থাকার সুযোগ পেয়েছে।

আমরা জানি, দেশের একটা অংশ যাদের অর্থনীতির ভাষায় রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়, তারা এই যোগাযোগমাধ্যমের কারণে পরিবারের সঙ্গে সংগ্রাম এবং আনন্দের বিষয়গুলো এখন ভাগ করার সুযোগ পাচ্ছেন। কিন্তু একটা সময় ছিল যখন বিদেশের মাটি থেকে এই অর্থনৈতিক লড়াকু মানুষেরা তাঁর আপনজনের কণ্ঠস্বর একবার শোনার তাগিদে অপেক্ষার সাগর পাড়ি দিয়েছেন। প্রতিবেশী এবং দোকানির টেলিফোন কেন্দ্রিক বিরক্তি এবং কটূক্তি সহ্য করেছেন। কিন্তু সময়ের গতিতে আজ সবটাই নিজেদের কাছে। সামান্য অনুভূতিটুকুও আজ তারা আদান-প্রদান করে চলেছেন ডিজিটালাইজেশন ব্যবস্থার কারণে।

কিন্তু ক্ষেত্রবিশেষে এই মাধ্যমের কিছু অসম অসহযোগিতাও আছে। দেশের প্রেক্ষাপট পরিস্থিতিতে ফেসবুক এখানকার সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। কিন্তু বেদনার বিষয় হলো, এই মাধ্যমে কখনও কখনও এমন আবেদনমূলক বিষয়কে সেন্সর করা হয় এবং অযাচিত বিষয়গুলোকে দায়সারাভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়, যা ভীষণ আপত্তিকর। কখনও কখনও ব্যবহারকারীদের মাঝেও এর ছড়িয়ে পড়াকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

উদাহরণ প্রসঙ্গে বলা যায়, ধরুন কারও ফলোয়ার সংখ্যা ১ লাখ। তার বন্ধু তালিকায় আছে ৫ হাজার। তাহলে স্বাভাবিকভাবে তার যেকোনও প্রকাশ এদের সবার কাছে পৌঁছানো উচিত। কিন্তু ফেসবুক মাঝে মাঝে এমনও করে যে আপনার পোস্টটি ৫০০ মানুষের কাছেও পৌঁছাতে দেয় না! এটি আবার তাদের ভাষায় ফেসবুকের কমিউনিটি গাইডলাইন কিংবা সামাজিক নীতিমালা।

প্রয়োজনের অতিরিক্ত যেকোনও বিষয়কে নিয়ন্ত্রণের উপায় হাতে থাকা অবশ্যই আশাব্যঞ্জক। কিন্তু এই ফেসবুক কমিউনিটিকে এটাও বোঝাতে হবে কোনটা দেশের মুক্তিযুদ্ধের গণহত্যার ছবি আর কোনটা সহিংসতার। কারণ, একাত্তরের গণহত্যা দিবসে বাঙালি যখন শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ করে, বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ করে তখনও যদিও ফেসবুক তাদের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ডের দোহাই দিয়ে সেসব সেন্সর করে সেটা অবশ্যই আঘাতের। দেশের ইতিহাস এবং ঐতিহ্যকে বৈশ্বিকভাবে প্রকাশের ক্ষেত্রে হুমকিস্বরূপ।

আরও ভয়ংকর বিষয় হলো, মৌলবাদ এবং সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে কণ্ঠস্বর কিংবা প্রতিবাদী চিত্রকর্ম, কার্টুন প্রদর্শন করলেও মৌলবাদীরা সংঘবদ্ধভাবে টার্গেট করে এবং সেটাকে এই কমিউনিটি কর্তৃপক্ষ অনেক সময় না বুঝেই সরিয়েও ফেলে! এই বিষয়টি যতটা তাদের, তার চেয়ে বেশি যারা সংশ্লিষ্টদের হয়ে বাংলাদেশের বাজার পর্যবেক্ষণ করে তাদের দায়। নৈতিকভাবে তারা বাঙালির ইতিহাস এবং ঐতিহ্য সম্পর্কে কতটুকু জানেন সেটাও প্রশ্নের। অর্থাৎ এই জনবল কিংবা মডারেটররা কি আদৌ তাদের দায়িত্ব নিরপেক্ষভাবে পালন করছেন সে বিষয়টিকেও আমলে নেওয়া জরুরি।

জনসংখ্যার বিচারে ফেসবুক, টুইটার, হোয়াটসঅ্যাপসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বাংলাদেশিদের সংখ্যা অনেক। আরও ভিন্নভাবে বললে, বাংলাদেশের মার্কেট অনেক বিশাল। কাজেই তথ্য-প্রযুক্তি খাতে দেশ যেভাবে এগিয়েছে, অদূরে নিজেদের জন্য স্বকীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উদ্ভাবন যেমন জরুরি, তেমনি অন্যান্য যারা এখানে ব্যবসা করছে তাদের নিজেদের বাঙালির ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানা আবশ্যক। আর এমনটা করতে পারলে দেশের মুক্তবুদ্ধি, অসাম্প্রদায়িক এবং প্রগতিশীল অ্যাকটিভিস্টরা তাদের চেষ্টা এবং শ্রমকে বিকশিত করতে সুযোগ পাবেন আরও নান্দনিক এবং গতিশীলভাবে।

লেখক: প্রাবন্ধিক ও গবেষক

[email protected]
/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

জিন্স ও টপস পরায় তরুণীকে মারধরের ঘটনায় যুবক আটক
জিন্স ও টপস পরায় তরুণীকে মারধরের ঘটনায় যুবক আটক
বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ৪ প্রস্তাব
গ্লোবাল ক্রাইসিস রেসপন্স গ্রুপ-এর প্রথম উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকবৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ৪ প্রস্তাব
ডিম ছাড়ছে না হালদার মা মাছ, ভারী বৃষ্টির অপেক্ষা
ডিম ছাড়ছে না হালদার মা মাছ, ভারী বৃষ্টির অপেক্ষা
নরসিংদী রেল স্টেশনে সেদিন কি ঘটেছিল?
নরসিংদী রেল স্টেশনে সেদিন কি ঘটেছিল?
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ