X
শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
২০ মাঘ ১৪২৯

গোছানো ও সুসংবদ্ধ চক্রান্ত প্রোথিত

হায়দার মোহাম্মদ জিতু
২৩ নভেম্বর ২০২২, ১৯:৪০আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০২২, ১৯:৪০

গ্রীক পুরাণের ‘ট্রয়’ যুদ্ধে কাঠ নির্মিত ‘ট্রোজেন হর্স’ ছিল গ্রিকদের তুরুপের তাস। যেখানে সেই কাঠের অবয়বে লুকিয়ে সৈন্য প্রেরণ করা হয়েছিল একেবারে শত্রু শিবিরের অন্দরমহলে। উদ্দেশ্য ছিল রাজা প্রায়ামের দুর্গে প্রবেশ করে তার ফটক খুলে বাকি সৈন্যদের ভেতরে নিয়ে সেই রাজ্যের পতন ত্বরান্বিত করা। কালচক্রে সেই ‘পুরাণ ছায়া’ এখন দেশের রাজনীতিতে দৃশ্যমান। সরকার, বিরোধীদলসহ সর্বমহলের সংগঠন ও দল আজ এই সমস্যায় জর্জরিত। তবে ক্ষমতায় থাকাকালীন দলগুলোকে এই সমস্যা বেশি মোকাবিলা করতে হয়।

দেশের রাজনীতির ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাচীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। মুক্তিযুদ্ধে জাতিকে নেতৃত্বদানকারী ও সংগঠিতকারী একক দল হলেও এবারেই প্রথম তারা এত দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থেকেছেন, দেশের মানুষের সেবা করার সুযোগ পেয়েছেন। সরকার হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাফল্যের ধারে কাছে কেউ নেই। বৈশ্বিকভাবে বিভিন্ন উন্নয়নসূচক সমূহ তাই নির্দেশ করে।

খুব দ্রুত আরেকটি জাতীয় নির্বাচন আসতে চলেছে। স্বাভাবিকভাবেই সকল দল তাদের নিজেদের মেয়াদোত্তীর্ণ সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সাংগঠনিক কাঠামোকে নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে ঝালিয়ে নিতে চাইবেন। এখানেই সত্যিকারের সতর্কতা প্রয়োজন। কারণ বাঙালির শান্ত সাহস শেখ হাসিনার উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে ‘ট্রোজেন হর্সের’ মতো গুপ্তঘাতকদের ভিড়িয়ে দিতে চারিদিকে শত্রুরা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে কেউ কেউ হয়তো শেখ হাসিনাকে ফাঁকি দিতে চাইবেন কিন্তু আদতে এতে নিজেদেরই ভুগতে হবে। কারণ শেখ হাসিনার লড়াই সামষ্টিক, মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার ও ভাত-ভোটের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য।

নিরীক্ষার বিষয় হলো, দেশের রাজনীতিতে বিএনপি-জামায়াত সরাসরি ক্ষতি সাধন করার সক্ষমতাকে হারিয়ে ফেললেও তারা এক নীরব ব্যাধির জনক। ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে মূল সংগঠন সর্বত্রই অর্থ, নেশা এবং লোভের পথপ্রদর্শক। রাজনীতিতে ক্ষেত্রবিশেষে যে নৈতিক অসহযোগিতা, কূটকৌশল তার দায়বোধ তাদেরই। গণতন্ত্রে বিরোধী পক্ষ কথা বলবে, সমালোচনা করবে, এটাই এর স্বাভাবিক সৌন্দর্য। কিন্তু তাদের মুছে ফেলতে যুদ্ধক্ষেত্রে যে গ্রেনেড, বুলেট ব্যবহার করা হয় তা দিয়ে সরাসরি আক্রমণ, এধরনের নজির বিশ্ব ইতিহাসে নেই। গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে এমন আচরণ সাজে না।

বিএনপির এ ধরনের মানসিকতা ও ক্রিয়াকলাপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বৈশ্বিকভাবে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা জরুরি। এগুলো বিদ্বেষ ছড়ানোর জন্য নয়। বরং এতে তাদের দলের ভেতরের প্রতিক্রিয়াশীল অংশ দুর্বল হবে এবং মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে নিজেদের নৈতিক শূন্যতার জায়গাগুলো পূরণের সুযোগ পাবে। যা যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের সঙ্গও ছেড়ে আসার সাহস জোগাবে। লজ্জার কথা, এই বিষয়গুলোতে তেমন কোনও উদ্যোগ নেই। উল্টো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে চোখ পড়লেই স্পষ্ট হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়নসমূহকে ম্লান করার জন্য কি গোছানো ও সুসংবদ্ধ চক্রান্ত প্রোথিত।

এসব দেখে যারা মজা দেখবার ফায়দায় আছেন তাদের মনে রাখা জরুরি, জনগণ বোঝেন বঙ্গবন্ধু পরবর্তী বাংলাদেশে শেখ হাসিনাই একক সহায়। কাজেই তাঁর প্রশ্নে যারা নীরব কিংবা নিরপেক্ষ ভূমিকায় থাকতে চান তাদের খোদ জনগণই প্রত্যাখ্যান করবে। তাছাড়া প্রয়োজনে পাশে না দাঁড়িয়ে নীরব থাকা যে শত্রুর সমান সেও জনগণের জানা। আবার এই চুপ থাকা অভিমানের কিনা তাও ময়নাতদন্তের আদলে দেখা জরুরি।

পুণ্যবতী শেখ হাসিনার ‘ঠেকে এবং ঠকে’ দুইভাবেই শিখে শিখে এপর্যন্ত এসেছেন। তাই গ্রিক পুরাণের রাজা প্রায়ামের মতো তাকে প্রভাবিত করা যাবে না। তবে কোথাও যেন কোনও অনুপ্রবেশ না ঘটে সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ১৭৫৭ সালের মীরজাফর, ঘষেটি বেগম কিংবা ১৯৭৫ সালের মোশতাক গংদের চরিত্র সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। একারণেই তাঁর পথ নৈশব্দের, নিরবধি বয়ে চলার।

নীলকণ্ঠী হৃদয়ে পরিবারের সব হারিয়েও তিনি জনগণের জন্য নিবেদনে কাজ করে চলেছেন। তবে তার পথ বড় কঠিন। শেখ হাসিনা সেই কঠিনেরে ভালোবেসেই সকল স্তরের অনৈতিকতা, দুর্নীতি, ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই জারি রেখেছেন। বাঙালির পুরাণ-কথা বেহুলা-লক্ষ্মীন্দরের বেহুলা যেমন একাই মৃত স্বামীকে নিয়ে চলেছেন, জীবনের পুনঃস্বাদ দিয়েছেন। বাঙালির নীরব আত্মবিশ্বাসের নাম শেখ হাসিনাও তেমনি এককভাবে বাংলা ও বাঙালিকে বয়ে চলেছেন, জয়যাত্রামুখী করেছেন। এটাই বর্তমানের আলোকে আগামীর আত্মবিশ্বাস।

 

লেখক: প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ

[email protected]

/এসএএস/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
গরুর আবাসিক হোটেল
গরুর আবাসিক হোটেল
২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না মেসি
২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না মেসি
   টিভিতে আজকের খেলা (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩)
  টিভিতে আজকের খেলা (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩)
হাত-পা বেঁধে সন্তানদের সামনে নারীকে পিটিয়ে মারলো স্বামী
হাত-পা বেঁধে সন্তানদের সামনে নারীকে পিটিয়ে মারলো স্বামী
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ