প্রসঙ্গ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থা

Send
রোকেয়া লিটা
প্রকাশিত : ১৩:২১, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:২৬, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৬

রোকেয়া লিটানোট, বইপত্র নিয়ে একসঙ্গে পাঁচ-সাতজন শিক্ষার্থী গোল হয়ে বসে পড়াশুনা করছে। কখনও বা ক্যান্টিনে, কখনও গাছের তলায়, কখনও মাঠে অথবা কোনও এক ক্লাসরুমে। হঠাৎ কোনও একদিন গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে ঢুকলে, আপনার চোখেও পড়তে পারে এমনই একটি দৃশ্য। আপাত দৃষ্টিতে মনে হতে পারে শিক্ষার্থীরা গ্রুপে বসে লেখাপড়া করছে। কিন্তু না, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই গ্রুপগুলোতে থাকেন ওপরের ক্লাসের কোনও একজন শিক্ষার্থী, যিনি আসলে নিচের ক্লাসের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়াচ্ছেন। আর যারা সিনিয়রদের কাছে প্রাইভেট পড়েন না, তারা হয়তো ওপরের ক্লাসের কোনও এক সিনিয়রের কাছ থেকে নোট কিনে নিয়ে পড়াশোনা করে পরীক্ষা দিয়ে থাকেন। শিক্ষার্থীরা নির্ভরশীল সিনিয়রদের নোটের ওপর অথবা তাদের কাছে প্রাইভেট পড়ার ওপরে। এই হচ্ছে, রাজধানী ঢাকার নীলক্ষেতে অবস্থিত গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের শিক্ষার অবস্থা।
ভাবতে পারেন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এসে শিক্ষার্থীরা বাধ্য হচ্ছেন সিনিয়রদের কাছে নোট কিনতে অথবা তাদের কাছে প্রাইভেট পড়তে? অনেকেই বলতে পারেন, এমনটাই অস্বাভাবিক না। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েও এমনটা হয়ে থাকে। তবুও প্রশ্ন উঠতে পারে, তাহলে গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে কর্মরত শিক্ষকরা কী করছেন? হ্যাঁ, তারাও বসে নেই। তারাও ক্লাস নেন, তবে তাদেরও অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এর মূল কারণ ব্যাখ্যা করার আগে গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে কিছু কথা বলা জরুরি। গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান, বস্ত্র পরিচ্ছদ ও বয়ন শিল্প, ব্যবহারিক শিল্পকলাসহ বেশ কয়েকটি আলাদা আলাদা বিভাগ রয়েছে। এসব বিষয়ে শিক্ষার্থীরা অনার্স বা মাস্টার্স ডিগ্রি নিয়ে থাকেন। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যখন তাদের সার্টিফিকেট দিয়ে থাকে, সেখানে বড় বড় অক্ষরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং তার নিচে বিএসসি বা এমএস ইন হোম ইকোনোমিক্স লেখা থাকে (বিজ্ঞান বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে)। তার নিচে খুব ছোট করে হোম ইকোনোমিক্স কলেজের নাম ও বিষয়ের নাম লেখা থাকে। এসব বিভিন্ন বিষয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা যদি আবার বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে শিক্ষকতা করতে চায়, তবে সে খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান ডিগ্রি নিয়ে থাকুক আর বস্ত্র পরিচ্ছদ ও বয়ন শিল্পে ডিগ্রি নিয়ে থাকুক, সে হবে সামগ্রিকভাবে গার্হস্থ্য অথনীতির শিক্ষক। সে যে চার-পাঁচ ধরে কষ্ট করে সিনিয়রদের নোট কিনে বা তাদের কাছে প্রাইভেট পড়ে একটি বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করলো, সেগুলোর আর কোনও মূল্য থাকলো না। সে হয়ে উঠলো গার্হস্থ্য অর্থনীতির শিক্ষক, সেটি অনেকটা ষষ্ঠ বা সপ্তম শ্রেণিতে মেয়েরা যে গার্হস্থ্য অর্থনীতি পড়ে থাকে সেই রকম। কারণ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কলেজগুলোতে আলাদা করে খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান বা বস্ত্র পরিচ্ছদ ও বয়ন শিল্প বা এই জাতীয় কোনও বিষয় নেই বা আলাদাভাবে এসব বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নেওয়ার সুযোগ খুবই কম। দু-একটি কলেজে সামগ্রিকভাবে গার্হস্থ্য অর্থনীতি নামে একটি বিষয় পড়ানো হয়ে থাকে।

এখন আসুন জেনে নেই, নীলক্ষেতের গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে শিক্ষক নিয়োগ হন কিভাবে। খুবই মজার বিষয় হলো গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের শিক্ষকও আসেন সেই বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে চাকরি পাওয়া শিক্ষকরা। তারা যখন গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে শিক্ষক হয়ে আসেন, তখনও বিষয়টা নির্দিষ্ট থাকে না। দেখা গেলো যে, খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগে একটি পদ ফাঁকা হয়েছে, কিন্তু বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে চাকরি পেলো এমন একজন, যিনি আসলে বস্ত্র পরিচ্ছদ ও বয়ন শিল্প নিয়ে লেখাপড়া করেছেন। এসব ক্ষেত্রে, খুব স্বাভাবিকভাবেই এক বিষয়ে লেখাপড়া করা শিক্ষক আরেক বিষয়ে পড়াতে পারেন না। বিভাগগুলো তখন বাধ্য হয়, অন্যন্য জায়গা থেকে খণ্ডকালীন শিক্ষক এনে ক্লাস করাতে। যেমন, বস্ত্র পরিচ্ছদ ও বয়ন শিল্প বিভাগে অহরহই ক্লাস নিয়ে থাকেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। ভাবতে পারেন, মেধা এবং অর্থের দিক দিয়ে কী ভয়াবহ একটা অপচয় হচ্ছে এই গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে! খণ্ডকালীন শিক্ষকরা যেহেতু সার্বক্ষণিকভাবে কলেজে থাকেন না, কাজেই শিক্ষার্থীরা কোনও বিষয়ে সমস্যায় পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের সাহায্যও নিতে পারে না। ফলে শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়, বড়দের নোট কিনে পড়তে অথবা তাদের কাছে প্রাইভেট পড়তে।

উপরের আলোচনা থেকে এটা নিশ্চয়ই আপনারা বুঝতে পারছেন, গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া কখনই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা কলেজগুলোর মতো হওয়া উচিৎ নয়।  কারণ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের বিভিন্ন বিভাগে দরকার ওইসব বিভাগ থেকে পাস করা বিষয় ভিত্তিক শিক্ষক। আর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজগুলোতে গার্হস্থ্য অর্থনীতির যে কোনও একটি বিষয়ে পাস করা শিক্ষক হলেই চলে, কারণ এসব কলেজে গার্হস্থ্য অর্থনীতি খুব গভীরে গিয়ে পড়ানো হয় না। 

দুঃখজনক হলেও সত্যি, গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়াটি সঠিকভাবে হচ্ছে না। একদিকে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত শিক্ষক পাচ্ছে না। অন্যদিকে এই কলেজের বিভিন্ন বিভাগ থেকে প্রতিবছর প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় স্থান করা বা ভালো ফলাফল করা শিক্ষার্থীরা বিভাগেই শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছেন না। কারণ, ভালো ফলাফল করা শিক্ষার্থীরা হয় বিসিএস পরীক্ষা দিতে আগ্রহী নয়, অথবা তারা বিসিএস-এ উত্তীর্ণ হচ্ছেন না। আবার যারা বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছেন, তাদের আবার একাডেমিক ফলাফল হয়তো ভালো নয়। মাঝখান থেকে গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের বিভাগগুলো ও শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে তাদের যোগ্য শিক্ষক পাওয়া থেকে। ফলে শিক্ষার মান নিয়ে তো প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। তাছাড়া শিক্ষার্থীরা খুব কমই পাচ্ছেন ডক্টরেট ডিগ্রিধারী শিক্ষক, হাতে গোনা দুই একজন ব্যতীত। কোনও কোনও বিভাগে হয়তো একজন শিক্ষকও পাওয়া যাবে না যারা পিএইচডি করেছেন। ফলে শিক্ষার্থীরা গবেষণা করতে গিয়ে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছে। এমন কী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা কলেজগুলোর শিক্ষার্থীদেরও হয়তো এই সমস্যায় পড়তে হয় না। কারণ তাদের বিষয়গুলো দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হয়, তারা অনায়াসে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে এমফিল বা পিএইচডি করতে পারে। কিন্তু গার্হস্থ্য অর্থনীতির শিক্ষার্থীরা এমফিল বা পিএইচডি করার জন্য কার কাছে যাবে? অন্য কোনও খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান ছাড়া বাকি বিষয়গুলো দেশের অন্য কোনও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোও হয়?  শিক্ষার্থীরাও আগ্রহ পাচ্ছে না বা সুযোগ পাচ্ছে না পিএইচডি বা উচ্চতর কোনও শিক্ষার জন্য দেশের বাইরে যেতে, যেহেতু প্রথম স্থান অধিকার করেও একজন শিক্ষার্থী ওই বিভাগের শিক্ষক হতে পারে না। ডক্টরেট করে আসলেও কোনও শিক্ষার্থী গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে তার নিজের বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দিতে পারে না। গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের শিক্ষক হতে চাইলে তাকে বিসিএস পরীক্ষা দিতে হবে। বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে নিয়োগ পাওয়ার পরও তার নিশ্চয়তা নেই যে, সে তার নিজের বিভাগে শিক্ষকতা করার সুযোগ পাবে। ওই পুরোনো বিষয় আবার, দেখা গেলো বস্ত্র পরিচ্ছদ ও বয়ন শিল্প বিভাগের একজন শিক্ষার্থী বিসিএস দিয়ে নিয়োগ পেয়েছে, কিন্তু গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে পদ খালি আছে খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগে। যেহেতু বিসিএস-এ সবাই বিবেচিত হয় গার্হস্থ্য অর্থনীতির শিক্ষক হিসেবে, ফলে এক বিভাগের শিক্ষার্থী বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে অনায়াসে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছেন অন্য বিভাগে।

এমন ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থা দিনের পর দিন চলছে এই গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে। এতো এতো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে একটি ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থা। ভালো ফলাফল করা শিক্ষার্থীরা বাধ্য হচ্ছে একাডেমিক ক্যারিয়ারে না গিয়ে বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিতে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে চাকরি নিয়েও গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা তাদের যথাযোগ্য মর্জাদা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, বস্ত্র পরিচ্ছদ ও বয়ন শিল্প বিভাগ থেকে পাস করা একজন শিক্ষার্থীকে গণ্য হচ্ছে কেবল গার্হস্থ্য অর্থনীতির ছাত্রী হিসেবে। অনেকেই ভাবে গার্হস্থ্য অর্থনীতি পড়ে এসেছে, এরা রান্না-বান্না, বাচ্চা মানুষ করা ছাড়া আর কি জানে? আদৌ কি তাদের লেখাপড়া রান্নাবান্না আর বাচ্চা মানুষ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ? যাদের এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা নেই, কেবল তারাই এমন অবাঞ্চিত চিন্তা-ভাবনা করতে পারেন। গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের বিভিন্ন বিভাগের সিলেবাস দেখলেই বোঝা যায়, বিষয়ভিত্তিক মেজর কোর্সগুলো ছাড়াও মাইনর বিষয় হিসেবে পদার্থ, রসায়ন, অর্থনীতি, পৌরনীতি, গবেষণা, মানব সম্পদ উন্নয়ন, পরিসংখ্যান থেকে শুরু করে একাধিক বিষয়ে পাঠদান করা হয় তাদের।

তাই সময় হয়েছে গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ভাবার। দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতিষ্ঠানটি এভাবে অবহেলিত হয়ে আসছে। শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হয়ে আসছে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট নানা সুবিধা থেকে। একাধিকবার শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেছে যেন, গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজটিকে সরাসরি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে পরিচালনা করা হয়। কিন্তু কোনওভাবেই যেন ওপর মহলের ঘুম ভাঙছে না। তারা কিভাবে এতো এতো শিক্ষার্থীকে এমন ত্রুটিপূর্ণ একটি শিক্ষা ব্যবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছেন? অথচ এই প্রতিষ্ঠানটিই হতে পারে, বেসরকারি নানা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী। যেমন ধরুণ, গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের বস্ত্র পরিচ্ছদ ও বয়ন শিল্প বিভাগ অনায়াসে হয়ে উঠতে পারে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ফ্যাশন ডিজাইনিং বা মার্চেন্ডাইজিং এর সমতূল্য। বাংলাদেশে যে হারে পোশাক শিল্প বিকশিত হয়েছে, সে হারে এই বিষয়ক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিন্তু গড়ে ওঠেনি। গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের বস্ত্র পরিচ্ছদ ও বয়ন শিল্প বিভাগটি হয়ে উঠতে পারে সেই ঘাটতি পূরণের উপযুক্ত স্থান। আবার গৃহব্যবস্থাপনা বিষয়টি কিন্তু অনায়াসে হয়ে উঠতে পারে ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং এর ওপর উচ্চতর শিক্ষা অর্জনের উপযুক্ত স্থান। বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাথীরা কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ করে এসব বিষয়ে পড়ছে। অথচ উপযুক্ত পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এসব বিষয়ে পড়েও গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের শিক্ষার্থীরা মুখ থুবড়ে পড়ছে অন্যান্য সেক্টরে।

শিক্ষার্থীরা চায় গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ পরিচালিত হোক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে, তাতে তাদের দোষ কী? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলা হয়, যে কেউই চাইবে ঢাকা বিশ্ববিদালয়ের অংশ হতে। তার ওপর আবার এদের রেজিস্ট্রেশন হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, এদের সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের, অথচ এদের শিক্ষক আসছে বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে, বড়ই বেমানান বিষয়টা।

এই কলেজে ছাত্র না থাকা যদি কোনোভাবে, কলেজটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে অবিলম্বে সে বাধাও দূর করা উচিৎ। কারণ, এই কলেজে যেসব বিষয় পড়ানো হয়, তা কোনোভাবেই মেয়েদের জন্য বিশেষায়িত শিক্ষা নয়। এগুলো সবই কর্মমুখী শিক্ষা। বিভিন্ন সময় সরকার কর্মমুখী শিক্ষার ওপরে গুরুত্ব আরোপ করলেও গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজটি রয়ে গেছে চরম অবহেলায়। কর্মক্ষেত্রে গিয়ে দেখুন, খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান, বস্ত্র পরিচ্ছদ ও বয়ন শিল্প বা শিল্পকলা জাতীয় কাজের ক্ষেত্রে নারীর তুলনায় পুরুষের সংখ্যাই বেশি। তারপরও যদি কেউ একান্তই মনে করে থাকেন, ঘর-সংসার সামলানোর জন্যই শুধু গার্হস্থ্য অর্থনীতি পড়তে হয়, তবে সেই দায়িত্বটিও কি পুরুষের নয়? আধুনিক মেয়েরা তো ঘর সামলে দিব্যি চাকরি করছে, ছেলেরাও না হয় কিছুটা ঘর-সংসার সামলানোর ব্যবহারিক শিক্ষা অর্জন করুক। 

লেখক: সাংবাদিক

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

সম্পর্কিত সংবাদ

 
 
 
 

লাইভ

টপ