হিসাব মিলিয়ে চলা জরুরি

Send
ফাহমিদা নবী
প্রকাশিত : ১৫:০৪, ডিসেম্বর ২২, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:৫৭, ডিসেম্বর ২৭, ২০১৬

ফাহমিদা নবীফিরে যাই পুরনো কোনও চিত্রকল্পে। বাড়ির বসার ঘরটি খুব ছিমছাম পরিপাটি করে সাজানো। এক কোনে হারমোনিয়াম, তানপুরা আর তবলা রাখা। আর বইয়ের আলমারি। দারুণ রুচিশীল এক পরিবেশ! পরিবারের ছেলেমেয়েরা প্রতিদিন সকালে রেওয়াজ করতো। তারপর কাজের ব্যস্ততায় যে যার মতো ব্যস্ত হয়ে যেত। সে এক অদ্ভুত সুন্দর দৃশ্য! সেই চমৎকার বন্ধনটুকু এখন আর হয়তো খুব একটা দেখা যায় না। কারণ সবার ব্যস্ততার ধরন পাল্টে গেছে, গোছানো সরল সময় বদলেছে।
প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছুটছে মানুষ। তাই পুরনোকে ভাবতে সবার ভালো লাগে। আফসোস করে সেই দিনগুলো কোথায় গেলো? কিন্তু পুরনো কখনও কখনও নতুন হয়ে ফিরে আসে। সঙ্গীত নিয়ে ভাবনায় আমি সব সময় আশাবাদী। সঙ্গীতের কোনও পুরনো গল্প বা চিত্রকল্প নেই। প্রতিদিনই শ্রোতা তৈরি হচ্ছে ৷ শ্রোতারা কোনও না কোনোভাবে তার সঙ্গীতপিপাসা মিটিয়ে নিচ্ছে। এটা খুবই আশার বিষয়। তবে জীবন চর্চাটা খুবই জরুরি। শুধু গান কেন, যেকোনও বিষয়ে আসলে চর্চা খুব প্রয়োজন। ভুলে গেছি বই পড়া! চর্চা মূলত নিজেকেই সমৃদ্ধ করে। মূল্যবোধ তৈরি করে, সেই মূল্যবোধের জায়গা থেকে মনে আশা জাগে— সংস্কৃতি বাঁচিয়ে রাখতে একটা পরিবর্তন আসবে। 
গান নিয়ে যদি ভাবতে চাই, তাহলে বলতেই হয় ভালো গান তৈরি করতেই হবে। কারণ শ্রোতা আর শিল্পীর যে মেলবন্ধন, তা শাশ্বত।  ভালো গান করার আগ্রহ তৈরি হচ্ছে, ভালো কথা ভালো সুর ভালো গায়কি ছাড়া শ্রোতাকে ধরে রাখা যায় না। বছর শেষে এই অনুধাবন অনেকের মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে। গান নিয়ে মানুষের এখন দায়বদ্ধতার জায়গা তৈরি হয়েছে। কেননা কিছুদিন আগেও মানুষ হিট গানের সন্ধানে ছিল কিন্তু এখন তারা আর হিট গান খোঁজে না বরং তারা এখন একটা ভালো গান গাইতে চায়, একটা ভালো গান শুনতে  চায়! যে কারণে এ বছর অনেক নতুন ছেলেমেয়েকে আমি দেখছি ভালো কথা নিয়ে কাজ করতে, সুর করতে, কোনও একটি সুন্দর গান নিয়ে খুব চমৎকার ভাবনায় মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করতে।
তারমানে গান নিয়ে একটা ভাবনার জায়গা নতুন প্রজন্মের মধ্যে কাজ করছে। কী করে একটা ভালো গান তৈরি করা যায়? বছরজুড়ে গান নিয়ে কিছু ভালো কাজ হচ্ছে। তাই বলছিলাম পুরনোই নতুন হয়ে বারবার ফিরে ফিরে আসে। গানের গল্প, গান নিয়ে পথ চলা কখনও পুরনো হয় না। বই পড়ার অভ্যাসটাও ফিরে আসছে।

অবশেষে দেখলাম  এক বিচিত্র বাসনা মনের মধ্যে তোড়জোড় শুরু করেছে। কী এক এলোমেলো চিন্তা! এইতো বছর শেষ হয়ে এল বলে! আর ক’টা দিন পর, নতুন বছরের, নতুন দিন, নতুন কত ঘটনা কত রকমের বায়নায় চিন্তা শুরু হবে।

কী ভাবছি আসলে?

কেমন গেলো বছরটা নাকি কেমন যাবে নতুন বছর? এবার বলি বাসনার কথা। ইচ্ছে করে সবাই সবার নিজ দায়িত্বে ভালো থাকতে ভালোবাসতে শিখুক। কেন বলছি বা ভাবছি অতদূর বলতে পারব না, তবে এটুকু বুঝি—জীবন যেভাবে বয়ে যায়, সেখানে এত দ্রুত তার অনুধাবন। যুগের হাওয়ায়, কিছুই এখন ধীরগতিতে চলে না, প্রযুক্তির যুগ বলে কথা! সহজ হিসাব—দু’য়ে দু’য়ে চার!
ব্যস্ত জীবনে এই হিসাবটুকু মিলিয়ে চলাটা খুব জরুরি তাই না?  খুব বিক্ষিপ্ত লাগে হিসাবে না চললে! নিজেরও খারাপ লাগে, যখন দেখি গোছানো হয়ে ওঠে না বেহিসাবী মন! বেহিসেবী মনটা কি প্রতিদিনের একঘেয়েমী! এইতো সকাল হবে কাজের জন্য দৌড়াও, তারপর বাড়ি ফেরো, সংসার জীবন খাওয়া-দাওয়া, তারপর কিছু দায়দায়িত্ব, এখানে এসেই আটকে যায় মানুষ! এই যে দায়দায়িত্ব, নতুন বছরে চাই, সবার মধ্যে সে দায়বোধ জেগে উঠুক। তাতে  ব্যস্ত জীবনে ভালোবাসতে, হাসতে, চলতি পথে স্বপ্ন দেখতে অনেকটা স্বস্তির বিশ্বাস সবার মধ্যে জায়গা করে নেবে। পরিবার, আশেপাশের মানুষ, সংস্কৃতি, শিক্ষা,  মানবিক বোধ ও শ্রদ্ধাবোধ বেড়ে যাবে বলে আমার বিশ্বাস। পুরনো বছর হয়তো আমাকে এই উপলব্ধি জাগালো যে, পরস্পর বোধের জায়গায় যদি একটু দায়িত্ব নিয়ে চলি, তাহলে অনেক প্রতিকুলতাকেই জয় করতে পারব।

নতুন বছরের অগ্রিম শুভেচ্ছা সবাইকে। ধন্যবাদ পুরনো বছরকে কিছু অভিজ্ঞতা দিয়ে সমৃদ্ধ করার জন্য।

লেখক: সংগীত ব্যক্তিত্ব

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

লাইভ

টপ