রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ: ‘বাজার-গণতন্ত্রের শকুনেরা’

Send
বাধন অধিকারী
প্রকাশিত : ১৮:০৭, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৫৭, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০১৭

বাধন অধিকারীনাফ নদীতেই বিভক্ত বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত। পাহাড় বেয়ে সীমান্তের ওপার থেকে বিস্ফোরণ আর গুলির শব্দ ভেসে আসছে আমাদের বাংলাদেশে। পুড়িয়ে দেওয়া গ্রামগুলো থেকে আগুনের ধোঁয়া এসে মিশছে মৌসুমী বাতাসে। সেই ধোঁয়া মৃত্যুপুরী রাখাইনের আকাশকে করে তুলছে বিবর্ণ ধূসর। রোহিঙ্গা জীবনে আরও বেশি ধূসরতা। মায়ের কোল থেকে শিশুকে কেড়ে নিয়ে শূন্যে ছুড়ছেন সেনারা। কখনও কখনও কেটে ফেলা হচ্ছে তাদের গলা। ভাইয়ের সামনে ভাইকে গুলি করা হচ্ছে। স্বামীর সামনে মরছেন স্ত্রী। আদিম রাক্ষুসে প্রবণতায় জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হচ্ছে মানুষকে। বেঁচে যাচ্ছে যারা কোনোমতে, রুদ্ধশ্বাসে পালাচ্ছে সেইসব মানুষ। ধেয়ে আসছে বাংলাদেশ সীমান্তে। তবে পালিয়েও রেহাই নেই তাদের। পালাতে গেলেও গুলি খেতে হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের সাম্প্রতিক এই পরিস্থিতি রাখাইন রাজ্যকে রূপান্তরিত করেছে এক মরণঘাতী উন্মুক্ত কারাগারে।
মধ্যপ্রাচ্যের গাজাকেই পৃথিবীর বৃহত্তম উন্মুক্ত কারাগার হিসেবে চিনি আমরা। রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে নিত্যদিনের সংবাদ নির্মাণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে নিবিড় সংযোগে জড়িয়ে থাকার পর আমার মনে হয়েছে, বৃহত্তম উন্মুক্ত কারাগারের পরিচয়টি এবার গাজা থেকে রাখাইনে প্রতিস্থাপিত হওয়া উচিত। পৃথিবীর আর সব রাষ্ট্রের মতোই মিয়ানমারের ক্ষেত্রেও মিথ্যাচারই দমননীতির প্রধান হাতিয়ার। রাখাইনে মাঠে কাজ করতে থাকা অবস্থাতেই গুলি খাচ্ছে মানুষ। ১৪০০ মানুষের গ্রামে একসঙ্গে পুড়িয়ে মারা হয়েছে ২০০ জনকে। পালাতে গিয়ে পাহাড়ে আটকা পড়ে মৃত্যুর প্রহর গুণছেন মানুষ। অথচ মিয়ানমার বলছে তারা নাকি জঙ্গিবিরোধী ক্লিয়ারেন্স অপারেশন চালাচ্ছেন। কথিত শান্তির নেত্রী সু চি সরকারের একাংশের শীর্ষ ব্যক্তি হয়েও সেই মিথ্যাচারে অনন্য ভূমিকার স্বাক্ষর রেখে যাচ্ছেন। গোটা বিশেক আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থার ত্রাণ কার্যক্রম চলছিলো সেখানে, সু চি-সেনাবাহিনীর ডি-ফ্যাক্টো ক্ষমতার হাতে থাকা মিয়ানমারের ভয়াবহ অসহযোগিতা আর বাধার কারণে তা বন্ধ হয়ে গেছে। একরকম ইয়াজিদের কারবালায় রূপান্তরিত রাখাইন। তবুও সু চি’র মিয়ানমার রাষ্ট্র, সে দেশের সেনাবাহিনী, আর কথিত শান্তিতন্ত্রী স্বয়ং একই সুরে গাইছেন সন্ত্রাসবাদবিরোধী নব্য উদারবাদের গান। বলছেন, তারা নাকি ইসলামি জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেন। ক্লিয়ারেন্স অপারেশন নাকি সন্ত্রাসবিরোধী উদ্যোগ!

কোনও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার নেই রাখাইনে। ডি-ফ্যাক্টো সরকারের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার রক্তচক্ষু ভেদ করে তবু পুড়ে যাওয়া বাড়িঘর, মরদেহে রূপান্তরিত গ্রাম আর নিশ্চিহ্ন হওয়া আবাসের ছবি আমাদের মানসপটে ভাসছে। যা ঘটছে, রাষ্ট্রবিজ্ঞান-সমাজবিজ্ঞানের প্রচলিত মাপকাঠিতেই তাকে আর মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মধ্য দিয়ে জাতিগত নিধনযজ্ঞ না বলে পারা যায় না। বিবেকসম্পন্ন মানুষের পক্ষে আর এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়; মিয়ানমার আরাকানের এক আদি জনগোষ্ঠীকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চাইছে। জঙ্গিবিরোধী অভিযান একটা অজুহাত মাত্র। পাশ্চাত্য দুনিয়ায় নাইন ইলেভেনের পটভূমিতে মুসলিম প্রধান রাষ্ট্রগুলোতে পরাশক্তির আধিপত্যবাসনা যেমন করে ইসলামফোবিয়ায় রূপ নিয়েছিল, মিয়ানমারে সেটাই জারি আছে। মুসলিমদের সম্পর্কে নেতিবাচক স্টেরিওটাইপ ঘৃণামন্ত্র নির্মাণ করে তা বৌদ্ধদের গেলানো হয়েছে। বাঁধিয়ে দেওয়া হয়েছে শত্রুতা। কেন এমন করা হলো? উত্তরটা খুঁজতে আমাদের একটু পেছনে ফিরতে হবে। ফিরতে হবে মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক উত্তোরণের কথিত সেই ঐতিহাসিক নির্বাচনের আগে। মিয়ানমারে সামরিক শাসনের জঘণ্যতার কারণে সেই ১৯৮৯ সাল থেকে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ২০১৫ সালের নভেম্বরের কথিত ঐতিহাসিক নির্বাচনে সু চি’র দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি এনএলডি নিরঙ্কুশ জয় পায়। ২০১৬ সালের শুরুতে সেনাবাহিনীর সঙ্গে যৌথতার ভিত্তিতে আঁতাতভিত্তিক এক ডি-ফ্যাক্টো সরকার গঠন করেন সু চি। এই সরকার কোনও অর্থেই গণতান্ত্রিক নয়। ভোটের রাজনীতি তথা প্রতিনিধিত্বমূলক কতিপয়তন্ত্রই আজ দুনিয়াব্যপী গণতন্ত্র হিসেবে পরিচিত। মিয়নামারে তো সেটাও নাই। সাংবিধানিকভাবেই সেখানে স্পষ্টতর সেনাতন্ত্র বিরাজমান। রাষ্ট্রীয় কোনও নীতিনির্ধারণী ইস্যুতে ডি-ফ্যাক্টো সরকারের বেসামরিক অংশের একক সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনও ক্ষমতা নাই। 

পাঠক, আপনাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, ওই ডি-ফ্যাক্টো সরকার ক্ষমতা নেওয়ার কয়েক মাসের মাথায় ২০১৬ সালে তখনকার ওবামা সরকার ১৯৮৯ সালে মিয়ানমারে জারিকৃত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানায়। ৮ অক্টোবরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম হোয়াইট হাউসের বরাত দিয়ে খবর দেয়, গণতন্ত্রের পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করায় নির্বাহী আদেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাদের ওপর থেকে আংশিক বাণিজ্য-নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের একদিন বাদে আরাকান রাজ্যে শুরু হয় জঙ্গিবিরোধী কথিত ক্লিয়ারেন্স অপারেশন। জাতিসংঘের তরফে সেই অভিযানের সময় ‘এথনিক ক্লিনজিং’ ও দুই দফার মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ তোলা হয় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সচিত্র প্রতিবেদনে হত্যা-আগুন দেওয়াসহ নিপীড়নের বিভিন্ন চিত্র হাজির হয়। তা সত্ত্বেও মিয়ানমারে মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি দেখতে পান বারাক ওবামা। পশ্চিমা গণতন্ত্র আর মানবাধিকার তবে কী জিনিস, তা আর বলতে হবে?

রাখাইন রাজ্যের এবারের অভিযান শুরুর পর একদিন বেশকিছু পুলিশ চেকপোস্টে হামলা হয়। এরপর অভিযান জোরালো করার নামে শুরু হয় বেসামরিক নিধনযজ্ঞ। মিয়ানমারে মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত প্রফেসর ইয়ানঘি লি বলেছেন ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইন রাজ্যে চলা সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এরইমধ্যে রাখাইন-পরিস্থিতিকে মানবিক বিপর্যয়ের ভয়াবহতা বলে আখ্যা দিয়েছে সংস্থাটি। জাতিসংঘ ছাড়াও আরও অন্তত ১৬টি আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রতিষ্ঠান সরকারের বিধিনিষেধ আর বাধার কারণে সেখানে ত্রাণ সরবরাহ স্থগিত করতে বাধ্য হয়। এখন তবে জ্বালিয়ে দেওয়া বাড়ির উত্তাপ, কিংবা বিস্ফোরক ছাড়া আর কী খেয়ে বাঁচবে মানুষ?

আসলে কথিত গণতান্ত্রিক সংস্কার কর্মসূচি কিংবা বেসামরিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর নয়, মিয়ানমারে নির্বাচনটাই হয়েছিল সেখানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের স্বার্থে। আরও একটু গভীরে গিয়ে বললে, নব্য উদারবাদী বাজার-ব্যবস্থার স্বার্থে। নামে গণতন্ত্র আর মত প্রকাশের স্বাধীনতা এলেই যে তা সেনাতন্ত্রের থেকে শ্রেয়তর হয় না, বাস্তব প্রেক্ষাপটের নিরিখেই যে সমাজের অবস্থা বুঝতে হয়; তা শিখিয়েছে মিয়ানমারের কথিত সংস্কার প্রক্রিয়া। অপ্রিয় হলেও বাস্তবতা হলো, কথিত এই গণতান্ত্রিক উত্তোরণ পর্বে গিয়ে মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিপন্নতা আরও বেড়েছে। গত কয়েক বছরের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মত প্রকাশের স্বাধীনতা সার্বজনীন হয়নি। বরং সেনা কর্তৃত্বের এই মেকি শিথিলতা রাষ্ট্রীয় মদদে উগ্র বৌদ্ধবাদের উসকানিকে রোহিঙ্গাদের বিপরীতে মত প্রকাশের স্বাধীনতা আকারে হাজির করেছে।

এদিকে ওই কথিত সংস্কারের কারণেই প্রাকৃতিক সম্পদে ভরা রাখাইনের দিকে লোলুপ দৃষ্টি পড়েছে শকুনিদের। জাতিগত সংকট সেখানে বাস্তব। কেবল তো রোহিঙ্গা-বৌদ্ধ নয়, গোটা তিরিশেক জাতিগোষ্ঠী সেখানে পারস্পরিক দ্বন্দ্ব সংঘাতে লিপ্ত। এর নেপথ্য কারণটা কিন্তু ধর্মীয় কিংবা জাতিগত যতোটা, তার চেয়ে বেশি ভূ-রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক।

সবচেয়ে জনবহুল দুই দেশ চীন ও ভারতের মধ্যবর্তী ভৌগোলিক অবস্থানে মিয়ানমার। দুই দেশেরই দরকার প্রাকৃতিক সম্পদ। ফলে নতুন সরকারের অধীনে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ব্যবসায়ে আগ্রহী। জমির চাহিদাও প্রচুর। বিদেশি ফার্মগুলো যাচ্ছে, জমিদখল চলছে আর সর্বস্ব হারাচ্ছেন জমি-মালিকরা। কৃষকরা আরও গরিব হয়ে পড়ছেন। তবে জমি ব্যবসা চলছে রমরমা। আদতে জাতিগত বিদ্বেষ কিংবা সন্ত্রাস ওপরের ব্যাপার। আড়ালের স্বার্থ রোহিঙ্গা তাড়িয়ে দিয়ে জমি আর পানি দখল। বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিলে পালানো ছাড়া আর উপায় থাকে না তাদের। জমি দখল করাটাও অনেক সহজ হয়ে যায় তখন। তাই এই জাতিগত নিধনযজ্ঞ।

গত কয়েকবছরে অনেক বৌদ্ধও তাদের এলাকা থেকে বিতাড়িত হয়েছেন। কেননা কথিত গণতান্ত্রিক সংস্কারের সুযোগ নিয়ে সেখানে গেড়ে বসেছে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো। মূলত বন উজাড়, খনন ও নতুন পানির প্রকল্পগুলো মানুষ চেনে না। চেনে মুনাফা। মুনাফাতন্ত্রের মিয়ানমারে এখন সম্পূর্ণ নতুন অর্থনৈতিক বিপ্লব চলছে। খনন, গাছকাটা, জিওথার্মাল প্রকল্পগুলো জমি-মালিকদের বিতাড়িত করছে। বিদেশি বিনিয়োগের বড় অংশ জুড়েই থাকছে বিদ্যুৎ উৎপাদন। তবে এমন কোনও প্রকল্প নেই যাতে করে প্রচুর কর্মসংস্থান তৈরি হয় কিংবা একটি শক্তিশালী মধ্যবিত্ত শ্রেণি গড়ে ওঠে। এই যেমন মিয়ানমারের ইয়াদা পাইপলাইন প্রকল্পে বিনিয়োগ হচ্ছে ১০০ কোটি ডলার। কিন্তু এজন্য কর্মী প্রয়োজন মাত্র ৮০০ জন।

২০১২ সাল থেকে মিয়ানমার সরকার ইয়াদা পাইপলাইনের নিরাপদ স্থাপনার জন্য এ অঞ্চলের বসতবাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনা উচ্ছেদের কার্যক্রম হাতে নেয়, যার চূড়ান্ত সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। সম্ভবত এবার সেই ইয়াদা পাইপ লাইনের স্বার্থই চীনকে উলঙ্গ ভূমিকা নিতে বাধ্য করে। জাতিসংঘে মিয়ানমারবিরেধী প্রস্তাব আনতে দেয় না চীন। শুধুই চীন কেন, ভারতেরও নজর রয়েছে মিয়ানমারের তেল-গ্যাসসহ খনিজ সম্পদের ওপর এবং রাখাইন রাজ্য জ্বালানিসম্পদে সমৃদ্ধ বলে ধারণা করা হয়। অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্বার্থের পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক কৌশলগত কারণেও উভয় দেশই মিয়ানমারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা অর্জনের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত।

ভারতের দ্য স্টেটসম্যান পত্রিকার কিছুদিন আগের এক নিবন্ধে দাবি করা হয়েছিল, ‘চীনকে ঘেরাও করো’- এ মার্কিন ও পশ্চিমা নীতি বাস্তবায়নের জন্য মিয়ানমার ভূখণ্ড প্রয়োজন এবং সে কারণে পশ্চিমা বৃহৎ শক্তিগুলো রাখাইনের নিপীড়ন প্রসঙ্গে মুখে কুলুপ এঁটে রয়েছে। আঞ্চলিক বৃহৎ শক্তি হিসেবে ভারত ও চীনও ভূ-কৌশল আর পাশ্চাত্যের সঙ্গে তাদের পররাষ্ট্রিক সংশ্লিষ্টতার কারণে মিয়ানমার-তোষণনীতি অনুসরণ করছে। স্টেটসম্যান পত্রিকায় দাবি করা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-এশীয় নতুন মিত্র রাষ্ট্র ভারত ‘ফোর্টিফাই চায় না’ নামের মার্কিন নীতির সমর্থক, তাই মিয়ানমার প্রশ্নে তারা নীরবই থাকবে। আর দক্ষিণ-পূর্ব এবং পূর্ব এশিয়ার পরাশক্তি চীনও তার স্ট্র্যাটেজিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের কারণে মিয়ানমার সরকারের রোহিঙ্গা নির্যাতন মেনে নেবে।

এজন্যই রোহিঙ্গারা পৃথিবীর সব থেকে বঞ্চিত জনগোষ্ঠী। স্বার্থ-মুনাফার বাজারতন্ত্রে তাদের জীবনগুলো মুনাফার বিপরীতে দাঁড়িয়ে আছে। আর নব্য উদারবাদ মুনাফাকে জীবনের চেয়ে দাম দেওয়ার মন্ত্রণা দেয়। তাই মুনাফার স্বার্থে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলে কী করার আছে? বাংলাদেশে পালিয়ে আসা কিংবা জঙ্গি হওয়া ছাড়া। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা কর্তৃপক্ষীয় হিসেবেই লাখের কাছাকাছি পৌঁছেছে। আর স্বাধীন আরাকানের দাবি জোরালো হচ্ছে। ‘আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি’ নামের এক সংগঠন জনপ্রিয় হচ্ছে সেখানে ক্রমাগত। গুঞ্জন উঠেছে, জঙ্গি-অর্থায়নের। সেনাতন্ত্রের নির্মম নিস্পেষণ থেকে রাখাইনের রোহিঙ্গারা এবার গিয়ে পড়েছে সেনা-বাজারতন্ত্রের ডি-ফ্যাক্টো নিস্পেষণে। যে বাস্তবতা আজকের, তা ওই ব্যবস্থার ফলাফল মাত্র। মিয়ানমার জাতিসংঘের অভিযোগ মানেনি। নিজেরা তারা সাবেক মহাসচিব কফি আনানের কমিটি দিয়ে যে তদন্ত সম্পন্ন করেছে তাতেও জঙ্গিবাদের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। সুপারিশ করা হয়েছে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও অধিকার নিশ্চিতের।

তবে বাজার-গণতন্ত্রের নব্য উদারবাদী বিশ্বব্যবস্থা এসব কথা শুনতে চায় না। রক্তলোলুপ মুনাফাতন্ত্র পরাশক্তি তথা বাজার-গণতন্ত্রের শকুনদের নাকে কেবলই মুনাফার গন্ধ ছড়ায়। আর কিছু শুঁকতে তারা তাই ব্যর্থ হয়। তাদের চোখেও মুনাফাচ্ছন্নতা। তাই তারা মুনাফা-কানা। রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ প্রমাণের পরও তাই বিশ্ব নিশ্চুপ থাকতে পারে। ঘাপটি মেরে বসে অপেক্ষা করতে পারে, সবশেষ রোহিঙ্গা নির্মূলের পর প্রাকৃতিক সম্পদে ভরা রাখাইন রাজ্যের  মাটির তলায় শকুনি কায়দায় হামলে পড়ার।

লেখক:  ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক ইনচার্জ, বাংলা ট্রিবিউন

এসএএস

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

লাইভ

টপ