মুক্তি বহুদূর

Send
ফাহমি ইলা
প্রকাশিত : ১৫:২২, নভেম্বর ২৭, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:১৪, এপ্রিল ২২, ২০১৮

 গল্পসত্য-১

ফাহমি ইলাঅনন্যা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন আজ দু’বছর। সচেতন ও আত্মনির্ভরশীল নারী হিসেবে তার নাম আছে বন্ধুমহলে। সারাদিনের কাজের তালিকাটা তার এরকম–  সকালে ঘুম থেকে উঠে নাস্তা বানিয়ে অফিসের জন্য রেডি হতে হতে স্বামীকে ঘুম থেকে তোলেন। নাস্তা সেরে অফিসে চলে যান, সন্ধ্যায় বাসায় ফেরেন বাজার সমেত, কেননা স্বামীর সময় নেই। এসে গৃহকর্মীকে কাজ বুঝিয়ে দিয়ে কোনোমতে ফ্রেশ হয়ে লেগে যান রাতের খাবার এবং পরদিন লাঞ্চের ব্যবস্থা করতে। এরই মধ্যে স্বামী চলে আসেন, তার হাতে এক কাপ চা তুলে দিয়ে রান্না শেষ করেন। এরপর কিছুটা বিশ্রাম পান কী পান না পরের দিনের কাজের হিসেব করতে করতে ঘুমাতে যান।
গল্পসত্য-২
হাসিবা গার্মেন্টস শিল্পে কাজ করছেন আজ পাঁচ বছর। তিন সন্তান, স্বামী এবং বৃদ্ধ শ্বশুর নিয়ে টানাপড়েনের সংসার। প্রতিদিন ভোর পাঁচটা থেকে শুরু হয় তার কর্মযজ্ঞ। ঘরদোর পরিষ্কার করে, সকালের নাস্তা বানিয়ে, দুপুরের রান্না করে, বাচ্চাদের খাইয়ে স্কুলে পাঠিয়ে তিনি কাজে যান। সন্ধ্যায় ফিরে আবার লেগে যান ঘরের কাজে। রাতের রান্নাসহ যাবতীয় কাজ শেষ করতে করতে রাত ১১টা বেজে যায়। হাসিবা কোনোমতে ঘুমাতে যান পরেরদিন উঠবেন বলে।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে এখনও সাংসারিক কাজ বা গৃহশ্রমকে ‘নারীর কাজ’ হিসেবে দেখা হয়। ঘরের কাজ, যাকে বলা হচ্ছে রি-প্রোডাকটিভ রোল বা পুনঃউৎপাদনমূলক ভূমিকা এটাকে সবসময় নারীর ভূমিকা হিসেবেই দেখা হয়। সন্তান জন্মদান ও লালনপালন, রান্না-বান্না, ধোয়া-মোছা, ঘর-দোর পরিষ্কার করা সর্বোপরি শ্রমশক্তির তিন প্রজন্মের লালন-পালন ও যত্ন নেওয়া সংক্রান্ত কাজ হলো পুনঃউৎপাদনমূলক ভূমিকা।  তিন প্রজন্মের হচ্ছে অতীত প্রজন্ম অর্থাৎ দাদা-দাদি, নানা-নানি, বাবা-মা, শ্বশুর-শাশুড়ি, বর্তমান অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রী, দেবর-ননদ, ভাই-বোন এবং ভবিষ্যত অর্থাৎ পুত্র-কন্যা, নাতি-নাতনি। নারীকে উন্নয়ন এজেন্ডার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে আর ক’দিন হলো। জাতিসংঘের প্রথম দশকের (১৯৬০-৭০) উন্নয়ন থিওরি ও প্রয়োগে নারী ছিল একদম অনুপস্থিত। তখন নারীকে দেখা হতো মা ও গৃহবধূ রূপে, পারিবারিক কল্যাণের প্রেক্ষাপট থেকে। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৫ সালকে নারী বর্ষ এবং ১৯৭৬-৮৫ দশককে আন্তর্জাতিক নারী দশক হিসেবে ঘোষণা করে দেখানো হয় যে, নারীরাও উন্নয়নের চালিকাশক্তি। এই উন্নয়নের চালিকাশক্তি হিসেবে দেখাতে গিয়ে বাজার অর্থনীতিতে নারীদের উৎপাদনশীল দক্ষতা বৃদ্ধি করে তাকে আরও দক্ষ ও কার্যকরভাবে ব্যবহার করার কথা বলেছে। কথা হলো- উৎপাদনশীল কাজে নারীদের যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা এত শক্তভাবে অনুভব করলেও পুঁজিবাদ গৃহশ্রম থেকে নারীকে মুক্তি দেয়নি একদণ্ডও বরং পিতৃতন্ত্রের পুরনো শেকল এই গার্হস্থ্য কাজ ও দায়-দায়িত্বের বোঝা লাঘব না করেই তাকে শ্রমের বাজারে ঠেলে দিয়েছে। বড়জোর বলেছে- ‘গৃহশ্রম কিনতে পাওয়া যাচ্ছে বাজারে। সামর্থ থাকলে কিনে নাও, নচেৎ তোমাকেই করতে হবে!’ কিন্তু সবার কি গৃহশ্রম কেনার সামর্থ্য আছে?

একজন কর্মজীবী নারী সারাদিন বাইরে কাজ করে এসে ঘরের কাজগুলো করেন মুখ বুজে। হয় তারা ‘কিছু করার নেই’ বলে মানিয়ে নিতে চান, নয় তারা মানিয়ে নিতে নিতে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। আর যারা আত্মসম্মানে সচেতন হয়ে এ নিয়ে বাতচিত করছেন তারা হয়ে যাচ্ছেন ‘খারাপ বৌ’, ‘ক্যারিয়ারিস্টিক আধুনিক নারী’, ‘স্নেহ ভালোবাসাহীন নারী’ এবং আরও অনেক কিছু। প্রশ্ন হচ্ছে- সংসারটা কি নারী একা করছেন? রান্না করা খাবারটা কি তিনি একা খাচ্ছেন আর পুরুষ সদস্যটি কাঁচা খায়? সন্তান কি নারীর একার? কিংবা সাংসারিক যত কাজ ‘নারীর কাজ’ বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে সেই সংসারে কি নারী একা বিলং করেন? উত্তর এখানে ধ্রুবসত্য- ‘না, নারী একা বিলং করেন না, কিন্তু কাজগুলো নারীর একার।’

এবার একটু তথ্য দেখি। নারীরা পৃথিবীর মোট জনশক্তির অর্ধেক, মোট শ্রমশক্তির শতকরা ৪৮ ভাগ এবং জাতীয় আয়ে নারীর অবদান ৩০ ভাগ। জাতিসংঘ বলছে– নারীরা পৃথিবীর মোট কাজের দুই-তৃতীয়াংশ কাজ করে এবং পুরুষের চাইতে প্রায় ১৫ গুণ সাংসারিক কাজের বোঝা বহন করেন। অথচ মোট সম্পদের একশ ভাগের একভাগ হলো নারীদের দখলে এবং মোট আয়ের ১০ ভাগের একভাগ লাভ করে নারী। যেহেতু নারীর সাংসারিক কাজকে উৎপাদনমূলক বা অর্থনৈতিক কাজ হিসেবে গণ্য করা হয় না- তাই প্রতিবছর বিশ্ব অর্থনীতি থেকে নারীর এই অদৃশ্য অবদান হিসেবে ১১ ট্রিলিয়ন ডলার হারিয়ে যায় অর্থাৎ তা পরিমাপ করা হয় না।

সমাজে ক্ষমতার ক্ষেত্রে সমান সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার মূল কারণ সমাজ ও পরিবারে এই ধরনের বৈষম্যমূলক দায়-দায়িত্ব বণ্টন। সন্তান লালন-পালন ও এর সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য কাজ মজুরিবিহীন এবং একইসঙ্গে সময় সাপেক্ষ কাজ। খেয়াল করে দেখুন, যুগ যুগ ধরে এই কাজগুলো করে এসেছে নারীরা। আর পুরুষ যুক্ত থেকেছে ক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব কাজে। এদিকে যখন প্রচলিত উন্নয়ন ধারার আগমন ঘটলো তখন টেকসই দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন প্রভৃতি টার্ম ব্যবহার করে নারীকে উপার্জনমূলক কাজে যুক্ত করলো ঠিকই, কিন্তু তার গার্হস্থ্য শ্রম ও দায়-দায়িত্বের বোঝা লাঘব করলো না। ফলে নারীর ঘাড়ে দেওয়া হলো ‘ডাবল বার্ডেন’। বিষয়টা দাঁড়ালো এমন- ‘আমরা বুঝতে পেরেছি তোমাদের ঘরে আবদ্ধ রেখে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব না। অতএব বেরিয়ে এসো, কাজ করো, আয় করো। কিন্তু আগে যে কাজ করতে সেগুলোও তোমার দায়িত্বে। পারলে গৃহশ্রম কিনে নাও নতুবা বিনামূল্যে একলা বেগার খাটো।’

এদিকে পুরুষটি সংসারের একজন যোগ্য সদস্য হয়েও এসব কাজে অংশ নিতে চায় না কেন? কারণ সরল স্টেরিওটাইপ চিন্তা মগজে গেঁথে আছে যে এগুলো ‘নারীর কাজ’ এবং এগুলো করার মধ্য দিয়ে ‘মেয়েলি’ কিংবা অন্যান্য নানা বিশ্লেষণে স্টিগমাটাইজ হওয়ার দারুণ ভয় থাকে। একইসঙ্গে যেহেতু এর কোনও অর্থনৈতিক মূল্য নেই সেহেতু এর সঙ্গে যুক্ত হওয়া পুরুষের মোটেও মানায় না, এটা নিকৃষ্ট কাজ।

শুধু নারীর সাংসারিক কাজকেই যে মূল্যায়ন করা হচ্ছে না তা নয়, এমন অনেক কাজও আছে যার আর্থিক মূল্য আছে কিন্তু জাতীয় পরিসংখ্যানে নারীর এই কাজগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। যেমন গ্রামাঞ্চলে নারীরা শুধু খাবার প্রস্তুত করে না, খাদ্য উৎপাদনেও জড়িত থাকে। তাছাড়া পানি, রান্নার জ্বালানি এবং গৃহপালিত পশুর খাদ্য সংগ্রহ এসব কাজও নারীরা করে। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, পশ্চিম আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং এশিয়া অঞ্চলের কৃষিকাজের ৭০ থেকে ৯০ ভাগ অংশে নারী জড়িত।

নারীর অপার সম্ভাবনার যে সুযোগ তা নষ্ট হওয়ার জন্য এই সময়সাপেক্ষ কাজগুলো অনেকাংশে দায়ী। আর পুরুষতন্ত্র নারীকে এগুলো চাপিয়ে দিয়ে নিজেকে মুক্ত রেখেছে ক্ষমতাসীন কাজের জন্য, সম্ভাবনাময় কাজের জন্য। অনেকে বলেন- পুঁজিবাদ নারীকে মুক্তি দিয়েছে। আসলেই কি তাই? পুঁজিবাদ নারীকে মুক্তি দিয়েছে? ‘নতুন বোতলে পুরনো মদ’এর মতো নারীকে ‘সম্পত্তি’ থেকে শুধু ‘পণ্যে’ উন্নিত করেছে মাত্র। সে আলাদা আলোচনা, অন্যদিন করা যাবে। কিন্তু এটাতো সত্যি পুঁজিবাদী উন্নয়নের ধারা নারীকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছে কিন্তু তার সাংসারিক কাজের চাপ থেকে তাকে মুক্তি দেয়নি, দেওয়ার কথা আজ পর্যন্ত চিন্তাও করেনি।

সেক্ষেত্রে বলা যায়:

১। বর্তমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থাই বলি আর সামাজিক ব্যবস্থাই বলি তা পুরুষতান্ত্রিক, নারী সেখানে দিনে ১৬-১৭ ঘণ্টা কাজ করে যার মধ্যে অর্ধেক শ্রমের মূল্য আছে, বাকি অর্ধেক শ্রম অর্থনীতিতে অদৃশ্য থেকে যাচ্ছে।

২। সাংসারিক কাজে পুরুষের সম্পৃক্ততা ক্ষেত্রবিশেষে দেখা গেলেও বড় ক্যানভাসে দেখা যাচ্ছে একে ‘নারীর কাজ’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং এজন্যই কিনা গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করে কিন্তু মূলত নারীরাই এবং ক্ষেত্রবিশেষে শিশুরা।

৩। বিভিন্ন বিশ্লেষণে স্টিগমাটাইজ হওয়ার ভয়ে পুরুষ পারতপক্ষে এসব কাজ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখছে এবং করলেও গোপন রাখার একটা তাড়না কাজ করছে।

৪। এটা অবশ্যই নারীর জন্য ‘ডাবল বার্ডেন’ এবং নারীর আত্মপ্রকাশ, সম্ভাবনা বিকাশের অন্যতম প্রধান অন্তরায়।

৫। এটা নারীর শারীরিক, মানসিক ক্ষতির কারণও বটে।

সমস্যা হিসেবে কোনও কিছুর দিকে আঙুল তুললে সমাধানের পথটিও আসলে বের করার একটা চেষ্টা থাকা উচিত। সমাধান কেমন হতে পারে?

১। নারীর ১১ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যমানের যে গৃহশ্রম প্রতিবছর অদৃশ্য থেকে যাচ্ছে তা দৃশ্যমান করার ব্যবস্থা করা হোক। মানে দাঁড়ালো সাংসারিক কাজের অর্থনৈতিক মূল্যমান তৈরি হোক। নারী তার শ্রমের প্রাপ্য মূল্য পাক। এরপর সে সিদ্ধান্ত নেবে সে এর বাইরে আর কোথায় অর্থনৈতিক কাজে যুক্ত থাকবে।

২। পারিবারিক কাজের দায়িত্ব রাষ্ট্র নিক। নারী-পুরুষ উভয়েই কর্মজীবী হবে, গৃহস্থালি কাজের ভার নেবে রাষ্ট্র। বিষয়টা অনেকের কাছে হাস্যকর লাগতে পারে কিন্তু এর সত্য উদাহরণ আছে আমাদের সামনে। সোভিয়েত ইউনিয়ন গঠনের পর নারীদের গৃহকর্ম থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় লন্ড্রি, সাধারণ ভোজনালয়, গণরেস্তোরাঁ, সামাজিক রন্ধনশালা, বিশেষ বস্ত্র মেরামতি কেন্দ্র গড়ে উঠেছিল। এটা গড়ে উঠেছিল সব শ্রমজীবী নারীদের গৃহকর্ম থেকে মুক্তির জন্য। ধনী নারীরা বহুদিন আগেই এ থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন, কারণ তারা সস্তায় গৃহশ্রম কিনতে পারতেন। এটা একটা উদাহরণ মাত্র। কিন্তু চাইলে আমাদের গৃহশ্রমের ভার রাষ্ট্র নিতে পারে।

৩। মনস্তত্ব পরিবর্তন সময় সাপেক্ষ ও কঠিন কাজ বটে। তবুও ‘নারীর কাজ’এর স্টেরিওটাইপ চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এটা নারীর বা পুরুষের কাজ না, এটা দু’জনের কাজ যেহেতু সংসার নারী-পুরুষের যৌথ সেক্টর। সেক্ষেত্রে কাজগুলো সমানভাবে ভাগ করে নেওয়া গেলে ঝামেলা অনেক কমে যাবে।

আমার মা পড়াশোনায় মেধাবী ছিলেন, স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হওয়ার। তিনি অসাধারণ সাংগঠনিক ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন, ভালো সেলাই জানতেন, তার গানের গলাও ভালো ছিল। অল্প বয়সে বিয়ে হওয়ায় পড়াশোনা করা হয়নি আর সাংসারিক কাজে হারিয়ে গেছে বাদবাকি সব সম্ভাবনা। ছোটবেলায় পড়াশোনা না করলে বলতেন–‘বড় হয়ে আর যাই করো, আমার মতো হাঁড়ি ঠেলো না। নিজের পায়ে দাঁড়াও।’ এই হাঁড়ি ঠেলা মানে মা বোঝাতে চেয়েছিলেন শুধু সংসারের কাজে বাঁধা পড়ে যেও না তাহলে যা সম্ভাবনা আছে ভেতরে, নষ্ট হয়ে যাবে। আমি বলছি না এরকম উদাহরণ নেই যে সব কাজ সুনিপুণভাবে করেও অনেক সফল নারী আছেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে– এত কাজের ভার বেশিরভাগ নারীই নিতে চান কিনা। আমার আশপাশের পরিসংখ্যান বলছে– ৯৯ ভাগ নারী এত কাজ এত চাপ থেকে মুক্তি চায়।

আজ পর্যন্ত এমন নারী দেখিনি যিনি চাকরি করে সাংসারিক কাজ করছেন হাসি মুখে কোনও অনুযোগ ছাড়া। কিন্তু এই মিনমিনে অনুযোগ নিজের কর্ণকুহরেই প্রবেশ করে কিনা সন্দেহ। নারীরা যদি মজবুত জোরালো স্বরে নিজেদের অনুযোগ অভিযোগ চাহিদা না প্রকাশ করে তাহলে এ পিতৃতান্ত্রিক সমাজ কী তার হাতে স্বেচ্ছায় তুলে দেবে সুখ-শান্তি? সমাজটাই যেখানে পুরুষ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত সেখানে তারাতো নারীদের ওপর ক্ষমতার খড়্গ জাহির রাখবেই। নারীদের নিজেদের পথ সুগম করতে নিজেদের এগিয়ে আসতে হবে, নিজেদের সচেতন হওয়া জরুরি। আর সেসব সচেতন পুরুষ নারীদের যোগ্য সহযোদ্ধা, সঙ্গী মনে করছেন তাদের গুরুদায়িত্ব নারীদের পাশে দাঁড়ানো, বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসা, নিজেকে সেই অবস্থানে দাঁড় করানো যেখানে তাকে দেখে গোটা পুরুষতান্ত্রিক সমাজ আর এর সদস্যরা লজ্জায় মাথা নত করবে, নড়ে উঠবে গোটা সমাজ।

নারীজাগরণ একটা যুদ্ধ, সেখানে যোদ্ধা নারী-পুরুষ সবাই, কারণ নারীজাগরণ শুধু নারীর জাগরণ নয়, এটা পুরুষের জাগরণও বটে, হাজার বছরের পুরুষতান্ত্রিক মগজ থেকে বেরিয়ে আসার জাগরণ। এটা মানবিকতার জাগরণ, মনুষ্যত্বের জাগরণ।       

লেখক: উন্নয়নকর্মী

/এসএএস/এমএমআর/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

সম্পর্কিত সংবাদ

 
 
 
 

লাইভ

টপ