জেরুজালেম নিয়ে ট্রাম্পের ‘জুয়া’

Send
বাধন অধিকারী
প্রকাশিত : ১৮:১৬, ডিসেম্বর ১১, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৩২, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৭

বাধন অধিকারীযুগের পর যুগ ধরে মধ্যপ্রাচ্য ব্যবহৃত হচ্ছে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক শক্তির জুয়ার মাঠ হিসেবে। এবার সেখানে ভয়ানক এক বাজি ধরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিগত মার্কিন সরকারগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক বিচ্ছেদ ঘটিয়ে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানীর স্বীকৃতি দিয়েছেন তিনি। তিনটি একেশ্বরবাদী ধর্মীয় বিশ্বাসের পবিত্র ভূমি জেরুজালেমকে ইসরায়েলি রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় জ্বলছে পশ্চিমতীর, গাজা উপত্যকা আর অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেম। যুদ্ধ-হিংসা- রক্তপাতের রাষ্ট্রনীতি কিংবা ভূগোলের বিন্দুমাত্র বোঝে না যে শিশুরা; পৃথিবীর বৃহত্তম উন্মুক্ত কারাগারখ্যাত সেই গাজায় বিমান থেকে ফেলা ইসরায়েলি বোমা থেকে রেহাই পায়নি তারাও। জেরুজালেমের স্বীকৃতিতে কেবল মুসলমানরা নয়, ক্ষিপ্ত খ্রিস্টানরাও। এমনকী ইসরায়েলে অবস্থানরত ইহুদিদের বড় একটা অংশও এতে খুশি নয়। সহিংসতা আর বিভেদের ভীতিতে আচ্ছন্ন তারাও।
দুর্নীতি-লিপ্সায় জর্জরিত দুই/চারটি আরব রাজতন্ত্রের কথা বাদ দিলে বাদবাকি বিশ্বও দাঁড়িয়েছে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিপরীতে। খোদ তার দেশের ৬৩ শতাংশ মানুষ এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে। মার্কিন ইহুদিদের মধ্যেও এই সিদ্ধান্তে সমর্থন নেই তেমন একটা। তাদের মধ্যে মাত্র ১৬ শতাংশ মানুষ ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। আরব ও মুসলিম দেশগুলোর ধারাবাহিকতায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে অন্য দেশগুলোও। জাতিসংঘেও তীব্র নিন্দা হয়েছে ট্রাম্পের। তবে কোনও কিছুতেই ভ্রূক্ষেপ নেই এই রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের। মধ্যপ্রাচ্যের শান্তির স্বার্থেই নাকি ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে জেরুজালেমের স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। প্রকৃত বাস্তবতা হলো, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি বলতে তিনি একটাই কথা বোঝেন। তা হলো, জায়নবাদী প্রকল্প বাস্তবায়ন।
কী এই জায়নবাদ? এক কথায় যদি বলি, এটি ইহুদি ধর্মীয় ধারার মধ্যে থেকে গড়ে ওঠা একটি রাজনৈতিক মতবাদ। ইহুদিবাদ (জুডাইজম) আর জায়নবাদ (জায়নিজম) কিন্তু এক জিনিস নয়। ইহুদিবাদ হলো ইহুদি ধর্মীয় দর্শন। আর জায়নবাদ হলো একটি রাজনৈতিক মতবাদ; অলীক রূপকথায় যে মতবাদের শরীর গড়ে উঠেছে।
জায়নবাদের ভাষ্য, জেরুজালেমসহ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড নিয়ে গঠিত পবিত্র নগরীতে স্রষ্টা তাদের অধিকার ফিরিয়ে নিতে বলেছিল! ১৮ শতক থেকে জায়নবাদ নামের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ইউরোপসহ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা ইহুদিরা তাদের বর্ণবাদী ধারণার বিস্তার ঘটিয়ে দখল হওয়া ফিলিস্তিনি ভূমিতে ইসরায়েল রাষ্ট্রের জন্ম দেন। এদিকে খ্রিস্টীয় জায়নবাদী ধারায় মনে করা হয়, যত দ্রুত ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা যাবে, তত দ্রুত ঈসা (আ.) এসে খ্রিস্টানদের পাপমুক্ত করবেন। এ জন্য ইসরায়েলের সুরক্ষার প্রশ্নকে পশ্চিমা খ্রিস্টানদের ধর্মীয় কর্তব্য বিবেচনা করেন তারা। খ্রিস্টীয় জায়নবাদী এই ধারা এরইমধ্যে ট্রাম্পকে ‘সম্রাট সাইরাস’ নামে ডাকতে শুরু করেছে। সাইরাস বাবিল নগরী থেকে ইহুদি দাসদের মুক্তি দিয়েছিলেন। সুযোগ দিয়েছিলেন ফিলিস্তিনে গিয়ে একটি ইহুদি রাষ্ট্র গড়ার।
ব্রিটিশদের ‘বেলফোর ঘোষণা’র মধ্য দিয়ে এখানকার ভূমিতে একদিন অভিশপ্ত আঁচড় পড়েছিল জায়নবাদের। এবার সেই ধারাবাহিকতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রকাশ্যে জায়নবাদকে ‘হ্যাঁ’ বললেন। অপ্রকাশ্যে যার প্রতি মৃদু সমর্থন জারি রেখেছিল সব মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প আসলে নতুন কিছু করেননি। জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে সেই ১৯৯৫ সালে। তবে আইনের ক্ষমতায় মার্কিন প্রেসিডেন্টরা প্রতি ছয় মাস পর পর এই সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখার আদেশে সই করেছেন। সে কারণেই সিদ্ধান্তটি এতদিন বাস্তবায়িত হয়নি। তবে ডেমোক্র্যাট-রিপাবলিকান নির্বিশেষে ট্রাম্পের পূর্বসূরি ক্লিনটন-বুশ-ওবামা মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে নিয়ে রাজধানী হিসেবে এর আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তারা সবাই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন। তবে ওইসব প্রতিশ্রুতি দাবিটিকে আরও জোরালো করেছে দিনকে দিন। তাই পূর্বসূরিদের থেকে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে বিচ্ছিন্ন করা যায় না।
পাঠককে জানিয়ে রাখি ১৯৬৭ সাল থেকে এই ২০১৭ সাল পর্যন্ত বিগত ৫০ বছরে অবৈধ বসতি স্থাপন ও ইসরায়েলি বাহিনীর অন্যায্য বলপ্রয়োগের বিরুদ্ধে পাস হতে যাওয়া ৪৩টি জাতিসংঘ প্রস্তাব ভেটো ক্ষমতার বলে বাতিল করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের স্বাতন্ত্র্য হলো, এর আগে কেউ তার মতো দৃশ্যমান অন্যায্যতা স্থাপন করেননি। তবে ট্রাম্প করেছেন। মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে হাজির হয়েছেন প্রকাশ্যে, নগ্নভাবে। গোটা বিশ্ব যখন পশ্চিম তীর আর গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি আগ্রাসী নীতির বাস্তবায়ন দেখে যাচ্চে, সেখানকার মানুষ পৃথিবীর সব থেকে জঘন্য সেনাবিকৃতির শিকার হচ্ছে, ভারী ভারী সব অস্ত্রের বিরুদ্ধে গুলতি আর ঢিল ছুড়ে লড়াই করছে, তখনও ট্রাম্প ফিলিস্তিনকেই বলছেন সন্ত্রাসী। কেন বলছেন? কী লাভ তার? কেন বিশ্বজনমত উপেক্ষা করছেন? উপেক্ষা করছেন নিজ দেশের বেশিরভাগ মানুষ কিংবা ভোটারকে? কারণটা নিহিত রয়েছে মার্কিন রাষ্ট্রের অর্থনীতি, জায়নবাদ আর এর শক্তির মধ্যে।
পূর্বসূরিদের মতো করেই জেরুজালেমের স্বীকৃতি ছিল ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি। তবে ট্রাম্প যে রাজনীতিকে মতাদর্শিক হাতিয়ার করেছিলেন, সেই কট্টর রক্ষণশীল জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে তিনি চেনাজানা ইতিহাসে যে কারও থেকে বেশি জায়নবাদঘনিষ্ঠ অবস্থান নিয়েছিলেন। তাকে নির্বাচনে জয়ী হতে টাকা জোটানো লবিস্ট গ্রুপ আর ব্যক্তিগত তহবিলদাতা ও প্রচারণাকাল থেকে তার অন্তবর্তী দল এবং পরবর্তী প্রশাসনে দেখা গেছে, জায়নবাদী ভাবধারার মানুষের আধিপত্য। ট্রাম্পের নির্বাচন জয়ের নেপথ্যে ও তার প্রশাসনকে এগিয়ে নিতে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালনকারী স্টিভ ব্যানন কট্টর জায়নবাদের সমর্থক ছিলেন। স্মৃতি থেকে বলছি, ট্রাম্প প্রশাসন ছাড়ার সময় তিনি বলে গিয়েছিলেন ট্রাম্পের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াবেন না, বরং তার নির্বাচনি অঙ্গীকাররক্ষায় প্রশাসনের বাইরে থেকে কাজ করে যাবেন। আর ইসরায়েল-ফিলিস্তিন কথিত শান্তি প্রক্রিয়ার যে নীতি তৈরি করেছে মার্কিন প্রশাসন, সেটার মূল পরিকল্পনা এসেছে ট্রাম্পের ইহুদি জামাতা জ্যারেড কুশনারের হাত ধরে।
সাবেক মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিন এফবিআইকে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার কথা স্বীকার করার পর সম্প্রতি সেই নথিগুলো পর্যালোচনা করে আবারও ইসরায়েলের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠতায় জ্যারেড কুশনারের দূতিয়ালির আলামত পাওয়া গেছে। গত বছর ডিসেম্বরে নিরাপত্তা পরিষদে ইসরায়েলবিরোধী প্রস্তাব ঠেকাতে কুশনারের নেতৃত্বেই মরিয়া হয়ে উঠেছিল ক্ষমতা হস্তান্তরে গঠিত ট্রাম্পের অন্তবর্তী প্রশাসন।
জাতিসংঘে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত জন বোল্টনও ট্রাম্পের জেরুজালেম সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রো-ইসরায়েলি থিংক ট্যাংক ইরানবিরোধী সংস্থা জিউইশ ইনস্টিটিউট অব ন্যাশনাল সিকিউরিটি অব আমেরিকার পরিচালনা পর্ষদের সদস্যও ছিলেন তিনি। জেরুজালেমের স্বীকৃতির পরও বোল্টনকে দেখা গেছে হোয়াইট হাউসে। প্রেস সচিব সারাহ স্যান্ডার্স বলেছেন, ‘বোল্টন প্রেসিডেন্টের বন্ধু।’
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নানা ধরনের লবি আছে। এদের কাজ হচ্ছে সরকারি সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নীতিগতভাবে তাদের স্বার্থ হাসিল করা। যেসব লবি রয়েছে তার মধ্যে জায়নবাদের স্বার্থ রক্ষাকারী ইসরাইল লবি সবচেয়ে শক্তিশালী এবং তাদের নেটওয়ার্কের পরিসরও অনেক বিস্তৃত। ২০১০ সালে প্রকাশিত হয় জন জে ম্যায়ারসিমা এবং স্টিফেন এম ওয়াল্ট-এর বই ‘দ্য ইসরাইল লবি অ্যান্ড ইউএস ফরেন পলিসি’। নির্বাচন থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও বিদেশনীতিতে ইসরায়েল লবির ভূমিকা কতো গুরুত্বপূর্ণ তা উঠে আসে ওই বইতে। দেখানো হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনীতি, নিরাপত্তা, বিদেশনীতি ইত্যাদি বিষয়ে মার্কিনি নীতিনির্ধারণের সবচেয়ে শক্তিশালী নিয়ামক। তাই বইয়ের লেখকেরা প্রয়াসটিকে ‘ইসরায়েল সমর্থক সম্প্রদায়’ অথবা ‘ইসরায়েলকে সহায়তা করার আন্দোলন’ আখ্যা দেন।
বিগত বছরগুলোতে কংগ্রেস ও অন্যান্য মার্কিন নির্বাহী সংস্থাকে প্রভাবিত করতে যুক্তরাষ্ট্রে কোটি কোটি ডলার খরচ করেছে প্রো-ইসরায়েল লবিং গ্রুপগুলো। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে ইসরায়েলের পক্ষে টানা কঠিন হবে; এই বিবেচনায় ২০০৮ সালে অনুদানের হার অনেক বেড়ে যায়। ২০১৬ সালে ট্রাম্পের ক্ষেত্রে এই অঙ্ক গিয়ে দাঁড়ায় ২ কোটি ডলারে। মার্কিন রাজনীতিবিদদের ওপর ইহুদি লবি আইপ্যাকের প্রভাব স্পষ্ট হয় গত মার্চে। সে সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প, হিলারি ক্লিনটন, টেড ক্রুজ, জন ক্যাসিচরা সবাই আইপ্যাকের বার্ষিক সম্মেলনে কথা বলেন। বার্নি স্যান্ডার্সও একটি ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছিলেন সেসময়। ইহুদি হয়েও তিনি লবিং গ্রুপগুলোর সমালোচনা করেছিলেন। বলেছিলেন, ফিলিস্তিনিদের দুর্দশার কথা এড়িয়ে যাওয়া যায় না কোনোমতেই।
তবে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে সরাসরি প্রভাবিত করেছেন জায়নবাদের সমর্থক একজন রিপাবলিকান তহবিলদাতা ও তার স্ত্রী। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় একজন মানুষ নিশ্চিতভাবেই হেসেছিলেন। তিনি হলেন রিপাবলিকান পার্টির একজন বড় দাতা ক্যাসিনো ব্যবসায়ী শেল্ডন অ্যাডেলসন। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের দশ দিন আগে শেল্ডন অ্যাডেলসন ট্রাম্প টাওয়ারে ট্রাম্পের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেন। এরপর অ্যাডেলসন পুরনো বন্ধু মর্টন ক্লেইনকে অনুরোধ করেন, তিনি যেন তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দিতে ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানান। এই ঘটনার এক বছরের মাথায় ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিলেন। যে ভাষণে এই স্বীকৃতি দেন ট্রাম্প; তাতে তিনি বলেন, আগের প্রেসিডেন্টরা নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু তা বাস্তবায়নে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। আজ আমি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছি।
কোয়ার্টস প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানতে পারি, রিপাবলিকান পার্টির একজন বড় দাতা ক্যাসিনো ব্যবসায়ী শেল্ডন অ্যাডেলসন। এই মিডিয়ামই আসলে দূতাবাস সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার হোতা। নাভাদা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক মাইকেল গ্রিন সংবাদমাধ্যম কোয়ার্টসকে বলেন, ‘অনেকেই মনে করছে সাম্প্রতিক বাস্তবায়িত পদক্ষেপটির নেপথ্যে তার বড় ধরনের অবদান রয়েছে’।
চলতি বছর এপ্রিলে তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে নেতিবাচক মনোভাব জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন। তিনি তখন বলেছিলেন, শান্তি বিঘ্নিত হওয়ার মতো কিছু করবেন না তারা। পলিটিকো-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অ্যাডেলসনের মুখপাত্র জানান, এরপর থেকেই ক্ষুদ্ধ হতে থাকেন অ্যাডেলসন। ক্ষোভের বহিপ্রকাশ ঘটে মধ্যবর্তী ১৭ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে। রিপাবলিকান দলে ব্যক্তিগত সহায়তা কমিয়ে দেন তিনি। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যিনি শীর্ষ দাতা ছিলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে শীর্ষ ৫০ জন দাতার তালিকাতেও নাম ছিল না সেই অ্যাডেলসনের। যে নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে। এখান থেকে পাঠক, জায়নবাদ সমর্থক গোষ্ঠীর প্রভাবটা আন্দাজ করতে পারবেন আপনি। আর বুঝবেন, কেন ট্রাম্পকে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পালন করতে হয়। গোটা বিশ্বের বিপরীতে দাঁড়িয়ে এমন একটা সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
সবমিলে ট্রাম্পের জামাই কুশনারের নেতৃত্বে আরব শান্তিপ্রক্রিয়ার এখানেই ইতি ঘটলো সম্ভবত। তবে ডাবল স্ট্যান্ডার্ড ছেড়ে ট্রাম্প জেরুজালেম নিয়ে যে প্রকাশ্য জুয়াবাজি করলেন; আমার ধারণা তা ফিলিস্তিনে তৃতীয় ইন্তিফাদাকে আরও জোরালো করে তুলবে। সেই মুক্তিকামী প্রতিরোধের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়বে আরব, পারস্য, তুরস্কসহ মুসলিম রাজধানীগুলোয়। স্বাধীন ফিলিস্তিন তাই চিরদিন অবাস্তবই থাকবে; এমনটা ভাবা কিন্তু ঠিক হবে না।

 

লেখক: ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, বাংলা ট্রিবিউন

 

/এসএএস/এমএনএইচ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

লাইভ

টপ