বর্ষপূর্তিতে ট্রাম্পের উপহার ‘অচল সরকার’

Send
বাধন অধিকারী
প্রকাশিত : ২১:১৬, জানুয়ারি ২৩, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ০২:১৮, জানুয়ারি ২৪, ২০১৮

বাধন অধিকারীসম্প্রতি (২০ জানুয়ারি) শেষ হয়েছে ট্রাম্প শাসন আমলের একবছর। তিনি শাসনামলের দ্বিতীয় বর্ষে পা রেখেছেন সরকারের অভ্যন্তরে চলমান অচলাবস্থা নিয়ে। দ্বিতীয় বর্ষের প্রথম দিনেই ‘শাটডাউনে’র কবলে পড়েন তিনি। সেই অচলাবস্থার নেপথ্যে মূল কারণ যুক্তরাষ্ট্রের ড্রিমার অভিবাসীরা। তাদের জন্য ডেমোক্র্যাটরা অর্থ বরাদ্দ সচল রাখার পক্ষে থাকলেও ট্রাম্প কিছুতেই রাজি ছিলেন না। কারণ কদিন পরই মধ্যবর্তী নির্বাচন। ডেমোক্র্যাট-রিপাবলিকান দুই দলেরই চোখ এখন সেদিকে। তবে, শেষপর্যন্ত ৩ দিনের ‘শাট ডাউন’ অবসানের খবর দিয়েছে মার্কিন ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। তারা জানিয়েছে, আপাতত একটা সমঝোতা হয়েছে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকনাদের মধ্যে। সোমবার রাতে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকার পরিচালনার জন্য একটি তহবিল পাসের বিলে স্বাক্ষর করেছেন ট্রাম্প।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এর আগে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাজেট বাড়ানো সংক্রান্ত একটি বিলে সিনেটররা একমত হতে না পারায় শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কার্যক্রম স্থগিত হয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয়। ওইসব বিশ্লেষণ থেকে দেখা গেছে, বাজেট নিয়ে সিনেটরদের ভাগ হয়ে যাওয়ার মূল কারণ ছিল অভিবাসন-নীতিতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রস্তাবিত পরিবর্তন। যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ তরুণ অভিবাসীদের সামাজিক সুরক্ষায় ওবামা ঘোষিত ‘ড্রিমার কর্মসূচি’ পরিচালনায় বরাদ্দ অর্থ নিয়ে দুই ভাগে ভাগ হয় সিনেট। ওই কর্মসূচির আওতায় যে আট লাখ তরুণ-তরুণী সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পেয়েছেন, তাদের ব্যাপারে কোনও স্থায়ী সমাধানকে সমঝোতার শর্ত হিসেবে তুলে ধরেন ডেমোক্র্যাটরা। অন্যদিকে, রিপাবলিকান প্রতিনিধিরা পুরো বিষয়টিকে সাময়িক সমাধান হিসেবে দেখতেই আগ্রহী। এ নিয়ে রিপাবলিকানদের সঙ্গে মতবিরোধ হওয়ায় শেষপর্যন্ত বাজেটের সমঝোতা প্রস্তাব পাসের জন্য  ন্যূনতম ৬০ ভোটও মেলায় ২০ জানুয়ারি শাটডাউন বাস্তবতা তৈরি হয়।

প্রায় তিন দিন শাটডাউন চলার পর ২২ জানুয়ারি অভিবাসন বিষয়ে সিনেটে ডেমোক্র্যাট দলের নেতা চাক স্কুমার ও রিপাবলিকান দলের নেতা মিচ ম্যাককনেলের মধ্যে সমঝোতা হয়। এরপর সরকারের জন্য তিন সপ্তাহের তহবিল বরাদ্দের ব্যাপারে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভে প্রস্তাবটি ২৬৬-১৫৯ ভোটে পাস হয়। আর সিনেটে বিলটি ৮১-১৮ ভোটে পাস হয়।

ড্রিমার কর্মসূচির আসল নাম ‘ডেফারড অ্যাকশন ফর চিলড্রেন অ্যারাইভাল’ (ডিএসিএ)। এই কর্মসূচির আওতায় কয়েক লাখ অবৈধ অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বদলে তরুণ অনিবন্ধিতদের সুরক্ষা দিতে চেয়েছিল ওবামা প্রশাসন। তাদের যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এ কর্মসূচির সুযোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস, পড়াশোনা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পান প্রায় ৭ লাখ তরুণ। এই তরুণদের বলা হয় ‘ড্রিমার’। তবে গত সেপ্টেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পটি সমাপ্তির ঘোষণা দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। এর মধ্য দিয়ে  ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ আর ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নামের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণ করেন তিনি। ওই দুই প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের সেই প্রচারণার অস্ত্র, যা তাকে অধিষ্ঠিত করেছিল মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার চেয়ারে।

৮০-এর দশকে চালু হওয়া নব্য উদারবাদী অর্থব্যবস্থা যখন যুক্তরাষ্ট্রসহ সারাবিশ্বে ব্যর্থতার নজির স্থাপন করেছে, ঠিক তখনই ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নামের সংরক্ষণশীল অর্থনীতির রূপরেখা নিয়ে মার্কিন রাজনীতির মঞ্চে হাজির হন আবাসন ব্যবসায়ী ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভয়াবহ বৈষম্য উৎপাদনকারী নব্য উদারবাদের জন্মভূমি যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তবাজারের অসারতা প্রমাণ করতে সমর্থ হন তিনি। তাই ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ নামে কলম্বাসের কথিত আবিষ্কৃত আমেরিকার প্রলোভন দেখান মার্কিন ভোটারদের। সেই আশির দশকের রিগ্যান-থ্যাচার যুগে ওই দুই শীর্ষনেতার প্রত্যক্ষ প্রেরণায় আবির্ভাব হয় এই নব্য উদারবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার। লাতিন আমেরিকার মতো কিছু ব্যতিক্রম কথা বাদ দিলে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বজুড়ে এখনও চলছে ওই অর্থনীতির শাসনব্যবস্থা। সেই ব্যবস্থার ব্যর্থতা এখন গাণিতিক ও পরিসংখ্যানগতভাবে দুনিয়াজুড়ে প্রমাণিত।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক বেসরকারি সহায়তা সংস্থা অক্সফাম প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক সমীক্ষা বলছে, বিশ্বের ৪২ জন ধনী দখলে রেখেছেন পৃথিবীর ৫০ শতাংশ দরিদ্রতম মানুষের সমান সম্পদ। বৈষম্যবিরোধী বেসরকারি আন্তর্জাতিক সংস্থা অক্সফাম ইন্টারন্যাশনালের সবশেষ প্রতিবেদনের পরিসংখ্যান বলছে, ওই ৪২ ধনী ব্যক্তি বিশ্বের ৩৭০ কোটি দরিদ্রতম মানুষের সমান সম্পদের অধিকারী। পরিস্থিতিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে বিশ্বনেতাদেরকে বৈষম্য নিরসনে উদ্যোগী হওয়ার তাগিদ দিয়েছে ওই সংস্থা। তাদের পরিসংখ্যান বলছে,  ২০১৫ সাল থেকে ৯৯ শতাংশের অর্জিত সম্পদের চেয়ে বেশি সম্পদ অর্জন করে আসছে ১ শতাংশ ধনী। ২০১৭ সালে এসে মোট বিশ্ব সম্পদের ৮২ শতাংশই চলে গেছে মাত্র ১ শতাংশ ধনী মানুষের হাতে। বার্কলের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার এক হিসাব অনুযায়ী, ২০১৬ সাল থেকে গত আট বছরে ১ শতাংশ পরিবার এই সময়ে অর্জিত সব অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ৫২ শতাংশের সুফল করায়ত্ত করেছে। ২০০৮-এর মন্দার প্রভাবে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ঋণ শোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রায় এককোটি মানুষ বসতবাড়ির মালিকানা হারান। এমনকি ২০১৫ সালেও ১১ লাখ পরিবারের ঋণের কারণে বসতবাড়ি নিলামের মুখে ছিল। নির্বাচনকালীন বিভিন্ন বুথ ফেরত জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ওইসব মার্কিনির মধ্যে শ্বেতাঙ্গ দরিদ্র ভোটারদের টার্গেট করেছিলেন সদ্য দায়িত্ব নেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির কাল থেকে সেই রিগ্যানযুগের ব্যর্থ ও বিপন্ন নব্য উদারবাদের মুক্তবাজার অর্থনীতির সমালোচনা হাজির করেন তিনি। রক্ষণীশল ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতে বৈষম্যপীড়িত শ্বেতাঙ্গ আমেরিকানদের অর্থনৈতিক মুক্তির স্বপ্ন দেখান। অভিষেক ভাষণে নতুন বাণিজ্য কৌশল সম্পর্কে ধারণা দেন ট্রাম্প। ঠিক এক বছর আগে ট্রাম্পের শপথের কিছু সময় পর দেওয়া হোয়াইট হাউসের ওই বিবৃতিতে বলা হয়, যেসব দেশ বাণিজ্যচুক্তি ভঙ্গ করছে এবং আমেরিকানকর্মীদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংকোচন করা হবে ‘তাহাদের’ তথা অভিবাসীদের জন্য বরাদ্দকৃত ব্যয়। বিভিন্ন দেশের জন্য দেওয়া সহায়তার অর্থও কমিয়ে ফেলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। শ্বেতাঙ্গ আমেরিকান বাস্তবতা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখিয়ে তিনি বিভক্তির বীজমন্ত্র হাজির করেন। কর্মসংস্থান, বেকারত্ব দূর করা আর সমাজের মধ্যে বিরাজমান বৈষম্য কমানোর অর্থনৈতিক ‘মিরাকল’ ঘটানোর স্বপ্ন দেখান নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে।

ট্রাম্প এখন সেইসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছেন। এরইমধ্যে বিভক্তির বীজমন্ত্রকে সূত্র বানিয়ে তিনি মুসলিমবিরোধী অভিবাসী আইন বানিয়েছেন। এগিয়ে যাচ্ছেন মেক্সিকো সীমান্তে বিভক্তির দেয়াল নির্মাণের পথে। ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে তিনি জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি সহায়তা তহবিলের বরাদ্দ অর্ধেকেরও কমে নামিয়ে এনেছেন। সর্বশেষ মধ্যপ্রাচ্যে পড়েছে তার নগ্ন সামাজ্যবাদী থাবা। জেরুজালেমকে ইসরায়েলি রাজধানী ঘোষণার মধ্য দিয়ে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত উসকে দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক আর অর্থনীতির বিশ্লেষকরা এইসব প্রবণতার মধ্যে ‘নগ্ন পুঁজিবাদ’ কিংবা ‘ক্যাসিনো পুঁজিবাদ’ নামের ধারণার দেখা পান। বাজার অর্থনীতির ব্যর্থতা পুঁজিবাদকে এমন ল্যাংটা বানিয়েছে। সামরিকতা ও আধিপত্য নির্ভর মার্কিন অর্থনীতির পক্ষে ট্রাম্পযুগে এসে আসলে এমন ল্যাংটা চেহারা নেওয়াই স্বাভাবিক ছিল। সেই ২০০৭ সালের অর্থনৈতিক মন্দার সময়ই মার্কিন অর্থনীতির বারোটা বেজে গিয়েছিল। যা এখন অবশিষ্ট আছে, তা কেবল দেখনদারিই। ভেতরটা কিন্তু ফাঁপা। ট্রাম্পকে তাই বাধ্য হয়েই নগ্ন হতে হয়েছে। ক্ষমতায় টিকে থাকার স্বার্থে ছড়িয়ে দিতে হয়েছে বিভক্তির বীজমন্ত্র। ‘আমেরিকা ফাস্ট’-নীতিতে বাতিল করতে হয়েছে বাদবাকি বিশ্বকে। মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন স্লোগানে তাকে শ্বেতাঙ্গ আমেরিকান বাস্তবতা তৈরি করতে হবে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিমাফিক; তাই এবার তিনি টার্গেট বানিয়েছেন ড্রিমার অভিবাসীদের। 

বাজেট নিয়ে সমঝোতার লক্ষ্যে শুক্রবার অনুষ্ঠিত ট্রাম্প-শুমার বৈঠকের ব্যাপারে অবগত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রগুলোকে উদ্ধৃত করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন, এনবিসি ও ভক্স নিউজসহ ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান বলছে, শুমার মেক্সিকোর দেয়াল নির্মাণ প্রশ্নে আলোচনায় রাজি ছিলেন। সামরিকব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাবেও আপত্তি ছিল না তার। বিপরীতে শুমার চেয়েছিলেন ড্রিমার কর্মসূচির ব্যাপারে একটি সাময়িক সমঝোতায় আসতে। যেন পরবর্তী সময়ে এ নিয়ে আইনপ্রণেতাদের মধ্যে বিস্তৃত পরিসরে সমঝোতার সুযোগ তৈরি হয়। ওই সূত্রকে উদ্ধৃত করে গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্পকে শুমারের প্রস্তাবে প্ররোচিত হতেই দেখা গেছে। তিনি প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন রিপাবলিকান নেতাদের এ নিয়ে বোঝাতে চেষ্টা করবেন। ড্রিমার প্রকল্পের সমঝোতা না হওয়াই অচলাবস্থার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

গত বছর সেপ্টেম্বরেই শেষ হয়ে গিয়েছিল সরকারি ব্যয় বরাদ্দের তারিখ। তবে কার্যকর দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার অভাবে তখন থেকেই স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপের মাধ্যমে অচলাবস্থা ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে। সবশেষ গত বছর ডিসেম্বরে স্বল্পমেয়াদিব্যয় বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই সময়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ‘ড্রিমার’দের জন্য ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত হয়, এরপর আর কর্মসূচিটির জন্য অর্থায়ন করা হবে না। তবে ২০ জানুয়ারি ড্রিমার কর্মসূচিটি ৫ মার্চ পর্যন্ত চালিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। তবে এই অভিবাসীরা প্রায় সবাই ডেমোক্র্যাটদের ভোটার। ডেমোক্র্যাট রাজনীতির ভেতরে বিপুল চাপ রয়েছে ওই অভিবাসীদের ভাগ্য-নির্ধারণে সক্রিয় হওয়ার। তাই সব মানলেও ড্রিমারদের শঙ্কার মধ্যে রাখতে রাজি নয় তারা। এই ইস্যুতে তারা চান একটি স্থায়ী সমাধান। ড্রিমারদের সুরক্ষায় তারা একটি কার্যকর আইনি রূপান্তর চেয়েছিলেন। তিন দিনের শাট ডাউন শেষে সরকার চালুর পর অভিবাসন বিষয়ে একটি বিতর্কের পদক্ষেপ নিতে রাজি হওয়ার শর্তে  রিপাবলিকানদের সঙ্গে সমঝোতা করলেন ডেমোক্র্যাটরা। সিনেটে বাজেট ছাড়ের পক্ষে ভোট দিয়ে অচল সরকারকে সচল করলেন। কিন্তু সংশয়বাদীদের মতে, ম্যাককনেলের প্রতিশ্রুতি তেমন জোরালো নয়। আর তাতে ড্রিমারদের আইনগত বৈধতা দেওয়ার কোনও নিশ্চয়তাও দেওয়া হয়নি। ম্যাককনেলকে বিশ্বাস করা যায় কিনা তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। ম্যাককনেল সম্পর্কে ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটর কামালা হ্যারিসর মন্তব্য, ‘সে প্রতিশ্রুতি রাখবে তা বিশ্বাস করা বোকামি হবে।’

সমঝোতার আগে হোয়াইট হাউসের সবশেষ বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, ‘অচলাবস্থা নিরসনের চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার আগে অভিবাসী ইস্যুতে সমঝোতা করতে নারাজ ট্রাম্প’ নিজের টুইটার পোস্টেও ‘আমেরিকা ফাস্ট’ লিখে অভিবাসীদের বিষয়ে কঠোরতার আভাস দিয়েছেন তিনি। আরেক টুইটার পোস্টে লিখেছেন, ‘ডেমোক্র্যাটদের ‘অভিবাসী প্রীতি’র কাছে তাদের সেনাবাহিনী জিম্মি হয়ে আছে।’ এই দুই টুইটে ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তার জুজুকে সামনে এনেছেন পুরনো মার্কিন কৌশল প্রয়োগ করে। ডেমোক্র্যাটরা প্রকারন্তরে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি মেনে নিলেন। সরকারকে অচলাবস্থা নিরসনে সহায়তা দিলেন আগে, অভিবাসী ইস্যুকে রাখলেন ভবিষ্যতের জন্য। মার্কিন সরকারকে বৈধতা দিলেন, সাত/আট লাখ তরুণ অভিবাসীর ‘আমেরিকান ড্রিম’কে আরও সংশয়ী বাস্তবতায় পর্যবসিত করে। সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে এটা করেছে ডেমোক্র্যাটরা। আসছে দিনগুলোতে দরকষাকষি হবে। সাত লাখ তরুণ অভিবাসীর আমেরিকান ড্রিম নিয়ে ভোটের জুয়া খেলবে দুই দল।

বিভক্তির যে দেওয়াল ট্রাম্প নির্মাণ করতে চান, যেভাবে সামরিক বরাদ্দ বাড়াতে চান তার সবকিছুতেই কিন্তু আগেই সায় দিয়েছিল ডেমোক্র্যাটরা। তবে ভোটের প্রশ্নে ছাড় দেওয়ার উপায় নেই। দুই দল মিলে তাই ৭/৮ লাখ তরুণ অভিবাসীর ‘স্বপ্ন’কে ধুলিস্যাৎ করতে নেমেছে। একদল তাদের তাড়াতে চায়। একদল চায় জিম্মি করতে। দুই দলের লক্ষ্যই মধ্যবর্তী নির্বাচন। ট্রাম্প অভিবাসীদের মন জয় করতে চানই না, বিভক্তিই তার সূত্র। বিপরীতে নভেম্বরের ওই মধ্যবর্তী নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে এরইমধ্যে রবিবারের নারীবাদী সমাবেশ থেকে ট্রাম্পবিরোধী নতুন ১০ লাখ ভোটার নিবন্ধনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বিপুল অভিবাসী নাগরিকের ভোটকে নিজেদের করায়ত্ত রাখতে তারা ড্রিমারদের পক্ষে দৃশ্যমান অবস্থান নিয়েছে। জরিপগুলোয় মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্যের আভাস দেওয়া হয়েছে। তবে কী ডেমোক্র্যাট কী রিপাবলিকান; কারও পক্ষেই সম্ভব হবে না,  বিদ্যমান ব্যবস্থা আর তার থেকে জন্ম নেওয়া ক্ষতগুলোকে ব্যবহার করে দিনের পর দিন করপোরেট পুঁজির পূজা-অর্চনা জারি রাখার। কারণ মার্কিন জনতাও আজ জাগরিত। এইসব নগ্ন-পুঁজিবাদী ইতিহাসধারা তাই চূড়ান্ত কথা নয়।

লেখক: ইনচার্জ, ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, বাংলা ট্রিবিউন

/এসএএস/এমএনএইচ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

লাইভ

টপ