ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি: যেসব সত্য আড়ালে থেকে যাচ্ছে

Send
বাকী বিল্লাহ
প্রকাশিত : ১৫:১৬, জানুয়ারি ২৬, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৫৩, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৮

বাকী বিল্লাহগত ২৩ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীদের ব্যানারে উপাচার্য অফিস ঘেরাও এবং পরবর্তীতে তাদের ওপর সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের হামলার ঘটনা নিয়ে মিডিয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় নানান আলোচনা-পর্যালোচনা চলছে। কিন্তু ২৩ তারিখের ঘটনা এবং তার পটভূমি নিয়ে সব আলাপের মধ্যেই কিছু গুরুতর সত্য অনুপস্থিত থেকে যাচ্ছে। বিশেষ করে সরকারদলীয় ও বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর পাল্টাপাল্টি সংঘাত এবং দুই পক্ষের ভুলের মাত্রা বিচারের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে মিডিয়া। সবার উপস্থাপনের মধ্যে এক ধরনের ছদ্ম-নিরপেক্ষতা বজায় রাখার চেষ্টা। ছাত্রলীগ হামলা করেছে এটা যেমন খারাপ তেমনি আন্দোলনকারীরা ভিসি অফিসের তালা ভেঙে ভেতরে অবস্থান নিয়েছেন; সেটাও খারাপ। কিন্তু কোন পরিস্থিতিতে নিপীড়নের বিচার দাবিকারী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ভিসি অফিসের তালা ভাঙলেন বা এর পূর্বাপর ঘটনাক্রম কী ছিল, আন্দোলনকারীদের হাতে আর কোনও পথ খোলা ছিল কিনা-সেটা গভীর থেকে বিচার করা হচ্ছে না। এভাবে নিপীড়নকারী ও তাদের পৃষ্ঠপোষক এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের এক কাতারে দাঁড় করিয়ে নিরপেক্ষতার গল্প বয়ানকারীরা ভয়ানকভাবে মিথ্যার বেসাতি করছেন।

২৩ জানুয়ারি ও তার পূর্বাপর

মাত্র কয়েকদিন আগে পত্রিকার পাতায় দেখা একটি ছবি ও খবর এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে যে বিস্মিত হওয়ার সুযোগ নেই আমাদের। সেই ছবিতে দেখা যাচ্ছিলো, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নেওয়া কিছু শিক্ষার্থীকে (বেশিরভাগই নারী) ঘিরে রয়েছে ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী। তাদের প্রায় সবারই শরীরী ভাষায় উত্ত্যক্তকারীর ভঙ্গি। ওই ছবির খবর থেকে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সাত কলেজের নানামুখী সংকট ঘিরে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে কলেজগুলোর অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী। তারা তাদের দাবি-দাওয়া জানাতে উপাচার্য অফিসে গিয়েছিলেন। তারা কোনও উচ্ছৃঙ্খলতা করেছেন বলে একদমই জানা যায়নি। তারপরও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ওখানে উপস্থিত ছাত্রীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে। ছাত্রলীগ এবং প্রক্টর মিলে ওই আন্দোলনের সংগঠক মশিউর নামের এক ছাত্রকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। ছাত্রলীগের চিহ্নিত নিপীড়নকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও মশিউরের মুক্তির দাবিতে পরদিন শিক্ষার্থীরা প্রক্টরের কার্যালয়ে যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (কিছুদিন আগে যিনি নিজ দলের এক সিনিয়র শিক্ষককে পিটিয়েছিলেন বলে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করলে সেখানে বাকবিতণ্ডা হয়। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নামে মামলা করে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এই পর্যায়ে এসে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলো আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী নিপীড়নের ঘটনা বা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা-মামলা ও  হয়রানির ঘটনা ঘটলে বাম-প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলো অতীতে কখনোই চুপ থাকেনি। এবারও একই ঘটনা ঘটে। তারা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় আন্দোলনের গুণগত পরিবর্তন ঘটে। নিপীড়নের বিচার ও মামলা প্রত্যাহারের পাশাপাশি সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিল নয় বরং অধিভুক্ত সাত কলেজের সমস্যা সংকটের অবসানের দাবিই হয়ে ওঠে আন্দোলনের দাবি। সেই দাবিতে রাজু ভাস্কর্যে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে প্রশাসনকে বিষয়গুলির প্রতিকারের জন্য সময় বেঁধে দেওয়া হয় এবং উপাচার্য অফিস ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। উপাচার্য বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নিতে পারতেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি হতে পারতেন। কিন্তু তিনি যেহেতু দলদাস মেরুদণ্ডহীন (অন্যান্য ভিসিরা যেমন হয়) সুতরাং শিক্ষার্থীদের দাবি মানার চেয়ে ছাত্রলীগের চিহ্নিত নিপীড়নকারীদের রক্ষা করাই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি চারদিকের গেট লাগিয়ে তিন স্তরের নিরাপত্তার ঘেরাটোপে বসে রইলেন, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দেখা করতে রাজি হলেন না। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা যে গেটের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকলেন তা অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং মোটেও নজিরবিহীন নয়।

এরশাদের আমলে এমনটি ঘটেছে, বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলেও একাধিকবার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা উপাচার্য অফিসের তালা ভেঙেছেন। ২০০২ সালে শামসুন্নাহার হলে পুলিশের নিপীড়ন চালানোর দায়ে অভিযুক্ত ভিসি আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরির কার্যালয় ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়েছিল। তখন ছাত্রী হলে নিপীড়নের ঘটনা এবং তার প্রতিকারে আন্দোলনকারীদের উপাচার্য কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনাকে সমার্থক করে এক পাল্লায় মাপার চেষ্টা করা হলে আমরা কী তা মানতাম? তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের অনুগত দু’একটা মিডিয়া বা গুটিকয়েক দলদাস কলমবাজ মিউমিউ করে এ জাতীয় যুক্তি খাড়া করার চেষ্টা করলেও তা ধোপে টেকেনি। এখন কিছু লোকের ভাষা শুনে মনে হচ্ছে, বাংলাদেশের আন্দোলন-সংগ্রামের কোনও ইতিহাস তাদের স্মরণে নেই। তারা বারবার তালা ভাঙা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ ধ্বংস ইত্যাদি প্রসঙ্গ সামনে এনে নিপীড়নের ঘটনাকে আড়াল করতে চাইছেন। দুটি তালা ভাঙার ক্ষতি তাদের কাছে অপূরণীয় মনে হচ্ছে। অথচ এই সরকারি দলের লোকেরা দেশের সম্পদ লুটপাট করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। জল-জঙ্গল-নদী, বিশ্ববিদ্যালয় বা ব্যাংক কোনোকিছুই উদরপূর্তি করতে বাকি নেই তাদের। এসবের ফিরিস্তি দিতে পত্র-পত্রিকার হাজার হাজার দিস্তা কাগজ খরচ হয়েছে, আমার সংক্ষিপ্ত লেখায় সে প্রসঙ্গে আর গেলাম না। আর সেই পুরো গং এখন সুরে সুরে জিকির করছেন এই বলে যে-‘আন্দোলনকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ ধ্বংস করেছেন, তাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করতে হবে।’

 ধিভুক্ত সাত কলেজ প্রসঙ্গে

এ প্রসঙ্গে আড়ালে থাকা সবচেয়ে বড় সত্য হলো, সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তুলতে কলকাঠি নেড়েছিল সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ। কিন্তু বিষয়টি সম্পর্কে ধারণা না থাকায় শুধু অনুমানের ওপর ভর করে মূলধারার মিডিয়ায় এবং অনেকের ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণে অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনের পেছনে বাম ছাত্র সংগঠনগুলো ছিল বলে প্রচার করা হচ্ছে। বাস্তবতা হচ্ছে, সাত কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত করতে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। শুরু থেকেই সরকারদলীয় শিক্ষকদের মধ্যে আরেফিন সিদ্দিকের প্রতিপক্ষরা এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা ও অসহযোগিতা করে আসছে। মূলত সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের যে বিরামহীন ভোগান্তি চলছে তার প্রকৃত কারণ সরকারদলীয় শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। ফল প্রকাশের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে অধিভুক্ত কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে আছে। তাদের সহপাঠী সিদ্দিকুর চোখের আলো হারিয়েছেন, ক্ষতিপূরণ হিসেবে তাকে চাকরিও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশের দাবি পূরণ হয়নি। মাঝখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে ক্ষমতার রদবদল হয়েছে, আরেফিন সিদ্দিকের বিরোধীরা এখন প্রশাসনে চালকের আসনে বসেছেন। আগে থেকেই অধিভুক্তির বিরুদ্ধে ছিলেন তারা। অনুমান করা যায় যে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ইচ্ছাতেই অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে আওয়াজ ওঠানো হয়েছে।

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ নামে ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রিত একটি ফেসবুক পেজে সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে প্রচারণা চালিয়ে এই দাবিকে জনপ্রিয় করা হয়েছে। আন্দোলন গড়ে ওঠার শুরুতে ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততার কথাও নিশ্চিতভাবে জানা যায়। কিন্তু একটা সময়ে এসে সরকারের ওপর মহলের অনুমোদন না পাওয়ায় সরকারপন্থীরা এই আন্দোলন থেকে সমর্থন সরিয়ে নেয়। কিন্তু ততদিনে নানামুখী প্রচারণায় অধিভুক্তি বাতিলের দাবিটি কিছু শিক্ষার্থীর মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এরপর ছাত্রলীগের সমর্থন ছাড়াই একদল শিক্ষার্থী অধিভুক্তি বাতিলের আন্দোলন চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। আর তাই তাদের ওপর খড়গহস্ত হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রলীগ। অন্য দিকে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলো মূলত একাত্ম ছিল সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি। শাহবাগে সাত কলেজের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের নির্যাতনের প্রতিবাদে, তাদের দাবি-দাওয়ার সমর্থনে রাজপথে ছিল বাম-প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলো।

খুচরা মিথ্যাগুলি

এর বাইরে ছাত্রলীগের প্রোপাগান্ডা বিভাগ (কেন্দ্রীয় ও সাবেক নেতৃবৃন্দ) একরাশ খুচরা মিথ্যার ডালি সাজিয়ে বসে তা বিপণন করে যাচ্ছেন। তবে সেগুলোর জবাব দেওয়া খুব বেশি জরুরি নয়, সোশ্যাল মিডিয়ার উৎসাহী জনতা নিজ দায়িত্বে সেসব মিথ্যার স্বরূপ উন্মোচন করছেন। তারা দাবি করেছিলেন, পিতৃসম (তাদের ভাষায়) ভিসিকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে, তাই তারা নিশ্চুপ বসে থাকতে পারেননি। যা ঘটেছে তার সকল প্রামাণ্য নিদর্শন আছে। ছাত্রলীগের এই অহেতুক টেম্পারড কথাকে সত্যের মতো বলেও মনে করেনি কেউ। দ্বিতীয়ত, ছাত্রলীগের নারী কর্মীরা আন্দোলনকারীদের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন। সেই আহত নারী কর্মীদের নামের তালিকা পত্রিকা মারফত আমরা দেখেছি, হাসপাতালের বিছানায় ব্যান্ডেজ বাঁধা ছবিও দেখেছি। তবে তাদের এই মিথ্যাচার প্রমাণ করার জন্য কারোরই কষ্ট করে কোনও বাক্যব্যয় করার প্রয়োজন হয়নি। আন্দোলনরত মেয়েদের ওপর পৈশাচিক অত্যাচার চালাতে চালাতে ক্লান্ত হয়ে তারা হাসপাতালে যেতেই পারেন; এতে অস্বাভাবিক কিছু নেই। ছাত্রলীগের যে নেতারা ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দীর ওপর হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তাদেরই কয়েকজন পত্রিকার ছবি দেখিয়ে দাবি করছেন তারা লিটনকে উদ্ধার করেছেন—কিন্তু প্রাপ্য কৃতিত্ব তাদের দেওয়া হচ্ছে না। লিটনের মাথায় সেলাইয়ের ব্যান্ডেজ একদিন পরেই খুলে দেওয়া হলো কেন—তা নিয়েও তারা মহা শোরগোল করছেন, লিটনকে মিথ্যাবাদী বলতে চাইছেন। অবস্থাটা এমন দাঁড়িয়েছে যে, ইট দিয়ে ছেঁচা দেওয়া মাথার ভেতরের যে অংশে সেলাই পড়েছে, তার ক্লোজ-আপ ছবি তুলে সেলাই দেখানো লাগছে। তারপরও ছাত্রলীগ নেতা ও তাদের প্রোপাগান্ডা সহযোগীদের প্রশ্নবাণ শেষ হচ্ছে না। তবে এসব খুচরা মিথ্যা প্রমাণ বা অপ্রমাণে খুব গুরুতর কিছু আসে যায় না।

পরিশিষ্ট

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এস এম হলের ছাত্র হাফিজুর গণরুমে জায়গা না পেয়ে শীতের রাতগুলোতে হলের মসজিদে থেকে থেকে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠনের মর্জি মাফিক ডিউটি দিতে হয়। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হাফিজুরকে হলের গেস্টরুমে শীতের রাতে তিন ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। গুরুতর অসুস্থ হয়ে বাড়িতে চলে গিয়েছিল সে। অবস্থা সংকটাপন্ন হলে অ্যাম্বুলেন্সে করে চিকিৎসার জন্য আনা হচ্ছিল তাকে। ফেরিঘাটে অটোরিকশা চালক পিতার চোখের সামনে ছটফট করতে করতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে সে। আমি জানি না, আর কোনও অটোরিকশা চালকের সন্তান এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে কিনা। ষাটের দশকের শিক্ষা আন্দোলনে বুড়িগঙ্গার মাঝি আর গুলিস্তানের টেম্পো চালকেরা দলে দলে যোগ দিয়েছিলেন ছাত্রদের সঙ্গে, জীবনও দিয়েছিলেন। তারা এসেছিলেন কারণ তাদের ভাই ও সন্তানেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তো। সেই পরিস্থিতি বদলে গেছে, উচ্চ শিক্ষা এখন আর ওই শ্রেণির জন্য নয়। হাফিজুরের মৃত্যুতে বাম ছাত্র সংগঠনগুলো দু’একটা প্রতিবাদ কর্মসূচি করেছিল বটে; কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে তা কোনও আঁচড় কাটেনি, উত্তাপ ছড়ায়নি। দলবাজ নির্লজ্জ প্রশাসনের এই মৃত্যুতে কিছু আসে যায়নি। এভাবে দিনকে দিন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হয়ে দাঁড়িয়েছে কসাইখানা। এখানে কাউকে মেরে ফেলা হলে বা কোনও নারী নিপীড়নের শিকার হলেও টক-শোতে চেতনাধারী বুদ্ধিজীবীরা উপাচার্য অফিসের ভাঙা তালার দামের হিসেব কষতে থাকবেন।

লেখক: অ্যাক্টিভিস্ট, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি

 

/এএইচ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

সম্পর্কিত সংবাদ

 
 
 
 

লাইভ

টপ