কেন মনে হবে আমার কেউ নেই?

Send
ফাহমিদা নবী
প্রকাশিত : ১৭:৫৫, জুলাই ১৬, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৫৭, জুলাই ১৬, ২০১৮

ফাহমিদা নবীএকটা অজানা অভিযোগ যখন তাড়া করে বেড়ায় তখন তাকে প্রশ্রয় না দিয়ে নিজেকে নিজের আয়না হয়ে সমঝোতায় ফেরাও। একা একা পথের চারপাশটা দেখো, শেখো। দেখবে অভিযোগ উধাও। কারণ, অভিযোগ তার হয় যে একা চলতে পারে না। যে একা পথ চলতে পারে  তার সময় নেই অভিযোগের বাক্স খুলে বসার।
জীবন তখন সুন্দর যখন রোদের তীব্রতার ছায়াকে তুমি ছুঁতে পারো। আর যখন পারো না তার মানে তুমি দেরি করেছো! দেরি করো না জীবনের ভালোবাসা ছড়াতে।
ভালোবাসা পাওয়ার আশায় নয়, দেওয়ার ইচ্ছা চর্চা করো রোদের মতো। দেখবে কতটা ভালো লাগছে। কখনও কখনও এমন সময়ও আসে জীবনে– যখন মনে হয় কাছে কেউ নেই,একা ভীষণ একা। তখন কোনও এক চরম সত্যের কাছে মানুষ নিজের অজান্তেই আশ্রয় খোঁজে।

সামনে আছে কী নেই তা মুখ্য থাকে না, সে আশ্রয়কে খালি চোখে দেখা যায় না, কিন্তু অনুভব করা যায়। সেই আশ্রয়কে ধার করে, খুব কাছের করে, তাকেই আগলে মানুষ সময়ের মোকাবিলা করে।

কী করি,  যখন বোঝা যায় না তখন খুব ভরসার মুখ সামনে আসে অলৌকিকভাবে। সাহস,শক্তি পথ আগাবার সেই ভরসা আবার উধাও হয়ে যায় তখনই যখন মানুষ সঠিক উত্তরটা সাজাতে পারে।

নিজেরই শিখতে হয়। সত্যটাকে ধারণ করতেই হয়। সেই অলিখিত সত্যকে ধারণ করতে শিখে যাওয়াটাই হচ্ছে সময়ের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার এবং একা চলতে পারার শিক্ষা।

তুমি তো মানুষ। তোমারই তো ভীষণভাবে কাল্পনিক মনোবৃত্তি হবে– এটাই তো স্বাভাবিক।

কল্পনা ছাড়া তার বেঁচে থাকা কঠিন। তাকে চলতে, বলতে, হাঁটতে সবসময় কাল্পনিক একটা ধারণাকে নিয়েই এগুতে হয়। যেখানে চাওয়ার জায়গাগুলো সে সাজাতে পারে কিংবা ভাঙতে পারে।  জোড়া লাগাতে পারে কিন্তু কল্পনা বাস্তবায়নের জন্য তাকে একই সঙ্গে বাস্তবতাকেও গ্রহণ করার মানসিক শক্তি অর্জন করতে হবে।

ভারসাম্যতা বজায় রেখে চলতে হবে। তা না হলে হোঁচট খেতে খেতে নিজেকে আর দাঁড় করানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

এক সময় মনে হতে পারে–তবে কি আমি আজ অসহায়?

না, তুমি অসহায় হবে কেন?

তোমার সম্মান বজায় রাখা তোমারই দায়িত্ব।

এমনভাবে কথা বলো,যেন কোনও তিক্ততা তোমাকে দূরের কেউ করে না দেয়।

খুব বাস্তব সত্য মেনে নাও। কাউকে দূরের হতে দিও না।

সেটা যেকোনও বয়সের জন্যই প্রযোজ্য। কী বড়,কী ছোট,সবাইকেই সমঝোতার সহজতাকে কাছের করতেই হবে।

কে চায় তিক্ততা?

কে চায় প্রতিমুহূর্তের অবসন্নতা?

কে চায় অকারণ কলহ?

কেউ চায় না। তারপরও হয়ে যায় কেন?

ওই যে ভাবনার দেয়াল। সে দেয়ালের ধার ঘেঁষেই রয়েছে পাহাড়ের মতো উঁচু এক চেনা আবার অজানা এক বাস্তবতা। যা কল্পনার সঙ্গে মিলতে নাও পারে। তার সঙ্গে সমঝোতা ভীষণ জরুরি।

তাই প্রয়োজন নিজের সঙ্গে নিজের ব্যস্ত থাকা। নিজেকে প্রয়োজনীয় করে গড়ে তোলা। নিজেকে অপ্রয়োজনীয় ভাবা একটা বোকামি। প্রত্যেক মানুষ তার নিজস্বতা নিয়েই এই পৃথিবীতে এসেছে, কখনও সচল ছিলাম আজ  অচল ভাবাটা অবান্তর।

কল্পনা নিছক একটা অবাস্তব ভাবনা। প্রত্যেকে প্রত্যেকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। সময়ের পথপরিক্রমায় বদলে যায়, প্রত্যেক মানুষই একা হয়ে যায়। এই একাকিত্বকে জয় করে সবার সঙ্গে মিলে থাকার নামই জীবন।

বোঝাপড়া করে নাও সত্য কাল্পনিক বাস্তবতার সঙ্গে।  তবেই না অভিযোগগুলোর ছুটি হবে।

প্রাণ খুলে হাসতে পারবে। ভাবতে চেষ্টা করো তুমি হাসলে জগত হাসে। প্রত্যেক দিন নিজস্ব চলার গতিতে একরোখা এক শক্তি দান করতে হয় নিজেরই।

মন অনেক কিছুই চায়, সব কি পাওয়া যায়? একা চলতে চলতে মানুষ ক্লান্ত হয়, অসহায় হয়ে পড়ে। কী করবে ভেবে পায় না।

কারও নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়, কারও আর ভালো লাগে না এ জীবন। কারও মনে হয় কেন এ একাকিত্ব!

তুমি অনেক ভালো আছো। ভেবে দেখেছো কখনও?

নিজেকেই খুশি করার জন্যই ক্লান্ত অথচ কি করে নিজেকে ভালোবাসতে হয়– সেটা নিয়ে ভাবো না? তোমার কাজ আছে,দায়িত্ব আছে, কাছের মানুষের কাছে পরামর্শ নেওয়ার মতো মোবাইল নম্বর আছে। সবসময় মন ভারি হবে কেন?

কেন মনে হবে আমার কেউ নেই?

তাকিয়ে দেখো জলে ভাসছে হাজারও বানভাসি। মানুষ একটু আশ্রয়ের আশায়, খাবারের আশায় চোখ থেতিয়ে গেছে। কত অসহায়। সময় নেই একা না দোকা ভাববার, বাঁচি কী করে, বাঁচাই কী করে– এটাই এই মুহূর্তের সংগ্রাম।

কত অসুস্থ মানুষ আছে যারা দিনগুণে বেঁচে রয়েছে। বাঁচারই তাগিদে অথবা কারও ওপর নির্ভর করে বাঁচতে হচ্ছে, যা সে চায়নি।

কত বিচিত্র জীবন।

মনের চেয়েও জীবনের নিত্যদিন বড় বেশি একা। তাকে সামলে চলতে শেখো। কোথায় তলিয়ে যাবে অকারণ নিঃশ্বাস নেওয়ার মনের অকারণ আহূতি।

কাজের মধ্যে ডুবে যাও। ডুব দাও সেই জগতে যেখানে নিজের মতো করে উঠে দাঁড়াবার শক্তি আছে।

তোমার কাছেই উত্তর আছে। খুঁজে নাও। উঠে দাঁড়াও, বলো-

হে আকাশে ...

আমার মুক্তি আলোয় আলোয়।

লেখক: সংগীতশিল্পী

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

লাইভ

টপ