স্বামী, বয়ফ্রেন্ড ও সমাজ

Send
করভী মিজান
প্রকাশিত : ১৪:৩৪, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:৩৭, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৮

করভী মিজানশিরোনাম দেখেই কি একটু থমকে গেলেন? এর মানে কী? স্বামীর সঙ্গে বয়ফ্রেন্ড আবার সমাজ? আর ইউ ক্রেজি!
প্রিয় পাঠক, কলামিস্টরা কোনও লেখাই মনের কথা দিয়ে সাহিত্যের মতো পাতার পর পাতা ভরিয়ে ফেলে না। কারণ থাকে লেখার। ধরুন ৭০-এর দশকে আমাদের ঢাকা শহরে কোনও ক্যাফে কনসেপ্ট ছিল কিনা আমার জানা নেই। ৮০-এর দশকে ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে হলো ‘ইয়াম ইয়াম’। হায়রে পপুলারিটি! কলেজ ছুটির পর আমাদের সবার ওখানেই আড্ডা-বার্গার খাওয়া। অন্য কলেজের স্মার্ট ছেলেগুলোও সব পাঠ নিতো। ব্যস ওই পর্যন্তই। তারপর বাড়ি যাও ভালো মানুষের মতো।  মা যেন না জানে। ভাইগুলো তো ছিল আরও বজ্জাত! ওদের ভয়ে তটস্থ থাকতে হতো বেশি।  ৯০-এর দশকে ঢাকা ইউনিভার্সিটি। তখন আমরা অনেক ডেয়ারিং ছিলাম। টয়োটা পাবলিকা চালিয়ে চলে যেতাম ক্যাম্পাসে। ক্যাফে-ট্যাফে বাদ। দল বেঁধে বসতাম মধুর ক্যান্টিনে। তারপর মালাই চা, সিঙারা, ছোট ছোট গোল মিষ্টি বা আলুর চপ আরামসে খেতাম। কখনোই কেউ এসে ডিস্টার্ব করতো না। আর এখন এই বিশ শতকে শুধু বনানী ১১ নম্বরেই ঠিকমতো গুনলে একশরও বেশি হবে ক্যাফে লাউঞ্জ/ শিসা লাউঞ্জ/ ফাস্ট ফুড শপ/ রেস্টুরেন্ট/ কাবাব ডিলাইটস/ টার্কিস ডিলাইটস/ আইসক্রিম লাউঞ্জ– কী নেই! এত কথা লেখার মানে হচ্ছে ঢাকা শহরে সময় পাল্টাচ্ছে দ্রুত। সুপার ফাস্ট। আমি তো তিন বাচ্চার মা হওয়ার পর নাম শুনেছি ইয়াবা শব্দটির। আর এখন সরকারকে এর বিরুদ্ধে রীতিমতো অভিযান চালাতে হচ্ছে। লাখ লাখ পরিবার হারাচ্ছে সুখ-শান্তি।
আমরা নিজেরাও বদলাচ্ছি। সুপার ফ্যান্টাসি জগতের দিকে ছুটছি। হাতে টাকার অভাব নেই। নতুন কোটিপতি দিয়ে ভরপুর। বিএমডব্লিউ, ওডি, মার্সিডিজ কিংবা হ্যামার কোনও ব্যাপার না এখন।  সমাজও কি বদলাচ্ছে না? পাল্টাচ্ছে না আমাদের পারস্পরিক সম্পর্কগুলো? স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের টানাপড়েন কি বাড়ছে না? শুধু সরকারি-বেসরকারি করাপশনকেই গালি দিয়ে বাহবা কুড়াই ক্লাবে বা পার্টিতে বা আড্ডায়। কিন্তু নিজেদের সম্পর্কের করাপশন নিয়ে কয়টা কথা বলি? আদৌ কি বলি?
আগের কথায় ফিরে যাই। একসময় আমাদের দাদি-নানিদের দাম্পত্য জীবন দেখেছি। সহজ সরল। এরপর আমাদের বাবা-মা’দের। আগের থেকে ফিকে হতে থাকলো। আমাদের সামনেই ঝগড়া-মনোমালিন্য, কথা কাটাকাটি, রাগ, অভিমান। কিন্তু ব্যারোমিটার ভদ্রজনিত লিমিট ক্রস করতো না। আর এখন? সেই কথনে না-ই যাই।  ডির্ভোস তো ডাল-ভাত। বাচ্চাদের কান্নায় জজ কোর্ট তোলপাড় হচ্ছে কাস্টডি আর গার্ডিয়ানশিপ কেসে। এছাড়া আরও কিছু ঘটনা ঘটে যাচ্ছে চুপিসারেই বা জানান দিয়েই।
ফ্যান্টাসি
ব্যস্ত নগরীর ব্যস্ত জীবনে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাড়ছে দূরত্ব। কমছে বোঝাপড়া। কমছে টলারেন্স লেভেল। এসবের মাঝে বিবাহিতা নারীরাও বাদ নেই। স্বামীর সঙ্গে অসুখী বা একঘেয়েমি জীবনে ফ্যান্টাসি আনতে বা অন্যের প্ররোচণায় ঝুঁকছে ‘বয়ফ্রেন্ড’ নামক চরিত্রটির দিকে।  সংখ্যায় এখন নগণ্য।  কিন্তু এটা যে বাড়বে না তার গ্যারান্টি কী? আর ফ্যাশনের জন্যই এসব হচ্ছেই বা কেন?
পুরো বাংলাদেশের কথা আমার লেখায় কখনোই আনি না। আমি যে সমাজে বাস করি, যেখানে বিত্তের অভাব নেই।  আছে নৈতিকতার অভাব। সেখানে যা দেখছি। যা শুনছি। তাই লিখছি। উচ্চ মধ্যবিত্তরাও শামিল বৈকি। আমি বিশ্বাস করি আজ যা সংখ্যায় নগণ্য। আজ আমরা যা উড়িয়ে দেই। সেটাই কি ভবিষ্যতে কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে না? সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, শ্রদ্ধাবোধের কবর, সম্পর্ক ভেঙে পড়া—এসব কি দিনেদিনে বাড়ছে না? কখনো কি ভেবেছিলাম—বাবা-মাদের জোর করে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানো হবে? ইয়াং জেনেরেশন কি ড্রাগসের নেশায় জীবন শেষ করবে? বলা শুরু করলে এর শেষ নেই। কিন্তু শুরুর সময় আমরা টোটাল ডিনাইলে থাকি। জানি আমার এই লেখার পর অনেকেই আমার সঙ্গে কথা বন্ধ করবে।  অনেক দরজাই বন্ধ হবে।  প্রশ্ন উঠবে প্রচুর। আঙুল উঠবে আমার দিকে। এটাই তো আমাদের স্বভাব। কিন্তু আমার যা বিশ্বাস যা নৈতিক আমি সেটাই লিখবো।
শুরু
বগুড়া থেকে বাসে ঢাকা ফিরছি। চমৎকার এসি বাস। রিকলাইন্ড সিট। দারুণ। সহযাত্রী সাংবাদিক বন্ধু ফারুখ ফয়সাল।  ‘বেলা শেষে’ ছবিটা দেখছিলাম। মাঝপথে ছবিটা বন্ধ করে দিলো বাস ম্যানেজার। দুপুর বেলায় অন্য যাত্রীদের ঘুমের অসুবিধা কিভাবে হতে পারে সেটা বোধগম্যই হলো না। ঝগড়ায় না গিয়ে শুরু হলো ফয়সালের সঙ্গে গল্প। গল্প করতে করতেই টপিক টার্ন নিলো স্বামী এবং বয়ফ্রেন্ডের মধ্যে। এটা কিন্তু স্বামী বনাম বয়ফ্রেন্ড নয়। স্বামী ও বয়ফ্রেন্ডের সহাবস্থান বা পরবর্তী সময়ে কী হয় সেই বিষয়। ওর মতে তিন প্রকারের বয়ফ্রেন্ড আছে—প্লেটোনিক, ঘুরে বেড়ানো ও সিরিয়াস টাইপ।
প্লেটোনিক। অর্থাৎ বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে শুধুই ফোনালাপ বা পত্রালাপ বা ফেসবুক চ্যাটিং। স্বামীকে যা বলা যায় না। সবই শেয়ার বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে। অর্থাৎ মনের কথাগুলো বলা। এটা মানসিক অসততা।
দ্বিতীয় দল আছে বয়ফ্রেন্ড নিয়ে ঘুরে বেড়ানো। সঙ্গে দুই-তিনজন বান্ধবী। কখনও রেস্টুরেন্টে,  কখনও ব্লকবাস্টার সিনেমা দেখা। মধ্যবিত্ত মেন্টালিটি পুরোপুরি। হাস্যরস। মধুর সম্পর্ক। বান্ধবীগুলোও বয়ফ্রেন্ডের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। ডেটে গেলে সুবিধা। কারও কাছে ধরা পড়ার ভয় নেই। স্বামীও জানছে বান্ধবীদের সঙ্গেই তার স্ত্রী আছে।  মাঝেমধ্যে বয়ফ্রেন্ডের ফ্রেন্ডের বাসায় একান্তে মিলন। প্রথম দলের যেমন যৌনতা মুখ্য নয়। এখানে যৌনতা বেশ কিছু স্থান ও সময় দখল করে নেয়। মাঝে মাঝে চলে গিফট। এই দুই দলটির স্ট্র্যাটেজিক লাইনআপ একেবারে স্ট্রং। অর্থাৎ বিপদের সম্ভাবনা মাত্রই ব্লকিং সিস্টেমে চলে যায়। পারলে বয়ফ্রেন্ডের ডিঅ্যাক্টিভিশন।
তৃতীয় বা শেষ দলটি নেহাতই সিরিয়াস টাইপ। কিছুদিনের মধ্যেই স্বামী ও বয়ফ্রেন্ডের সীমারেখা গুলিয়ে ফেলে। তখন বাচ্চাদের কথা বা সমাজ কী বললো, যদিও সমাজ একচুয়ালি কিছুই বলে না। বাংলাদেশের সমাজ এখন অনেক ফাস্ট ফরওয়ার্ড। তাদের স্বামী সংসার ছেড়ে বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে যুক্ত হওয়াটাই মুখ্য হয়ে দাঁড়ায় তখন। অর্থাৎ বয়ফ্রেন্ড তখন প্রেমিক বনে যায়। এই ধরনের সিচুয়েশনে অনেক ক্ষেত্রেই ফ্যামিলি বিচার বসে এবং ছেলেমেয়ের দোহাই দিয়ে বয়ফ্রেন্ডমুক্ত করা হয়। তবে এর বিপরীত উদাহরণও প্রচুর। মফস্বল তো আরও ভয়ানক। স্বামীকে খুনের প্লটিং থেকে শুরু করে খুন করাও হয়ে যায়। সেটার ইতি ঘটে খবরের কাগজের শিরোনামে।
বাকি ডেয়ারিং স্ত্রীরা সত্যি সত্যি স্বামী নামক চরিত্রটিকে তালাক দিয়ে বয়ফ্রেন্ডকে নতুন স্বামী বানিয়ে নতুন সংসার নতুন জীবন শুরু করে দেয়। সংখ্যায় যদিও কম। সমাজে দুই-একজন কিছুদিন কথা বললেও ঘটনা ভুলতে বেশি সময় লাগে না। বন্ধুরাও একসময় স্বাভাবিকভাবেই সব মেনে নেয়। অসংখ্য উদাহরণ আমার আপনার আশেপাশেই আছে। হয়তো বা আমি-আপনিই তাদের ডেট করতে সাহায্য করছি কোনও কনসিকোয়েন্স চিন্তা না করেই বা প্রিজিডিউসড না হয়ে। বাড়িয়ে বলছি? একদমই না।  যাই হোক এসবই আমার বন্ধুর অভিজ্ঞতা ও তার দেখা ঘটনা থেকে বলছি। সেখান থেকেই আমার লেখা ও চেতনার খোরাক।
যা সত্য
বর্তমানের বঙ্গ বিবাহিতা নারীরা তো দারুণ ডেয়ারিং। কয়েক বছর আগে আমারই বান্ধবী তার কনিষ্ঠ সন্তানের জন্মের প্রায় বছর দশেক পরে হঠাৎই স্বামীর সঙ্গে আলাদা হয়ে গেলো। সোজা কথায় বললো বাচ্চার বাবা তার স্বামী নয়। তার বয়ফ্রেন্ড। এরপর তালাক। এখন বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে বিয়ে করে আছে। আরেকটি ঘটনার কথা না বলে পারছি না। বিদেশে হাসপাতালে সন্তান প্রসব করার পর স্ত্রী ঘোষণা দিয়ে বসলো এই সন্তানের পিতা তার স্বামী নয়। তার বয়ফ্রেন্ড। অতএব ফিরতি ফ্লাইটে ফেরত নবযাতক সন্তানসহ বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে। এরপর বিয়ে ও সংসার। বাই দ্য ওয়ে এসব ব্যাপারে ডিএনএ টেস্ট করে কোনও লাভই হয় না। একজন মা’ই শুধু জানে তার সন্তানের প্রকৃত বাবা কে। আমি এই নারীদের স্যালুট করি তাদের সাহসিকতার জন্য। কিন্তু যদি বয়ফ্রেন্ড অস্বীকার করে বসতো সন্তানের দায় স্বীকার করতে। তবে কী হতো? আমরা হিসাব জানিই না এই পথে গিয়ে কত বিবাহিতা বা অবিবাহিতা নারীর জীবন নষ্ট হয়েছে বা হচ্ছে। এটাও কি বলা যায় এই দুই নারীর বহু রাত কি পার হতে হয়নি আশঙ্কায়? অনিশ্চয়তায়? স্বামীর সংসারের সর্বনাশ কি হয়নি?
যে মিথ্যার আড়ালে জীবন কাটাতে হয়। নিজেকে ধিক্কার দিয়ে আসতে হয়। সত্যকে স্বীকার করতে না পারা যায়। সেতো ধুঁকে ধুঁকে মরারই শামিল। কয়জন বিবাহিতা নারী পেরেছে—শত বাধার মাঝেও কট্টর সমাজের নীতি-শৃঙ্খলা ভেঙে নিজের ভালোবাসাকে আলিঙ্গন করতে। ভ্রূণ হত্যা যে সমাজে মেনে নেয়, সেই সমাজের এসব ভুলতেও সময় লাগে না।  মানতেও সময় লাগে না। কিন্তু সংখ্যায় এই বিবাহিতরা কয়জন? কিন্তু তবু এসব তো হচ্ছে।
লঘু উদাহরণ
আমার স্কুল বান্ধবী বিধবা হয়েছে কয়েক বছর। কিন্তু তার বয়ফ্রেন্ড আছে প্রায় ১২ বছর। ভদ্রলোক বিয়েও করেনি। আমার বান্ধবীটিরই খুব একটা বিয়ের ওপর ইচ্ছে আছে বলেও মনে হয় না। ২ কন্যার জননী। নানি হয়েছে। আমারই বয়সের। মানে পঞ্চাশ। দিব্যি আছে। নিজেই ড্রাইভ করে।
কী বললেন? গুলশানের নারীরা এমনই? দুঃখিত তিনি দক্ষিণ ঢাকার বাসিন্দা। আরেক তিরিশোর্ধ্ব বিবাহিত নারীকে চিনতাম। বাচ্চাকে স্কুলে দিয়ে বা স্বামীর অফিশিয়াল ট্যুরে সন্ধ্যায় প্রায়ই হাজির হয়ে যেতো বয়ফ্রেন্ডের আড্ডায়। ত্রাণকর্তা হিসেবে সঙ্গে আসতো তার কাজিন। আমরাও কয়েকজন দাওয়াত পেতাম। কমন বন্ধু সবাই। গল্প-আড্ডা-খাওয়া এসবই চলতো। কথায় কথায় একবার বলেছিল—‘আপা আপনি লাকি। মিথ্যা বলতে হয় না। কিন্তু আমার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ি ভীষণ কনজারভেটিভ। এখানে আসলে টাইম-পাস করি। এনজয় করি কিছুটা সময়।’ তার বয়ফ্রেন্ড বয়সে বেশ বড়ই ছিল।  এখন ‘বয়ফ্রেন্ড’-এর কনসেপ্টটাই ভিন্ন। সেও ঢাকার অন্য দিকেরই বাসিন্দা।
আরেক বিবাহিতা স্কুলবান্ধবী তো প্রস্তাব দিয়েই বসেছে আমাকে, বাসার চাবিটা একটু দিতে। ব্যাটে বলে চাবি কখনো দেইনি বা দেওয়া হয়ে ওঠেনি। এমন অনেক ঘটনাই জানি ফ্লার্টিং থেকে স্বামীর বন্ধুর সঙ্গে বিছানায় যাওয়া বা বান্ধবীর স্বামীর সঙ্গে।
আবার অনেক বিবাহিত বান্ধবীদের চোখের জল মুছে দিতে হয় বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে ব্রেকআপের পর। বহু সময়ই গেছে যে বান্ধবীদের স্বামীদের কাছে হড়হড় করে মিথ্যা বলতে হচ্ছে বান্ধবীটিকে বাঁচানোর জন্য। এসবই আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। বানিয়ে নয়। এমন ঘটনা বাড়ছেই।
কী বলছেন? এ শুধু ঢাকার হাই সোসাইটি?
প্লিজ আর হাসাবেন না। স্বামী ও বয়ফ্রেন্ডের চিত্র ঢাকা বা মফস্বল,  ধনী বা মধ্যবিত্ত—এসবই দলীয় ব্যাপার থেকে বহু দূরে। আমরা উটপাখির মতো চোখ বন্ধ রাখতে পারি। কিন্তু এই ধরনের সম্পর্কের বা প্রেমের চিত্র যেকোনও শহরে বা যেকোনও স্থানেই কমবেশি আছে। বাঙালি জাতিকে যদি বলা হয়, তারা জীবনের ভ্যালুস নিয়ে বসে আছে।  
আমরা সবাই সবসময় শুধু ‘ডিনাইল’-এ থাকি। আমার লেখায় হয়তো মনে হতে পারে বাড়াবাড়ি বা বানিয়ে লেখা। কিংবা না, এ হতে পারে না। তবে বলবো, এসবই ভ্রম। ফেস করুন। এসবই সত্যি ঘটনা। কাল্পনিক নয়। এখন এটাই সত্য। মানা না-মানা আপনার ব্যাপার। কিন্তু তাতে সত্য উল্টে যাবে না। আমি মুম্বাইয়ের শোভাদের সমাজের কথাও বলছি না। এ যে শুধু বিবাহিত তরুণীদের কথা বলছি, তা কিন্তু নয়। চল্লিশের ওপরে বা আমার মতো পঞ্চাশের বিবাহিত নারীরাও এর শিকার বা ভুক্তভোগী। কাঠগড়ায় কাকে দাঁড় করাবেন–স্ত্রীকে? স্বামীকে? নাকি বয়ফ্রেন্ডকে?
মোরালিটির প্রশ্নটা এসেই যাচ্ছে
আমার বন্ধু ও এক্স কলিগ, যার সঙ্গে এই আলাপের শুরু। ওর কথায় ‘মানুষের জীবনটা মৌচাকের খোপের মতো। স্বামী কি পারে একজন স্ত্রীর মানসিক ও শারীরিক সব ধরনের চাহিদা পূরণ করতে? শরীর সামান্য জিনিস। তবে মানসিক অসততা মেনে নেওয়া মুশকিল।’ এটা তার ব্যক্তিগত বক্তব্য।
প্রশ্নটা হচ্ছে—স্বামীর পক্ষে যদি সম্ভব না হয় তার স্ত্রীর সব চাহিদা মেটানো, তবে একজন স্ত্রী কি পারে তার স্বামীর সব চাহিদা মেটাতে? একজন মানুষ কি পারে কারও সব চাহিদা মেটাতে? উত্তর একটাই। সম্ভব নয়। হিউম্যানলি নট পসিবল। তবে? তবে কি তার সহজ সমাধান বিবাহিত নারীর বয়ফ্রেন্ড? কখনোই হতে পারে না।
বিশ্ব ও পাশ্চাত্যে ইটস ‘নো’-‘নো’
পাকিস্তান/আফগানিস্তানে নারীদের পরকীয়ার অজুহাতে নিজ পরিবারের সদস্যরাই হত্যা করে বাহবা নিতো ওনার কিলিংয়ের নামে। খুশবন্ত সিং বলেন, ‘আমি এমন কোনও বিবাহিত দম্পত্তি চিনি না, যারা কিনা এক্সট্রা ম্যারিটাল বা বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে উৎসাহিত নয়।’ সেটা খুশবন্ত সিং-এর পক্ষেই সম্ভব লেখা।
ডি এইচ লরেন্সের বিখ্যাত উপন্যাস ‘লেডি চ্যাটারলিজ লাভার’-এর কথা সবাই জানে। ১৯২৮ সালে লেখা হলেও একজন বিবাহিত নারীর যৌনাকাঙ্ক্ষা ও মানসিকতার গল্প ১৯৬০ সাল পর্যন্ত হয়নি খোদ লন্ডনেই। এমনই রক্ষণশীল ছিল সেই যুগের পশ্চিমা। তোলপাড় তুলে ফেলেছিল বিশ্বে এই বই।
লিও টলস্টয়ের আরেক বিশ্ব নন্দিত চরিত্র আন্‌না ক্যারানিনার ফেইট তো সবারই জানা। বিবাহিত হয়েও প্রেমে পড়ার অপরাধে শেষ পর্যন্ত নিজের জীবনের ইতি টানতে হয়েছিল। সেটা শত বছর আগের গল্প বা ষাট সালের ‘গ্র্যাজুয়েট’। আমরা পাশ্চাত্যের সমাজকে যতই ক্রিটিসাইজ করি না কেন, আজও ওই সমাজে বিবাহিত নারীর বয়ফ্রেন্ডকে মেনে নেওয়া হয় না। ওদের লজিক খুব সহজ। খুব সহজ কথা। স্বামীকে তালাক দিয়ে নিজের মতো চলো। কিন্তু স্বামী ও বয়ফ্রেন্ডের সহাবস্থান নয়। একে বলা হয় ‘চিটিং স্পাউস’।
আমার দুই কন্যারই জন্ম আমেরিকায় এবং সেখানে থাকছে টিনেজার বয়স থেকে। দুজনেরই বয়ফ্রেন্ড আছে। ছেলে দুজনের পরিবারও ওদের নিজের মেয়ের মতোই আদর করে। আমার ২ মেয়েই বলে—‘‘আম্মু জানো আমাদের এখানে সবচেয়ে ঘৃণিত ব্যাপার ‘টু টাইমিং’। অর্থাৎ বিবাহিত হও বা না হও রিলেশনশিপে থাকলেই কমিটেড হতে হবে। অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্ক একেবারেই ফরবিডেন। যারা করে তাদের কাউকেই ওয়েলকাম করা হয় না। হলিউড মুভি ও আমাদের (আমেরিকা) বাস্তব জীবন ও ভ্যালুস অনেক তফাৎ।”
কিন্তু পাশ্চাত্যের নারীরা নিজেদের ক্ষমতায়নে অনেক এগিয়ে। মনের মিল না হলেই বলার সাহস রাখে স্বামীকে ‘গুডবাই’ বলার। এবং নিজ জীবন নিয়ে এগিয়ে যায় নিজের মতো।
হলিউড বা বলিউড তারকারা অনেকেই প্রেম করে ঘর ভেঙেছেন। কিন্তু একটি উদাহরণও নেই, যেখানে হলিউড বা বলিউড তারকার স্বামী ও বয়ফ্রেন্ডের সহাবস্থান বা স্বামী থাকতে বয়ফ্রেন্ডের বাচ্চাধারণ। অ্যাঞ্জেলিনা জোলি যখন ব্র্যাড পিটের প্রেমে পড়েন, ব্র্যাড পিট ছিলেন বিবাহিত। পরে ডিভোর্স নেন। কিন্তু আমেরিকান মিডিয়া এই কারণে জোলিকে কখনোই ক্ষমা করেনি। সমস্ত ট্যাবলয়েডই জোলির বিরুদ্ধে ছিল। বিশ্বের এক নম্বর নারী সুপারস্টার ম্যাডোনা যখন মা হতে চেয়েছিল, সিঙ্গেল মাদারহুডে না গিয়ে বিয়ে করেছিল অস্কারজয়ী শ্যন পেনকে। ডিভোর্সের পরেও ওরা আজও বন্ধু।
কিন্তু আমাদের সমাজে ফ্যাশনেবলি শর্টকাট রাস্তাটিই কি খুঁজে নেওয়া হচ্ছে না? এখন সংখ্যায় কম। কিন্তু ভবিষ্যতে? ‘অ্যাডাল্ট্রারির’ সংখ্যা আমাদের সমাজে বাড়ছে বই কমছে না।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সময়ের বাঙালি সভ্য সমাজ
‘নষ্টনীড়’-এর চারুলতার কথাই ধরুন। স্বামীর অবহেলায় কর্মহীন চারুলতা আমলের দিকে ঝুঁকেছিল। অমল চারুলতার বয়ফ্রেন্ডই হয়েই উঠেছিল। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ চারুকে বেশিদূর যেতে দেননি, ফিরিয়ে এনেছেন স্বামীর কাছে। স্বামীর কাছে ফিরে এসেছে  ‘ঘরে বাইরে’র বিমলা। রবীন্দ্রনাথ তার নায়িকাদের বখে যাওয়া থেকে রক্ষা করেছেন। এমনিতেই যেখানে একমুঠো প্রেম আর একচিমটি যৌনতা বলিউডের মূল পুঁজি সেখানেও বয়ফ্রেন্ডের কাছে নায়িকা চলে যায় না। অমিতাভের ‘সিলসিলা’ থেকে শুরু করে হালের মনিষা কৈরালার ‘লাস্ট স্টোরিজ’ সবখানেই স্ত্রীরা বয়ফ্রেন্ডকে ফেলে স্বামীর কাছেই ফিরে আসে। বাস্তবেই ফিরে আসে।
এখনকার বাস্তব?
বাঙালি পুরুষের বেশ্যাখানায় যেতে সমস্যা নেই। কিন্তু নিজ স্ত্রীর পরপুরুষের সঙ্গে কথা বলাটাই চরম অপরাধ ছিল একসময়। ফতোয়াও জারি হয়ে যেতে পারতো। আর এখন ফেসবুকের কল্যাণে বিবাহিত নারীদের বয়ফ্রেন্ড পাওয়া বা তার সঙ্গে চ্যাটিং করা কোনও ব্যাপারই না। আজকের যুগেও যদি শুনতে হয় ছেলে-মেয়েরা একসঙ্গে পার্কে বা কোথাও গেলে তার সাজা নাকি কারাদণ্ড। যে সমাজে প্রকাশ্যে মানুষ পিটিয়ে খুন করা যায়, কিন্তু প্রেমিকের হাত ধরে হাঁটাটাই অপরাধ, সেই সমাজে মোরালিটির কবর খোঁড়া হবে না তো, কোথায় হবে? কিন্তু এসবের কিছুই বলা যাবে না। কারণ এসব কথা বলতে নেই। স্যোশ্যাল সাপরেশন, সেক্চুয়াল ডিপপ্রাইভেশন, মরাল অপরেশন—সমাজের পরতে পরতে।
নানাজনের নানা মত
সেদিন এক সেলিব্রিটি কাপলের বাসায় লাঞ্চ করছিলাম। কথায় কথায় এই টপিক উঠলো। দু’জনেই একই কথা বললো, ‘এ আর নতুন কী?’ এত চলছেই যুগ যুগ ধরে। বাবার বয়সী লোক কিশোরীর কোমর ধরে পরিচয় করিয়ে দেয় নিজের কন্যা বলে। কোটিপতিদের গার্লফ্রেন্ড না থাকাটাই এখন মনে হয় প্রেস্টিজের ব্যাপার। বয়স তো কম হয়নি। দেখেই যাচ্ছি। বিয়ের পর বয়ফ্রেন্ড কোনও ব্যাপারই না।’
বাঙালি সমাজের ভণ্ডামি আজকের নয়। ৮০-এর দশকে ঘুরতো কার্জন হলে, বোটানিক্যাল গার্ডেনে। এখন নানা রিসোর্টে বা বিদেশে। সংসার ম্যানেজ হয়ে যায়। টাকার কারবার নেই। বড়জোর অকেশনালি দুই তরফ থেকেই গিফট। সম্পর্কের সংজ্ঞা শুধু পাল্টেছে।
আমার আরেক বান্ধবী কবি ও পেইন্টার বললো ‘এটা তো নতুন কিছু না। সেই এলিজাবেথিয়ান এরা বা তারও আগে থেকে চলছে। বাংলাদেশেও কমন ব্যাপার। আমিও তো দেখছি। এটা ঘটছেই বিবাহিত সম্পর্কের মাঝে অসুখী ও অসম্পূর্ণতা থেকে। অসততা থাকলেও জীবন তো থেমে থাকে না। স্বামীরাই বা কতটুকু সৎ?’ পঞ্চাশের বিবাহিতা এক ব্যাংকার নারী বললেন, ‘এসব তো হচ্ছেই। এই চেয়ারে বসে কম তো দেখছি না। ব্যাপারটা এমন যে–গিল্টি ফিলিং না থাকলে তোমার ভালো লাগায় চলো। সংসার যদি ঠিক থাকে। তবে তাদের সমস্যা কোথায়? সমাজ শুধু কথাই বলে। সমস্যার সমাধান দেয় না।’
মনের কথা না বলতে পারার যন্ত্রণার এক উদ্ধারকারক বা জানালা হয়ে আসছে ‘বয়ফ্রেন্ড’ নামের চরিত্রটি। চুপিচুপি করো। লুকিয়ে করো। তাহলে স্বামী সংসার সবই ঠিক আছে। কাজেই তাই হচ্ছে। মোরালিটি বা ভ্যালুস তখন মাথায় কাজ করে না। অন্য সুখটাই আসল হয়ে দাঁড়ায়।
শুধু কি পুরুষরাই বহুমুখী বা পলিগোমাস?
স্বামীর প্রতি বিশ্বাসী—অবলা বাঙালি প্রতিটি বিবাহিতা নারীকেই থাকতে হবে, এটা আমরা ধরেই নেই। বিবাহিত নারীদের ব্যস্ত রাখা হয় সন্তান, সংসার ও আত্মীয় স্বজনদের ঘিরে। কিন্তু যুগ বদলেছে। অলস দুপুর এখন শরৎচন্দ্র পড়ে কাটে না। হাতের মুঠোয় আছে ইন্টারনেট। পুরো জগৎটাকেই চিনে নেওয়া যায়। ফেসবুকের কল্যাণে খুব ঘরোয়া বিবাহিত নারীর বয়ফ্রেন্ড খুঁজে পাওয়াটা কি তখন খুব অস্বাভাবিক কিছু? সামান্য ফ্লার্টিং থেকে বিছানা পর্যন্ত যাওয়া কি অসম্ভব কিছু? স্বামীর প্রতি বিশ্বাস এবং শরীরের চাওয়ার মধ্যে বাস্তবতার দোটানায় ‘বয়ফ্রেন্ডের’ উপস্থিতি কি আজব কিছু? চিটিং শব্দটা কি ‘বয়ফ্রেন্ডের’ শব্দটার অন্য নাম নয়? এসব বলা বা লেখা অনেক সহজ। কিন্তু নিজের জীবনে যখন ঘটে, তখন ফিরে যাওয়ার পথ কি খোলা থাকে? সবকিছু কি আগের মতোই হয়?
বিতর্কিত
আমার টপিকটাই বিতর্কিত। পরকীয়া প্রেম ভিন্ন। এখানে প্রেমিক, মিসট্রেস, এক্সট্রা ম্যারিটাল লাইফ, কিপার, পরকীয়া বা অন্য কিছুর কথা বলা হচ্ছে না। জাস্ট বয়ফ্রেন্ড। এটা শুধুই বিবাহিত নারীর জীবনের ‘বয়ফ্রেন্ড-কথন’। স্বামীরা হুঙ্কার ছেড়ে বলতেই পারে–আমার স্ত্রী এমন কখনোই নয়। হাউ ডেয়ার। অন্যদিকে স্ত্রীরা বলতেই পারে–ছি! এমনটা কে করে! হাউ ডেয়ার। মানে হচ্ছে হাউ ডেয়ার টু সে অর রাইট। কন্যার বয়ফ্রেন্ডের সংজ্ঞা যেমন ভিন্ন,  তেমনি মায়ের বয়ফ্রেন্ডের সংজ্ঞাও ভিন্ন। এ যেন চার্মিং সিক্রেট। সিক্রেট কখনও সামনে আসতে পারে না। সামনে আসতে দেওয়া যায় না। তাতে অনেক কিছুই ধসে পড়তে পারে। বিবাহিত নারীর জীবনেও অনেক সিক্রেট থাকতে পারে। আমিও বিবাহিত ছিলাম। ভালোবাসাহীন দাম্পত্য জীবন টেনে নেওয়া অসহ্যকর ব্যাপার। নেওয়াটা উচিতও নয়। বাচ্চাদের একাই মানুষ করেছি। যেখানে আইন কোনোটাই বাধার বিষয় না। তাহলে ধোঁকাবাজি করবো কেন? কিন্তু কয়জন বাঙালি বিবাহিত নারী শুধু ‘ভালোবাসা’হীনতার কারণে ডিভোর্স দিতে যোগ্যতা রাখে? সাহস কোথায়? বরং তার চেয়ে অভিনয় বা ভনিতায় নিজের স্ট্যাটাস সিম্বল, সিকিউরিটি, গ্যারান্টি এসব নিয়ে চলাটাই তাদের কাছে যুক্তিযুক্ত? সমাজ জেনেও চুপ থাকে। অর্থাৎ আমরা। সবাই এই দলে কখনোই বলছি না। কিন্তু এমন পরিস্থিতি তো আছে। চারিদিকেই। যে কোনও শ্রেণিতেই। কিন্তু এটাই কি সমাধান?
শেষ কথা
সেদিন ঢাকা ইউনির্ভাসিটি পড়ুয়া এক মেয়ের সঙ্গে কথা বলছিলাম। সবে এনগেজমেন্ট হয়েছে। টপিক এটাই। আমার প্রশ্ন শুনে অবাক হয়ে বললো–‘আমি যাকে ভালোবেসে বিয়ে করছি, তার সবকিছুই আমার পছন্দের হতে হবে কেন? ঝগড়া তো আমাদের এখনও হয়। ভালো লাগছে না বলে বয়ফ্রেন্ড কেন খুঁজবো? বরং ছেড়ে দেওয়াটাই কি যুক্তিযুক্ত নয়? মাস্টার্স কমপ্লিট করছি। রাস্তায় গিয়ে তো পড়বো না।’
জি, আপনার হাতের মুঠোয় পুরো বিশ্ব। কিন্তু তাই বলে আপনার ‘মনের কথা না বলতে পারার যন্ত্রণার এক উদ্ধারকারক বা মনের জানালা’ কি একজন বয়ফ্রেন্ড হতে পারে? এখানে ধোঁকা দিচ্ছেন আপনি নিজেকে। নিজের সঙ্গে। স্বামী-সংসার-সন্তান সব ঠিক রেখে লুকিয়ে যে কাজটি করছেন, সেটা কি এক কথায় ধোঁকাবাজি নয়? নিজেকেই কি ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে না?
আমি জানি, আমাদের দেশের ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে অর্ধেক নারী। তাও বিবাহিত নারীর সংখ্যাই বেশি। আমার বিষয়ের শিকার হয়তো কিছু গোষ্ঠী মাত্র। হয়তো সংখ্যায় নগণ্য। কিন্তু হচ্ছে তো? অজ্ঞাতে, চুপিসারে বা চোখের সামনেই। বাড়ছে অসততা। আমার জানামতেই যদি এ তো ঘটনা (বাকিগুলো উহ্যই থাক) চলতে পারে। তবে আরও আরও অনেক আছে।
সমাজ এখন মুখ ঘুরিয়ে রাখলেও ভবিষ্যতে যে এটা বাড়বে না? সামাজিক কাঠামো মুখ থুবড়িয়ে পড়বে না–তার গ্যারান্টি কোথায়? সমস্যা হচ্ছে আমাদের এখানে সামাজিক কাউন্সেলিং নেই। আর কিছু যা আছে, তাতে ভদ্র সমাজ যায় না।
বিবাহিত নারীরা শুরু করতেই পারেন নিজের ভালোলাগার বিষয়গুলোর চর্চা। পরিবারের কাছ থেকে ছুটি নিয়ে দেশে বা বিদেশেই ঘুরে আসতে পারেন।
নিজের জীবনযাত্রা পাল্টানোর সময় এসেছে। নিজে কিছু করুন। স্বামী ব্যস্ত বা ক্লাবে জুয়া খেলতে মগ্ন বা পর নারী নিয়েও হয়তো বা আপনাদের মান-অভিমান চলছে। তারমানে এই নয় যে, আপনিও ওই পথে পা বাড়াবেন। আপনার বান্ধবীর বয়ফ্রেন্ড আছে বলেই, আপনার প্রয়োজন নেই। আপনার প্রয়োজন মানসিক শান্তি। সেটা অনেক উপায়েই সম্ভব। স্বামীর বয়স হয়েছে। তার সমাধান বয়ফ্রেন্ড নয়। সেক্চুয়ালি লিবারেটেড নারী হিসেবে বাঁচুন। পরনির্ভরতা নয়। এই নিয়ে লজ্জারও কিছু নেই। আমি ভীষণভাবে নারীবাদী নারী। কিন্তু নৈতিক অবক্ষয় মেনে নেওয়াটা কি ঠিক?
বেশ কয় বছরের বিবাহিত জীবন মানেই সব শেষ নয়। বলিউড তারকার স্ত্রী টুইঙ্কেল খান্না। রাজেশ খান্না ও ডিম্পল কাপাডিয়ার মেয়ে। বিয়ের পর অক্ষয়ের একটাই কথা ছিল– অভিনয় নয়। টুইঙ্কেল তখন নামও করতে পারছিল না। আজ টুইঙ্কেল খান্না একজন লেখক এবং কলামিস্ট। একইসঙ্গে নামকরা ইন্টেরিয়র ডিজাইনার। তিনি খুঁজে নিয়েছেন নিজের পছন্দ। কাজে লাগিয়েছে নিজের ট্যালেন্টকে।
নতুন করে বাঁচুন। জীবন অনেক সুন্দর। খুঁজে বের করুন পুরনো বন্ধুদের। নতুনই বা নয় কেন? সবাই মিলে নতুন কিছু করুন। ব্যস্ত থাকুন।
বিবাহিত নারীর বয়ফ্রেন্ড মানে ফ্রম ফায়ার টু ফ্রাইং প্যান। ভাবছেন ওটাতেই শান্তি? জ্বলন ছাড়া উপায় নেই!
চয়েজ আপনার।

লেখক: সাংবাদিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব



/এসএএস/এমএনএইচ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

লাইভ

টপ