‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’কে স্বাগতম, কিন্তু!

Send
রাহমান নাসির উদ্দিন
প্রকাশিত : ১৭:৪৬, জানুয়ারি ২২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৪৭, জানুয়ারি ২২, ২০১৯

রাহমান নাসির উদ্দিনপ্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিচ্ছেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখাবে এ সরকার’। এটা হবে বর্তমান সরকারের একটা অন্যতম প্রধান কাজ। প্রধানমন্ত্রীর এ আশ্বাস এক ধরনের স্বীকৃতিও বটে যে, বাংলাদেশের বিদ্যমান নানাবিধ সমস্যার মধ্যে একটি অন্যতম প্রধান সমস্যা হচ্ছে দুর্নীতি। এবং আমরা এ ধরনের আশ্বাসে বিশ্বাস রাখতে চাই। কিন্তু যে সমাজে দুর্নীতি একটা সর্বগ্রাসী রূপ ধারণ করেছে, সেখানে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’– শ্রুতিমধুর বটে, কিন্তু দেখার বিষয় বাস্তবে কতটা ঘটে। কেননা, ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথক দিককার নাম করা একজন ইংরেজি কবি চার্লস ক্যালেব কাল্টন বলেছিলেন, ‘Corruption is like a ball of snow, once it's set a rolling it must increase’ অর্থাৎ  ‘দুর্নীতি হচ্ছে একটা স্নোবলের মতো, যখন এটা যখন চলার প্রক্রিয়া নির্ধারণ করে, এটার যাত্রা অবশ্যই বাড়তেই থাকে’। আমাদের সমাজে দুর্নীতি রীতিমত একটা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিতে শুরু করেছে বা নিয়েছে; তাই, প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর মন্ত্রীর কতিপয় মন্ত্রী মিলে কতটা এ স্নোবল ভাঙতে পারবেন এখন সেটাই দেখার বিষয়!

আমি কয়েকটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে সমাজে বিদ্যমান দুর্নীতির খানিকটা নজির হাজির করতে চাই। এখানে মনে রাখা জরুরি, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কিছু সামাজিক মূল্য আছে। কেননা, ব্যক্তি সমাজবিচ্ছিন্ন কোনও সত্তা নন, বরং যাকে আমরা সমাজ বলে জানি, অনেক ব্যক্তি মিলেই তা নির্মাণ করে, একটা ব্যবস্থা হিসাবে গড়ে তোলে, এবং সে ব্যবস্থার সুবিধা ভোগ করে কিংবা ভোগান্তি হজম করে। ফলে, ব্যক্তি আর ব্যক্তি মিলে যেমন সমষ্টি হয়ে ওঠে, তেমনি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা সামাজিক ব্যবস্থাকে প্রতিভাত করে। এরকম কয়েকটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে সমাজের কিছু চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করবো, যেখানে দুর্নীতির মাত্রা, পরিধি, এবং ব্যাপকতা খানিকটা আন্দাজ করা যাবে।

এক. অনলাইনে ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার ঠিক আগে এবং পরে আমি নিয়মিত ঢাকা-চট্টগ্রাম আসা-যাওয়ার জন্য নিয়মিতভাবে সুবর্ণ এক্সপ্রেসের টিকিট কীভাবে পাওয়া যায় তার খোঁজ-খবর শুরু করি। যেহেতু স্টেশনে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কেনাটা খানিকটা সময়সাপেক্ষ এবং কষ্টকর। তাছাড়া, নিজের পেশাগত পরিচয়কে ব্যবহার করে আমি কোনও ব্যক্তিগত সুবিধা নিতে অভ্যস্ত নই বিধায় বিষয়টা একটা ঝামেলায় ফেলে দেয়। আমার একজন শুভাকাক্ষী (সু) পরামর্শ দিলেন, ‘আপনার টিকিট কেনার জন্য স্টেশনে যেতে আসতে যা খরচ হবে, তা যদি আপনি একজনকে দেন [বাড়তি টাকা হিসাবে ব্ল্যাকে কেনার জন্য], তাহলে আমি একটা ব্যবস্থা করে দিতে পারবো।’ এটা বলে তিনি একটা ফোন নম্বর দিলেন। আমি ব্ল্যাকে টিকিট কেনার যে অপরাধ সেই বোধটাকে নির্বোধের মতো একটা ‘বুঝ’ দিলাম এই ভেবে যে, ‘যাতায়ত খরচটা কাউকে দিয়ে যদি টিকেট পাওয়া যায়, তাতে মন্দ কী! সময়ও বাঁচল, শ্রমও বাঁচল, আবার ঝামেলা ছাড়া কাজও হলো’। ওই নম্বরে ফোন দিলাম, এবং জানতে চাইলাম, ‘টাকা কীভাবে দেবো, আর টিকিট পাবো’। তিনি বললেন, ‘টিকিটের দাম ৬৭৫ টাকা। আমাকে দিতে হবে ১০০০ টাকা। আর আমি ম্যাসেজে বগি নম্বর আর সিট নাম্বার দেবো। ওটাই আপনার সিট। আর টাকার চিন্তা করবেন না। কারণ, টাকা আমি সময়মতো নিয়ে নেবো।’ আমি বললাম, ‘ম্যাসেজ অনুসারে বগি এবং সিট খুঁজে বসলাম কিন্তু সময়মতো যদি আপনি না-আসেন, এবং ট্রেন ছেড়ে দেয়, তখন কী হবে?’। তিনি বললেন, ‘স্যার, ট্রেন তো আমাকে ছাড়া যাবে না। কারণ, আমি ট্রেনেই থাকি। আমি ট্রেনেরই কর্মচারী’। তখন বললাম, ‘বলেন কী?’। জানালেন, তিনি প্রতিদিন ঢাকা যেতে এবং আসতে ২০টা করে ৪০টা টিকিট ব্ল্যাকে বিক্রি করেন। আমি বললাম, ‘প্রতি টিকিটে যদি আপনি ৩০০ টাকা পান, তাহলে ৪০টা টিকিটে ডেইলি ১২০০০ টাকা আর মাসে ৩ লাখ ৬০ টাকা পান’। তিনি বললেন, ‘স্যার আল্লাহর রহমতে আপনাদের দোয়ায়, ব্যবসা খারাপ না। তবে স্যার, আমি একা পাই না, আমার উপরেও কিছু দিতে হয়’। তার ‘লাভের কথা’ শুনে উল্টো আমার ‘ক্ষতি’ হলো। কারণ, আমি আর এ দুর্নীতির অংশ হতে পারি নাই!

দুই. ঢাকা শহরে অনেক মোবাইল কোর্ট বসে, যার অন্যতম কাজ হচ্ছে সিএনজি স্কুটারগুলো মিটারে চলে কিনা সেটা দেখা। এটা মোটামুটি সবাই জানে যে ঢাকা শহরে কোনও সিএনজি স্কুটারই মিটারে চলে না। আমাকে একটি গবেষণার কাজে প্রায় সময়ই পল্টন থেকে লালমাটিয়া যেতে হয় এবং একটা মোবাইল কোর্টের (জায়গাটার নাম উল্লেখ করলাম না!) সামনে দিয়ে যেতে হয়। সিএনজি স্কুটার চালকরা প্রায় সময় দেখতাম, ওই মোবাইল কোর্টকে কীভাবে ফাঁকি দেওয়া যায় তার নানান বুদ্ধি বের করে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একেক সময় ড্রাইভারই বলেন, ‘ভাই আপনি বলবেন স্কুটারে মিটারে যাচ্ছেন’। আমি প্রায় সময় উত্তর দিই, ‘একে তো আপনি ভাড়া বেশি নিচ্ছেন, তার ওপর আবার মিথ্যা কথা বলবো?’ এভাবেই চলে। কিন্তু একদিন একটা সিএনজি স্কুটার পেলাম, যার কোনও মিটারই নাই। সে যখন ওই মোবাইল কোর্টের কাছাকাছি এলো, আমি বললাম, ‘আপনি এখন কী করবেন? মোবাইল কোর্ট তো ধরবে।’ তিনি বললেন, ‘দেখেন আমি কোর্টের সামনে দিয়েই যাবো কিন্তু আমাকে কিছু জিজ্ঞেসই করবে না।’ আমি দেখেছি, সবাই মোবাইল কোর্টকে ফাঁকি দেওয়ার জন্য দ্রুত চালিয়ে বেরিয়ে যায়। আর ওনাকে দেখলাম একেবারে কোর্টের ভেতর দিয়ে সামনের লাইনে গিয়ে হাজির এবং কোর্টের একজন হাত দিয়ে ইশারা দিয়ে বললো, ‘যাও’। আমি বললাম, ‘কিসের জাদু’। ড্রাইভারের উত্তর, ‘ভাইজান, আমার গাড়িতে যে মিটার নাই, সেটা আমিও জানি, সেও জানে। কারণ, ঢাকা শহরে এরকম অনেক সিএনজি আছে, যা অবৈধভাবে চলে এবং এগুলো সব এদের টাকা দিয়ে চলে।’ নতুন করে বুঝলাম ‘সিস্টেম কাকে বলে?’

তিন. সম্প্রতি আমার এক সহকর্মী পুরনো পাসপোর্ট নবায়ন করিয়েছেন। তাকে তার আরেক সহকর্মী পরামর্শ দিয়েছিলেন, ‘অতো ঝামেলায় না-গিয়ে একজন দালালকে দেন, কাজটা সহজে হয়ে যাবে’। কিন্তু আমার সহকর্মী একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কোনও ঘুষ-টুষ না-দিয়ে নিজেই নিজের কাজ করার সিদ্ধান্ত নিলেন। তিনি ৮ দিন পাসপোর্ট অফিসের নিচতলা, দোতলা এবং তিনতলায় ঘোরাঘুরি করে শেষমেশ পাসপোর্ট না-করিয়ে বাসায় বসে ‘জাতির চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার’ করছেন। আপনার এটা নাই, আপনার সেটা নাই, আপনার এটা ভুল, আপনার ওটা ভুল, আপনার এ কাগজ লাগবে, ওই কাগজ লাগবে, এভাবে চরম ভোগান্তি দিয়ে এটা বুঝিয়ে দিয়েছে, টাকা ছাড়া কাজ হবে না। শেষমেশ বাধ্য হয়ে একজন দালালের কাছে দিতে হয়েছে। দালাল পাসপোর্টের পুরনো কপি বাসায় এসে নিয়ে গেছেন, এবং নতুন একটা পাসপোর্ট বাসায় এসে দিয়ে গেছেন সেই ‘এটা নাই, ওটা নাই’ ফর্ম দিয়েই। বাড়তি গুনতে হয়েছে ৪০০০ টাকা। বুঝলাম,‘বেগুন ছাড়া আগুন জ্বলে না!’

চার. ঢাকার এ্যালিফেন্ট রোডের একটি বিখ্যাত হাসপাতালের একজন বিখ্যাত ডাক্তারের রোগী হয়ে গিয়েছিলাম মাস কয়েক আগে আমার কিছু ক্রমবর্ধমান স্কিনের সমস্যা নিয়ে কথা বলতে। ফোনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিলাম এবং সিরিয়াল নম্বর ১৭। ডাক্তার আসেন সন্ধ্যা ৭টায়। আমি ১৭ নম্বর সিরিয়াল বলে ৮টার দিকে যাবো ঠিক করলাম। চ্যাম্বারে গিয়ে দেখি ছোটখাটো জনসমাবেশ। আর সিরিয়াল বলে কোনও কিছু নেই। ১৬০০ টাকা ফি জমা দেওয়ার পর সিরিয়াল শুরু হয়। নতুন সিরিয়াল ২৩। ফি’র কোনও রিসিট নেই। দিনে ৫০ জন রোগী দেখেন। ডাক্তার এলেন রাত ৯টায়। আমি অ্যাটেন্ডেন্টকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘ডাক্তার যদি ৯টায় আসেন আপনি রোগীদের ৭টায় আসতে বলেন কেন?’ তিনি বেজায় বিরক্ত হলেন। অন্য রোগীদের সঙ্গে তার ব্যবহার দেখে মনে হবে, সে ডাক্তারের চেয়ে তিন ডিগ্রি ওপরে! বুঝলাম, রোগীরা এক-দুই ঘণ্টা আগে থেকে এসে ভিড় করলে ডাক্তারের ‘গুডউইল’ বাড়ে। আমার সিরিয়াল এলো, রাত ১০টায়। কারণ, আমার আগে আরও ২২ জন রোগী ছিলেন। তিনি সর্বসাকুল্যে আমার সাথে পৌনে ৩ মিনিট কথা বললেন। স্কিনের সমস্যা নিয়ে কথা বলতে গেছি, তিনি আমার চুল লম্বা কেন তা নিয়ে কিছু সবক দিলেন! কথা বলার আগেই প্রেসক্রিপশন রেডি করলেন। চারটা টেস্ট দিলেন। লেজার সার্জারি করার পরামর্শ দিলেন। প্রস্তুতি থাকলে, মানে হাতে ১২০০০ টাকা ক্যাশ থাকলে আজকেই শুরু করতে বললেন। অর্থাৎ আমার ৪টা টেস্ট (ওনার চেম্বারের দোতলায় ওনারই ল্যাবেই করতে হবে) করানো এবং লেজারের খরচ মিলিয়ে ২৬০০০ টাকা, আজকেই মামলা ‘ডিসমিস’ করে দেবেন। আমি কিছুক্ষণ বসলাম বাকি সার্কাস দেখার জন্য। অন্য রোগীরা ঢুকছেন আর বেরুচ্ছেন। খারাপ দিনে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ব্যাটসম্যানদের মতো! যেন জীবন হচ্ছে আসা-যাওয়ার প্রতিযোগিতা। ডাক্তারের রুম থেকে বের হয়েই সবাই দেখি টেস্টের জন্য দৌড়াচ্ছেন। ডাক্তার সাহেব সুপারসনিক গতিতে রোগী দেখা শেষ করেছেন এবং যারা ক্যাশ টাকা নিয়ে এসেছেন তাদের লেজার ট্রিটমেন্ট করাতে বসলেন। ডাক্তার সাহেব রোগীদের যেভাবে এবং যে অবিশ্বাস্য গতিতে সেবা করে যাচ্ছেন, তাতে ‘চিকিৎসা যে একটি সেবাখাত’–সেটা নতুন করে বুঝলাম।       

পাঁচ. আমার এক পরিচিতজন সম্প্রতি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে মাস্টার্স-ডিগ্রি পাস করেছে। আমি তাকে পড়াশুনায় বেশ উৎসাহ দিয়ে এসএসসি থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত পরীক্ষা দেওয়ায় নানাভাবে প্রেরণা জুগিয়েছি। তাই সে মাস্টার্সের রেজাল্ট পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাকে ফোনে জানালো সেকেন্ড ক্লাস নিয়ে পাস করেছে। কিন্তু সে অবাক হয়েছে এটা চিন্তা করে যে, সে কোনও রকমে পাস করতে পারলেই চলতো, সর্বোচ্চ থার্ড ক্লাস পেলে তার জন্য স্টার পাওয়ার সমান। সে যে পরীক্ষা দিয়েছে তাতে সেকেন্ড ক্লাস কেমনে পাইলো। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম সমস্যা কোথায়? সে বললো, আমি তো ‘আওরঙ্গজেব ভালো ক্রিকেটার ছিলেন। শচীন টেন্ডুলকার তার প্রিয় খেলোয়াড় ছিলেন–এসব লিখে খাতা ভরে দিছি। এরকম আরও কত কিছু যে লিখছি তার কোনও হিসাব নেই, সেকেন্ড ক্লাস কেমনে পাইলাম?’ আমি বললাম, ‘হয়তো খাতার পরীক্ষক ক্রিকেটের ভক্ত কিংবা শচীনের ভক্ত! তোমাকে খুশি হয়ে নম্বর দিয়েছেন! মন খারাপের কিছু নেই।’ বুঝলাম, দুর্নীতি শুধু টাকায় হয় না।   

আমি নিশ্চিত যে, এরকম অসংখ্য অভিজ্ঞতা আমাদের অনেকের আছে। সমাজের উঁচুতলা থেকে নিচতলা পর্যন্ত সর্বস্তরে দুর্নীতি এমন এক রূপ ধারণ করেছে, যাকে বলা যায় দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ (Institutionalization of corruption)। যদিও সবাই দুর্নীতিবাজ নন এবং এখনও সমাজের সর্বস্তরে প্রচুর সৎ, নীতিবান এবং দায়িত্বশীল মানুষ আছেন এটা অনস্বীকার্য; তথাপি টিকিট কালোবাজারি, ট্রাফিক পুলিশের দুর্নীতি, চিকিৎসা ক্ষেত্রে নৈরাজ্য কিংবা শিক্ষাক্ষেত্রের দুর্নীতির এসব খণ্ডচিত্র বাংলাদেশের সর্বগ্রাসী দুর্নীতির একটি অখণ্ডচিত্রকে প্রতিফলিত করে। তাই, প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’কে আমরা স্বাগত জানাই, কিন্তু বাস্তবে সেটা কতটা সম্ভব সেটাই দেখার বিষয়। কেননা, বাংলাদেশে দুর্নীতি এমন একটা লেভেলে গেছে, যা নিয়ন্ত্রণ করা সত্যিকার অর্থেই একটি অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, ক্রমবিস্তারমান অর্থনৈতিক বৈষম্য, সমাজের সবার সমমর্যাদার ক্ষেত্রে চরমভাবে অসম সমাজব্যবস্থা, মানুষের ক্রমবর্ধমান লুটেরা মনোবৃত্তি এবং পুঁজিবাদি সমাজের ভোগবাদী দর্শন আমাদের লোভের মাত্রাকে এমন এক জায়গায় নিয়ে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে যে, উচিত-অনুচিতের ধারণা, ভালো-মন্দের ফারাক এবং নীতি-নৈতিকতার বোধ আমাদের মধ্যে আর খুব একটা সক্রিয় নেই। তাই, ভারতের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি আব্দুল কালাম বলেছিলেন, ‘Where do the evils like corruption arise from? It comes from the never-ending greed. The fight for corruption-free ethical society will have to be fought against this greed and replace it with 'what can I give' spirit’ অর্থাৎ ‘দুর্নীতির মতো রাক্ষস কোথা থেকে আসে? এটা আসে অসীম লোভ থেকে। সুতরাং একটি দুর্নীতিমুক্ত নৈতিক-সমাজ নির্মাণের যুদ্ধ হচ্ছে এই সর্বগ্রাসী লোভের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। তাই, আমি কী পেলাম সেটা না ভেবে আমি কী দিলাম, সেটাকেই লোভের জায়গায় স্থান দিতে হবে।’ সুতরাং এ দেওয়া আর নেওয়ার পেন্ডুলামে কে জেতে আর কে হারে তার ওপরই নির্ভর করছে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’ কী বাস্তবতা নাকি কথার কথা!

লেখক: নৃবিজ্ঞানী ও অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

লাইভ

টপ