টেলিভিশন খাত: পে-টিভি ও ডিজিটাইজেশনেই মুক্তি

Send
সাইফুল হাসান
প্রকাশিত : ১৬:০৩, এপ্রিল ১৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৫৩, এপ্রিল ১৩, ২০১৯

সাইফুল হাসানদেশের টেলিভিশন খাত দীর্ঘমেয়াদি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বহু টেলিভিশন গোপনে-প্রকাশ্যে কর্মী ছাঁটাই করছে। অনেকে ঠিকমতো বেতনভাতা দিতে পারছে না। সুযোগ-সুবিধা দূরের আলোচনা। বাজেট সংকট। দক্ষ মানবসম্পদের অভাব। ভালো অনুষ্ঠান নেই। বিজ্ঞাপন নেই। ভারতীয় টেলিভিশনের আগ্রাসন। বিজ্ঞাপন পাচার হয়ে যাচ্ছে। সংকটের এমন তালিকা দীর্ঘ, যা থেকে মুক্তির উপায় হিসেবে ‘পে-টিভি’র-আলোচনা এ মুহূর্তে ভীষণ জনপ্রিয় বাংলাদেশে। ইস্যুটি মালিকদের হলেও, সবচেয়ে সরব টেলিভিশন সাংবাদিক ও কর্মকর্তারা।
দেশের সব চ্যানেল ফ্রি টু এয়ার বা এফটিএ ক্যাটাগরিভুক্ত, যা দেখার জন্য গ্রাহককে আলাদা কোনও অর্থ দিতে হয় না। অন্যদিকে যেসব চ্যানেল দেখতে গ্রাহককে আলাদা অর্থ দিতে হয় সেটাই পে-টিভি। এফটিএ চ্যানেলগুলো বিজ্ঞাপননির্ভর। অন্যদিকে পে-টিভি গ্রাহক চাঁদা (সাবস্ক্রিপশন ফি) এবং বিজ্ঞাপন উভয়খাত নির্ভর। জি নেটওয়ার্ক, সনি, স্টার, এইচবিও, টেন নেটওয়ার্ক ইত্যাদি পে চ্যানেলভুক্ত। প্রতিমাসে ডিশ বা ক্যাবল সংযোগের জন্য আমরা যে টাকা দেই তার মধ্যেই পে চ্যানেলের টাকা অন্তর্ভুক্ত থাকে।

বললেই তো ‘পে টিভি’ হয়ে যাবে না। এজন্য টেলিভিশন খাত, বাজার প্রস্তুত কি না? দর্শক তৈরি কি না? স্থানীয় চ্যানেলগুলোর যথেষ্ট মানসম্মত অনুষ্ঠান আছে কি না? ডিস্ট্রিবিউটর/অপারেটরদের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে?-এমন অনেক বিষয় বিবেচনায় আছে। তবে বাস্তবতা হচ্ছে এ খাতের সংকট কাটাতে পে-টিভি হচ্ছে একমাত্র বিকল্প, যা মূলত সরকার ও ব্রডকাস্টারদের (চ্যানেল) নীতিগত সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং প্রধানত প্রযুক্তিগত বিষয়।

সংকট উত্তরণের উপায় ডিজিটাইজেশন

পে-টিভি করতে হলে সবার আগে টেলিভিশনের এনালগ সিগন্যালকে বদলাতে হবে। ডিজিটাল সিগন্যাল ছাড়া পে-টিভি করা যাবে না। ডিজিটাইজেশন হলে, দেশের কত বাসাবাড়িতে কত টিভি সেটে ক্যাবল সংযোগ আছে তা সহজেই শনাক্ত করা যাবে। ক্যাবল অপারেটররা গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী চ্যানেল সরবরাহ ও সেবা দিতে বাধ্য থাকবে। অর্থাৎ পুরো খাতের চলমান নৈরাজ্য দূর হবে। স্বচ্ছতা ফিরবে। খুশির বিষয় হচ্ছে এতে সরকার, অপারেটর, ডিস্ট্রিবিউটর ও চ্যানেলগুলোর আয় এক লাফে কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।

ডিজিটাইজেশনের উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে। যদিও পুরো বিষয়টি দীর্ঘ এবং জটিল। এখানে বহুপক্ষের দ্বন্দ্ব নিরসন, আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ, টেলিভিশন খাতের সংস্কার, নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা পুনর্গঠনের মতো কাজ করতে হবে। অবশ্য নির্বাহী আদেশের মাধ্যমেও টেলিভিশন খাতের ডিজিটাইজেশন শুরু হতে পারে।  

বাংলাদেশের আকাশ উন্মুক্ত হয়েছে প্রায় ৩০ বছর। কিন্তু মোট কত বাসাবাড়িতে স্যাটেলাইট টেলিভিশন সংযোগ আছে, এ বিষয়ে কারও কাছে কোনও তথ্য নেই। অপারেটরদের দাবি, দেশে সর্বোচ্চ ৩৫ থেকে ৪০ লাখ ক্যাবল সংযোগ আছে। তবে এ তথ্য যে সঠিক নয় তা সহজেই অনুমেয়।

যত কম গ্রাহক দেখানো যাবে, ক্যাবল অপারেটরদের তত লাভ। কারণ নগদ লাভের পুরোটাই পকেটস্থ হয়। ডিজিটাইজেশন হলে সংযোগ কমিয়ে দেখানোর সুযোগ থাকবে না বললেই চলে। ফলে, গ্রাহক টিভি দেখার জন্য প্রতিমাসে যে টাকা দেয়, তা থেকে সরকার, ব্রডকাস্টার (চ্যানেল), ডিস্ট্রিবিউটর, অপারেটর প্রত্যেকেই যার যার হিস্যা পেয়ে যাবে। বলে রাখা ভালো, ডিজিটাইজেশনের কারণে শুরুতে টেলিভিশন দেখার খরচ কিছুটা বাড়বে। কারণ, ডিজিটাল সেটটপ বক্স ছাড়া টেলিভিশন দেখা যাবে না। এবং প্রতি টেলিভিশন সেটের জন্য একটি করে বক্স প্রয়োজন হবে। যার প্রতিটির মূল্য সর্বোচ্চ তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা।

ডিজিটাইজেশন হওয়ার পর, স্থানীয় চ্যানেলগুলোকে কারো টিআরপি রিপোর্টের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে না। টেলিভিশন অডিয়েন্স ম্যানেজমেন্ট (টেম) বা টেলিভিশন তার নিজস্ব সাবস্ক্রাইবার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এসএমএস) রিপোর্ট দেখেই বিজ্ঞাপনদাতাদের সঙ্গে দরকষাকষি করতে পারবে। এতে বিজ্ঞাপনী এজেন্সিগুলোর দৌরাত্ম্য কমবে। আয় বাড়বে এবং চ্যানেলগুলো ভালো অনুষ্ঠান নির্মাণে মনোযোগ দিতে পারবে।

সিগন্যাল ডিজিটাইজেশন: ভারতের অভিজ্ঞতা

দুই দশক আগে ভারতের টেলিভিশন খাতেও একই অবস্থা বিরজামান ছিল। স্থানীয় টেলিভিশন (পে চ্যানেল ও এফটিএ) এবং আন্তর্জাতিক টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলো কেউই কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব পাচ্ছিলো না। বাড়তি টাকা আদায়, চাহিদা অনুযায়ী চ্যানেল না দেওয়া, গ্রাহকসংখ্যা কম দেখানো, রাজস্ব ফাঁকিসহ অসংখ্য অভিযোগ ছিল দেশটির ক্যাবল অপারেটরদের বিরুদ্ধে। এমন অবস্থায় ২০০৩ সালে ভারত সরকার টেলিভিশন খাতে সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। এবং অপারেটরদের তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়ে।

বাংলাদেশের মতো ভারতেও ক্যাবল টিভির বিস্তার ঘটেছে রাজনৈতিক অধিপতিদের ছত্রছায়ায়। ফলে ভারত সরকারের জন্য কাজটি সহজ ছিল না। এমতাবস্থায় সিগন্যাল ডিজিটাইজেশনকে একমাত্র সমাধান হিসেবে গণ্য করে ভারত সরকার বা টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অব ইন্ডিয়া (ট্রাই)। কিন্তু তাদের বিভিন্ন উদ্যোগ বারবার আটকে যাচ্ছিলো। কয়েক বছরের অব্যাহত চেষ্টার পর, ২০১১ সালে সফল হয় সংস্থাটি। অবশ্য ২০০৮ সালের পর থেকেই কিছু কিছু অপারেটর নিজেদের মতো করে ডিজিটাইজেশন শুরু করেছিলো ভারতে, যা এখানেও কিছু কিছু জায়গায় শুরু হয়েছে।

ব্রডকাস্টার, মাল্টিসার্ভিস অপারেটর (এমএসও), ডিস্ট্রিবিউটর, ক্যাবল ও ফিড অপারেটরসহ শিল্প সংশ্লিষ্ট সবপক্ষের সঙ্গে পরামর্শের ভিত্তিতে, ২০১১ সালে ‘ইস্যু রিলেটেড টু ইমপ্লিমেনটেশন অব ডিজিটাল এড্রেসেবল ক্যাবল টিভি সিস্টেমস’ নামে একটি পেপার তৈরি করে, ট্রাই। যার ভিত্তিতে একই বছর ডিসেম্বরে দেশটির সংসদে পাস হয় ‘দ্য ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্ক (রেগুলেশন) এমেন্ডমেন্ট বিল ২০১১।’ এই আইনটির মাধ্যমে ভারতীয় টেলিভিশন খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা হয়।

ট্রাই– এই আইনের আওতায় প্রথমে চেন্নাই, মুম্বাই, দিল্লি এবং কলকাতাসহ কয়েক ধাপে পুরো দেশে ডিজিটাইজেশনের রোডম্যাপ ঘোষণা করে। ওই সময় ক্যাবল ও ফিড অপারেটর, কোনও কোনও ক্ষেত্রে গ্রাহকরাও প্রতিবাদ জানাতে থাকে। তবে ‘ট্রাই’ অনড় থাকায় এবং এনালগ সিগন্যাল বন্ধের হুমকি দিলে সব প্রতিবাদ থেমে যায়। গতি পায় ডিজিটাইজেশন। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এরপরে ভারতে রাতারাতি ক্যাবল টিভির গ্রাহক এবং আয় বহুগুণ বেড়ে যায়। বাংলাদেশেও যে একই ঘটনা ঘটবে সে নিশ্চয়তা চোখ বুজে দেওয়া যায়।

প্রয়োজন নতুন আইন এবং বাংলাদেশের করণী

টেলিভিশন খাতকে রক্ষায় প্রথমেই ক্যাবল টিভি পরিচালনা আইন ২০০৬ সংশোধন করে সিগন্যাল ডিজিটাইজেশনের ধারাটি যুক্ত করতে হবে। অথবা সংসদে নতুন আইন পাস করতে হবে। আমার মতে, সেটাই সবচেয়ে ভালো উপায়। যার নাম হতে পারে ‘ডিজিটাল ক্যাবল টিভি রেগুলেশন আইন’। একই সঙ্গে ‘ক্যাবল টিভি এন্টি পাইরেসি’ আইনও করতে হবে। যেন চুরি করে কেউ কোনও চ্যানেল দেখাতে না পারে। প্রয়োজনে কপি রাইট আইন সংশোধন করে তার মধ্যে ক্যাবল টিভির এন্টি পাইরেসির ধারা যুক্ত করা যেতে পারে।

নতুন আইনের আওতায়, টেলিভিশনের সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষকে একটি নিয়ন্ত্রণমূলক সংস্থার অধীনে আনতে হবে। এবং সংস্থাটিকে ক্ষমতা দিতে হবে। যাতে, রাজস্ব ফাঁকি, পাইরেসি, মিথ্যে ঘোষণা, গ্রাহক হয়রানির মতো বিষয়ে লাইসেন্স বাতিল, জেল জরিমানা করতে পারে। সংস্থাটি, বাংলাদেশ টেলিরেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) অধীনে করাই ভালো। এক্ষেত্রে টেলিভিশন রেগুলেশন বলে আলাদা একটি শাখা (উইং) হতে পারে।

এই সংস্থাটি ন্যূনতম (বেস প্রাইস) প্যাকেজ মূল্য, পে চ্যানেলের মূল্য, বিভিন্ন প্যাকেজের মূল্য, ক্যারেজ ফিসহ এ খাতের যাবতীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে। সংস্থাটি সবপক্ষের স্বার্থ দেখবে এবং কোথাও কোনও সমস্যা দেখা দিলে তার সমাধান করবে।

ডিজিটাইজেশনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভারতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে। প্রথমে বড় শহর এবং পরে কয়েক ধাপে পুরো দেশের টিভি সিগন্যাল ডিজিটাল করা যেতে পারে। কিন্তু উদ্যোগটা আজই  নেওয়া দরকার, সরকার ও জনগণের স্বার্থেই।

শিল্প ঘোষণাও প্রণোদনা দিতে হবে

ব্রডকাস্টার, ক্যাবল ও ফিড অপারেটর, ডিস্ট্রিবিউটররা মিলে এ খাতে ইতিমধ্যেই হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। কর্মসংস্থান হয়েছে হাজার হাজার মানুষের। ডিজিটাইজেশনের জন্য, অপারেটর ও ডিস্ট্রিবিউটরদের নতুন করে শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। হাজার হাজার কোটি টাকার সেট টপ বক্স আমদানি করতে হবে। ডিরেক্ট টু হোম (ডিটিএইচ) লাইসেন্স পেয়েছে তাদেরও বড় ধরনের বিনিয়োগে যেতে হবে।

ব্যাংক ছাড়া বিশাল এই বিনিয়োগ কারও একার পক্ষে সম্ভব নয়। ব্যাংকের জন্যও টেলিভিশন লোভনীয় বিনিয়োগ খাত হতে পারে। কেননা, এ খাতে টাকা ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা, অন্য যে কোনও ব্যবসার চেয়ে বেশি। ফলে, এ খাতের ব্যবসায়ীরা যেন সহজ শর্তে ঋণ পায় সে ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য টেলিভিশন খাতকে শিল্প ঘোষণা করতে হবে। না হলে ব্যাংক বা অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে আসবে না। আর শিল্প ঘোষণা না হলে এ খাতের দুর্দশাও কাটবে না।

পাশাপাশি, সেটটপ বক্স ও প্রযুক্তি আমদানিতে শুল্ক ছাড়ের ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে অপারেটররা কমমূল্যে গ্রাহকদের সেটটপ বক্স দিতে পারবে। কারণ যত সেটটপ বক্স তত বেশি রাজস্ব। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ভারত বক্স আমদানিতে শুরুর দিকে ২৫০০ কোটি রুপি শুল্ক ছাড় দিয়েছিলো। যার ফল আজ  দেশটি ভোগ করছে। ২০০৭-০৮ সালে টেলিভিশন খাতে ভারতের মোট আয় ছিল ৯ হাজার কোটি রুপি। ট্রাইয়ের বার্ষিক প্রতিবেদনে জানাচ্ছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে, গ্রাহক (সাবস্ক্রিপশন) ও বিজ্ঞাপন মিলিয়ে খাতটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৬৬ হাজার কোটি রুপিতে। এর মধ্যে গ্রাহক আয় ৬০ শতাংশ। 

নতুন আইন, শিল্প ঘোষণা ও সামান্য কিছু প্রণোদনা পেলে, সরকারও এ খাত থেকে বছরে হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব পাবে- নিশ্চয়তা দিয়ে এ কথা বলতে পারি।

পে-টিভি স্থানীয় চ্যানেলগুলোর করণীয়

ডিজিটাল টিভি সিগন্যাল ছাড়া পে-টিভি সম্ভব নয়। তবে অদূর ভবিষ্যতে, পে-টিভি হতে স্থানীয়দের জন্য নতুন আবেদন লাগবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত সরকারের। ডিজিটাইজেশনের পর চ্যানেলগুলোকে  নিজেদের সিস্টেম বা সার্ভারের সঙ্গে শুধু কন্ট্রোল একসেস সিস্টেম (ক্যাস) ও এসএমএস  সফটওয়্যার যুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি, প্রতিটি চ্যানেলকে পে-টিভি কমপ্লায়েন্স কাস্টমাইজ সেটটপ বক্স তৈরি ও আমদানি করতে হবে, অপারেটরদের মধ্যে বিতরণের জন্য। অপারেটররা, নিরাপদ (ক্যাস যুক্ত) এসব বক্সের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট চ্যানেলের সিগন্যাল ধরে, তা নিজস্ব সিস্টেমের মাধ্যমে দর্শকের কাছে পৌঁছে দেবে।

আনন্দের বিষয়, পে-টিভি হওয়ার জন্য স্থানীয় চ্যানেলগুলোকে সেই অর্থে বড় কোনও বিনিয়োগ করতে হবে না। ক্ষুদ্র এই বিনিয়োগ এক মাসেই উঠে আসবে, যদি টেলিভিশন খাত বদলায়। এরপর চুক্তির মাধ্যমে ব্রডকাস্টার, অপারেটর, ডিস্ট্রিবিউটর, এমএসও পরস্পরের সার্ভারে প্রবেশাধিকার পেলে ঘরে বসে সবাই জানতে পারবে দেশে কতটি টেলিভিশন সেটে মানুষ টিভি দেখছে। কেননা সারাদেশের সব সেটটপ বক্সে ক্যাস যুক্ত থাকবে। এছাড়া, অপারেটরদের সিস্টেম জেনারেটেড রিপোর্ট বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার অডিটের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য সহজেই জানা যাবে।

এই দেশ, টেলিভিশন, অপারেটর, দর্শক সব আমাদের। কিন্তু সবাই লোকসান করছে এনালগ সিস্টেমের কারণে। এ অবস্থা চলতে দেওয়া যায় না। দেশ ডিজিটাল হচ্ছে। জনগণ ‘ফোর-জি’ নেটওয়ার্কে বাস করছে। কিছুদিনের মধ্যেই ফাইভ জিতে প্রবেশ করবে। কিন্তু টেলিভিশন পড়ে থাকবে এনালগ জমানায়। তাই কি হয়!

লেখক: সাংবাদিক

[email protected]

 

/এসএএস/এমএমজে/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

লাইভ

টপ