শবে বরাত: মনগড়া মতে নয়, সুন্নাহর আলোকে

Send
মনযূরুল হক
প্রকাশিত : ১৭:০৩, এপ্রিল ২১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৫২, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৯

মনযূরুল হকরমজানের আগের মাস শাবান। এ মাসের পনেরতম রাত, অর্থাৎ চৌদ্দ শাবান দিবাগত রাতটি বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ—ইবাদত ও রোজা দুটি কারণেই। তাই রমজানের আলোচনার সঙ্গে এই পবিত্র রজনীর আলোচনা জড়িয়ে আছে। হাদিসে এ রাতকে নির্দেশ করা হয়েছে ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’ বলে। আমাদের সাধারণ পরিভাষায় বলি- ‘শবে বরাত’। ক্ষমা ও মাগফিরাতের জন্য এবং গুনাহের কালিমা থেকে পরিচ্ছন্ন হওয়ার জন্য এ রাত বিশেষ মহিমাপূর্ণ।

বিশুদ্ধ হাদিসে শবে বরাত

এ রাতের ফজিলত সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। তবে রাতটি উদযাপনের বিশেষ কোনও পন্থা নির্ধারণ করা কিংবা সম্মিলিত উৎসব করা অনুচিত। বরং যথাসাধ্য ইবাদতে মশগুল থাকা কাম্য। এই রাতকে অন্যসব রাতের মতোই ভাবা এবং ফজিলত সংক্রান্ত হাদিসগুলোকে ‘মওজু’ (বানোয়াট) বা ‘জয়িফ’ (দুর্বল) আখ্যা দেওয়া যেমন ভুল, তেমনি একে শবে কদরের মতো ফজিলতপূর্ণ ভাবাও ভিত্তিহীন। হাদিসে রয়েছে—মুয়ায ইবনে জাবাল (রা.) বলেন, নবীজি (স.) ইরশাদ করেছেন: আল্লাহ তাআলা অর্ধ-শাবানের রাতে (শাবানের চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাতে) সৃষ্টির দিকে (রহমতের) দৃষ্টি দেন এবং শিরককারী ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া অন্য সবাইকে ক্ষমা করেন। (সহিহ ইবনে হিব্বান (১৩/৪৮১), হাদিস ৫৬৬৫)

ইমাম মুনযিরি, ইবনে রজব, নুরুদ্দিন হাইসামি, কাসতাল্লানি, যুরকানি প্রমুখ হাদিস বিশারদ এ হাদিসটিকে আমলযোগ্য বলে রায় দিয়েছেন। (মাসিক আল-কাউসার, সেপ্টেম্বর ’০৫ সংখ্যা।)

অন্য হাদিসে আয়েশা (রা.) বলেন,  এক রাতে আমি নবীজিকে (বিছানায়) না পেয়ে খোঁজে বের হলাম। দেখি তিনি জান্নাতুল বাকিতে মাথা আকাশের দিকে তুলে আছেন। আমাকে দেখে তিনি বললেন, আয়েশা, তুমি কী ভেবেছো আল্লাহ ও তার রাসুল তোমার প্রতি অবিচার করবেন? আয়েশা (রা.) বলেন, তা নয়, আমি ভাবলাম, আপনি হয়তো অন্য কোনও স্ত্রীর কাছে গেছেন। নবীজি বললেন, আল্লাহ তাআলা মধ্য-শাবানের রাতে দুনিয়ার নিকটবর্তী আকাশে অবতরণ করেন এবং কালব গোত্রের মেষপালের পশমের চেয়ে অধিক সংখ্যক লোকের গুনাহ মাফ করেন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস ১৩৮৯)।

শবে বরাতে রোজা রাখা

অনেকেই ভাবেন, শবে বরাতের রোজা মোট তিনটি— ১৪, ১৫ ও ১৬ শাবান। এটা ঠিক নয়। হাদিসে রয়েছে- এই রাতে ইবাদত করো এবং দিনে রোজা রাখো। (ইবনে মাজাহ, হাদিস ১৩৮৮)।

সুতরাং রোজা কেবল একটি এবং তিনটি বিশুদ্ধ হাদিসে প্রমাণিত নয়। রসুলের (সা.) সুন্নাত হলো, শাবান মাসে বেশি বেশি নফল রোজা রাখা। আয়েশা (রা.) বলেন, রমজান মাস ব্যতীত পূর্ণ কোনও মাস নবীজিকে আমি রোজা রাখতে দেখিনি এবং শাবানের তুলনায় ভিন্ন কোনও মাসে এত রোজা পালন করতেও দেখিনি। (বুখারি, হাদিস ১৯৬৯)। 

তাই শেষের দুই দিন ছাড়া শাবানের মাসজুড়ে রোজা রাখা মুস্তাহাব। তা ছাড়া প্রতি চন্দ্রমাসের ১৩, ১৪, ১৫ তারিখ রোজা রাখাও প্রমাণিত। সেভাবে তিনদিন রাখলে সমস্যা নেই। (ইসলাহি খুতবাত, মাওলানা তাকি উসমানি)।

‘কেন শাবান মাসে নবীজি অধিক রোজা রাখতেন’—এই প্রশ্নের পরিষ্কার উত্তরে রসুল (সা.) বলেন- রজব ও রমজানের মধ্যবর্তী মাস হওয়ার কারণে মানুষ এ মাসের ব্যপারে উদাসীন থাকে। অথচ এটা এমন মাস, যে মাসে রবের নিকট আমল তুলে ধরা হয়। আমি চাই যে, রোজা পালনরত অবস্থায় আমার আমল তার নিকট পেশ করা হোক। (ফাতহুল বারি (৪/২৫৩); নাসায়ি, হাদিস ২৩৫৭)।

শবে বরাতে ইবাদত

শবে বরাতে রাত জেগে ইবাদত করা মুস্তাহাব। [(আব্দুল হাই লক্ষ্মৌভি,আল-আসারুল মারফুআ ফিল আখবারিল মাওজুআ (৮০-৮৫)]।

আলি ইবনে আবু তালেব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন- পনের শাবানের রাতটি তোমরা ইবাদতে কাটাও এবং দিনে রোজা রাখো। কেননা, এ রাতে সূর্যাস্তের পর আল্লাহতায়ালা প্রথম আকাশে আসেন এবং বলেন- কোনও ক্ষমাপ্রার্থী আছে কি?—আমি ক্ষমা করবো। কোনও রিজিকপ্রার্থী আছে কি?—আমি রিজিক দেবো। এভাবে সুবহেসাদিক পর্যন্ত আল্লাহ মানুষের প্রয়োজনের কথা বলে বলে তাদের ডাকেন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস ১৩৮৪)।

তাই যত রাকাত ইচ্ছা নামাজ পড়া যেতে পারে—বিশেষ কোনও নামাজ নেই এবং বিশেষ কোনও পদ্ধতিও নেই। যেসব বর্ণনা ‘বিশেষ এবাদতের কথা পাওয়া যায়—তা সঠিক নয়। (শাওকানি, আল ফাওয়াইদুল মাজমুআ (৫১)। 

বাইহাকি, শুআবুল ঈমান (৩/৩৮২-৩৮৩) হাদিসে আছে, আয়েশা (রা.) বলেন- একবার রাসুল (সা.) রাতে নামাজে দাঁড়ান এবং এত দীর্ঘ সেজদাহ করেন যে, ধারণা হলো তিনি মারা গেছেন। আমি ওঠে তার বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিলাম—আঙুলটি নড়লো। সুতরাং তিনি সেজদাহ থেকে উঠলেন এবং নামাজ শেষ করে বললেন- তুমি কি জানো এটা কোন রাত? এ হলো মধ্য-শাবানের রাত। আল্লাহতায়ালা অর্ধ-শাবানের রাতে তার বান্দার প্রতি মনোযোগ দেন, প্রার্থনাকারীকে ক্ষমা করেন, অনুগ্রহপ্রার্থীকে অনুগ্রহ করেন এবং বিদ্বেষ পোষণকারীকে ছেড়ে দেন আপন অবস্থায়।

বোঝা যায়, এ-রাতে দীর্ঘ নফল নামাজ পড়া—যাতে সেজদাহ দীর্ঘ হবে—শরিয়তের দৃষ্টিতে কাম্য। এটাও অনুমিত হয়, এ-রাতের নফল আমল সম্মিলিত নয়, ব্যক্তিগত। এভাবে নফল আমল উপলক্ষে দলে দলে মসজিদে সমবেত হওয়ার প্রমাণ হাদিসে নেই, সাহাবিদের যুগেও এর রেওয়াজ ছিল না। (ইক্তিযাউস সিরাতিল মুসতাকিম (২/৬৩১-৬৪১)।

শবে বরাত সম্পর্কে মনীষীদের বক্তব্য

সালফে সালেহিন থেকে নিয়ে পূর্বসূরি বিভিন্ন বুজুর্গ আলেম শবে বরাতের আমলে উৎসাহ দিয়েছেন এবং বিভ্রান্তি থেকে বেঁচে থাকতে বলেছেন।

ইবনে তাইমিয়া (৭২৮ হি.):  তিনি বলেন, পনেরো শাবানের রাতের ফজিলত সম্পর্কে একাধিক ‘মারফু’ হাদিস ও ‘আসারে সাহাবা’ বর্ণিত রয়েছে। সালফে সালেহিনের অনেকেই তাই নফল এবাদতে যত্নবান হতেন বলে নির্ভরযোগ্য গ্রন্থাবলিতে রয়েছে। অবশ্য এই দিন বা রাতে বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা এবং সাজসজ্জা করা বিদআত ও ভিত্তিহীন। (ইকতিযাউস সিরাতিল মুস্তাকিম (২/৬৩১-৬৩২)।

ইমাম ইবনে রজব রহ. (৭৯৫ হি.): তিনি লিখেছেন, ‘শাবান মাসের পনেরো তারিখে রোজা নিষেধ হওয়ার প্রশ্নই আসে না। তবে সঠিক কথা হচ্ছে, এ রাতের ইবাদত ব্যক্তিগতভাবে করা উচিত। মসজিদে ভিড় করা বা মাহ্ফিল করা মাকরুহ। একজন মুমিন বান্দার উচিত, এ রাতে জিকির ও দোয়াও জন্য পুরোপুরি অবসর হওয়া। প্রথমে খাঁটি মনে তওবা করবে; এরপর মাগফেরাত ও ক্ষমা প্রার্থনা করবে; বিপদ থেকে মুক্তির দোয়া করবে এবং নফল নামাজ পড়বে। সেসব গুনাহ থেকে বেঁচে থাকবে, যা এ রাতের বিশেষ ফজিলত থেকে মানুষকে বঞ্চিত করে। যেমন: শিরক, হত্যা, ব্যভিচার, হিংসা ইত্যাদি। (লাতায়িফুল মাআরিফ (১৫১-১৫৭)।

ইবনুল হাজ্জ রহ. (৭৩৭ হি.): তিনি বলেন, এ রাত যদিও শবে কদরের মতো নয়; কিন্তু এর অনেক ফজিলত ও বরকত রয়েছে। আমাদের পূর্বসূরি পুণ্যাত্মারা এই রাতের যথেষ্ট মর্যাদা দিতেন এবং এর যথাযথ হক আদায় করতেন। কিন্তু আজ সাধারণ লোকেরা বিষয়টিকে সম্পূর্ণ উল্টো করে ফেলেছে। তারা রসম-রেওয়াজ ও কুসংস্কারের পেছনে পড়ে (মনের অজান্তেই) এর খায়ের বরকত ও কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। (আল-মাদখাল (১/২৯৯-৩১৩)।

আব্দুল হক দেহলভি রহ. (১০৫২ হি.): তিনি বলেন, এই রাতের নিকৃষ্টতম বিদাতসমূহ হচ্ছে: ঘরবাড়ি, দোকান-পাটে আলোকসজ্জা করা, খেলাধুলা ও আতশবাজির উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়া ইত্যাদি। এগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এগুলোর সপক্ষে কোনও হাদিসও নেই। প্রবল ধারণা যে, এগুলো হিন্দুদের ‘দেওয়ালি’ প্রথা থেকে গ্রহণ করা হয়েছে।

শবে বরাতের নিন্দনীয় আমল

শবে বরাত একটি ইবাদতের রাত—এতক্ষণের আলোচনায় তা স্পষ্ট। মুসলিম দেশগুলোতে এ দিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করছি, শবে বরাতে আমাদের আকাশ আতশবাজিতে কেঁপে ওঠে। যারা বছরের গুটি কয়েকদিন মসজিদে আসেন, তারা ভাবেন, জীবনের সব গুনাহ মাফের জন্যে মসজিদে আজ বিশেষ বিশেষ ইবাদত হবে। কেউ কেউ দুপুর রাত পর্যন্ত মসজিদে কাটিয়ে ঘুমের চাপে ফজরের নামাজ কাজা করে ফেলেন। আবার অপেক্ষায় থাকেন পরের বছর শবে বরাতের। শবে বরাতের মূল শিক্ষা ও আমল ভুলে যাওয়ায় আমাদের সমাজে অনেক ভ্রান্ত আমল ও বিশ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে।

শত রাকাত নামাজ আদায়: কেউ কেউ এ রাতে শত রাকাত পড়ে থাকেন, যাকে বলা হয়, ‘সালাতুল আলফিয়া’। এ নামাজে প্রতি দুই রাকাতের পরে সালাম ফেরানো হয়। প্রতি রাকাতে সুরা ফাতিহার পর দশবার সুরা ইখলাস পাঠ করা হয়। তো একশ’ রাকাত নামাজে যেহেতু সুরা ইখলাস পাঠ হয় মোট এক হাজার বার, তাই এ নামাজকে ‘সালাতুল আলফিয়া’ বা হাজারি নামাজ বলা হয়। [(সুয়ুতি, আললাআলিল মাসনুআ (২/৫৮-৬০)]।

ইসলামে এ ধরনের নামাজ পড়ার নিয়ম গ্রহণযোগ্য মাধ্যমে সমর্থিত নয়। রাসুল (সা.) ও তার সাহাবিগণ কখনও এমন নামাজ পড়েছেন বলে প্রমাণ নেই। ইতিহাস অনুসন্ধান করলে দেখা যায়, ইব্ন আবুল হামরা নামে ফিলিস্তিনের নাবলুস শহরের এক বাসিন্দা ৪৪৮ হিজরিতে এই নামাজের প্রচলন ঘটান—যার সঙ্গে শরিয়তের কোনও সম্পর্ক নেই। [(আল-মাওজুয়াত (২/১২৭)]।

এসব পরিহার করে ব্যক্তিগত পর্যায়ে সাধারণ নফল নামাজ পড়া উচিত—যাতে সেজদাহ হবে দীর্ঘদীর্ঘ। দু’ রাকাত করে যত ইচ্ছা পড়া যাবে—রাকাত সংখ্যাও নির্দিষ্ট নেই এবং নির্দিষ্ট কোনও সুরাও নেই।

ছবি ও মূর্তি তৈরি: এ সময় দেখা যায়, বাজার নানা রঙের ছবি ও মূর্তি দিয়ে বানানো মিষ্টান্নতে সয়লাব হয়ে গেছে। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বিক্রেতারা মাছের আকৃতিতে তৈরি রুটি, ময়ূরের মতো কাবাব ইত্যাদির পসরা সাজিয়ে থাকেন। অথচ ছবি ও মূর্তি তৈরি ইসলাম আদৌ সমর্থন করে না। [(আব্দুল হাই লক্ষ্মৌভি, আল-আসারুল মারফুআ (৮০-৮৫)]।

ধারাবাহিক কবর জেয়ারত: একদল মানুষ এ রাতে গোরস্থান বা মাজার জেয়ারতের উদ্দেশ্যে বের হয়ে থাকেন এবং তারা ধারাবাহিক এলাকার সব কবর জেয়ারত করতে থাকেন। এভাবে কবর জেয়ারত শরিয়ত অনুমোদিত নয়। প্রয়োজনে যে কোনও গোরস্থানে কারও কবরের পাশে দাঁড়িয়ে সকলের জন্য দোয়া করা যেতে পারে। [(আল-মাওজুয়াত (২/১৩০)]।

আলোকসজ্জা করা: শবে বরাত উপলক্ষে রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, মসজিদ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়। এলাকার যুবকেরা আতশবাজি ও পটকা ফুটিয়ে হল্লা করে। এতে অজস্র টাকা অপচয় ছাড়া কিছু হয় না। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, অপচয়কারী শয়তানের ভাই। (সুরা বানি ইসরাঈল, আয়াত ২৩)।
এছাড়া এসব কর্মকাণ্ড অগ্নিপূজকদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, এবদাতের সঙ্গে নয়—যা ইসলামে নিষিদ্ধ।

মৃত আত্মা পুনর্গমনের বিশ্বাস: অনেক অঞ্চলে নারীরা এ সময় ঘরবাড়ি পরিচ্ছন্ন করে বেশ পরিপাটি করে রাখেন এবং চারদিকে সুগন্ধি ছিটিয়ে দেন। বিশেষ করে বিধবা নারীরা এতে গুরুত্ব দেন বেশি। অনেকে কাপড়ের পুঁটলিতে কিছু খাবারও ঝুলিয়ে রাখেন। তাদের বিশ্বাস, মৃত স্বামী-স্বজনদের আত্মা এ রাতে নিজ নিজ পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে আসে। এই বিশ্বাস অত্যন্ত মূর্খতাপ্রসূত। মৃত্যুর পর মানুষের আত্মা বছরের একটি সময় দুনিয়ায় ফিরে আসবে—এ বিশ্বাস ইসলাম সমর্থন করে না। বরং এটা তা হিন্দুদের পুনর্জন্মের বিশ্বাসের সঙ্গে মিলে যায়। [(আব্দুল হাই লক্ষ্মৌভি, আল-আসারুল মারফুআ (৮০-৮৫)]

হালুয়া-রুটি খাওয়া: অনেকের মুখেও শোনা যায়, নবীজি (সা.) বলেছেন : শবে বরাতে রুটি বানিয়ে খেলে আল্লাহ তায়ালা আরশের নিচে ছায়া দেবেন। কেউ বলেন, হাদিসে আছে, কেয়ামতের কঠিন দিনে রুটি বড় হয়ে বান্দার মাথার ছাতা হবে। যেহেতু ‘নবীজি (সা.) বলেছেন’ কিংবা ‘হাদিসে আছে’ বলা হয়, তাই এতে সহজেই বিভ্রান্ত হয় মানুষ। অথচ রাসুলের (সা.) অজস্র হাদিসের কোথাও এমন বাক্যের উল্লেখ নেই। কেউ আবার ওহুদ যুদ্ধে নবীজির (সা.) দাঁত ভেঙে গেলে তিনি চালের নরম রুটি ও হালুয়া খেয়েছেন বলে গুজব ছড়ায়। অথচ ওহুদ যুদ্ধ হয়েছে ৭ শাওয়াল, আর শবে বরাত হলো ১৫ শাবান। এসবই পুরোপুরি ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।

অতএব, এ রাতের ফজিলতকে অস্বীকার করা যেমন ভুল তদ্রুপ মনগড়া কথাবার্তায় বিশ্বাসী হওয়াও অসঙ্গত। এ রাতে নফল ইবাদতে কাটানো এবং প্রার্থনায় কায়মনোবাক্যে আল্লাহর সমীপে হাজির হওয়াই মুমিনের জন্য একান্ত কর্তব্য।

লেখক: প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট, মুহম্মাদ (সা.) রিসার্চ সেন্টার (এমআরসি)


[email protected]

 

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

লাইভ

টপ