ধরিত্রী আমার নয়, আমিই ধরিত্রীর

Send
প্রভাষ আমিন
প্রকাশিত : ১৪:৩৭, সেপ্টেম্বর ০১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:৩৯, সেপ্টেম্বর ০১, ২০১৯

প্রভাষ আমিনজাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসটি আমার খুবই প্রিয়। কারণে-অকারণে আমি এই ক্যাম্পাসে ছুটে যাই। অতিথি শিক্ষক হিসেবে একাধিকবার ক্লাস নিতে গিয়েছি, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবেও গিয়েছি। আর ছুটির দিনে দুপুরে বা বিকালে এমনিতেই বেড়াতে গিয়েছি অনেকবার। বারবার গিয়েও যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা মেটে না। বিস্তৃত লেক আর অবারিত সবুজে মন ভালো হয়ে যায়। কিন্তু এই জাহাঙ্গীরনগরই মন খারাপ করে দিলো। গত শনিবার সকালে দৈনিক প্রথম আলোর একটি শিরোনামে চোখ আটকে গেলো ‘আন্দোলনের মধ্যেই ফের গাছ কাটা শুরু’। সঙ্গে পড়ে থাকা কাটা গাছের ছবি দেখে বুকটা ভেঙে গেলো। পড়ে জানলাম, উন্নয়ন কাজের অংশ হিসেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও পাঁচটি হল তৈরি করা হবে। হল তৈরি হবে ভালো কথা। কিন্তু সেই হল তৈরির জন্য ১ হাজার ১৫০টি গাছ কাটা পড়বে। আপত্তিটা সেখানেই। প্রগতিশীল ছাত্রজোট এবং জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট গাছ কাটার ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছে। তাদের দাবি গাছ না কেটেও হল বানানো সম্ভব। আমিও তাদের দাবির সঙ্গে একমত। আমি উন্নয়নের বিরুদ্ধে নই, নতুন হল তৈরিতেও আমার আপত্তি নেই। আমার আপত্তি খালি গাছ কাটায়। প্রতিবাদের আগেই পঞ্চাশটির মতো গাছ কাটা হয়ে গেছে। আমি দাবি জানিয়ে রাখছি—নতুন হল নির্মাণ করা হোক, কিন্তু একটি গাছও যেন কাটা না পড়ে। অনেকে বলতে পারেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক গাছ আছে, হাজারখানেক গাছ কাটলে কিছু হবে না। প্রথম কথা হলো, ১ হাজার ১৫০ মানে তো অনেক গাছ, একটি গাছও যেন কাটা না পড়ে। কারণ গাছ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়, গাছ প্রকৃতির, ধরিত্রীর। গাছ কাটার কোনও অধিকার কারও নেই, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নেই, সরকারের নেই। আসলে এটা অধিকারের প্রশ্ন নয়, অস্তিত্বের প্রশ্ন।

পৃথিবী যেভাবে দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে, তাতে আমাদের এই বিশ্বকে বাসযোগ্য রাখতে আরো বেশি করে গাছ লাগাতে হবে, কাটার তো কোনও প্রশ্নই নেই। আমি যখন হাজারখানেক গাছ নিয়ে কষ্টের কথা বলছি, তখন গোটা পৃথিবী ছেয়ে আছে এক অদ্ভুত বিষণ্ণতায়। কারণ পুড়ে যাচ্ছে পৃথিবীর ফুসফুস অ্যামাজন। ফুসফুস পুড়লে বিষণ্ণতা ছেয়ে যায়। অ্যামাজনের মাইলের পর মাইল গাছ আগুনে ছাই হয়ে যাচ্ছে। এবার অ্যামাজনের আগুন এতটাই ভয়াবহ যে, মহাকাশ থেকেও তা দেখা যাচ্ছে।

২ হাজার ৭০০ কিলোমিটার দূরের শহর সাও পাওলো শহরেও দুপুরেই রাত নেমে আসে, কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় আকাশ। অ্যামাজনকে কেন পৃথিবীর ফুসফুস বলা হয়? কারণ পৃথিবীর অক্সিজেনের ২০ ভাগ আসে অ্যামাজন থেকে। সেই অ্যামাজন যখন পুড়তে থাকে, তখন বিশ্ব সভ্যতাই ঝুঁকিতে পড়ে যায়। অ্যামাজনকে বাঁচানোর দাবিতে বিশ্বজুড়েই তাই প্রতিবাদ, বিক্ষোভ, নানান উদ্যোগ। কিন্তু অ্যামাজন নিয়ে সবচেয়ে কম উদ্বেগ ব্রাজিলে, আরও নির্দিষ্ট করে বললে ব্রাজিলের কট্টরপন্থী প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর। অ্যামাজনকে রক্ষা করা নয়, তার সব নীতি অ্যামাজনকে ধ্বংসের জন্য।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় রেইন ফরেস্ট অ্যামাজনের বিস্তৃতি ৫৫ লাখ বর্গকিলোমিটার এলাকায়, দক্ষিণ আমেরিকার নয়টি দেশজুড়ে। তবে অ্যামাজনের ৬০ ভাগই ব্রাজিলে।

অ্যামাজন নদীর অববাহিকায় গড়ে ওঠা অ্যামাজন বনে ৪৫ লাখ প্রজাতির পোকামাকড়, ৪২৮ প্রজাতির উভচর, ৩৭৮ প্রজাতির সরীসৃপ এবং ৪২৭ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী আছে। পাশাপাশি অ্যামাজন নদীতে আছে তিন হাজার প্রজাতির মাছ ও জলজ প্রাণী।

পৃথিবীজুড়ে যে রেইনফরেস্ট, তার অর্ধেকটাই অ্যামাজন। এই বনে প্রায় ১৬ হাজার  ৩৯০ বিলিয়ন গাছ রয়েছে। এমন একটি বন শুধু ব্রাজিল বা দক্ষিণ আমেরিকার নয়; এটি বিশ্বের সম্পদ, মানবসভ্যতারই লাইফলাইন। প্রকৃতি যখন দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে, তখন অ্যামাজনের মতো বন আমাদের বাঁচিয়ে রাখে। আমরা বুক ভরে শ্বাস নিতে পারি অ্যামাজনের কল্যাণে। অ্যামাজন যখন পুড়ে যায়, তখন আমার শ্বাসেও কি অক্সিজেনের কমতি পড়ে না।

বড় বনে আগুন লাগাটা অস্বাভাবিক নয়। শুকনা মৌসুমে প্রাকৃতিক কারণেই অনেক সময় আগুন লাগে। অনেক সময় সে দাবানল ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করে। তবে অ্যামাজনের এবারের আগুন স্বাভাবিক নয়। গত জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত আট মাসে অ্যামাজনে ৭৫ হাজারটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। যা আগের বছরের এই সময়ের তুলনায় ৮৩ ভাগ বেশি। বুঝেছেন তো এবারের অগ্নিকাণ্ড অস্বাভাবিক কেন। যে আট মাসের অগ্নিকাণ্ডের হিসাব দেওয়া হয়েছে, এই আট মাস সময়টা আরেকটা কারণে গুরুত্বপূর্ণ। ব্রাজিলের বর্তমান প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো দায়িত্ব নিয়েছেন ঠিক আট মাস আগে জানুয়ারি মাসে। দুইয়ে দুইয়ে চার মেলানো খুব সহজ।

এই প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব নেওয়ার পর অ্যামাজনে আগুনের সংখ্যা বেড়ে গেছে। কেন বেড়ে গেছে? কারণ আগুন লাগানো হচ্ছে। বোঝাই যাচ্ছে, এবারের আগুন লোভের আগুন। বলসোনারোর নীতিই অ্যামাজন উজাড় করতে উৎসাহিত করছে। প্রথম কথা হলো, মুখে সরাসরি না বললেও বলসোনারো ক্ষমতায় আসার পর পরিবেশ ধ্বংস এবং বন উজাড়ের ব্যাপারে সরকার অনেক নরম। মানে একধরনের প্রশ্রয় দিচ্ছে।

বলসোনারোর সরকার উন্নয়নের গান শোনান, পরিবেশ থাকে তার নজরের আড়ালে।

অ্যামাজন উজাড় করার অনেক বাণিজ্যিক কারণ আছে। সবচেয়ে বড় বাণিজ্য গো-মাংস। এই গো-মাংস হলো ব্রাজিলের অন্যতম রফতানি পণ্য। মাংসের উৎপাদন বাড়াতে হলে বাড়াতে হবে খামার। আর খামারের জন্য চাই গোচারণভূমি। অ্যামাজনে আগুন লাগিয়ে মাইলের পর মাইল খালি করে গোচারণভূমি বানানো হয়। কৃষকদের চাষের জন্য চাই জমি। তো সেই জমি কোথায় মিলবে? অ্যামাজনে আগুন লাগিয়ে দাও।

খালি হয়ে যাবে বন, ধীরে ধীরে তা হয়ে উঠবে কৃষি জমি। তবে অ্যামাজনে সবচেয়ে বড় আগ্রাসনটা চালায় সোনার খোঁজে নামা লোকজন। খনি বানাতে অ্যামাজন খালি করতে হয় তাদের। খনি এবং বসবাসের জন্যও চাই খালি জমি। লাগাও আগুন। এমন হাজার হাজার স্বর্ণসন্ধানী দল ঘুরে বেড়াচ্ছে অ্যামাজনে। আর হাজার হাজার আগুন লাগছে। মজার কথা হলো, বলসোনারো নিজেও আশির দশকে এই স্বর্ণসন্ধানী দলে ছিলেন। তাই অ্যামাজনের প্রতি নয়, অ্যামাজন ধ্বংস করে স্বর্ণসন্ধানীদের প্রতি তার ভালোবাসাটা বুঝতে অসুবিধা হয় না। এই বলসোনারোর কাছে কৃষি জমির দাম অনেক বেশি, গোচারণভূমির প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি, সোনার দাম অবশ্যই বেশি। তাই তার কাছে অ্যামাজনের গুরুত্বটাই সবচেয়ে কম। বলসোনারোর যা আচরণ, কথাবার্তা।

আমার ধারণা সুযোগ পেলে পুরো অ্যামাজন খালি করে তিনি মাটির নিচের সব সোনা তুলে আনতেন। সারাবিশ্ব যখন অ্যামাজন ধ্বংসের জন্য ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টকে দায়ী করছে, তখন তিনি দায়ী করছেন এনজিওগুলোকে। কিন্তু একটি দেশের প্রেসিডেন্ট কাউকে দায়ী করে বসে থাকবেন কেন। তার তো দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা। ৭৫ হাজার আগুনের জন্য বলসোনারো কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন, এমন কথা শোনা যায়নি। বরং এবার আগুন যে আগের বছরের চেয়ে ৮৩ ভাগ বেশি, এই তথ্য প্রকাশ করে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগে ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ‘ইনপে’র পরিচালককে বরখাস্ত করেছেন বলসোনারো। হিতে বিপরীত!

সারবিশ্বে যখন নিন্দার ঝড়, তখন চক্ষুলজ্জার খাতিরে আগুন নেভাতে সেনা মোতায়েন করেছেন তিনি। কিন্তু আগুন নেভানো সেনাবাহিনীর কাজ নয়। বিশ্বের অনেকেই আগুন নেভাতে সহায়তা দিতে চেয়েছে। জি-৭ সম্মেলনে অ্যামাজনের আগুন নেভানোর জন্য ২ কোটি ২০ লাখ ডলার বরাদ্দের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু বলসোনারো সে সহায়তা নিতে অস্বীকার করেছেন। অন্য দেশের আগুন নেভাতে সাহায্যের প্রস্তাবকে তিনি বিবেচনা করেন ব্রাজিলের সার্বভৌমত্বের ওপর হামলা হিসেবে। ব্রাজিল নিজেও আগুন নেভাতে পারবে না, আবার কাউকে নেভাতেও দেবে না। সময় এসেছে, সবাই মিলে ব্রাজিলের ওপর চাপ দেওয়ার। অ্যামাজনক খালি করে কৃষি জমি, গোচারণভূমি বের করে এবং স্বর্ণসন্ধানীদের সুযোগ করে দিয়ে বলসোনারো হয়তো এক ধরনের জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। তাই ব্রাজিলের জনগণ কী চায় বা বলসোনারো কী চান; সেটা বিবেচনায় না নিয়ে অ্যামাজনকে বাঁচাতে উদ্যোগী হতে হবে সবাইকে। অ্যামাজন শুধু ব্রাজিলের নয়, এটা আন্তর্জাতিক সম্পদ। তাই অ্যামাজন বাঁচাতে যে কোনও উদ্যোগ নেওয়ার অধিকার বিশ্বের সবারই আছে।

শুধু ব্রাজিল নয়, বিশ্বের বড় বড় বনাঞ্চল বাঁচাতে সবাইকে সচেতন হতে হবে। অ্যামাজন যেমন বিশ্বের ফুসফুস, সুন্দরবন তেমনি বাংলাদেশের ফুসফুস। সেই সুন্দরবন রক্ষায় আমরাই বা কতটা আন্তরিক। অল্প অল্প হলেও প্রতিদিন সুন্দরবন কমছে। সুন্দরবনের ক্ষতি হতে পারে, এমন ঝুঁকির মধ্যেও বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ বন্ধ হয়নি। এই যে ঢাকার এত কাছে গাজীপুরের ভাওয়াল উদ্যান। আপনি নিজে গিয়ে দেখে আসুন, প্রতিদিনই গাছ কমছে, বন কমছে। বনের মাঝখানে হঠাৎ কোনও একটা স্থাপনা গড়া হবে। তারপর রাতের আঁধারে চারপাশের গাছ কেটে কেটে জায়গা দখল করা হয়। এভাবে উজাড় হচ্ছে বন।

টেকনাফ-উখিয়ায় রোহিঙ্গাদের জন্য ক্যাম্প বানাতে উজাড় করা হয়েছে ১০ হাজার একর বনাঞ্চল। ভাবা যায়! ফেসবুকে একজন মজা করে লিখেছেন, হয়তো এমন দিন আসবে, মানুষ অ্যামাজন বলতে বুঝবে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান, আর সুন্দরবন বলতে বুঝবে কুরিয়ার সার্ভিস। এটা নিছক কথার কথা নয়। যে হারে অ্যামাজন ধ্বংস করা হচ্ছে, তা যদি এখনই থামানো না হয়, তাহলে আগামী ৫০ বছরের মধ্যে অ্যামাজন বিলীন হয়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের একজন বিজ্ঞানী এমন আশঙ্কার কথা বলেছেন। আমি আরেকটা আশঙ্কার কথা বলে রাখি, ৫০ বছর পর হোক আর ৫০০ বছর; যদি সত্যিই কখনও এমন দিন আসে অ্যামাজন নেই, সুন্দরবন নেই; তাহলে সেটা দেখার জন্য কেউ বেঁচে থাকবো না আমরা। কারণ যেখানে অ্যামাজন থাকবে না, সুন্দরবন থাকবে না; সেখানে মানুষও থাকতে পারবে না।

আদিবাসী নেতা সঞ্জীব দ্রংএর একটি বইয়ের নাম ‘ধরিত্রী আমার নয়, আমিই ধরিত্রীর’। বইটিতে যে ধারণার কথা বলা হয়েছে, তা অন্যরকম। এমনিতে আমরা সারাক্ষণ বলি, এই জমি আমার, এই বাড়ি আমার, এই দেশ আমার, এই বিশ্ব আমার।

সারাক্ষণ ‘আমার আমার’ বলতে আমরা মুখে ফেনা তুলে ফেলি। কিন্তু আদিবাসীরা বলেন, পৃথিবী আমার নয়, আমিই পৃথিবীর। এই ভূমি আমার নয়, আমিই ভূমির। এই ধরিত্রী ও ভূমি কেনাবেচা করার, একে নষ্ট করার, ধ্বংস করার অধিকার মানুষের নেই। মানুষ ধরিত্রী ও ভূমির মালিক নয়, যত্নকারী ও রক্ষাকারী মাত্র এবং এ ধরিত্রীকে অনাগত শিশুদের জন্য সুন্দর করে রেখে যাওয়া তার দায়িত্ব।

এই যে কবি বলেছেন, ‘এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান; জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধ্বংসস্তূপ-পিঠে। চলে যেতে হবে আমাদের। চলে যাব—তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল, এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি। নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।’

নবজাতকের কাছে করা কবির এ অঙ্গীকার কি আমরা রক্ষা করি? আমার জন্মের সময় পৃথিবী যতটা বাসযোগ্য ছিল, যতটা সবুজ ছিল, যতটা শীতল ছিল; যদি আমি মারা যাওয়ার সময় তার চেয়ে খারাপ থাকে, গাছ যদি তার চেয়ে কমে যায়, ধরিত্রী যদি আরও উষ্ণ হয়; তাহলে উত্তর প্রজন্মের কাছে আমি অপরাধী। আমি মানুষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করিনি। অত বড় বিশ্বের কথা ভাবার দরকার নেই। আমরা সবাই যদি স্বার্থপরের মতো আমার সন্তানের জন্য আরেকটু বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যেতে চাই, তাহলেই ধরিত্রী আরো সবুজ হবে, আরো শীতল হবে। কিন্তু আমরা যদি অ্যামাজন পুড়িয়ে দেই, সুন্দরবন ধ্বংস করি, গাছ কেটে হল বানাই; আমার সন্তান শ্বাস নিতে পারবে না। এমন দিন আসলে আমরা কেউ বাঁচবো না, সভ্যতা টিকবে না। তার আগেই আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে।

লেখক: হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ

/এসএএস/এমএমজে/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

লাইভ

টপ