পিতলের ড্রাম, জেসমিন টি ও গ্লোবাল ভিলেজ

Send
স্বদেশ রায়
প্রকাশিত : ১৬:০৬, অক্টোবর ২৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:১০, অক্টোবর ২৮, ২০১৯

স্বদেশ রায়জাতীয়তাবাদের শেকড় যে কোনও জাতির অনেক গভীরে। যেমন বাঙালির জাতীয়তাবাদের শেকড় খুঁজতে গেলে সেই আড়াই হাজার বছর আগের পুণ্ড্র নগরীর মাটির নিচে যেতে হয়; আবার পদ্মার কূলে দাঁড়িয়ে ভাবতে হয়, কত কাল ধরে বাঙালির এই জলধারা বয়ে চলেছে, যার স্রোতে বাঁক খেয়ে শব্দ তুলে গান হয়ে গেছে বাঙালির গলায়। ঠিক তেমনি চীনের নাইনি’র মিউজিয়াম অব ন্যাশনালিটির প্রতিটি ফ্লোরে ফ্লোরে নানান আকৃতির পিতলের ড্রাম বলে দেয়, কত হাজার বছরের জাতীয়তাবাদের শেকড়ের পরিচয় নিয়ে মিউজিয়ামে স্থান পেয়েছে এই ড্রাম। ধারণা করা হচ্ছে এর বয়স ১৭শ’ বছর থেকে দুই হাজার বছরের বেশি হবে। ১৭শ’ বছরের আগের এই ড্রামে সূর্যের ছবি আঁকা।
আসলে যখনই এতো পুরাতন কোনও পিতলের বস্তু দেখা যায়, তখনই ইতিহাস মানুষকে অনেক অতীতে নিয়ে যায়। কারণ, পিতল তৈরি হয়েছে খ্রিষ্টপূর্ব প্রায় তিনশ’ বছর আগে, মানুষের ব্যবহারকৃত প্রথম ধাতু কপার অর্থাৎ তামার সঙ্গে জিংক মিশিয়ে। মানুষ তামার ব্যবহার শুরু করেছে খ্রিষ্টের জন্মের ৯ হাজার বছর আগের থেকে। মেসোপটেমিয়ায় এই তামার ব্যবহার হয়েছে, খ্রিষ্টের জন্মের সাড়ে চার হাজার বছর আগে, এর পরে ইজিপ্টে (মিশরে) খ্রিষ্টের জন্মের সাড়ে তিন হাজার বছর আগে, তারপরে আমাদের এই এলাকায় চীনে খ্রিষ্টের জন্মের ২৮শ’ বছর আগে। তাই চীনের নাইনি শহরের মিউজিয়াম অব ন্যাশনালিটিতে যখন ১৭শ’ থেকে ২ হাজার বছর আগের পিতলের ড্রাম দেখা যায়, তখন স্বাভাবিকই এর সঙ্গে মেলাতে হয় খ্রিষ্টের জন্মের ২৮শ’ বছর আগে এই চীনেই পিতলের অন্যতম উপাদান কপার ব্যবহার শুরু হয়েছিল। সেই সভ্যতার সঙ্গে গেঁথে আছে এই পিতল বা ব্রাসের ড্রাম, যাতে আঁকা আছে সূর্যের ছবি।

ড্রাম দেখলে আমাদের বাঙালির শরীরেও একটি দ্যোতনা জাগে। যেমন কবি বন্ধু রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ একদিন সচিত্র সন্ধানীতে বসে ব্যান্ড সংগীত নিয়ে আলাপ করতে করতে বলেছিল, দেখো ব্যান্ড আমাদের রক্তে আছে। কারণ ঢাক আর ড্রামে কোনও পার্থক্য নেই। চীনের নাইনি’র মিউজিয়াম অব ন্যশনালিটির এই পিতলের ড্রামগুলো, তার বাজানোর ভঙ্গিগুলো অবিকল বাংলাদেশের ঢাক ও ঢোল বাজানোর ভঙ্গির সঙ্গে মিলিয়ে দেয়। শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারত উপমহাদেশজুড়ে রয়েছে এই ড্রাম বাজানোর একই ভঙ্গিমা। এমনকি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়েও। আর ন্যাশনালিটি মিউজিয়ামের ওই ড্রামের মুখের পাশে সূর্যের ছবি, যা তারা খোদাই করে তৈরি করেছে। এ নিয়ে গবেষকদের বা প্রত্নতাত্ত্বিকদের ব্যাখ্যা যাই হোক না কেন, মানব সভ্যতার ইতিহাস বলছে সব নৃগোষ্ঠী। তাই যে যেখানে বেড়ে উঠুক না কেন, আজ যে যেভাবে, যে ধর্মে বিভক্ত হয়ে যাক না কেন, প্রকৃতির এই সন্তান এক সময়ে সবাই সূর্যের জন্য থাকতো অপেক্ষমাণ। রাতের বিপদে, শীতের তীব্রতায়, বর্ষার দারুণ জলে সে প্রার্থনা করেছে সূর্যের আলো। প্রাচীন যেসব নৃগোষ্ঠী এখনও টিকে আছে, তাদের ভেতর পাওয়া যায় এক ধরনের সূর্যের উপাসনা। তাই চীনের এই পূর্ব সীমান্তে দাঁড়ানো শহরটির মিউজিয়ামের পিতলের ড্রাম ও আর তার মুখে খোদাই করা সূর্যের ছবি বলে দেয় এই জাতির দীর্ঘ এক অতীতের কথা।

অতীতের সঙ্গে বর্তমান

পিতল, কপার আর এসব ধাতুর তৈরি ড্রাম যেমন অতীতের কথা বলছিল ওই ন্যাশনালিটি মিউজিয়ামে, তেমনি সেখানে স্টাডি ওয়ার্কে আসা স্কুল ছাত্রছাত্রীদের আচরণ বলে দেয়, তারা এশীয়। পৃথিবীর সব মানুষই ভালোবাসে মানুষকে আপন করে নিতে। সারা পৃথিবীতে মানুষের আচরণ প্রায় একই রকম। তারপরেও একটি ছোট্ট রেখা টেনে যে পার্থক্য করা হয়েছে এশীয়, ইউরোপীয় এমনি নানান ভাগে, এই রেখাটির অস্তিত্ব আচরণে প্রায় কোথাও মেলে না। হয়তো গানের সুরে মেলে, ছবির রেখায় মেলে, পোশাকের ডিজাইনে মেলে, তবে আচরণে মেলে বড় কম। আবার যে আচরণ থেকে একেবারে কিছু মেলে না, তা নয়। এশীয়দের আচরণে কোথায় যেন একটা ঘরোয়া ভাব বড় বেশি। সেই আচরণ মেলে নাইনি’র মিউজিয়ামে আসা স্টাডি ওয়ার্কের বালক ও বালিকাদের ভেতর। সন্তানের মতো তারা যেন জড়িয়ে ধরতে চায়, আপন হতে চায়। অর্থাৎ একটা এশীয় গন্ধ। আগামী পৃথিবী এশিয়ার। হয়তো সে পৃথিবীতে পৌঁছাতে আরও কমপক্ষে পঞ্চাশ বছর লাগবে। অর্থাৎ এই বালক-বালিকারা তখন নেতৃত্ব দেবে। তাই তার আগে বড় বেশি দরকার এই এশীয় গন্ধটির সঙ্গে সবার পরিচিত হওয়া। সাউথ চায়না সি হোক, বালাকোট বা পাঠানকোট হোক, আর প্রশান্ত মহাসাগরে জাপানি বা কোরীয় জাহাজ হোক, কোথাও যেন কামানের গোলায় জবাব দেওয়া না হয়। এশিয়াকে আগামীতে এই পৃথিবীর নেতৃত্ব দিতে হলে প্রথমে প্রয়োজন এশিয়ায় নিজদের কামানের গোলা বন্ধ করা, তারপরে অন্য কামানের গোলা যেন এখানে না গর্জে ওঠে। তাহলে আজকের এশীয় সব বালক ও বালিকা আগামী পৃথিবীর নেতৃত্ব দেবে। চীন গুগল থেকে, ফেসবুক থেকে বিচ্ছিন্ন, তারা তাদের নিজেদের সার্চ ইঞ্জিন, নিজেদের সোশ্যাল ফোরাম নিয়ে চলে, তারপরেও স্টাডি ওয়ার্কে আসা বালক-বালিকাদের আচরণ বলে দেয় তারা গ্লোবাল ভিলেজের সন্তান।

রাতের স্ট্রিট ফুড, নিম্ন-মধ্যবিত্তের বাজার ও গ্লোবাল ভিলেজ

তাছাড়া সবাই এখন জানি পৃথিবীর আর পাঁচটি দেশের মতো চীনেও এখন এই গ্লোবাল ভিলেজের সব প্রান্তের সন্তানদের চলাচল। রাতে নাইনি’ শহরের মধ্যস্থলের অনেক স্কয়ার ও রোড ধরে গড়ে ওঠে যে বাজার, সেখানে হাজার হাজার মানুষের চলাচল, খাওয়া-দাওয়া। আসলে যে কোনও জাতির জাতীয়তাবাদের আরেকটি শেকড় গেঁথে আছে ফুডে। একটি জাতির অতীত কত দীর্ঘ, তা তার নানান রান্নার প্রকৃতি বলে দেয়। আফ্রিকা যে সুদূর অতীত থেকে বয়ে আসছে, তা আফ্রিকান রান্নাই বলে দেয়। মিশর বা ভারতীয় উপমহাদেশ কম যায় না। তেমনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আর পূর্ব এশীয় দেশ চীনও তার খাবারের ঐতিহ্যকে নিয়ে গেছে শিল্পের পর্যায়ে। যেমন একবার দক্ষিণ ভারতে অধ্যাপক বন্ধু মিজ র্কীতনীয়া বলেছিল, দেখো তুমি যদি পুরনো হায়দ্রাবাদের সমুচা না খাও তাহলে কখনই তুমি হায়দ্রাবাদের ঐতিহ্য জানতে পারবে না। শুধু ভারতের হায়দ্রাবাদ বা চীন নয়, পৃথিবীর যে কোনও দেশে গেলে ওই দেশের স্ট্রিট ফুডের রকমারি আর তার স্বাদ না জানলে যেমন ওই জাতির ঐতিহ্য বোঝা যায় না, তার জাতীয়তার গভীরতা বোঝা যায় না, তেমনি বোঝা যায় না তার শিল্পবোধ। রাতের এই মধ্যবিত্তের বাজার এলাকা আর স্ট্রিট ফুডের নানান বৈচিত্র্যময় স্বাদের সঙ্গে আরও চমৎকারভাবে মিশিয়েছে তারা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র টেকনোলজি। কত কম খরচে ও কত সহজ প্রযুক্তির মাধ্যমে পানীয়কে ঠান্ডা রাখছে, তা সত্যিই বাস্তবে দেখিয়ে দেয় অভিজিৎ ব্যানার্জির পুওর ইকোনমি ম্যানেজমেন্ট। অভিজিৎ ব্যানার্জির পুওর ইকোনমি বইটি ২০১১তে পড়তে গিয়ে দেখি কলকাতায় শেকড় রাখা এই ভারতীয় আমেরিকান ইকোনমিস্ট ও তার সহকর্মী স্ত্রী কলকাতায় এসে পুওর ইকোনমি দেখে গুরুত্বপূর্ণ একটি লাইন বলছেন, যা চিন্তাকে নাড়া দেয়। তিনি বলছেন, simple problems beget simple solutions। নাইনি’র স্ট্রিট ফুড ব্যবসায়ের একটি প্রযুক্তি দেখে আফগান বন্ধু নসরুল্লাহ বলেন, এই ক্ষুদ্র প্রযুক্তি আর এর ব্যবহারই পারবে আমাদের মতো দরিদ্র দেশগুলোকে এগিয়ে নিতে। ফল থেকে শুরু করে পানীয় অবধি তারা ওই প্রযুক্তি দিয়ে চমৎকার ঠান্ডা রাখছে খোলা জায়গায়। তখন মনে পড়ে গেলো অভিজিৎ ব্যানার্জীর ‘simple solution’ এর কথা। এ নানান স্বাদের ফুডের সঙ্গে কোনও দেশকে জানতে হলে সে দেশের ট্র্যাডিশনাল পানীয়র একটা আলাদা জগৎ থাকে—তাকে জানতে হয়। তবে এই ট্র্যাডিশনাল পানীয়’র ভেতর সুস্বাদু ও কম সুস্বাদু সব সময় থাকে। সবটুকু প্রথম দিনেই সবাই সহ্য করতে পারে না। বন্ধু স্যামে, নসরুল্লাহ ও আমি যখন ওই পানীয় চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি, তখনই এগিয়ে আসে আর্যবতের একটি ছেলে, তার পাশে আরও তিন জন। আর্যবতের ছেলেটি পরিচয় দেয়, সে রাশিয়ান, ওখানে পড়াশোনা করছে, সঙ্গে আর যারা তাদের একজন আমেরিকান, বাকি দুজন আজারবাইজানের। তারা বলে দেয়, কোন পানীয়টা মোটামুটি সহনীয়। ওরা চার বন্ধু কোনও পর্যটক নয়, স্ট্রিট ফুডের স্বাদ নিতে আসেনি। ওরা পড়াশোনা করছে চীনে। কম খরচে এখানে খাবার ও পানীয় গ্রহণ করছে। ভালো লাগলো। মনে হলো এখানেও যেন রবীন্দ্রনাথ, এসো হে আর্য, এসো হে অনার্য। সত্যি রবীন্দ্রনাথের ভারতকে ঘিরে সেই গ্লোবাল ভিলেজের স্বপ্ন আজ সব দেশে সত্য হচ্ছে।  

সিল্ক রুটে জেসমিন ফুল আর চা

গ্লোবাল ভিলেজকে আরও ছোট করার জন্য চীন খুঁজে ফিরছে তাদের অতীতের সেই নৌ ও রাস্তার সিল্ক রুট। সে বিষয় অবশ্য এই লেখায় নয়। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন লেখায় লিখেছি। আবারও লিখবো। তবে এই সিল্ক রোড ধরে সতেরশ’ বছর আগে জেসমিন ফুল যায় চীনের তাং সাম্রাজ্যে। শুধু ফুল হিসেবে। সেখান থেকে সে কবে চা হিসেবে ব্যবহৃত হতে শুরু করেছে, তা নিয়ে নানান মত আছে। বলা হয়ে থাকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে ভারত হয়ে খ্রিষ্টপূর্ব ২২০-এর দিকে হান সাম্রাজ্যের সময় জেসমিন চা হিসেবে চীনে প্রবেশ করে। এ ইতিহাস আছে ইতিহাসের পাতায়। তারপরে কত যুগ পেরিয়ে গেছে। সে পেরিয়ে যাওয়া যুগ আছে কালের গর্ভে। হেং কাউন্টিতে সূর্যের উজ্জ্বল রোদ্রে জেসমিন বাগানের পাশে বাস থেকে নামতেই জেসমিন ফুলের গন্ধ জানিয়ে দিলো আজকের এই সকাল দশটা অন্য আর দশ দিনের সকাল দশটার থেকে ভিন্ন। আমার এমনও বিদেশ ভ্রমণের ঠিকুজি আছে যে, প্লেন থেকে নেমে তিন দিন হোটেল রুমে কাটিয়ে পাঁচটি লেখা লিখে এয়ারপোর্ট থেকে এক প্যাকেট চকোলেট নিয়ে ফিরে এসেছি–তার কাছেও মনে হলো রোদ,জেসমিন ক্ষেতের সবুজ পাতা আর ফুলের গন্ধ মিলে এটা ভিন্ন সকাল। ওই সকালে একটি ক্ষেতে কয়েক মহিলা মাথাল মাথায় দিয়ে জেসমিন ফুল তুলছিল। জেসমিন ফুল তুলতে হয় এমনি সকালের আধা নরম সূর্যে, তাও ফুলগুলো ফোটার আগে যখন পাপড়ি মেলবে মেলবে বলে মনে মনে পাখা মেলছে, তখনই। তারপরে তাকে রাখতে হয় নরম আলোয়, শুষ্ক জায়গায়, অতীতে ঘরের বাতাসে ফুলে ও পাতায় লেগে থাকা সামান্য শিশির মুক্ত করা হতো। এখন বাষ্পীয় পদ্ধতিতে করা হয়। তাছাড়া বিশেষ পদ্ধতি অর্থাৎ অনেকটা চালুনি পদ্ধতিতে ফুল ও পাতা আলাদা করা হয়। অবশ্য এটা টেকনোলজি করছে। এমনিভাবে দেখা যায় বছরে সাধারণত ১২০০ হেক্টর জমিতে এক লাখ দশ হাজার টনের মতো জেসমিন চা হয়। এসব চাষাবাদ ও উৎপাদন প্রক্রিয়া এই ইনফরমেশন টেকনোলজির যুগে সবার জানা। তবুও চীনের জেসমিন বাগানের পাশ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে এগুলো মনে পড়ে। মনে মনে ভাবি বাংলাদেশে কি জেসমিন টি উৎপাদন সম্ভব নয়? তখন মনে হয়,না, এত জমি বাংলাদেশে নেই। লাভ হবে না আমাদের। বরং এশীয় রোড হলে আমাদের তরুণরা জেসমিন টি’র ব্যবসা করতে পারবে। অবশ্য ইতোমধ্যে বাংলাদেশের বাজারে অনেক ধরনের গ্রিন টি মিলছে। দেশীয়গুলোও মন্দ নয়।

তবে ইতিহাসের একটা চমৎকার পুনরাবৃত্তি মনে হলো হেং কাউন্টির জেসমিন টি ক্ষেতগুলো ঘুরতে ঘুরতে। ১৭০০ বছর আগে সিল্ক রুট বেয়ে এই চিনে জেসমিন টি এসেছিল। এখন আবার ১৯৮০ থেকে জেসমিন টি’র উৎপাদন বাড়ানোর যে চেষ্টা হচ্ছে, তা ইতিহাসের এক উল্টোরথ সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। একবিংশ শতাব্দীতে এসে চীন আবার খুঁজছে সিল্ক রুট জেসমিনসহ আরও অনেক কিছু রফতানির জন্য উন্মুক্ত হোক। ইতিহাসের এ উল্টোরথ মনে করে যখন খানিকটা মজা পাচ্ছিলাম মনে মনে, তখন আফগান বন্ধু স্যামে একটি জেসমিন ফুল আমার পকেটে গুঁজে দিয়ে বললো তোমার জীবনের বন্ধুকে বলো তোমার চাইনিজ গার্লফ্রেন্ড এটা দিয়েছে। ফুলটি পকেটে রাখলাম। নরম গন্ধে মন ভরে উঠলো। স্যামে এ ধরনের রসিকতা করার ক্ষমতা সব সময়ই রাখে। তাই ওর হাসি মুখটা ভালো লাগলো। পাশাপাশি আবার মনে হলো এমন কোনও মিথ্যে, ফাঁকি বা রসিকতা যেন আগামী দিনের এশীয় অর্থনীতি বির্নিমাণে স্থান না পায়। তাহলে হয়তো জেসমিন ফুলের গন্ধ ঠিকই থাকবে, তবে এশিয়ার পৃথিবী তৈরি হতে বাধা পাবে।

লেখক: রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক

/এসএএস/এমএমজে/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

লাইভ

টপ