বিএনপি কেন গোঁফে তেল দিতে শুরু করেছে?

Send
বিভুরঞ্জন সরকার
প্রকাশিত : ১৮:২৪, অক্টোবর ২৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:২৫, অক্টোবর ২৮, ২০১৯

বিভুরঞ্জন সরকারসাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে কিছুটা চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ঝিমিয়ে পড়া বিএনপির মধ্যেও কিছুটা যেন নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। গণফোরামের সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ড. কামাল হোসেন আকস্মিকভাবে তৎপর হয়ে ওঠায় মনে হচ্ছে, সরকারবিরোধীরা সম্ভবত গাছে কাঁঠাল দেখতে পেয়েছে এবং সেজন্য গোঁফে তেল দিতে শুরু করেছেন । কামাল হোসেন আবার নতুন করে সরকারের পদত্যাগ এবং নতুন নির্বাচন দাবি করেছেন। নির্বাচনের আগে বিপুল উৎসাহ নিয়ে কামাল হোসেন বিএনপিকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছিলেন। এমন একটি ভাব তৈরি করা হয়েছিল যে, আওয়ামী লীগ আর ক্ষমতায় থাকতে পারছে না। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয় নিশ্চিত। তবে, আওয়ামী লীগ এই জোট নিয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়েছিল বলে মনে হয়নি। কামাল হোসেন ও তার সঙ্গীরা বুঝতেও পারেননি, তাদের বোকা বানানোর জন্য সরকার আসলে কী কৌশল নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। নির্বাচনে বিএনপিসহ বিরোধী জোট এবং দলগুলো অংশ নিয়েছে। কিন্তু শোচনীয় পরাজয় হয়েছে তাদের। আওয়ামী লীগ বিপুল বিজয় পেয়েছে। ভোটের এমন অভাবনীয় ফল কারও কাছেই প্রত্যাশিত ছিল না। এমন লজ্জাজনক পরাজয়ের জন্য বিরোধীরা যেমন প্রস্তুত ছিল না, তেমনি সরকারেরও এতবড় বিজয়ের ভার বহনের প্রস্তুতি ছিল না। আগের নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ছিল না। বিএনপিসহ অনেক দলই তাতে অংশ নেয়নি। নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ও বিতর্ক থাকলেও সরকারের মেয়াদ পূরণ করতে কোনও সমস্যা হয়নি।
এবারের নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হলেও বিশ্বাসযোগ্য হয়নি। বিতর্কমুক্ত হয়নি। ভোটে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। অনেকেই ভোট দিতে পারেননি কিংবা ভোটকেন্দ্রেই যাননি। আগের রাতেই ব্যালটবাক্স ভরা হয়েছিল বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। কিন্তু এসব অভিযোগ আওয়ামী লীগের সরকার গঠনে কোনও সমস্যা হয়নি। সরকার পরিচালনায়ও নির্বাচন-বিতর্ক বড় প্রভাব রাখছে বলে মনে হয় না। ভোট অনিয়ম নিয়ে দেশের মানুষের মধ্যে বড় কোনও প্রতিক্রিয়া বা ক্ষোভ-অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ দেখা যায় না। সরকারের অবস্থান শক্ত আছে। বিরোধী দলের দুর্বলতা প্রতি পদেই দেখা যাচ্ছে। গণতন্ত্র নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আছে সব মহলেই। মত-প্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত হয়ে পড়ছে বলে প্রচার আছে। তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার দাবি দেশের মানুষের মধ্যে প্রবল হয়ে ওঠার লক্ষণ এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান নয়। তবে বিএনপি-জামায়াত ও কামাল হোসেনের সঙ্গে যারা জোটবদ্ধ হয়েছেন, তাদের মধ্যে সরকার হঠানোর একটা অস্থিরতা আছে। আর সে কারণেই তারা কোথাও ধোঁয়া দেখলেই তারা আগুন ভেবে আলু পোড়া দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

বুয়েটের ছাত্র আবরার হত্যার ঘটনায় ছাত্রলীগের জড়িত থাকার ঘটনাটি সরকারের জন্য খুবই বিব্রতকর হয়েছে।  আবরারকে পিটিয়ে মারার ঘটনা মানুষকে প্রবলভাবে নাড়া দিয়েছে। তবে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার করায় সরকার বড় চাপ থেকে রক্ষা পেয়েছে। আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ বুয়েটের ঘটনায় ছাত্রলীগের পক্ষ নিলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সহজ হতো না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিস্থিতি সরকারের অনুকূলে রাখতে পেরেছেন। বুয়েটে ঘটনায় বড় জাল বিস্তারের পাঁয়তারা করেও সফল হতে পারেনি বিএনপি ও তার মিত্ররা।

তবে, বিরোধীরা চুপচাপ বসে নেই। তারা সুযোগ খুঁজছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার অভিযান শুরু করায় দেশে একটি নতুন পরিস্থিতি শুরু হয়েছে। দুর্নীতিবিরোধী অভিযানটি সরকার নিজের ঘর থেকে শুরু করায় মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আশাবাদ। সরকারি দল ও তার বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নামে যেসব দুর্বৃত্ত নানা উপায়ে বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন শুরু হয়েছে। যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগসহ  ক্ষমতাসীন ঘরানার সংগঠনগুলোর দুর্নীতিবাজরা এখন চোখে সর্ষে ফুল দেখতে শুরু করেছে। নিজের ঘর থেকে শুদ্ধি অভিযান শুরু করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষের কাছে প্রশংসিত হচ্ছেন। নিজের লোকদের বিরুদ্ধে এমন কঠোর মনোভাব দেখানোর নজির আমাদের দেশের ক্ষমতার রাজনীতিতে নেই বললেই চলে। সরকারি দল ও সহযোগীদের ব্যাপারে মানুষের মনে যে বিরূপ ধারণা ছিল, তা অনেকটাই চলমান অভিযানে দূর হবে বলে আশা করা যায়। গত কয় বছরে ক্ষমতায় থেকে আওয়ামী লীগ জনপ্রিয়তা হারিয়েছে নানা ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি-দুর্বৃত্তের সঙ্গে জড়িয়ে। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জনরোষ দেখা দেয়নি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সুনাম ও উজ্জ্বল ভাবমূর্তির কারণে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বেশিরভাগ মানুষের কোনো ক্ষোভ নেই, আছে সমর্থ-শ্রদ্ধা-ভালোবাসা। সরকারবিরোধীরা যে হালে পানি পায় না, সেটা শেখ হাসিনার কারণেই। সরকার প্রধান হিসেবে শেখ হাসিনার বিকল্প কারও কথা সম্ভবত এই মুহূর্তে মানুষের বিবেচনায় নেই। 
দুই.
কিছুদিন নীরবতা পালন করে ড. কামাল হোসেন আবার সক্রিয় হয়ে ওঠায় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে কৌতূহল দেখা দিয়েছে। শিক্ষিত-সজ্জন বলে পরিচিত ড. কামাল রাজনীতি দুর্জনের সহযোগী বলে অনেকের মনেই ধারণা তৈরি হয়েছে। তিনি মুখে গণতন্ত্র, সংবিধান, আইনের শাসনের কথা বললেও ক্ষমতা বদলের ব্যাপারে পেছনের দরজা দিয়ে হাঁটাহাঁটি করতেও অপছন্দ করেন না বলেই অনেকের ধারণা।

মাস কয়েক আগে কামাল হোসেন বলেছেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির আগেই জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমে সফল হবে। তিনি উদাহরণ হিসেবে কোটা আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের কথা উল্লেখ করেছেন। ২০ এপ্রিল ছিল কামাল হোসেনের ৮৩তম জন্মদিন। গণফোরাম কার্যালয়ে দলীয় নেতাকর্মীরা ফুল দিয়ে তাকে বরণ করে নেন। তিনি সবাইকে নিয়ে জন্মদিনের কেক কাটেন। এ সময় বলেন, ‘আজ সবাই পরিবর্তন চাচ্ছে। আমরা আশা করবো, গঠনমূলক রাজনীতি ও কর্মসূচির মাধ্যমে সেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আমরা আগামীতে আনতে পারবো।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘সবাই চাচ্ছে কার্যকর গণতন্ত্র, যেখানে জনগণের অংশগ্রহণ থাকবে সর্বস্তরে।’ তিনি এটাও বলেছেন, ‘শক্তিশালী সংগঠন ছাড়া অর্থপূর্ণ কাজ করা যাবে না, দেশেও পরিবর্তন আনা যাবে না। আমরা টাকার বিনিময়ে রাজনীতি করি না। আমরা অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি করি জনগণের ওপর ভিত্তি করে। এর ওপর ভিত্তি করেই দেশের স্বাধীনতা এসেছে। সেই ঐতিহ্যকে সামনে রেখে আমাদের কাজ করতে হবে।’

ড. কামাল হোসেন একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ। তার জ্ঞানবুদ্ধিও অনেক। তাকে ‘আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন’ বলা হয়। তিনি তার জন্মদিনে দেশের রাজনীতি নিয়ে যে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, সেটা মানুষকে কতটা আশাবাদী করেছে, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশের যথেষ্ট কারণ আছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করছেন । তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণীত হয়েছে। কারণ তখন তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্নেহের ছায়ায় আওয়ামী লীগের কোলে। তার রাজনৈতিক ঔজ্জ্বল্য ও পরিচিতি আওয়ামী লীগে থেকেই হয়েছে। এরপর গত শতকের নব্বই দশকের শুরুতেই আওয়ামী লীগ ছেড়েছেন। প্রায় তিরিশ বছর হতে চললো তিনি গণফোরাম নামের দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কী অর্জন এই সময়ে? তার কোনও রাজনৈতিক ভবিষ্যদ্বাণী কি এই সময়ে সফল হয়েছে? তিনি তো গণফোরাম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিকল্প হিসেবে। অনেক আশা ও স্বপ্নের কথা গণফোরামের প্রতিষ্ঠালগ্নে শোনানো হয়েছিল। পরিণতি কী হলো? গণফোরাম কি দেশের রুগ্‌ণ রাজনীতির বিকল্প হতে পেরেছে? রাজনীতিতে সুস্থ ধারা ফিরিয়ে আনতে কতটা সফল হয়েছে গণফোরাম? প্রতিষ্ঠার আড়াই দশক পর এবার দুই জন সংসদ সদস্য পেয়েও হারিয়েছে গণফোরাম। ‘শক্তিশালী সংগঠন ছাড়া অর্থপূর্ণ কোনো কাজ করা যাবে না, দেশেও পরিবর্তন আনা যাবে না'—এমন কথা বলার পরও তিনি কেন পরিবর্তনের কথা বলছেন। গণফোরাম কি শক্তিশালী ভিত্তি নিয়ে দাঁড়াতে পেরেছে? নাকি দাঁড়ানোর কোনও সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ড. কামাল বলেছেন, তারা টাকার বিনিময়ে রাজনীতি করেন না। টাকা ছাড়া এখন রাজনীতি হয়? তিনি তো গল্প কথার কল্পলোকে বসবাস করছেন। জনগণের ওপর ভিত্তি করে অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির কথাও তিনি বলেছেন। ড. কামাল কি দেশে অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছেন? তিনি বিএনপির সঙ্গে জোট করেছেন কি অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে শক্তি জোগানোর জন্য? বিএনপি কি অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির দল?
স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির আগেই জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমে সফল হবে বলতে কামাল হোসেন আসলে কী বুঝিয়েছেন, তা-ও খুব স্পষ্ট নয়। তিনি কি মনে করছেন, এই সময়ের মধ্যে আন্দোলন করে জনগণ আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটাবে? স্বাধীনতার ৫০ বছর পূরণ হতে আর দুই বছর বাকি। এই সময়ের মধ্যে দেশে এমন আন্দোলন গড়ে ওঠার সম্ভাবনা কম যে, আন্দোলনে সরকারের পতন হবে। আন্দোলন কারও হুকুমে হয় না। তার বাস্তব ভিত্তি লাগে। লাগে সাংগঠনিক, রাজনৈতিক প্রস্তুতি ও জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। আগামী দুই বছরের মধ্যে শেখ হাসিনার বিকল্প যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে ওঠার কোনও লক্ষণ বা সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। ড. কামাল হোসেন কি তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কোনও সফল আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন? তিনি যখন আন্দোলনের মাধ্যমে সফলতার কথা বলেন, তখন সেটা সবার কাছে কথার কথাই মনে হয়।
আওয়ামী লীগ একটি লক্ষ্য ও পরিকল্পনা নিয়েই সরকার গঠন করেছে। বর্তমান সরকারের মেয়াদকালে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা আওয়ামী লীগ করতে চায়। তার একটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং অন্যটি স্বাধীনতার রজতজয়ন্তী। এই দুটি ঘটনা অত্যন্ত আড়ম্বরের সঙ্গে পালন করার জন্য যা যা করা দরকার তাই করবে সরকার তথা আওয়ামী লীগ। এই সময়ের মধ্যে সরকারবিরোধী আন্দোলন গড়ে ওঠার সম্ভাবনা কম। ড. কামাল কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের উদাহরণ দিয়েছেন। হ্যাঁ, এ ধরনের আকস্মিক ইস্যুভিত্তিক আন্দোলন হতে পারে যেকোনও সময়ই। কিন্তু তাতে সরকার পরিবর্তনের পরিস্থিতি তৈরি হবে না। আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের গৎবাঁধা ধারণা থেকে আমাদের রাজনীতিবিদদের বেরিয়ে আসতে হবে। সরকার পরিবর্তন ঘটাতে হবে নির্বাচনের মাধ্যমেই। কিন্তু নির্বাচনে জিতে সংসদে না যাওয়া বা শপথ না নেওয়ার ধারা চালু করলে মানুষ তাতেও খুব উৎসাহ বোধ করবে কি? ড. কামাল হোসেন বলেছেন ‘সবাই চাচ্ছে'—সমস্যাটা এখানেই। তিনি তার নিজের চাওয়াটাকে সবার চাওয়া বলে চালিয়ে দিচ্ছেন। আমাদের দেশে আর কখনোই ‘সবাই’ একযোগে কিছু চাইবে না। সমাজ বিভাজিত। পক্ষ-বিপক্ষ অনিবার্য। আওয়ামী লীগ বা ক্ষমতাসীনদের পক্ষেও লোক আছে, থাকবে। বেশিরভাগ মানুষ চাইলেও অনেক সময় সে চাওয়া পূরণ হওয়ার অবস্থা তৈরি হয় না। কারণ জাতীয় ঘটনাবলির সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির সম্মিলন ঘটলেই কেবল কিছু হয়। যারা আন্দোলনের স্বপ্ন দেখছেন, তাদের অপেক্ষায় পালা সংক্ষিপ্ত হওয়ার কোনও লক্ষণ আপাতত  দেখা যাচ্ছে না। শেখ হাসিনা কাউকে তেমন সুযোগ দেবেন বলেও মনে হয় না। বরং চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযান সফল হলে, দলের নেতৃত্বে ক্লিন ইমেজের নেতাদের জায়গা দিলে আওয়ামী লীগের জনবিচ্ছিন্নতাও কমবে। তখন সরকারের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। তাই বিএনপি ও তার নতুন-পুরনো মিত্ররা গোঁফে তেল দিলেও কাঁঠাল পাকার সময় যে এখনও হয়নি।

লেখক: গ্রুপ যুগ্ম সম্পাদক, আমাদের নতুন সময়

 

/এমএনএইচ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

লাইভ

টপ