দলিত-হরিজন-ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কান্না শুনবে কে?

Send
জ.ই. মামুন
প্রকাশিত : ১৬:১৮, নভেম্বর ২২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:০৯, নভেম্বর ২৩, ২০১৯

জ. ই. মামুনরংপুর সিটি করপোরেশন মার্কেটের সামনের রাস্তা। ভোর সাড়ে ৫টা। আমরা খুঁজছিলাম পরিচ্ছন্নতাকর্মী—দলিত-হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষ। তাদের কাজ করার ছবি তুলবো। কিন্তু ভোর সাড়ে ৫টার আগেই তাদের কাজ শেষ। কবিতা নামের এক পচ্ছিন্নতাকর্মী বললেন, আজানের আগে এলে তাদের পাওয়া যাবে। তাই পরদিন হাজির হলাম ভোর সাড়ে ৪টায়। কবিতাকে পাওয়া গেলো, পাওয়া গেলো তার সহকর্মীদেরও।
তখনও ফর্সা হয়নি রংপুরের আকাশ, পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ঝাঁট দিতে শুরু করেছেন শহরের পথ-ঘাট, দোকান-পাট। কবি সুকান্তের রানারের মতো সূর্যের আলো ফোটার আগেই শহরকে পরিষ্কার করে ফুটিয়ে তোলার দায়িত্ব তাদের। সেই দায়িত্ব তারা পালন করে আসছেন যুগের পর যুগ, বংশ পরম্পরায়।
রাস্তার কাজ শেষে পিছু পিছু গেলাম তাদের থাকার জায়গায়—সুইপার কলোনিতে। অন্ধগলি, ঘিঞ্জি, নোংরা, দুর্গন্ধ—যত রকম নেতিবাচক বিশেষণ আছে, সবই খাটে এই বস্তির ক্ষেত্রে। দশ ফুট বাই দশ ফুটের চেয়েও ছোট একেকটা খুপরি, তাতেই গাদাগাদি করে বাস করে স্বামী স্ত্রী, ছেলেমেয়েসহ ৬/৭ জনের একেকটি পরিবার। সেখানে না আছে আলো, না বাতাস, না পয়ঃনিষ্কাশন, না কিছু। সেখানে কথা, তাদের দেখার কেউ নেই, তাদের কথা শোনার কেউ নেই, তাদের সমস্যা সমাধানের কেউ নেই। ভোটের আগে নেতারা আসেন, ভোট চান, কিন্তু ভোটের পরে আর তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না।

কলোনির সামনেই রেস্টুরেন্ট। অনেকে নাস্তা খেতে গেলেন সেখানে, কিন্তু হাতে গ্লাস, কাপ বা বাটি। কারণ রেস্টুরেন্টের কাপে তাদের চা দেওয়া হয় না, সাধারণ গ্লাসে তাদের পানি দেওয়া হয় না, এমনকি ভেতরে ঢুকতেও দেওয়া হয় না। তাদের পাত্রে রেস্টুরেন্টের কর্মচারীরা ঢেলে দেন পানি, চা বা নাস্তা। তারা বাইরে ফুটপাতে বা রাস্তার ওপরে বসে নাস্তা খান। সমাজের কাছে তারা অচ্ছুৎ, অস্পৃশ্য!

এই কলোনির বাসিন্দারা জানালেন, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর কোনও সুবিধা পান না, বৃদ্ধরা পান না বয়স্ক ভাতা, বিধবারা পান না বিধবা ভাতা। উপরন্তু বংশ পরম্পরায় করে আসা সুইপারের চাকরিতেও এখন ভাগ বসাচ্ছে বাঙালিরা। তেমনি যে সরকারি জমিতে তাদের বস্তি, তাও ধীরে ধীরে দখল করে নিচ্ছে বাঙালিরা। বস্তির পেছন দিকের বেশ খানিকটা জায়গা ইতোমধ্যে বেদখল হয়ে গেছে, সেখানে আবাস গড়ে তুলেছেন বাঙালিরা।

শত বাধা পেরিয়ে তবু তাদের ছেলেমেয়েরা কেউ কেউ স্কুল কলেজে যায়, সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখে। কিন্তু তাদের স্বপ্ন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অধরা থেকে যায়। বাল্য বিয়ে এখানে সাধারণ ঘটনা। একটু বড় হলেই মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেন বাবা মায়েরা, বখাটেদের উৎপাত থেকে বাঁচাতে।

এই বস্তির প্রায় শ’খানেক পরিবারের জন্য এখানে তিনটি মাত্র পায়খানা, তাও নোংরা-অস্বাস্থ্যকর। রোজ সকালে এখানে কে আগে যাবে, তার এক যুদ্ধ। গড়ে একশ’ জন মানুষের জন্য একটি শৌচাগার। পুরুষ গেলে মহিলা দাঁড়িয়ে থাকে, মহিলা গেলে পুরুষ দাঁড়িয়ে থাকে। অমানিবকতার এক নিষ্ঠুর উদাহরণ। যে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা পরিচ্ছন্ন করে তুলছে আমাদের চারপাশ, তাদেরই জীবন রয়ে যাচ্ছে অপরিচ্ছন্নতা ও অনিশ্চয়তার অন্ধকারে।

ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠী

গিয়েছিলাম রাজশাহীর গোদাগাড়ি উপজেলায়। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাঁওতাল মানুষদের দেখতে। গ্রামের নাম জয়দা, শান্ত সবুজ একটি গ্রাম। সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত সাঁওতালদের বাস এই গ্রামে। কিন্তু গ্রামের চারিদিকে এই বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত তাদের নয়, ফসল তাদের নয়। এই সব জমিতে মজুরের কাজ করে জীবন চলে তাদের।

অন্য এলাকার সাঁওতালদের সঙ্গে তাদের প্রধান পার্থক্য এরা খ্রিষ্ট ধর্মের অনুসারী। ছোট কিন্তু পরিচ্ছন্ন একটি গির্জাও আছে তাদের। খ্রিষ্টান মিশন থেকে তাদের গ্রামের একমাত্র বিদ্যালয়টি চালানোর খরচ দেওয়া হয়। যে কারণে স্থানীয় শিশুরা ওই প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে না। তবে, তার পরেও রয়েছে হাজারো সমস্যা।

এই অঞ্চলের শ’খানেক সাঁওতাল পরিবারের সবচেয়ে বড় দুঃখ, তাদের নিজেদের বসবাসের জায়গাটিরও মালিকানা তাদের নয়। সরকারি খাস জমি, কিন্তু তাদের নামে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়নি বছরের পর বছর চেষ্টা তদ্বির করেও। ‌বরং সরকারি খাসজমি ভোগ দখল করছেন এলাকার প্রভাবশালীরা। আর প্রতিনিয়তই তাদের উচ্ছেদের হুমকি দিচ্ছেন।

তারা জানান, এখানে বাল্য বিয়ের হার আগের চেয়ে কমেছে। খ্রিষ্টান মিশন ও কিছু বেসরকারি সংস্থা নিয়মিত এসব তদারকি করে। কিন্তু তারপরও পুরো বন্ধ হয় না বাল্য বিয়ে। গ্রামের ১৫ বছরের কিশোরী রুনালী হাজদাকে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই বিয়ে দিয়ে দেন তার বাবা। কেন এত ছোট মেয়েকে বিয়ে দিলেন—জানতে চাইলে তিনি হাতের সেলফোনটি দেখিয়ে উত্তর দেন, ‘মোবাইলের জন্য’! অর্থাৎ মোবাইলফোনে মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার হাত থেকে বাঁচাতে।

পরদিন চললাম নওগাঁর মহাদেবপুরের উদ্দেশে। উত্তরের জেলাগুলোর মধ্যে সাঁওতাল, ওরাও, কোলসহ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষদের একটা বিরাট অংশের বাস নওগাঁয়। কিন্তু সেখানেও তাদের না আছে নিজেদের জমির মালিকানা, না আছে শিক্ষা স্বাস্থ্য বা সরকারের সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর কোনও সুবিধা। উচ্ছেদ আতঙ্ক আর অভাব অনটন নিয়ে চলে তাদের প্রতিটা দিন। অথচ বাংলাদেশের সমাজের যে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, সেখানে তাদের অবদান বিশাল।

ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠীর--সঙ্গে-লেখক

আপনি যদি অতিথি হয়ে আসেন এই গ্রামে, খোল করতাল বাজিয়ে, নেচে গেয়ে আপনাকে স্বাগত জানাবেন সাঁওতালরা। মহাদেবপুর উপজেলার চেরাগপুর গ্রামের সাঁওতালরা হিন্দু সম্প্রদায়ের। পূজায় পার্বণে, উৎসবে আনন্দে তারা নেচে গেয়ে, পানাহারে নিজেদের উজ্জীবিত রাখেন, হয়তো ভুলে থাকতে চেষ্টা করেন তাদের অনটন আর বঞ্চনার কথা। কিন্তু আসলে সেগুলো তো ভোলার নয়। আর নারীরা পুরুষের পাশাপাশি তো বটেই, অনেক ক্ষেত্রে পুরুষের চেয়ে বেশিই পরিশ্রমী, খাল বিল থেকে শামুক ঝিনুক কুড়িয়ে জোগাড় করেন তারা নিজেদের আহার। তারা ব্যাংকঋণ পান না, সরকারি সাহায্য পান না, তবু নিজেদের প্রচেষ্টায় গড়ে তুলেছেন ছোট ছোট শিল্প। তালপাতার আঁশ দিয়ে মাছ ধরার ফাঁদ, পাপোশ—এ রকম নানা কারখানা দেখা গেলো গ্রামগুলো ঘুরে ঘুরে।

এই অঞ্চলে অধিকাংশ ঘর মাটির। বাড়িগুলো পুকুর ঘিরে। সেই পুকুরের পাড় ভেঙে যাচ্ছে, কিন্তু সংস্কার নেই। তাদের জমির অভাব, কাজের অভাব, খাদ্যের অভাব এমন হাজারো অভাবের পাশাপাশি বিরাট অভাব শ্মশানের। পুরনো শ্মশানের জায়গাটি দখল করে নিয়েছে প্রভাবশালীরা, কারও মৃত্যু হলে কেবল দাহ করার জায়গার অভাবে মাটির নিচে সমাহিত করতে হয় মরদেহ।

মহাদেবপুরের পাশে পোরশা উপজেলা, সেখানেও একই চিত্র। উচ্ছেদ আতঙ্কে দিন কাটে তাদের। আর পরিবেশ বিপর্যয় বা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পানি কমে যাচ্ছে সবখানে। এখন কুয়ার তলায় পানি থাকলেও ফাল্গুন-চৈত্র মাস তাদের জন্য দারুণ আকাল! এভাবেই অভাবের সঙ্গে, বঞ্চনার সঙ্গে লড়াই করে টিকে আছেন এই এলাকার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীরা। অথচ সংবিধান অনুযায়ী ভাষায় তারাও এই রাষ্ট্রের মালিক।

এ রকম করুণ চিত্র গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম এলাকার উচ্ছেদ হওয়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর। তিন বছর ধরে বিচারহীনতার বৃত্তে বন্দি তারা। এই তিন বছরে বহু আন্দোলন-সংগ্রাম, দেন-দরবার করেও তারা ফেরত পাননি তাদের পূর্বপুরুষের জমি, তাদের বাস্তুভিটা। এখনও উদ্বাস্তুর মতো এখানে সেখানে ঘুরছে সেই মানুষেরা। তাদের না আছে থাকার জায়গা, না কাজ, না কোনও উপার্জন। উপরন্তু মামলা আর গ্রেফতার আতঙ্কে তাদের দিন কাটে অনিশ্চয়তায়।

২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর, রংপুর চিনিকলের বিতর্কিত মামলায় পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় হামলা, অগ্নিসংযোগ ও গুলি করে তিনজন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী হত্যাকাণ্ডের কথা সারাদেশ ভুলে গেলেও ভোলেনি গোবিন্দগঞ্জবাসী। টেলিভিশনের খবরে সেদিন দেখা গিয়েছিল কী করে পুলিশ আগুন লাগিয়ে দিচ্ছিল ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ঘরে। আজও সেই ক্ষতচিহ্ন নিয়ে তারা উদ্বাস্তু হয়ে ঘুরছে এখানে-সেখানে। এর বাড়ির আঙিনা, ওর বাড়ির উঠোনে কোনোমতে মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজে নিচ্ছেন তারা। তাদের একটি দলকে পাওয়া গেলো একটি বড় পুকুর পাড়ে। সেখানে মাটি কেটে পলিথিন বাঁশ আর খড় দিয়ে তারা গড়ে তুলছেন ছোট ছোট খুপরি। সেখানে কাজ করছিল নারী-পুরুষ অনেকে। দেখা গেলো, দুপুরের খাবার বলতে শুধু চা-মুড়ি। ঢাকা থেকে সাংবাদিক এসেছে শুনে আশপাশ থেকেও এসে জড়ো হন অনেকে, বলেন তাদের হতাশা আর ক্ষোভের কথা।

ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠীর--সদস্যরা

এখনও নিহতদের পরিবার আর আহত মানুষ অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ নিয়ে দিন কাটায়। হারানো স্বজন তারা ফিরে পাবেন না জানেন, কিন্তু বিচার পাওয়া তো তাদের অধিকার। বেদখল হয়ে যাওয়া জমি ফেরত চান তারা। চান তিন বছর আগের সহিংসতার ঘটনায় তাদের নামে দেওয়া মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং দোষীদের বিচার। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী নেতা বাগদা সরেনের নামে গ্রামের নাম—বাগদা ফার্ম। ১৯৫৫/৫৬ সালে এখানকার সাঁওতাল ও বাঙালিদের মালিকানায় থাকা ১৮৪২ একর জমি মহিমাগঞ্জ সুগার মিলের আখ চাষের জন্য অধিগ্রহণ করেছিল পাকিস্তান সরকার। শর্ত ছিল, কখনো আখচাষ না হলে জমি মূল মালিকদের ফেরত দেওয়া হবে। ২০০৪ সালে চিনিকলটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়, কিন্তু জমি ফেরত দেওয়া হচ্ছিল না মূল মালিকদের উত্তরসূরিদের। এ নিয়ে তারা অনেক আন্দোলন সংগ্রাম করেছে, প্রশাসনে ধর্ণা দিয়েছে, কিন্তু কোনও ফল পায়নি। বরং এলাকার প্রভাবশালী দখলদারদের পক্ষেই বারবার অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। এরপর ২০১৪ সাল থেকে জমির উত্তরাধিকারী সাঁওতাল ও বাঙালিদের অনেকে সেখানে ঘরবাড়ি তুলে বসবাস করতে শুরু করেন। এর দুই বছরের মাথায় মিল কর্তৃপক্ষ প্রশাসনের সহায়তায় তাদের উচ্ছেদ করে নিজ ভূমি থেকে। আর সেই থেকেই তাদের এই উদ্বাস্তু—করুণ জীবন।

ঢাকায় ফিরে কথা বললাম সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও দলিত জনগোষ্ঠীবিষয়ক সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটির সভাপতি মনোরঞ্জন শীল গোপাল এমপি এবং ‘বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম’-এর সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং-এর সঙ্গে। তারা দু’জনই এই অর্ধ কোটি প্রান্তিক মানুষের জন্য আলাদা ভূমি কমিশন এবং বিশেষ নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। বলেন, সরকারি খাস জমি বরাদ্দের ক্ষেত্রেও এইসব প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা। হরিজন বা দলিত সম্প্রদায়কে যেন তাদের পূর্ব পুরুষের পেশা থেকে বঞ্চিত করা না হয়, সেকথাও বলেন তারা। এই প্রসঙ্গে মনোরঞ্জন শীল গোপাল এমপি জানান, তার এলাকা দিনাজপুরের হরিজনরা একদিন দল বেঁধে তার কাছে আসেন। তিনি জিজ্ঞেস করেন, আপনাদের সমস্যা কী? তারা বলেন, ‘ছমচ্ছার কথা কী বলবো বাবু, ছব ছালা মুছলমান সুইপার হয়ে গেলো, আমরা চাকরি পাবো কোথায়?’ মানে হলো হরিজনদের আদিম পেশা যে পরিচ্ছন্নতাকর্মী, সেখানেও এখন তারা কাজ পায় না, বাঙালিরা সে কাজ নিয়ে নিচ্ছে।

সঞ্জীব দ্রং বলেন, ‘পাহাড়ের আদিবাসীদের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয়, কমিশন ও বোর্ড থাকলেও সে রকম কোনও প্রতিষ্ঠান নেই সমতলের আদিবাসীদের জন্য। সরকারি বরাদ্দ যেহেতু মন্ত্রণালয়ভিত্তিক, তাই তারা কোনও বরাদ্দ পায় না—প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ থোক বরাদ্দ ছাড়া। আর তাদের যেহেতু উপযুক্ত প্রতিনিধি নেই, তাই সেই থোক বরাদ্দও তাদের কাছে খুব একটা পৌঁছায় না।’

নানা জায়গায় দেখা গেছে, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জমি দখলের ব্যাপারে কোনও রাজনৈতিক বা ধর্মীয় অনৈক্য নেই। যে যেভাবে পারে দখল করে নেয় তাদের বাড়ি, জমি। আর এ ব্যাপারে দখলদারদের ভুয়া দলির দস্তাবেজ তৈরিতে সহায়তা করেন প্রশাসনের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহারে সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য আলাদা ভূমি কমিশন গঠনের কথা থাকলেও এখনও তার কিছুই হয়নি। গত ১১/১২ বছরে তার একটি লাইনও রচিত হয়নি। তবে বিষয়টি জাতীয় সংসদে ও প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরবেন বলে জানান সংসদ সদস্য গোপাল।

দলিতদের অস্পৃশ্যতার বাধা দূর করতে বৈষম্য বিলোপ আইন এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভূমিরক্ষায় প্রশাসনের সহায়তার কথাও বলেন তারা। আর এসব সমস্যা সমাধানে রাষ্ট্রীয় সহায়তার পাশাপাশি সামাজিক মূল্যবোধের পরিবর্তন এবং সবার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

লেখক: সাংবাদিক

/এমএনএইচ/এমএমজে/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

লাইভ

টপ