ভুল মানুষকে ভালোবাসার কষ্ট

Send
প্রভাষ আমিন
প্রকাশিত : ১৪:২১, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:২৭, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯

প্রভাষ আমিনদৃশ্যটি আমার জন্য একই সঙ্গে প্রবল আনন্দের এবং তীব্র বেদনার। গণহত্যার দায়ে শেষ পর্যন্ত মিয়ানমারকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতেই হয়েছে; ব্যক্তিগতভাবে আমার জন্য নয়, আমার ধারণা বিশ্বের সকল মানবতাবাদী মানুষের জন্যই এটা আনন্দের সংবাদ। কিন্তু অং সান সু চি আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অপকর্মের সাফাই গাইছেন– সাম্প্রতিক সময়ে এরচেয়ে বেদনাদায়ক অনুভূতি হয়নি আমার। আমি জানি একই অনুভূতি বিশ্বের কোটি মানুষের। আমার রীতিমত নিজেকে প্রতারিত মনে হচ্ছে। এই অং সান সু চি’কে আমরা ভালোবেসেছিলাম!
পরিবেশ-পরিস্থিতি মানুষের অবস্থান বদলে দেয়। কখনও কখনও তা ইতিবাচক, কখনও নেতিবাচক। পরিস্থিতি কখনও কখনও একজন সাধারণ মানুষকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে, নেতা বানিয়ে দেয়। কোনও কোনও নেতা জাতীয় অবস্থান থেকে আন্তর্জাতিক অবস্থানে চলে যান। এই যেমন শেখ মুজিবুর রহমান। গোপালগঞ্জের অজপাড়াগাঁ টুঙ্গীপাড়ায় জন্ম নেওয়া এই নেতা একটি জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে জন্ম দিয়েছিলেন একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের। বঙ্গবন্ধু নিছক বাংলাদেশের নেতা থাকেননি, হয়ে উঠেছিলেন সারাবিশ্বের শোষিত নিপীড়িত মানুষের নেতা। আমাদের সময়েও আমরা ইয়াসির আরাফাত বা নেলসন ম্যান্ডেলাকে দেখেছি দেশ-কালের ঊর্ধ্বে উঠে যেতে। বঙ্গবন্ধু-আরাফাত-ম্যান্ডেলারা নির্দিষ্ট কোনও দেশের বা কোনও জাতির নেতা নন। তারা হয়ে উঠেছেন বিশ্বের নেতা।
তেমন সম্ভাবনা নিয়ে আরেকজনকে বেড়ে উঠতে দেখেছি আমরা। মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি। গণতন্ত্রের জন্য দিনের পর দিন নিজ ঘরে অবরুদ্ধ থেকেছেন। গৃহবন্দী থেকেই জিতেছেন শান্তিতে নোবেল পুরস্কার। পরিণত হয়েছিলেন বিশ্ব মানবতা ও গণতন্ত্রের প্রতীকে। কিন্তু সু চি প্রমাণ করলেন, তিনি গণতান্ত্রিক নন, মানবতাবাদী নন; নিছকই ভোটে জিতে মিয়ানমারে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে চাওয়া একজন অতি সাধারণ নেতা। অং সান সু চি যদি মাথা থেকে ভোটের হিসাবটা ঝেড়ে ফেলে ন্যায্যতার সঙ্গে বিষয়টি বিবেচনা করতেন, তাহলে তিনি হয়তো মিয়ানমারের রাজনীতিতে জনপ্রিয়তা হারাতেন বা নির্বাচনেও হেরে যেতেন। কিন্তু তিনি জিতে নিতে পারতেন বিশ্বের কোটি মানুষের হৃদয়, যেটা আগেই তার জেতা হয়েই ছিল। হতে পারতেন গণতন্ত্র, মানবাধিকার আর ন্যায্যতার প্রতীক। কিন্তু ক্ষমতার লোভ তাকে মিয়ানমারের গন্ডির ওপরে উঠতে দেয়নি। নেলসন ম্যান্ডেলা কিন্তু ঠিকই ক্ষমতার লোভ ছাড়তে পেরেছিলেন এবং আমৃত্যু বিশ্বের সকল শুভকামী মানুষের ভালোবাসা পেয়েছিলেন। ইয়াসির আরাফাতের তো সেই অর্থে কোনও দেশই ছিল না। তবুও তিনি ছিলেন সকল নিপীড়িত মানুষের নেতা। আর শান্তিতে নোবেল বিজয়ী, একসময়কার মানবাধিকার আর গণতন্ত্রের আইকন অং সান সুচি এখন আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের এজেন্ট এবং সেনাবাহিনীর দালাল!
যুগ যুগ ধরে মিয়ানমার সামরিক বাহিনী রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন করে আসছে। মিয়ানমার সরকারের একটাই উদ্দেশ্য, রোহিঙ্গাদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া। সেটা মেরে অথবা তাড়িয়ে। রোহিঙ্গারা শত শত বছর ধরে রাখাইন রাজ্যে থাকলেও মিয়ানমার সরকার তাদের স্বীকারই করে না। মিয়ানমার সরকারের দাবি, তারা বাংলাদেশ থেকে গেছে। তাই মিয়ানমারে তাদের নাগরিকত্ব নেই, নেই কোনও অধিকারও। শুধু বাংলাদেশ থেকে গেছে, এইটুকু বলেই ক্ষান্ত নয় মিয়ানমার, তাদের দাবি তারা বাঙালি। কী হাস্যকর দাবি। সবাই আশা করে বসেছিলেন, অং সান সু চি একদিন মুক্তি পাবেন; মিয়ানমারে গণতন্ত্র মুক্তি পাবে, মানবাধিকার সুরক্ষিত হবে। সু চি মুক্তি পেয়েছেন। কিন্তু গণতন্ত্র মুক্তি পায়নি। মানবতা কেঁদে মরছে রাখাইন রাজ্যে। আইসিজের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েও সু চি’র কণ্ঠে সেই সেনাবাহিনীর সাফাই।
পৃথিবীতে সবকিছুই আসলে আপেক্ষিক। একসময় যে সু চি’কে দেখলে গণতান্ত্রিক মনে হতো। এখন সেই তাকে দেখলেই কেমন ‘রক্তখেকো ডাইনি’ মনে হয়। ১৯৯১‌ সালে গৃহবন্দী থাকা অবস্থায় নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন সু চি। কিন্তু সেটি গ্রহণ করতে পেরেছিলেন ২১ বছর পর ২০১২ সালে। রোহিঙ্গা ইস্যুর পর তার নোবেল প্রত্যাহারের দাবি উঠেছিল। কিন্তু তেমন কোনও ব্যবস্থা না থাকায় বেঁচে গেছেন সু চি। তবে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তাদের দেওয়া সর্বোচ্চ পুরস্কার ফিরিয়ে নিয়েছে। কানাডার সম্মানজনক নাগরিকত্ব হারানো একমাত্র ব্যক্তি অং সান সু চি। গত দুই বছরে সু চি যে পরিমাণ ঘৃণা কুড়িয়েছেন, তাতে অনেক আগেই তার সব অর্জন ম্লান হয়ে গেছে; নোবেল পদক থাকা না থাকায় কিচ্ছু যায় আসে না। গণহত্যার সাফাইকারী একজনের নামের পাশে নোবেল শান্তি পুরস্কার বড্ড বেমানান। এমনকি আইসিজেতে শুনানি শুরুর দিনে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী আট বিশিষ্ট ব্যক্তি এক যৌথ বিবৃতিতে প্রকাশ্য আদালতে গণহত্যার দায় স্বীকার করার আহবান জানিয়েছেন। কিন্তু সু চি এখন এইসব মানবতার দাবির অনেক দূরে। ক্ষমতার স্বপ্নে বিভোর সু চি’র এখন আর কোনও আহবানেই কিছু যায় আসে না। তার দেশের সেনাবাহিনী যে গণহত্যা করেনি, সত্য-মিথ্যা মিলিয়ে সেটা প্রমাণেই তিনি ব্যস্ত এখন। হায় ক্ষমতা।
সু চি’র সমস্যাটা বুঝতে অসুবিধা হয় না। অনেক সাধনার পর জনগণের ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা পেয়েছেন। যদিও নিরঙ্কুশ ক্ষমতা তিনি পাননি, পাবেনও না। এমনকি জনগণের রায় পেলেও সাংবিধানিক বাধার কারণে প্রেসিডেন্টও হতে পারেননি। তার জন্য স্টেট কাউন্সিলর নামে একটি পদ বানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি পালন করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বও। কাগজে-কলমে সব ক্ষমতা সু চি’র হাতে। কিন্তু মিয়ানমারের সব ক্ষমতা আসলে সেনাবাহিনীর হাতেই। তাই সু চি সেনাবাহিনীর বিরাগভাজন হয়ে অনেক কষ্টে পাওয়া ক্ষমতা হারাতে চান না। কিন্তু ক্ষমতাই কি সবকিছু। মিয়ানমার জাতির জনক অং সানের কন্যা সু চিকে ৭৪ বছর বয়সে এসেও ক্ষমতার জন্য সেনাবাহিনীর কৃপা ভিক্ষা করে চলতে হবে! তবে সু চি’র কর্মকাণ্ড দেখে আমার মনে হয় না নিছক সেনাবাহিনীর নির্দেশেই সব করছেন। তেমন হলে রোহিঙ্গা ইস্যুতে তিনি চুপ করে থাকতে পারতেন বা এড়িয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু সেটা হয়নি। বরং সু চি অনেক বেশি সোচ্চার। আইসিজেতে সু চি’কেই যেতে হবে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতা ছিল না। কিন্তু তিনি আগ বাড়িয়ে গিয়ে বুঝিয়ে দিলেন, তিনি নিজেই আসলে এক কট্টর রোহিঙ্গা বিদ্বেষী মানুষ।
অনেকে বলছেন, সু চি তার দেশের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি একজন দেশপ্রেমিক। কিন্তু দেশকে ভালোবাসলেই একজন মানুষকে ন্যায়-নীতি, ন্যায্যতা, মানবাধিকারের ধারণাগুলো ভুলে যেতে হবে? আর যে রোহিঙ্গাদের তাড়ানোর জন্য মরিয়া অং সান সু চি, তারাও তো মিয়ানমারেরই নাগরিক। তাদের অধিকার রক্ষাটাও তো দেশপ্রেমেরই অংশ। কিন্তু তারা সংখ্যায় কম বলে তাদের মেরে তাড়িয়ে দিয়ে সেটার পক্ষে সাফাই গাওয়ার নাম বুঝি দেশপ্রেম! বরং আন্তর্জাতিক মহলে সু চি’র যে অবস্থান ছিল, তাতে তিনিই পুরো বিষয়টার একটা সম্মানজনক সমাধান করতে পারতেন। চাইলেও যে নির্যাতন করে একটা জাতিকে ধ্বংস করা যায় না, ন্যায্যতাকে পরাজিত করা যায় না; সেটা সু চি’র চেয়ে ভালো করে আর কে জানে। ১৫ বছর গৃহবন্দী থেকেও তো তিনি আপস করেননি। আমার ধারণা সু চি’র আসল হিসাব ভোটের। কয়েক লাখ রোহিঙ্গার প্রতি মানবিকতা দেখাতে গিয়ে তিনি কোটি ভোট হারাতে চান না।
সংখ্যাগরিষ্ঠের গণতন্ত্র, ভোটের গণতন্ত্র এমনই এক বিপজ্জনক প্রবণতা। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের রায়ের প্রতি আমার শ্রদ্ধা আছে, কিন্তু সবসময় নিছক সংখ্যাগরিষ্ঠের পছন্দে আস্থা রাখতে পারি না। মিয়ানমারে গণভোট হলে ৯৫ ভাগ মানুষ রোহিঙ্গাদের বিপক্ষে ভোট দেবে। তাই বলে কি তাদের অবস্থান যৌক্তিক হবে? হবে না। ন্যায্যতাকে, মানবাধিকারকে দেশ-কাল-ধর্ম-বর্ণ-জাতি-ভোটের হিসাবের বাইরে রেখে বিবেচনা করতে হবে। আর ন্যায্য কথা একজন মানুষ বললেও সেটা মেনে নিতে হবে। অং সান সু চি যদি মাথা থেকে ভোটের হিসাবটি ঝেড়ে ফেলে ন্যায্যতার পক্ষে দাঁড়াতেন, তাহলে তার সামনে সুযোগ ছিল বিশ্ব নেতা হওয়ার। আফসোস, সু চি বিশ্ব নেতা হওয়ার চেয়ে মিয়ানমারের ক্ষমতা আকড়ে থাকাকেই প্রায়োরিটি দিয়েছেন। ন্যায্যতার পক্ষে তিনি দাঁড়াচ্ছেন তো নাই, বরং মিথ্যা বলে সবাইকে বিভ্রান্ত করছেন। যুদ্ধাপরাধ না গণহত্যা, এই কুতর্কে আইসিজে’তে সময় নষ্ট করছেন। বিশ্ব নেতা হওয়ার সুযোগ এভাবে হেলায় হারানোয় অং সান সু চি’র জন্য আমার মায়াই লাগছে। আহারে বেচারি, ভোটের গণতন্ত্রের ফাঁদে আটকে পড়া গণতন্ত্রের মানস কন্যা! সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের পক্ষে থেকে ভোট পাওয়া সহজ। কিন্তু একজন মহৎ নেতা দুর্বলের পক্ষে, সংখ্যালঘু মানুষের পক্ষে উল্টো স্রোতে লড়াই করেন। আমরা সু চি’কে মহৎ ভেবেছি বটে, আসলে তিনি তা নন।
এক সময় সু চি’র নামের আগে গণতন্ত্রের মানস কন্যা, মানবাধিকারের প্রতীক, শান্তির প্রতীক ইত্যাদি বিশেষণ ব্যবহার করা হতো। সু চি ছিলেন অনেকের রোমান্টিক বিপ্লবের প্রতীক। কিন্তু আইসিজেতে গণহত্যায় অভিযুক্ত সেনাবাহিনীর পক্ষে সাফাই গাওয়ার পর সু চি নিজেও নিশ্চয়ই এই বিশেষণগুলোতে অস্বস্তি বোধ করবেন। এখন বরং তার জন্য পাল্টা বিশেষণ খোজা হচ্ছে। কেউ বলছেন ‘রক্তখেকো’, কেউ বলছেন ‘ডাইনি’, কেউ বলছেন ‘খুনি’, কেউবা ডাকছেন ‘অশুচি’।

তবে আগেও একবার লিখেছিলাম, ফেসবুক সূত্রে পাওয়া তার নতুন বিশেষণ- মগের মুল্লুকের রাণী। মগ জলদস্যুদের আবাসস্থল আরাকান রাজ্যকে বলা হতো ‘মগের মুল্লুক’। বাংলা ভাষায় মগের মুল্লুক মানে যেখানে আইন-কানুন নেই, নিয়ম-নীতি নেই, ন্যায়-অন্যায় বোধ নেই। মিয়ানমারে যা চলছে, সু চি যা করছেন, এটাই মগের মুল্লুকের প্রকৃত উদাহরণ। আর সেই মুল্লুকের রাণী শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অং সান সু চি।
২০১২ সালে নোবেল পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে সু চি অভিহিত করা হয়েছিল ‘বিশ্ব বিবেকের কণ্ঠস্বর’ হিসেবে। মাত্র ৭ বছরেই তিনি এখন উল্টো স্রোতে। নোবেল বক্তৃতায় সু চি শান্তি, ন্যায্যতা, মানবাধিকার, গণতন্ত্র নিয়ে অসাধারণ সব কথা বলে জিতে নিয়েছিলেন আমার মতো কোটি মানুষের ভালোবাসা। আমার বিশ্বাস সেই বক্তৃতাটি তিনি এখন অস্বীকার করবেন বা ভুলে যেতে চাইবেন।

কারণ সেই অবস্থান থেকে তিনি এখন অলঙ্ঘণীয় দূরত্বে পৌঁছে গেছেন। ‘নোবেল কমিটি আমাকে শান্তি পুরস্কার দেওয়ার মাধ্যমে এটারই স্বীকৃতি দিয়েছেন যে, মিয়ানমারের নির্যাতিত জনগণ, যাদের বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছিল, তারাও বিশ্বেরই অংশ। বিশ্ব মানবতা যে এক, তারা সেটারই স্বীকৃতি দিয়েছেন।’ বিশ্বাস হয় এটা সু চি বলেছিলেন! সেই বক্তৃতায় তিনি বলেছিলেন, তার দেশে বহু নৃ-তাত্ত্বিক ও ধর্মবিশ্বাসের জনগোষ্ঠী আছে। দেশের সবার মধ্যে সত্যিকারের ঐক্যের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছিলেন তিনি। লাখো রোহিঙ্গাকে তাড়িয়ে দিয়ে তিনি ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন।
আইসিজেতে অং সান সু চি রোহিঙ্গা সমস্যার সব দায় চাপিয়েছেন আরসার কাঁধে। কোনও বিচ্ছিন্নতাবাদ বা সন্ত্রাসের সমর্থন করার কোনও সুযোগ নেই। কিন্তু আরসার মতো একটা সংগঠনের বেড়ে ওঠার সুযোগের কথাও সু চি তার নোবেল বক্তৃতায়ই বলেছিলেন, যেখানেই দুঃখ-কষ্ট উপেক্ষিত, সেখানেই সংঘাতের বীজ রোপিত হবে।

আপনি দিনের পর দিন রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন করবেন, তাদের দুঃখ-কষ্ট উপেক্ষা করবেন, আর তারা প্রতিবাদ করলেই, সেনাবাহিনী লেলিয়ে দেবেন, এ কেমন কথা।
শুরুতেই বলেছি, হেগের পিস প্যালেসে আইসিজের কাঠগড়ায় অং সান সু চি’কে সেনাবাহিনীর পক্ষে সাফাই গাইতে দেখে আমি তীব্র বেদনা অনুভব করেছি। এই বেদনার অনেকটাই সু চি’র জন্য করুণা আর নিজের জন্য কষ্ট। ভুল মানুষকে ভালোবাসার কষ্ট।

লেখক: হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ

/এসএএস/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

লাইভ

টপ