শেখ হাসিনাই সকল দাবি পূরণের ভরসা

Send
লীনা পারভীন
প্রকাশিত : ১৬:৫৬, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:০৯, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৯

লীনা পারভীনবাংলাদেশের নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে যাদের ইতিহাস তাদের অন্যতম শেখ পরিবার। খুব সরাসরি বললে শেখ মুজিবের নিশানা হয়ে উড়তে থাকা আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই একটি পরিবার যত ত্যাগ করেছে সেই ত্যাগের কাছে তুলনায় আসে না আর কিছু। এই একটি পরিবারের ইতিহাসকে লিখতে গেলেই লেখা হয়ে যায় গোটা বাংলাদেশের জন্মের পুরো ইতিহাস। কেন? তাই বলে কি আমি অন্যদের খাটো করছি? না। এটাই সত্য, কারণ ভাষা আন্দোলন যদি হয় আমাদের স্বাধিকার আন্দোলনের ভ্রূণ, তাহলে দেশ বিভাগকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সেই ভ্রূণ ১৯৭১ সালে এসে সফল জন্মলাভ করেছিলো একজন ব্যক্তির হাত ধরেই। আর তিনি আমাদের বাঙালি জাতির পিতা, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এই একজনের ডাকেই সেদিন গোটা বাঙালি জাতি ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো বাংলা মায়ের মুক্তির আন্দোলনে। জীবন দিয়েছিলো ৩০ লাখ মুক্তিযোদ্ধা, অত্যাচারিত হয়েছিলো ২ লাখ মা-বোন আর গৃহহারা পরিচয়হারা হয়েছিলো আরও কয়েক লক্ষ বাঙালি। একটি সুসজ্জিত ও আধুনিক অস্ত্রসম্পন্ন সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সেদিন লড়ে দেশকে স্বাধীন করে এনেছিলো প্রায় নিরস্ত্র বাঙালিরা, যাদের একটাই অস্ত্র ছিল, আর সেটি হলো দেশপ্রেম। বুকে বাংলাদেশ আর মগজে শেখ মুজিব নিয়েই লড়াইয়ের ময়দানে ছিনিয়ে আনতে পেরেছিলো লাল সবুজের পতাকাকে।

সেই তিনি আমাদের জন্য রেখে গেছেন আজকের শেখ হাসিনাকে। ১৯৭৫ সালে পাকিস্তানের ষড়যন্ত্রে যখন দেশি- বিদেশি ঘাতকেরা কেড়ে নিয়েছিলো জাতির পিতার গোটা পরিবারকে তখন ভাগ্যজোরে বা বাঙালির কপালগুণেই বেঁচে ছিলেন আজকের শেখ হাসিনা। হয়তো আবারও এই আধমরা জাতিকে ধাক্কা দেবেন বলেই তিনি সেদিন বেঁচে গিয়েছিলেন দেশে না থাকায়। তিনি এলেন, ফিরলেন এবং আবারও জয় করে নিলেন সবাইকে। এই জয় করতে গিয়ে তিনি হারিয়েছেন তাঁর অনেক নেতাকর্মীকে, হারাতে বসেছিলেন নিজের জীবনকেও কিন্তু পিছপা হননি। উনিশবার হামলা মোকাবিলা করেই তিনি আমাদের ত্রাণকর্তা হয়ে রয়ে গেছেন। পালিয়ে যাননি বা দমে যাননি বরং বারেবারে নতুন করে ফিরে এসেছেন নতুন নতুনরূপে। ১৯৯৬ সালে এসে ভিত্তি গড়েছেন। সেই সময়টাকে যদি বলি রেকি করা তাহলে মূলত কাজ শুরু করেছেন তিনি ২০০৮ সাল থেকেই। এরপরের ইতিহাস সবারই জানা। মোট চারবার আর পরপর তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ সরকারে থাকার ইতিহাস যার ঝুলিতে তিনি আজ বাংলাদেশকে টেনে নিয়ে চলেছেন। আর তাই আমাদের এই প্রজন্মের প্রত্যাশার পুরোটাই একজন শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে।

বঙ্গবন্ধুকে আমরা যারা দেখিনি তারা আজকে শেখ হাসিনাকে দেখছি, যিনি পিতার রেখে যাওয়া পরিকল্পনার সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির সংমিশ্রণ ঘটিয়ে কেমন করে আধুনিক বিশ্বের কাছে নিজেকে একজন স্বতন্ত্র নেতা হিসেবে পরিচিত করতে পেরেছেন।  মুক্তিযুদ্ধই আমাদের আসল পরিচয়। এর বাইরে আমাদের বলার আর কিছু নেই। মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে যারা মিথ্যা ইতিহাস গড়তে চেয়েছিলো, যেমন করে তারা প্রশাসন থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটা অঙ্গে মিথ্যার পাহারাদার বসিয়ে দিয়ে গিয়েছিলো, তাদের সমূলে উৎপাটন করে ফেলতে হবে সত্য ইতিহাসকে দিয়ে।
পাকিস্তানি এজেন্টরা এ দেশকে ফিরাতে চেয়েছিলো ইসলামি প্রজাতন্ত্রের নীতিতে কিন্তু আমরা আবারও প্রমাণ করেছি এই দেশ জন্মগতভাবে অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিকেই ধারণ করে এসেছে। এখানে সাম্প্রদায়িকতাকে হৃদয়ে নিয়ে কেউ স্থায়ী হতে পারবে না। জামায়াতে ইসলামীর দাড়িপাল্লা প্রতীকের নির্বাচন করার ক্ষমতা বাতিল করা হলেও তাদের রাজনৈতিক অধিকার রয়ে গেছে এখনও। আর তাই আইন করেই তাদের ধর্মভিত্তিক রাজনীতিকে নিষিদ্ধ করার দাবি আমাদের অনেকদিনের। পাঠ্যপুস্তকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাসকে যুক্ত করতে হবে এবং এই পাঠকে ক্রমান্বয়ে বিস্তৃত করতে হবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত।
পাঠাগারগুলোকে ঢেলে সাজাতে হবে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বই দিয়ে যেখানে আমাদের নতুন প্রজন্ম জানবে কেমন করে আজকের বাংলাদেশ এলো। এই স্বাধীন বাংলাদেশে কেমন করে তারা মুক্ত স্বাধীন হয়ে চলতে ফিরতে ও বলতে পারছে। এর পেছনে কাদের কতটা অবদান আর কাদের জন্য থমকে দাঁড়িয়েছিলো এই বাংলাদেশ, কারা হত্যা করেছিলো জাতির পিতাকে, কেন? কোন উদ্দেশ্য নিয়ে শেষ করতে চেয়েছিলো বাঙালি জাতির পরিচয়কে? মুক্তিযোদ্ধা কাকে বলে? কেন? রাজাকার, আলবদর, আলশামস কারা, কী তাদের রাজনীতি, কেন তাদের ঘৃণা করতে হবে? কারা ছিল, আছে সেই তালিকায়? এই বাংলায় থাকবে কেবল বাংলা আর বাংলাদেশকে ঘিরে থাকা মানুষেরা, যাদের রাজনৈতিক আদর্শ হবে ‘জয় বাংলা’। দেরিতে হলেও অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ বাংলাদেশের ৪৯তম বিজয় দিবসের প্রাক্কালে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার ৭৮৯ জন চিহ্নিত রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করেছে, যা একটি মাইলফলক বলেই মনে করছি। আমরা চাই এই তালিকা যেন এখানেই থেমে না যায়। সেই সময়ে যারা বাংলাদেশকে চায়নি এবং পরবর্তীতেও বাংলাদেশকে ধ্বংসের সব ধরনের রাজনীতি চালু রেখেছে তাদের সবাইকে চিহ্নিত করা হোক। প্রকাশ করা হোক জাতির সামনে। কেবল প্রকাশ নয়, এদের নামে ঘৃণাস্তম্ভ নির্মাণ করতে হবে এলাকাভিত্তিক। রাজাকারের তালিকা প্রকাশ হলেই আজকের অনেক বিতর্ক মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। এর পাশাপাশি অতিদ্রুত মুক্তিযোদ্ধা ও যেসব বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করে এ জাতিকে মেধাশূন্য করতে চেয়েছিলো পাকিস্তানিরা, তাদের তালিকাও প্রকাশ করতে হবে। যুক্ত করতে হবে পাঠ্যপুস্তকেও। ছড়িয়ে দিতে হবে গ্রাম গ্রামান্তরে সাধারণের মাঝে। কাদের মোল্লাসহ চিহ্নিত রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধীদের যারা শহীদ বলতে চায় তাদের মুখ চিরতরে বন্ধ করতে হবে আইন করে। রাজাকারদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তার ওপর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধাসহ ১৯৭১ সালে ক্ষতিগ্রস্ত যেসব পরিবার বর্তমানে অসহায় দিনযাপন করছেন তাদের দেখভালের দায়িত্ব নেওয়াটাও এই রাষ্ট্রেরই অন্যতম কাজ।
এসব দাবি আজকে করার সাহস পাচ্ছি। কারণ,  আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই সব দাবি পূরণের ভরসা।

লেখক: কলামিস্ট

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

লাইভ

টপ