বিজয়ের মাসে বাংলা: বঙ্গবন্ধু থেকে শেখ হাসিনা

Send
আমীন আল রশীদ
প্রকাশিত : ১৬:৫৩, ডিসেম্বর ২২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৫৩, ডিসেম্বর ২২, ২০১৯

আমীন আল রশীদবাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে বিজয় অর্জনের ১০ মাস আগে, ১৯৭১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমি আয়োজিত একুশের অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেছিলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের হাতে যেদিন রাষ্ট্রের ক্ষমতা আসবে, সেদিন থেকেই দেশের সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু হবে’ (মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান, আইনবিষয়ক প্রবন্ধাবলী, পৃষ্ঠা ৩১)
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের পর ৩০ ডিসেম্বর নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদও ঘোষণা করেছিলেন, বাংলা হবে দেশের সরকারি ভাষা। কিন্তু বাস্তবতা হলো এর ৫ বছর পরেও ১৯৭৫ সালের ১২ মার্চ বাংলা ভাষার ব্যবহার বিষয়ে রাষ্ট্রপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে এমন একটি প্রজ্ঞাপন জারি করতে হয়, যেখানে স্পষ্ট করে বলা হয়, সরকারের নির্দেশনার পরও সর্বত্র বাংলা চালু হয়নি। প্রজ্ঞাপনটি এরকম: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা বাংলা। বাংলা আমাদের জাতীয় ভাষা। তবুও অত্যন্ত দুঃখের সাথে লক্ষ করছি যে, স্বাধীনতার তিন বৎসর পরেও অধিকাংশ অফিস-আদালতে মাতৃভাষার পরিবর্তে বিজাতীয় ইংরেজি ভাষায় নথিপত্র লেখা হচ্ছে। মাতৃভাষার প্রতি যার ভালোবাসা নেই দেশের প্রতি তার ভালোবাসা আছে এ কথা বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। দীর্ঘ তিন বৎসর অপেক্ষার পরও বাংলাদেশের বাঙালি কর্মচারীরা ইংরেজি ভাষায় নথি লিখবেন সেটা অসহনীয়। এ সম্পর্কে আমার পূর্ববর্তী নির্দেশ সত্ত্বেও এ ধরনের অনিয়ম চলছে। আর এ উচ্ছৃঙ্খলা চলতে দেওয়া যেতে পারে না। এ আদেশ জারি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সকল সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও আধা-সরকারি অফিসসমূহে কেবল বাংলার মাধ্যমে নথিপত্র ও চিঠিপত্র লেখা হবে। এ বিষয়ে অন্যথা হলে উক্ত বিধি লঙ্ঘনকারীকে আইনানুগ শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে (গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান প্রস্তাবনা এবং মাতৃভাষা, বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল, পৃষ্ঠা ৩৪)

এই নির্দেশনার ভাষায় এটি স্পষ্ট যে, সরকারি অফিসে মাতৃভাষা বাংলার অবহেলায় বঙ্গবন্ধু কি ভীষণ ক্ষুব্ধ ছিলেন। চিঠির কয়েকটি শব্দের দিকে নজর দেওয়া যাক। তিনি লিখেছেন, ‘বিজাতীয় ইংরেজি ভাষা’। বলেছেন মাতৃভাষার প্রতি যার ভালোবাসা নেই তার দেশপ্রেম আছে কিনা, তা নিয়ে তিনি সন্দিহান। আরও লিখেছেন, এ জাতীয় আচরণ ‘অসহনীয়’। সর্বস্তরে বাংলা ব্যবহারে তার নির্দেশ অমান্য করাকে তিনি বলছেন ‘উচ্ছৃঙ্খলা’। এবং তিনি চূড়ান্তভাবে সতর্ক করেছেন, ভবিষ্যতে এর ব্যত্যয় হলে শাস্তি দেওয়া হবে। এই চিঠিতে আরেকটি বিষয় স্পষ্ট যে, বঙ্গবন্ধু এই নির্দেশনাটি ১৯৭৫ সালে জারি করলেও ১৯৭২ সাল থেকেই তিনি প্রশাসনের সর্বত্র বাংলা ভাষার ব্যবহারে জোর দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু সেই নির্দেশনা প্রতিপালিত হয়নি বলেই তিন বছরের মাথায় এসে তাকে এরকম একটি কঠিন বার্তা দিতে হয়।

যদিও বঙ্গবন্ধুর এই কড়া নির্দেশনার পরেও সর্বস্তরে বাংলার প্রচলন শুরু হয়নি। ফলে এর ১২ বছর পরে ১৯৮৭ সালে সরকার ‘বাংলা ভাষা প্রচলন আইন’ করে। যেখানে বলা হয়, ‘এই আইন প্রবর্তনের পর বাংলাদেশের সর্বত্র তথা সরকারি অফিস, আদালত, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিদেশের সাথে যোগাযোগ ব্যতীত অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে নথি ও চিঠিপত্র, আইন আদালতের সওয়াল জবাব এবং অন্যান্য আইনানুগত কার্যাবলি অবশ্যই বাংলায় লিখিতে হইবে।’ এই আইন অনুযায়ী আদালতের সওয়াল জবাব বাংলায় হলেও উচ্চ আদালতের রায় এখনও মূলত ইংরেজিতেই লেখা হয়। ইংরেজি না জানা বা আইন-আদালতসম্পর্কিত জটিল ও কঠিন ইংরেজি না জানা যে মানুষটি আসামি অথবা সাক্ষী কিংবা বাদী হিসেবে আদালতে বাংলায় সওয়াল-জবাবে অংশ নিলেন, তিনি সেই রায়টি পড়তে পারলেন না। তাকে নির্ভর করতে হয় তার আইনজীবীর ওপর। আইনজীবী তাকে যা বলবেন, যেভাবে বলবেন এমনকি তিনি যদি রায়ের ভুল ব্যাখ্যাও করেন বা বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন, তাতেও ইংরেজি না জানা ওই ব্যক্তির পক্ষে কিছুই করার নেই। বিষয়টি এরকম যে, শুধু বিচারক ও আইনজীবীরা রায় বুঝলেই হবে, আসামি-বাদী-সাক্ষী বা সাধারণ মানুষের বোঝার দরকার নেই।

একই সংবিধান ও আইনেই উচ্চ ও নিম্ন আদালত পরিচালিত হয়। এর আগে বিচারপতি আমীরুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারপতি মুহম্মাদ হাবিবুর রহমান, বিচারপতি কাজী এবাদুল হক, বিচারপতি হামিদুল হক, বিচারপতি খায়রুল হকসহ অনেকে বাংলায় রায় লিখেছেন। বহুল আলোচিত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায়টিও প্রধানত বাংলায় (ইংরেজিও আছে) দিয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক। তার মানে সদিচ্ছা থাকলে যে এটি সম্ভব, তা বিচারকরাই প্রমাণ করেছেন। কিন্তু বিষয়টি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাচ্ছে না। এমনকি সরকার প্রধানের বারবার তাগিদের পরেও না। যদি সেই তাগিদটি পুরোমাত্রায় অনুসরণ করা হতো তাহলে জাতির পিতার (বঙ্গবন্ধু) ৪৪ বছর পরে তার কন্যাকেও সেই একই বিষয় নিয়ে কথা বলতে হতো না।

গত ৭ ডিসেম্বর রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বিচার বিভাগীয় সম্মেলনে বিচারকদের  ইংরেজির পাশাপাশি মামলার রায় বাংলায় লেখার অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেন, ‘আমাদের মামলার রায় লেখা হয় শুধু ইংরেজি ভাষায়, তাতে অনেক সময় আমাদের সাধারণ মানুষ যারা হয়তো ইংরেজি ভালো বোঝেও না, তারা কিন্তু ধোঁকায় পড়ে যায়। তারা সঠিক জানতে পারে না যে রায়টা কী হলো। সেই জন্য ইংরেজিতে লেখা হোক কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে বাংলায়ও থাকা উচিত।’

এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে ফেব্রুয়ারি এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর সেগুন বাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধনকালেও প্রধানমন্ত্রী একই অনুরোধ জানিয়ে বলেন, স্বল্পশিক্ষিত সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে বিচারকরা যেন মামলার রায় বাংলায় লেখেন। কেননা ইংরেজি কম জানার কারণে রায়ে কী আছে, তা জানার জন্য অধিকাংশ বিচারপ্রার্থীকে তার আইনজীবীর ওপর নির্ভর করতে হয়। রায়ে কী আছে, তা জানার সুযোগ বিচারপ্রার্থীর থাকে না। অনেক ক্ষেত্রে এ কারণে তাদের হয়রানির শিকার হতে হয়। শেখ হাসিনা আরও বলেন, রায়ের ভাষা যদি ইংরেজিও হয় তাহলে রোমান স্টাইলে না লিখে একটু সহজ ইংরেজিতে লেখা, যে ভাষাটা সবাই বুঝতে পারে, সেই ভাষাতেই লেখা উচিত।

এ কথা ঠিক যে, প্রশাসনের সর্বস্তরে বাংলার ব্যবহার বেড়েছে। সরকারি চিঠিপত্র (বিদেশিদের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়া) বাংলাই ব্যবহার করা হয় (যদিও সরকারি অফিসের চিঠিপত্রে প্রচুর ভুল থাকে)। আমাদের সংবিধানে (অনুচ্ছেদ ৩) এটি পরিষ্কার বলা হয়েছে যে, ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা’। বিচারালয় প্রজাতন্ত্রের বাইরের কোনও প্রতিষ্ঠান নয়। সুতরাং স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরে এসেও সরকারপ্রধানকে যদি বাংলায় রায় লেখার অনুরোধ জানাতে হয়, সেটি দুঃখজনক।

১৯৮৭ সালে বাংলা ভাষা প্রচলন আইন পাস হওয়ার পরে উচ্চ আদালতে একটি মামলা হয়েছিল যেটি ‘হাসমতুল্লাহ বনাম আজমেরি বেগমের মামলা’ নামে পরিচিত। ১৯৯১ সালের ৮ নভেম্বর ওই মামলার রায়ে বলা হয়, দেওয়ানি কার্যবিধির ১৩৭ ধারার ১ উপধারা মতে, আদালতে ইংরেজির ব্যবহার, যথা রায়, আরজি, সওয়াল-জবাব ইত্যাদি লেখা হলে তা বেআইনি হবে না। কাজেই বাংলা ভাষা প্রচলন আইন প্রণীত হওয়ার আগে আদালতে যেমন ইংরেজি ভাষায় আরজি, সওয়াল-জবাব, দরখাস্ত, রায় লেখা হতো, সেভাবে চলতে পারে। ওই রায়ে ভাষার ব্যবহার সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিয়ে বলা হয়, ভাষার তিনটি ব্যবহার; এগুলো হচ্ছে ভাষা, সরকারের ভাষা ও আদালতের ভাষা।  সুতরাং দেওয়ানি কার্যবিধির ১৩৭ ধারা সংশোধন না হওয়া উচ্চ আদালতে বাংলার প্রচলন নিশ্চিত করা কঠিন।

স্মরণ করা যেতে পারে, আদালতের প্রতিদিনের কর্মকাণ্ডের দলিল বাধ্যতামূলকভাবে বাংলায় করার জন্য আইন সংশোধনের প্রস্তাব দিয়ে ২০১৪ সালে সংসদে একটি বেসরকারি বিল উত্থাপন করেছিলেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুস্তুম আলী ফরাজী। ‘বাংলা ভাষা প্রচলন (সংশোধন) বিল ২০১৪’ শিরোনামের এই বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বাংলা ভাষার ব্যাপক ব্যবহার ও প্রচলনের উদ্দেশ্যে ১৯৮৭ সালের মার্চ মাসে বাংলা ভাষা প্রচলন আইন সংসদে পাশ হলেও দেশের কোর্ট-কাচারিতে বিভিন্ন মামলার ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার ব্যবহার হচ্ছে না। ফলে দেশের পল্লি তথা গ্রামীণ এলাকার অল্পশিক্ষিত মানুষ মামলার রায় বুঝতে না পেরে নানাভাবে প্রতারিত হচ্ছেন।’

উচ্চ আদালতে বাংলায় রায় লেখা পরিপূর্ণভাবে শুরু না হওয়ার  পেছনে প্রধানত দুটি যুক্তি দেওয়া হয়, এক. আমাদের আইন ও বিদেশি মামলার নজিরগুলো ইংরেজিনির্ভর এবং দুই. উচ্চ আদালতে বাংলা চালু হলে বাংলাদেশ বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, নিম্ন আদালতের অধিকাংশ রায় বাংলায়ই লেখা হয়। এছাড়া বাংলাদেশের সংবিধান বাংলায় লিখিত এবং এর ইংরেজি পাঠও আছে। কিন্তু সংবিধানের ১৫৩ (৩) অনুচ্ছেদে এ কথাও বলা হয়েছে যে, বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাবে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে সংসদ নতুন করে যত আইন পাস করেছে তার সবই বাংলায়। এর আগে থেকে প্রচলিত আইনগুলোও বাংলায় অনুবাদ করা হচ্ছে। অসংখ্য আইন বাংলা হয়ে গেছে। এছাড়া আদালতে বিশেষ করে উচ্চ আদালতে প্রচলিত বিদেশি শব্দগুলোর বাংলা করা নিশ্চয়ই খুব কঠিন নয়। আবার সব শব্দের বাংলা করার প্রয়োজনও নেই। যেমন হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট, বেঞ্চ, আপিল, অ্যাটর্নি জেনারেল ইত্যাদি শব্দ এখন বাংলায় আত্তীকরণ হয়ে গেছে। সাধারণ মানুষও এর অর্থ বোঝে। সুতরাং বাংলায় রায় লিখতে গেলে যে সব শব্দই বাংলা হতে হবে এমন কোনও কথা নেই। কিন্তু শুরুটা করা দরকার। যে শুরুটা কয়েকজন বিচারক করেছিলেন, সেটির ধারাবাহিকতা রক্ষা করলেই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর আগেই উচ্চ আদালতের একশো ভাগ রায় বাংলায় দেওয়া কঠিন কিছু নয়।

বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের একটি মন্তব্য (গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান প্রস্তাবনা এবং মাতৃভাষা, পৃষ্ঠা ৪৪) দিয়ে লেখাটি শেষ করা যায়: ‘রাষ্ট্রের তিনটি বিভাগের মধ্যে দুটি বিভাগ যথা নির্বাহী বিভাগ ও আইন বিভাগ সংবিধানের নির্দেশনা মোতাবেক বর্তমানে বাংলা ভাষায় তাদের সকল কার্যক্রম সুষ্ঠু এবং সুন্দরভাবে করে আসছে। এমনকি রাষ্ট্রের অন্য বিভাগ তথা বিচার বিভাগের আওতাধীন অধস্তন আদালতের বিচারকরাও বর্তমানে প্রায় শতভাগ ক্ষেত্রে বাংলা ভাষায় রায় ও আদেশ দিয়ে আসছেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আমাদের সর্বোচ্চ আদালত তথা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগ এখনও সম্পূর্ণরূপে বাংলা ভাষায় রায় ও আদেশ প্রদান করছে না। এটা আমাদের জন্য নিতান্তই গ্লানির বিষয়।’

বস্তুত, ফেব্রুয়ারি মাস এলেই মাতৃভাষার জন্য আমাদের দরদ উথলে ওঠে। বিষয়টি এরকম যে, ভাষা নিয়ে কথা বলতে হবে শুধু ভাষার মাসেই। বাকি ১১ মাস ভাসা ভাসা। কিন্তু তা তো নয়। ভাষা আমাদের প্রতিদিনের অনুষঙ্গ। প্রতিদিনের যোগাযোগেই মাতৃভাষা লাগে। ফলে আমরা যখন বিজয়ের ৪৮ বছর উদযাপন করছি, তখন এ কথা ভুললে চলবে না যে, ১৯৭১ সালে আমাদের এই বিজয়, এই স্বাধীকার ও স্বাধীনতা এসেছিল ভাষার সিঁড়ি বেয়েই। ফলে বাংলা ভাষার প্রতি আমাদের যে অবহেলা, তা নিয়ে সারা বছরই কথা বলবার অবকাশ রয়েছে। এই বিজয়ের মাসে তো বটেই।

লেখক: বার্তা সম্পাদক, চ্যানেল টোয়েন্টিফোর।

 

/এসএএস/এমএনএইচ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

লাইভ

টপ