গ্রহণযোগ্য নির্বাচন: দায় কমিশনেরই

Send
মো. জাকির হোসেন
প্রকাশিত : ১৮:১৮, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:২১, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৯

মো. জাকির হোসেনগণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। অন্য দেশে যাই হোক, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আর অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন বোধ করি একই অর্থ প্রকাশ করে না। বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনে দল পরাজিত হলে নির্বাচন গ্রহণযোগগ্য নয়। ফলে সংসদ বর্জন, আন্দোলন। অভিযোগ ওঠে—নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু হয়নি, নানা বিতর্ক রয়েছে নির্বাচনের ফল নিয়ে। আবার নিজের দল জিতলেই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য বলে দাবি করে রাজনৈতিক দলগুলো। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকেও সূক্ষ্ম ও স্থূল কারচুপির অভিযোগে তোলা হয়েছিল। আর এ অভিযোগে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা বিনাশুল্কে গাড়ি আমদানি, বেতনভাতাসহ সব সুবিধা গ্রহণ করে নানা ছলে মাসের পর মাস সংসদ বর্জন করেছেন। যে দেশে মুক্তিযুদ্ধের প্রাণভোমরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অস্বীকার করা হয়, অপমান করা হয়, স্বাধীনতাযুদ্ধ শুরুর দুই সপ্তাহের মাথায় ঘোষিত বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে’ সুস্পষ্টভাবে স্বাধীনতার ঘোষকের নাম উল্লেখ থাকার পরও তাকে অস্বীকার করে আরেকজনকে ঘোষক বানানো হয়, সেদেশে ‘গ্রহণযোগ্য’ বিষয়টি বহু আগেই দেশের ত্রিসীমানা ছেড়ে পালিয়েছে।

‘প্রধানমন্ত্রী চাইলে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন’ কথাটি নানা অর্থ প্রকাশ করে। তার মানে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা, তা নির্ভর করে। তাই যদি হয় তাহলে নির্বাচন কমিশন গঠন, নির্বাচনের পেছনে বিরাট অঙ্কের অর্থ ব্যয়, বিশাল কর্মযজ্ঞের প্রয়োজন কী? প্রধানমন্ত্রীকে সংবিধান কিংবা অন্য কোনও আইনে এমন কোনও ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে কি, যার বলে প্রধানমন্ত্রী গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাইতেও পারেন, না-ও চাইতে পারেন? উত্তর, অবশ্যই না। নির্বাচন সংক্রান্ত সব ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের। সংবিধানের ১১৯(১) অনুচ্ছেদে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্রপতি পদের ও সংসদের নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা প্রস্তুতকরণের তত্ত্বাবধান, নির্দেশ ও নিয়ন্ত্রণ এবং অনুরূপ নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত থাকিবে এবং নির্বাচন কমিশন এই সংবিধান ও আইনানুযায়ী

(ক) রাষ্ট্রপতি পদের নির্বাচন অনুষ্ঠান করিবেন;

(খ) সংসদ-সদস্যদের নির্বাচন অনুষ্ঠান করিবেন;

(গ) সংসদে নির্বাচনের জন্য নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ করিবেন এবং

(ঘ) রাষ্ট্রপতির পদের ও সংসদের নির্বাচনের জন্য ভোটার-তালিকা প্রস্তুত করিবেন।

(২) উপরি-উক্ত দফাসমূহে নির্ধারিত দায়িত্বসমূহের অতিরিক্ত যেরূপ দায়িত্ব এই সংবিধান বা অন্য কোন আইনের দ্বারা নির্ধারিত হইবে, নির্বাচন কমিশন সেইরূপ দায়িত্ব পালন করিবেন।’

বরং সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের সময়ে প্রধানমন্ত্রীও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মানতে বাধ্য। সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সকল নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কর্তব্য হইবে।’ এই অনুচ্ছেদে ‘সকল নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কর্তব্য হইবে’-এর ইংরেজি অনুবাদে বলা হয়েছে, ‘It shall be the duty of all executive authorities’। লক্ষণীয় এখানে, ‘may’ শব্দ প্রয়োগ করা হয়নি, যার অর্থ দাঁড়াতো সহায়তা করার বিষয়টি নির্বাহী বিভাগের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভর করতো। আইনের ভাষায় shall অর্থ নির্বাহী কর্তৃপক্ষের ইচ্ছা-অনিচ্ছার কোনও সুযোগ নেই, তাকে অবশ্যই সহায়তা করতে হবে। একজন বিধবা পরিচয় দেওয়ার পর তাকে যেমন প্রশ্ন করার প্রয়োজন পড়ে না তার স্বামী আছে কিনা, বরং তার স্বামী নেই সহজেই অনুমেয়, তেমনি যদি নির্বাহী কর্তৃপক্ষ সহায়তা না করে, তাহলে কী হবে উল্লেখ না থাকলেও এটি সহজেই অনুমেয়। নির্বাচন কমিশন সংবিধান অনুযায়ীই সহায়তা দিতে  অস্বীকারকারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারেন। নির্বাহী কারও অসহযোগিতার কারণে নির্বাচন নিয়ে কোনও প্রশ্ন উঠলে, কারচুপির অভিযোগ উঠলে, ফল নিয়ে প্রার্থীর অভিযোগ থাকলে কমিশন তদন্ত করে ফল বাতিল করতে পারে। অর্থাৎ নির্বাচনি ফল ঘোষণা হলেও কমিশন নির্বাচন বাতিল করতে পারে। আদালতের রায়েও কমিশনকে এ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিকভাবে একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। কোনও কর্তৃপক্ষের কাছে সরাসরিভাবে কমিশনকে জবাবদিহি করতে হয় না। কমিশনকে শক্ত হাতে তাদের সাংবিধানিক ক্ষমতার প্রয়োগ করতে হবে। সরকারের সঙ্গে বারবার বসে তাদের সহযোগিতা চাইতে হবে। সরকারকে সহযোগিতা করতে বাধ্য করতে হবে। নির্বাচন কমিশন সরকারের অনুগত কোনও প্রতিষ্ঠান নয়। সাংবিধানিকভাবে কমিশন স্বাধীন ও শক্তিশালী। সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদে এ বিষয়ে বলা হয়েছে, ‘নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকিবেন এবং কেবল এই সংবিধান ও আইনের অধীন হইবেন। সংসদ কর্তৃক প্রণীত যেকোনও আইনের বিধানাবলী-সাপেক্ষে নির্বাচন কমিশনারদের কর্মের শর্তাবলী রাষ্ট্রপতি আদেশের দ্বারা যেরূপ নির্ধারণ করিবেন, সেইরূপ হইবে: তবে শর্ত থাকে যে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক যেরূপ পদ্ধতি ও কারণে অপসারিত হইতে পারেন, সেইরূপ পদ্ধতি ও কারণ ব্যতীত কোনও নির্বাচন কমিশনার অপসারিত হইবেন না।’ কমিশনের সদিচ্ছা থাকতে হবে। কঠোর হাতে নির্বাচন সুষ্ঠু করার মতো দায়িত্ববোধ ও প্রতিজ্ঞা থাকতে হবে। কমিশনের যেসব ক্ষমতা আছে, তা সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে হবে। একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে ইসিকে তার আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ করতে হবে। এ বিষয়ে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করার প্রত্যয়। নির্বাহী বিভাগের যেসব কর্মকর্তা নির্বাচনে বাধা দিতে পারেন বা দল-অনুগত, তাদের তালিকা করে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে বাদ দিতে হবে। নির্বাচনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরপেক্ষ ভূমিকায় রাখতে হবে। কারও বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্টতার অভিযোগ উঠলে তাকে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষমতা অনুশীলন করতে হবে। সংবিধানের ১৩৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ‘প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তি রাষ্ট্রপতির সন্তোষ অনুযায়ী সময়সীমা পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন।’ নির্বাচনি অনিয়মের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল ও তাদের মনোনীত প্রার্থীরাই প্রায় সব নির্বাচনি অপরাধের সঙ্গে জড়িত। নির্বাচনে টাকা দিয়ে ভোট কেনা, পেশীশক্তির ব্যবহার করে, প্রতিপক্ষকে হুমকি দেওয়া, ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আসতে বাধা দেওয়া, ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা ইত্যাদি। নির্বাচন কমিশন আইন প্রদত্ত ক্ষমতা ব্যবহার করে এসব প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এটি প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল নয়। হলফনামায় অনেক প্রার্থীই অসত্য তথ্য দেন বা তথ্য গোপন করেন, এমন প্রার্থী নির্বাচিত হলে সেই নির্বাচন বাতিল করার আইনসঙ্গত ক্ষমতা কমিশনের রয়েছে। এমনকি হলফনামা অসম্পূর্ণ থাকলেও কমিশন প্রার্থিতা বাতিল করার ক্ষমতা রাখেন। এর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কোনও সম্পর্ক নেই।

অনেকেই মনে করেন নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়ার জন্য সংবিধান সংশোধন করে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনা দরকার। অর্থাৎ রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি করা দরকার। ভুলে গেলে চলবে না, সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপ্রধানের পদ অনেকটা আলঙ্কারিক এবং তার ক্ষমতা সীমিত। সংসদীয় গণতন্ত্রে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হলে এতে দ্বৈত শাসনের পরিবেশ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনামলে বাংলা মুলুকে লর্ড ক্লাইভ প্রবর্তিত দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা (ক্ষমতার দু’টি কেন্দ্রবিন্দু নবাব ও কোম্পানি) কী ভয়ঙ্কর দুর্ভিক্ষ ও প্রশাসনিক অরাজকতা সৃষ্টি হয়েছিল। দ্বৈত শাসনের ভয়াবহতার কারণে ক্লাইভকে ভারত ছেড়ে লন্ডনে পলায়ন করতে হয়েছিল। ১৯৪৭-এ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের পর পাকিস্তানে আমরা দ্বৈত শাসনের ভয়াবহতা দেখেছি। গণতন্ত্রকে মুখ থুবড়ে পড়তে দেখেছি। সেখানে রাষ্ট্রপতি বারবার সরকার ভেঙে দিয়েছেন। ফলে গণতন্ত্র পাকিস্তানের সীমানার বাইরে থেকেছে বারবার। প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্যের জন্য রয়েছে সংসদ ও মন্ত্রিসভা। সংবিধানের ৫৫(৪) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকিবেন।’ সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের একচ্ছত্র ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ৪৯ অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতিকে ক্ষমা প্রদর্শনের অধিকার দিয়েছে—‘কোন আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত যে কোন দণ্ডের মার্জনা, বিলম্বন ও বিরাম মঞ্জুর করিবার এবং যে কোন দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করিবার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির থাকিবে।’ ৪৮(২) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির মর্যাদা বিষয়ে বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্রপ্রধানরূপে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অন্য সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান লাভ করিবেন এবং এই সংবিধান ও অন্য কোন আইনের দ্বারা তাঁহাকে প্রদত্ত ও তাঁহার উপর অর্পিত সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কর্তব্য পালন করিবেন।’ রাষ্ট্রপতি ইচ্ছা করলে তার এ মর্যাদাকে নির্বাচনসহ রাষ্ট্রের যেকোনও প্রয়োজনে, সংকটে সৎ সেবা (Good Office) হিসাবে প্রয়োগ করতে পারেন।

ধরে নিলাম প্রধানমন্ত্রী একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যা যা দরকার সবই করলেন। নির্বাচন শেষে দেখা গেলো প্রধানমন্ত্রীর দল জয়লাভ করেছে, তারপরও প্রতিপক্ষরা এ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য মানবেন কি? প্রধানমন্ত্রী চাইলেই সবকিছু হয় না। প্রধানমন্ত্রী কি চান দুর্নীতি হোক? দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন প্রধানমন্ত্রী। কী হলো? দুর্নীতির কারণে বিরোধী দলের কাউকে গ্রেফতার-বিচার করা হলে দাবি ওঠে এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ক্ষমতাসীন দলের কাউকে আটক, বিচারে সোপর্দ করা হলে সমালোচনা হয় দল দুর্বল হয়ে পড়বে। আর বিরোধী শিবির দুর্নীতিবিরোধী সাহসী ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে সমর্থন না জুগিয়ে সরকারের পদত্যাগ কিংবা জাতীয় সরকার গঠনের জিকির তোলে। মাদকের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করার পর বন্দুকযুদ্ধে অনেক মাদক কারবারি মারা গেলো, মাদক কি বন্ধ হলো? বরং কিছুদিন পর পর মাদকের বিশাল চালান ধরা পড়ছে। বহুদিন পর গ্রামে গিয়ে জানলাম মাদক (ইয়াবা) গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। আওয়ামী লীগ এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বেআইনি কার্যাবলি বন্ধ করতে নজিরবিহীন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী, তারপরও অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ভয়ানক বিব্রতকর সংবাদ ছাপা হয় সংবাদপত্রে। আমাদের সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণে খরচ পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি, অথচ সবচেয়ে কম টেকসই। সড়ক-মহাসড়ক টেকসই করতে প্রধানমন্ত্রী অনেক বছর ধরে কংক্রিট দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করার কথা বলছেন, তার কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে?

প্রধানমন্ত্রী চাইলে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে, এর অর্থ দাঁড়ায় যেসব নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে তার দায় প্রধানমন্ত্রীর ওপর বর্তায়, যা গুরুতর অভিযোগ। নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন কেবল বাংলাদেশে নয়, অনেক প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক দেশে এমন বিতর্ক হামেশাই দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিতর্ক চলছে। ভারতে সম্প্রতি সমাপ্ত নির্বাচনে ইভিএম কারচুপির অভিযোগ করেছে বিরোধীরা। আমাদের নির্বাচনি ব্যবস্থার মধ্যে অনেক ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়েছে, এসব দূর করে নির্বাচন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে শিরদাঁড়া সোজা করে দাঁড়াতে হবে। প্রধানমন্ত্রী নয়, বরং নির্বাচন কমিশন চাইলে সেই সঙ্গে প্রার্থীরা নিয়মনীতি ও আচরণবিধি মেনে নির্বাচনে অংশ নিলে তবেই একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হলেও বাংলাদেশের বিভাজনের রাজনীতিতে তা গ্রহণযোগ্য হবে কিনা, সে প্রশ্ন থেকেই যাবে।

লেখক: অধ্যাপক, আইন বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

ই-মেইল: [email protected]

/এমএমজে/এমএনএইচ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

লাইভ

টপ