ডাক্তারদের প্রতিপক্ষ বানাবেন না

Send
প্রভাষ আমিন
প্রকাশিত : ১৫:৩০, মার্চ ৩১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৪৯, মার্চ ৩১, ২০২০

প্রভাষ আমিনবাংলাদেশের ইতিহাসে মার্চ একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ মাস। মার্চের চেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে আমরা স্বপ্ন দেখি উন্নত, সমৃদ্ধ বাংলাদেশের। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণে কার্যত স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন। ২৫ মার্চ কালরাত আর ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস। একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর পাকিস্তানি হানাদারদের আক্রমণের পর গ্রেফতার হওয়ার আগে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এরপর নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধে ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় বিজয়। একাত্তর সালের মার্চ মাসটি ছিল লড়াইয়ের, আতঙ্কের, অবরুদ্ধ সময়ের। তখন ভয় ছিল হামলার, কারফিউ ছিল পাকিস্তানি হানাদারদের। ঠিক আবার ৪৯ বছর পর সেই মার্চেই বাংলাদেশ এখন অবরুদ্ধ। এবার ভয় এক ভাইরাসের, করোনাভাইরাস।
একাত্তরের মতো এখনও আমরা এক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আছি। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা জীবনের মায়া না করে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। মুক্তিযোদ্ধারা ছাড়াও অল্পকিছু স্বাধীনতাবিরোধী ছাড়া সারাদেশের মানুষই কোনও না কোনোভাবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিলেন। এবারের যুদ্ধে সাধারণ মানুষের একমাত্র দায়িত্ব ঘরে থাকা। কিন্তু সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, গণমাধ্যমকর্মী, গ্যাস-পানি-বিদ্যুতের মতো জরুরি সেবার কর্মীরা দিনরাত কাজ করছেন। তবে এবারের যুদ্ধে মূল যোদ্ধা ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। এবারের যে যুদ্ধাবস্থা, সেটা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বা সার্বভৌমত্ব রক্ষার নয়, জীবন বাঁচানোর। আর এ লড়াইয়ের শেষ ভরসা ডাক্তাররা। তাদের লড়াইয়ের সব অস্ত্র নিয়েই মাঠে নামাতে হবে।

তবে বরাবরের মতো এবারও ডাক্তাররাই আমাদের আক্রমণের লক্ষ্যে। আগে তাদের কসাই বলা হতো, এবার নাকি আরও কড়া বিশেষণ খোঁজা হচ্ছে। তবে সব গালি যে অকারণে দেওয়া হচ্ছে, তা কিন্তু নয়। করোনা আতঙ্কে ডাক্তারদের অনেকেই স্বেচ্ছা কোয়ারেন্টিনে চলে গেছেন, চেম্বার বন্ধ রেখেছেন। ফলে সাধারণ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। তবে এরচেয়ে বড় অভিযোগ হলো, জ্বর-কাশি শুনলেই ডাক্তাররা আর কোনও রোগী দেখছেন না। তারা ফিরিয়ে দিচ্ছেন। প্রায় বিনা চিকিৎসায়, একের পর এক হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুর একাধিক ঘটনা ডাক্তারদের ভূমিকা নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি তুলেছে। আমি নিয়ম-কানুন, আইন জানি না, একটা জিনিস বুঝি, যত ঝুঁকিই থাকুক একজন ডাক্তার কোনও অবস্থাতেই কোনও রোগীকে ফিরিয়ে দিতে পারবেন না। এই ঝুঁকিটা জেনেই কিন্তু তিনি এই পেশায় এসেছেন। এটা ঠিক, ডাক্তাররা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছেন, কিন্তু ঝুঁকি জেনেও আরও অনেক পেশার মানুষ তো রাস্তায় আছেন, কাজ করছেন। কোনও কোনও পেশার ধরনটাই এমন। আমাদের যেটা করতে হবে, ঝুঁকি যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

তবে এখানে একটা বড় রকমের ভুল বোঝাবুঝি আছে। অনেক ডাক্তার খুব সচেতনভাবে জেনেশুনেই চেম্বার বন্ধ রেখেছেন। কারণ ডাক্তারদের চেম্বারও কিন্তু একটা জনসমাগমের জায়গা। বাংলাদেশে অনেক ডাক্তার আছেন, যাদের চেম্বারের সামনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কয়েকশ’ লোক অপেক্ষায়। সেই ডাক্তারের চেম্বার খোলা রাখা মানেই করোনা ছড়িয়ে দেওয়ার ঝুঁকি বাড়ানো। কিন্তু ডাক্তাররা চেম্বার বন্ধ রাখলেই তো আর অসুস্থতা বন্ধ থাকবে না। তাহলে কী উপায়? প্রথম কথা হলো, সব সমস্যা নিয়ে সবসময় ডাক্তারের কাছে যাওয়ার দরকার নেই। বলাই হচ্ছে, জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন না হলে এই সময়ে ডাক্তার বা হাসপাতালে না যেতে। আমাদের এমন অনেক অসুস্থতা আছে, যা এখনই চিকিৎসা করতে হবে এমন নয়। এ মাসের শুরুর দিকে আমার এক আত্মীয়ের এনজিওগ্রাম করা হয়েছে। হৃদযন্ত্রে ব্লকও পাওয়া গেছে। কিন্তু ডাক্তাররা বলেছেন, তার হার্টে রিং পরানো যাবে না, ওপেন হার্ট করতে হবে। কিন্তু তাকে ওষুধ দিয়ে এবং নিয়মকানুন বুঝিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাকে ঢাকায় এসে বাইপাস করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাই অল্প প্রয়োজনে ডাক্তারের কাছে বা হাসপাতালে না গেলেই ভালো।

কিন্তু তাই বলে অসুস্থ মানুষও ডাক্তারের কাছে গেলে চিকিৎসা পাবে না, এটা হতেই পারে না। এখন এই সমস্যাটাই বেশি। অভিযোগটা এতই ব্যাপক যে, গত ২৫ মার্চ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে কোনও ডাক্তার যথাযথ চিকিৎসা না দিলে ভুক্তভোগীকে সেনাবাহিনীর টহলপোস্ট বা থানায় অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়। অবশ্য ডাক্তারদের ব্যাপক আপত্তির মুখে প্রজ্ঞাপনটি প্রত্যাহার করা হয়। স্বাস্থ্য সচিব ব্যক্তিগতভাবে দুঃখপ্রকাশ করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের কথা বলেন। কিন্তু তারপরও ডাক্তারদের বিরুদ্ধে চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ থেমে নেই। বরং একের পর এক হাসপাতালে প্রত্যাখ্যাত হয়ে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার মতো বেদনাদায়ক অভিযোগও এসেছে। প্রথম কথা হলো, একজন ডাক্তার কখনই কোনও রোগীকে প্রত্যাখ্যান করতে পারবেন না, এটা তার পেশার মৌলিক নৈতিকতা। কিন্তু আপনি লিভারের সমস্যা নিয়ে কিডনির ডাক্তারের গেছে গেলে প্রত্যাখ্যাত হতে পারেন। তবে সে ক্ষেত্রেও কিডনির ডাক্তার আপনাকে লিভারের ডাক্তারের কাছে পাঠাবে, না দেখে ফিরিয়ে দেবে না। করোনার ক্ষেত্রে আতঙ্ক তো আছেই, একটা বড় ভুল বোঝাবুঝিও আছে বলে আমার ধারণা। এই সময় একজন ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকর্মী সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে থাকেন। ঢাকা মেডিক্যালের সবচেয়ে ফাঁকিবাজ ডাক্তারও দিনে ৫০ জন রোগীর সঙ্গে কথা বলেন। এখন তিনি যদি সাহসিকতা ও মানবিকতা দেখাতে গিয়ে প্রথম দিকে একজন সম্ভাব্য করোনা রোগীকে দেখেন, তাহলে তিনি নিজে তো বটেই পরের সব রোগীকেও ঝুঁকির মুখে ফেলে দিলেন।

এই লকডাউনের সময়ে ডাক্তাররাই সবচেয়ে দ্রুত করোনাভাইরাস ছড়াতে পারেন। তাই ডাক্তারকে সাবধান থাকতে হবে তার নিজের স্বার্থে নয়, সমাজের স্বার্থে। তবে সাবধানতা যেন প্রত্যাখ্যান পর্যন্ত না যায়। আর আমরা সাধারণ মানুষ যতই আতঙ্কে থাকি, ডাক্তাররা তো সত্যিকারের ঝু্ঁকিটা জানেন। এটাও জানেন, সব জ্বরের রোগী দেখতে পিপিই পরতে হয় না। আর করোনা বাতাসে ভেসে বেড়ায় না। কোনও ডাক্তার কোনও জ্বরের রোগীর মাথায় হাত রাখলেই করোনাভাইরাস বিদ্যুৎ তরঙ্গের মতো তার শরীরে ঢুকে যাবে, ব্যাপারটা এত সহজও নয়। করোনাভাইরাস যে কারও শরীরে ঢুকতে পারে মুখ, চোখ, নাক বা কান দিয়ে। একজন ডাক্তার যদি প্রপার মাস্ক এবং গ্লাভস পরে রোগী দেখেন এবং দেখা শেষে হাত ধুয়ে ফেলেন; তাহলেই তো তার ঝুঁকিমুক্ত থাকার কথা। যদি আরও কোনও ব্যবস্থা নিতে হয়, সেটাও তিনি করতে পারেন। কিন্তু ভয় পেয়ে এড়িয়ে যাওয়ার কোনও সুযোগ নেই। সবাই এখন নন্দলালের মতো দেশপ্রেমিক হয়ে ঘরে বসে থাকুক। কিন্তু ডাক্তারদের নন্দলাল হলে চলবে না। তাদের নিত্য লড়াই চালিয়ে যেতে হবে হাসপাতালে। কেউ ভয় পেলে ডাক্তারি ছেড়ে ঘরে বসে থাকুন। মাঠে নামলে মোকাবিলা করতে হবে। তবে লড়াইয়ে যাওয়ার আগে অবশ্যই আপনি দেশের ও সমাজের স্বার্থে নিজের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

ডাক্তারদের এই ভুল বোঝাবুঝিতে ঠেলে দেওয়ার পেছনে সরকারের বড় গাফিলতি আছে। গত ১২ মার্চ সরকার করোনা রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত গাইডলাইন প্রকাশ করে। তাতে বলা ছিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পর্যন্ত দেশের সব হাসপাতালে করোনা কর্নার বা ফ্লু কর্নার থাকবে। জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্টের রোগীরা সাধারণ আউটডোরে না গিয়ে সেই কর্নারে যাবেন। সেখান থেকে লক্ষণ বুঝে ডাক্তার চিকিৎসা দেবেন, ভর্তি করবেন, আইসোলেশনে পাঠাবেন। ব্যাপারটি কিন্তু প্লেন অ্যান্ড সিম্পল। সরকারের এই গাইডলাইন বা পরিকল্পনা কিন্তু বাস্তবায়িত হয়নি, এখনও কল্পনাতেই আছে। এ কারণেই মানুষ আতঙ্কে পাগলের মতো ছোটাছুটি করেন। জ্বর-কাশি-শ্বাসকষ্টের কোনও রোগী কোনও সাধারণ হাসপাতালে গেলে ভীতু ডাক্তার তাকে দেখে পালাবেন, চালাক ডাক্তার হলে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে পাঠাবেন। কিন্তু কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে গেলে হয়তো আপনাকে বলবে, আপনার তো করোনা টেস্ট হয়নি। করোনা পজিটিভ না হলে এখানে ভর্তি করা হয় না। ধরে নিলাম, এরপর আপনি গেলেন আইইডিসিআর’-এ টেস্ট করাতে। এতক্ষণ আপনি ছিলেন হয়রানির পুকুরে, এবার পড়বেন অথৈ সাগরে। বিদেশ থেকে না এলে বা বিদেশ থেকে আসা কারও সংস্পর্শে না গেলে আইইডিসিআর টেস্ট করবে না। এবার আপনি কোথায় যাবেন? তখন আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কিছু করার নেই। 

তবে জ্বর-কাশি হলেই যে আপনার করোনাভাইরাস তেমন কোনও কথা নেই। আর করোনাভাইরাস হলেই যে আপনি মরে যাবেন, তাও নয়। বরং সাধারণ জ্বর নিয়ে পাঁচটি হাসপাতালে ঘুরলে হয়রানি আর চিকিৎসাহীনতার আতঙ্কে আপনি সত্যি অসুস্থ হয়ে পড়বেন। হয়তো করোনা ছাড়াই সাধারণ জ্বর নিয়ে আপনি বাসা থেকে বেরুলেন, কিন্তু পাঁচটি হাসপাতাল ঘুরতে গিয়ে কোথাও থেকে করোনা নিয়ে বাসায় ফিরলেন। তাই অপ্রয়োজনে বা অল্প প্রয়োজনে হাসপাতালে যাওয়ার দরকার নেই। পরিচিত ডাক্তারের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে নিন। সব জ্বরই করোনা নয়। আর আপনারা তো জানেনই, করোনার কোনও টিকা নেই, কোনও ওষুধ নেই। ডাক্তার আপনাকে লক্ষণের চিকিৎসা দেবেন। জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্টের সাধারণ যে ওষুধ সেটা আপনি বাসায় বসেই নিতে পারবেন। নিয়মিত শ্বাসকষ্টের রোগীদের বাসায় ইনহেলার এবং নেবুলাইজার থাকেই। শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে, অক্সিজেন বা ভেন্টিলেশন সাপোর্ট লাগলেই কেবল হাসপাতালে যাবেন। তবে যাওয়ার আগে অবশ্যই জেনে, বুঝে, নিশ্চিত হয়েই যাবেন।

ডাক্তাররা চিকিৎসা না দিয়ে রোগী ফিরিয়ে দিয়েছেন, একাধিক হাসপাতালে গিয়েও চিকিৎসা পাননি; এমন ঘটনা অবশ্যই ঘটেছে; বেশ কয়েকটিই ঘটেছে। কিন্তু এমন ঘটনা দুটি ঘটলে চিকিৎসা পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে ৯৮টি। মানুষ অসুস্থ হলে হাসপাতালে যাবে, চিকিৎসা পাবে; এটা স্বাভাবিক ঘটনা। তাই সেই ৯৮টি স্বাভাবিক ঘটনা জানাজানি হয়নি। হইচই হচ্ছে চিকিৎসা না পাওয়ার দুটি ঘটনা নিয়ে। নিশ্চিত করতে হবে একটি মানুষও যেন চিকিৎসা বঞ্চিত না হয়।

মনে রাখবেন, ডাক্তারকে গালি দিলে কিন্তু সমাধান হবে না। সরকারের গাফিলতির দায় ডাক্তারদের দিয়েও লাভ নেই। আপনি হাসপাতালে করোনা কর্নার বানাবেন না, করোনা চিকিৎসার জন্য আলাদা হাসপাতাল রেডি করবেন না, আলাদা ডাক্তার রাখবেন না; আর রোগীদের লেলিয়ে সেনাবাহিনী বা পুলিশের কাছে পাঠাবেন ডাক্তারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে; এ অন্যায়, ভারি অন্যায়।  প্লিজ ডাক্তারদের জনগণের প্রতিপক্ষ বানাবেন না। আর জনগণও ডাক্তারদের শত্রু ভাববেন না। এতকিছুর পরও আপনারা যখন নিশ্চিন্তে বাসায় ঘুমাচ্ছেন ডাক্তাররা কিন্তু আপনার জন্যই হাসপাতালে বিনিদ্র রাত জাগছে। ২৯ হাজার সরকারি ডাক্তার কিন্তু দায়িত্ব পালন করছেন। অন্য সময় যাই হোক, বিপদের সময় ডাক্তাররা সবসময় সবার আগে থাকেন। গত ডেঙ্গু মৌসুমে ডাক্তাররা জীবন দিয়ে আমাদের প্রাণ বাঁচিয়েছে। করোনার লড়াইয়ে একদম সামনে কিন্তু ডাক্তাররাই। করোনার বিপদের প্রথম ঢেউটা কিন্তু ডাক্তারদের ওপর দিয়েই যাবে। এখন পর্যন্ত দু’জন ডাক্তার করোনা আক্রান্ত হয়েছেন, অন্তত ৫০ জন কোয়ারেন্টিনে আছেন। এরা সবাই কিন্তু রোগী দেখতে গিয়েই ঝুঁকির মুখে পড়েছেন। আর এই অবরুদ্ধ সময়ে অনেক ডাক্তারকে দেখেছি, নিজের দায়িত্বের বাইরে গিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ফেসবুকেই কয়েকশ’ ডাক্তারের মোবাইল নম্বর পেয়েছি। অনেক ডাক্তার নিজেদের নম্বর পাবলিক করে দিয়েছেন, ফোন করলেই সেবা পাবেন।  চেম্বার বন্ধ রাখলে ডাক্তারের ক্ষতি। তারপরও রোগীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে অনেকে চেম্বার বন্ধ রেখেছেন। কিন্তু চেম্বার বন্ধ রাখলেও অনেকেই রোগীদের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ রাখছেন, পরামর্শ দিচ্ছেন। রুটিন চিকিৎসা সীমিত হলেও জরুরি চিকিৎসা কিন্তু চলছে। করোনার এই অবরুদ্ধ সময়েও কিন্তু সব প্রসূতি যথাসময়ে মা হয়েছেন।

করোনা হলে আপনার সন্তানও যখন আপনাকে স্পর্শ করবে না, তখন কিন্তু কোনও না কোনও ডাক্তারই আপনার পাশে থাকবে। এখন আপনার অর্থ যতই থাকুক, চাইলেই কিন্তু এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ডেকে সিঙ্গাপুর চলে যেতে পারবেন না। আপনি যত বড় ভিআইপিই হোন, বাংলাদেশের ডাক্তাররাই আপনার শেষ ভরসা। তাদের ওপর আস্থা রাখুন, ভালোবাসুন। ব্যক্তি ডাক্তারদের ভিকটিম না বানিয়ে ক্ষমতা থাকলে সিস্টেম বদলান। ফোন করার ১০ মিনিটের মধ্যে কেন আপনার বাসার সামনে অ্যাম্বুলেন্স হাজির হয় না, এটা কিন্তু ডাক্তারের দোষ না। অথচ জরুরি সময়ে কিন্তু এমনটাই হওয়া উচিত। আপনি হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরবেন না, অ্যাম্বুলেন্স আপনার জন্য সদা প্রস্তুত থাকবে।

এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন (৩০ মার্চ) জাতীয় ডাক্তার দিবস। বিশ্বের সকল ডাক্তারের জন্য ভালোবাসা। কসাই নয়, আমরা চাই সব ডাক্তার আরও মানবিক হয়ে উঠুন। মানবিকতাই হোক একজন মানুষের ডাক্তার হওয়ার প্রথম শর্ত।

লেখক: হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ

 

/এসএএস/এমএমজে/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

লাইভ

টপ