লকডাউন তুলে নিলে কী হবে?

Send
মামুন রশীদ
প্রকাশিত : ১১:৩৮, এপ্রিল ১৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:৪৪, এপ্রিল ১৫, ২০২০

মামুন রশীদকঠিন প্রশ্ন।  যারা প্রতিনিয়ত সবাইকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা আর ঘরে থাকার কথা বলছেন, তারা নিশ্চয়ই এ কথা শুনে আঁতকে উঠবেন।  বন্ধুরা আবার আমার খবর নিতে শুরু করবেন।
না, আমি কিন্তু লকডাউন তুলে নেওয়ার কথা বলছি না। অর্থনীতির একজন সাধারণ ছাত্র হিসেবে ভাবছি- প্রায় ১৮ কোটি লোকের দেশে প্রায় ২৫/৩০ শতাংশ গরিব বা হঠাৎ গরিবের মধ্যে কি প্রভাব পড়বে লকডাউন তুলে নিলে? অনেক লোক মারা পড়বে?  সংখ্যাটা কত হতে পারে?  আর লকডাউন না তুললে কর্মহীনতায়,  অনাহারে- অর্ধাহারে কী পরিমাণ মারা যাবে বা মৃত্যুর দোরগোড়ায় পৌঁছাবে?
অর্থনীতিতে আমরা সেন্সিটিভিটি অ্যানালাইসিস বা র‍্যাপিড ইম্প্যাক্ট অ্যানালাইসিস (রিয়া) পড়েছি।  এমনকি বিশ্বব্যাংকের আনুকূল্যে একটি বৃহৎ ব্যবসায়ী সংগঠনের জন্য সরকারের কোনও নিয়ন্ত্রণসংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তের প্রভাব বিশ্লেষণের ওপর প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করেছিলাম।  আমি নিশ্চিত,  সরকার চাইলে তার নিজস্ব সংস্থাকে ব্যবহার করেই একটি  র‍্যাপিড ইম্প্যাক্ট অ্যানালাইসিস বা তড়িৎ সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ করে দেখতে পারেন।

অনেকে বেশ কিছুদিন ধরেই  বলছিলেন করোনা অভিঘাতে বাংলাদেশে জান-মালের খুব ক্ষতি হবে না। কিন্তু লকডাউনের প্রভাবে অনেক লোক গরিব থেকে গরিবতর হয়ে পড়বে। ত্রাণের গাড়ি লুট, রিকশায় চড়ে বাজার থেকে বাড়ি ফেরতরত মহিলার বাজারসামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়া দেখে অনেকেই সন্দেহ করছেন লকডাউন বেশিদিন চললে চুরি- সন্ত্রাসের সমস্যা আরও অনেকগুণ বাড়বে।  আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিরাট অবনতি হবে।  ভিক্ষুকে শহর-নগর ভরে যাবে।  কেউ কেউ আবার বলছেন ১৮ কোটির দেশে, হোক না ৫ হাজার লোক আক্রান্ত আর ৫০০ লোক মৃত, (যদিও নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারেন না) দেশে তো এমনিতেই সড়ক দুর্ঘটনায় দিনে ২০/৩০ জন মারা যায়।  লকডাউন বেশিদিন চললে তো ক্ষতি আরও অনেক অনেক গুণ বাড়বে।  অন্যদিকে লকডাউন তুলে নিলে অর্থনীতিতে কর্মচাঞ্চল্য আসলে মানুষ অনেক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবে। আমাদের খাদ্যের বা পণ্যের অভাব নেই, সমস্যা সরবরাহ ব্যবস্থা আর সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা নিয়ে। ত্রাণের টাকা হোক আর নিজের আয় হোক, টাকা আসলেই বিক্রি বৃদ্ধি পাবে।       

আমাকে পাঠক ভুল বুঝবেন না।  আবারও বলছি, আমি মোটেও লকডাউন তুলে নেওয়ার কথা বলছি না। আমাদের অর্থনীতিবিদ ভাই-বোনেরা দেখছি প্রতিনিয়ত সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির পরিমাপ করছেন, অর্থনীতিতে টাকা ঢেলে, কেউ কেউ আবার চাহিদা হ্রাস আর মূল্যস্ফীতির সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়েও টাকা ছাপিয়ে গরিবদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়ার কথা বলছেন।  সুষ্ঠু ত্রাণ বিতরণ ব্যবস্থার উপর আলোকপাত করছেন, এনজিওদের ত্রাণ বিতরণে সম্পৃক্ত করার কথা বলছেন। প্রয়োজনে তাদের কেউ কেউ এই প্রভাব বিশ্লেষণের কাজটিতেও হাত দিতে পারেন।  সংকট যেমন মানুষকে অনেক সময় দিশেহারা করে ফেলে তেমনি অনেক ‘বিয়ন্ড দ্য বক্স’ বা গতানুগতিকতার বাইরের  চিন্তারও খোরাক জোগায়। ১৯৩০, ২০০৮’র সংকট সমাধানের অভিজ্ঞতা ২০২০’র সংকট সমাধানে খুব কাজ নাও করতে পারে।  অভিনব সময় অভিনব বিশ্লেষণেরও দাবি রাখে।  গঁৎ বাধা বক্তব্য শুনে শুনে অনেকেই কিছুটা যে বিরক্ত ও দ্বিধায় আছেন, সেটাও মিথ্যা নয়।

লেখক: অর্থনীতি বিশ্লেষক

/এসএএস/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

লাইভ

টপ