করোনা যেন বাঙালির বিলুপ্তির কারণ না হয়

Send
আবদুল মান্নান
প্রকাশিত : ১৩:৫২, এপ্রিল ২২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৫৪, এপ্রিল ২২, ২০২০

আবদুল মান্নানযে দেশের মানুষ ‘আল্লাহর কসম’ খেয়েছে মরার জন্য, তাদের সরকার কীভাবে বাঁচাবে? না, বাঁচাতে পারবে না। সকলের মৃত্যু হলে কে জানাজা পড়াবে, আর কে দাফন করবে? তার আর প্রয়োজন হবে না, কারণ গত ১৮ তারিখ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা জোবায়ের আহমেদ আনসারীর অসিলায় দেশের সকল মানুষের জানাজা হয়ে গেছে। আর কাফন দাফনের চিন্তা না করলেও চলবে। এখনই কোনও ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে তার কাফন দাফনের জন্য পরিবারেরই কেউ এগিয়ে আসে না, তখনতো এসবের আর বালাই থাকবে না। দেশে শকুন বিলুপ্ত হয়েছিল। তারা হয়তো আবার ফিরবে। পবিত্র মক্কা ও মদিনা নগরীতে এই সময় যখন কারফিউ জারি করা হয়েছে, যেখানে পবিত্র কাবা শরিফে প্রবেশের দরজা বন্ধ করা হয়েছে, যেখানে এ বছর পবিত্র হজ পালন করা হবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে শুধুমাত্র মানুষের জমায়েত বন্ধ করার জন্য, সেখানে এই মাওলানার জানাজায় সরকারের সকল নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে লাখো মানুষ শরিক হয়েছে, যা দেশের বাকি মানুষের জন্য মৃত্যুঝুঁকি অনেকগুণ বাড়িয়েছে, সেখানে এমন মন্তব্য করা মোটেও অযৌক্তিক নয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পূর্ববাংলার পুরনো জেলাগুলোর মধ্যে একটি। ১৭৬৯ সালে এই জেলার পৌরসভা স্থাপিত হয়। অনেক বিখ্যাত মানুষ এই জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। বাংলার বার ভূঁইয়াদের নেতা ঈসা খাঁর জন্ম এই জেলায়। তার শৌর্যবীর্যের কথা ইতিহাস খ্যাত। মোগলরা অনেক চেষ্টা করেও তার আমলে এই অঞ্চল দখল করতে পারেননি। বলা হয় মোগল সম্রাট আকবর তার সেনাপতি রাজা মানসিংকে পাঠিয়েছিলেন এই এলাকা দখল করতে। তিনিও ঈসা খাঁকে পরাজিত করতে পারেননি। তার মৃত্যুর পরই এই এলাকা মোগলদের দখলে আসে। এই জেলায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন নবাব সৈয়দ শামসুল হুদা, যিনি একাধারে ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক, কলকাতার প্রথিতযশা আইনজীবী আর রাজনীতিবিদ। তার জুনিয়র হিসেবে তার সঙ্গে কাজ করতেন ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ, যিনি পরবর্তী সময়ে ভারতের রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন। উপমহাদেশের প্রথিতযশা ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর বাড়ি এই জেলায়। তার বাড়িতে তার নিজস্ব ব্যবহার্য অমূল্য সব জিনিসপত্র দিয়ে একটি সংগ্রহশালা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। ২০১৬ সালের ২০ জানুয়ারি একদল অর্ধশিক্ষিত মাদ্রাসা ছাত্র সেই সংগ্রহশালাটির সকল মূল্যবান সংগ্রহ পুড়িয়ে দিয়েছিল। অথচ ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ একজন অত্যন্ত পরহেজগার মুসলমান ছিলেন। কবি আল মাহমুদ, সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা জেনারেল নাসিমের জন্ম এই জেলায়। এক সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সংগীতের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। কিন্তু এসব অতীতের কথা যে অতীত এখন অনেকটা ধূসর।

১৯৮৪ সালে বৃহত্তর কুমিল্লাকে ভেঙে ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে পৃথক জেলা করা হয়। তখন হতেই এই জেলা অনেকটা তার পূর্বের গৌরব হারাতে শুরু করে, যদিও এই জেলায় এখনও অনেক ভালো মানুষ আছেন, যারা বর্তমান সময়ের অনেক ঘটনা দুর্ঘটনার কারণে কোণঠাসা। এই জেলা এখন অনেকটা মৌলবাদীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এক বর্গকিলোমিটারের মধ্যে কয়েক গণ্ডা কওমি মাদ্রাসা। স্কুলের সংখ্যা হাতে গোনা যায়। একাত্তরের ঘাতক শিরোমণি গোলাম আযম এই জেলার সন্তান। ইসলামী ঐক্যজোটের নেতা ফজলুল হক আমিনীকে এই জেলা হতে নির্বাচিত করে এনে খালেদা জিয়া ২০০১ সালে চারদলীয় ঐক্যজোটের সংসদ সদস্য বানিয়েছিলেন। আমিনীর নেতৃত্বে তার সাগরেদরা আওয়াজ তুলেছিল—‘আমরা সবাই তালেবান বাংলা হবে আফগান’। এই জেলায় প্রতি মাসে গড়ে একটি আন্তঃগ্রাম টেঁটা বল্লমের যুদ্ধ হয় সামান্য বিষয় নিয়ে। হতে পারে তা বাচ্চাদের মাঠের ক্রিকেট খেলা অথবা চায়ের দোকানের আড্ডাকে কেন্দ্র। ক’দিন আগে একদল মানুষ একজনের পা কেটে নিয়ে বেশ আনন্দের সঙ্গে মিছিল করেছে। দু’দিন আগে ধান মাড়াই নিয়ে দুই দল গ্রামবাসীর মধ্যে একই কায়দায় সংঘাত হয়ে বেশ ক’জন আহত হয়েছে। বর্তমানে এই সংসদীয় এলাকার নির্বাচিত সংসদ সদস্য বিএনপির উকিল আবদুল সাত্তার, আর সংরক্ষিত মহিলা আসনে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। রুমিন ফারহানার পিতা অলি আহাদ একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ ছিলেন এবং ছাত্রজীবন হতে বঙ্গবন্ধুর খুব কাছের মানুষ ছিলেন। ১৯৪৮ সালে যখন পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ গঠিত হয়, তখন অলি আহাদ ছাত্রলীগের মাঝখানে মুসলিম শব্দটি থাকার কারণে বেশ ক্ষুব্ধ ছিলেন। তার মতে এতে দলের ধর্মনিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হবে।

দেশ যখন কোভিড-১৯ নামের এক ভয়ঙ্কর মহামারির সঙ্গে টিকে থাকার জন্য যুদ্ধে লিপ্ত, যখন বিশ্বের সকল বিশেষজ্ঞ বলছেন যেহেতু এই মহামারির কোনও ওষুধ এখনও আবিষ্কৃত হয়নি, আপাতত এই রোগ হতে বাঁচার প্রধান উপায় হচ্ছে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলা, আর কোনও জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়া। 

কে এই মাওলানা আনসারী? পত্রপত্রিকায় তার পরিচয়ে বলা হয়েছে তিনি একজন ইসলামিক বক্তা। বছর দুয়েক ধরে বাংলাদেশে তথাকথিত ইসলামিক বক্তার একপ্রকার প্রাদুর্ভাব হয়েছে। এদের পুঁজি হচ্ছে এরা দুয়েক লাইন আরবি মুখস্থ বলতে পারে, তারপর তার একটা অনুবাদ শ্রোতাদের শোনায়। তাদের সুবিধা হচ্ছে সামনে যারা বসে থাকেন তারা বেশিরভাগই সাধারণ ধর্মভীরু মুসলমান, মনে করে হুজুর যেহেতু তার মূল বক্তব্যটা আরবিতে বলেছেন, সেহেতু এটি আল্লাহ বা রাসুলের বাণী ছাড়া অন্য কিছু নয়। তাদের অনেকেই জানেন না ভাষা হিসেবে আরবি কয়েক হাজার বছরের পুরনো এবং পবিত্র কোরআন শরিফ মক্কায় নাজিল হয়েছিল বলে তার ভাষাও আরবি। সামনে বসা শ্রোতারা এসব তথাকথিত হুজুরের বক্তব্য সরল মনে বিশ্বাস করে। একজন শ্রোতাদের বুঝায় করোনার সঙ্গে তার আড়াই ঘণ্টা ইন্টারভিউ হয়েছে, একজন বলে তার কাছে করোনার রোগ ভালো করার ওষুধের ফর্মুলা আছে। আরেকজন রকেটে করে এক জায়গা হতে অন্য জায়গায় যাতায়াত করে। একজন উপগ্রহের মাধ্যমে ঝাড়ফুঁক করেতো, অন্যজন খদ্দরের কপালে খেলনা পিস্তল ঠেকিয়ে ঝাঁড়ফুঁক করে। অন্য একজন চাপাবাজ বলে করোনা ইহুদি নাসারাদের রোগ। এটি মুসলমানদের হবে না। হলে কোরআন মিথ্যা হয়ে যাবে। নাউজুবিল্লাহ্। এদের মাথায় এটুকু বোঝার ক্ষমতা নেই যে, এই রোগের ওষুধ আবিষ্কার করার জন্য এই ‘ইহুদি নাসারারা’ গবেষণা করছেন, কোনও ভণ্ড চাপাবাজ নয়। একজন আবিষ্কার করে ১৯৭১ সালে বাংলাকে মাতৃভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য হাজার হাজার মানুষ রক্ত দিয়েছে। এক মাহফিল হতে আরেক মাহফিলে যাওয়ার বাহন হেলিকপ্টার। একেকটিতে ফি নেন কমপক্ষে লাখ টাকা। এদের বেশিরভাগের নামের শেষে দীর্ঘ ইকার থাকে। কোন প্রকৃত ইসলামি চিন্তাবিদকে এসব ভণ্ডামি করতে দেখা যায় না। মাওলানা আনসারী মৃত্যুর কিছুদিন আগে একটি মাহফিলে বলেছিলেন, যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন তাকে করোনা আক্রমণ করতে পারবে না। তার সামনে বসা শ্রোতারা বেশ আশ্বস্ত হয়েছিলেন, কারণ অন্যদের মতো এই আনসারী কোনও কিছু বলার আগে একটু আরবি বলে নেন। শ্রোতারা ধরে নেন আরবিতে যা বলা হয়, তার সবই কোরআনের বাণী। বুঝতে পারেন না একজন আরব অন্য আরেকজন আরবকে গালাগাল করতে হলে তা আরবিতেই করবে, অন্য কোনও ভাষায় নয়। 

আনসারী মারা যাওয়ার পর লক্ষাধিক মানুষ তার যে জানাজায় অংশ নিয়েছে, তা নিয়ে দেশে এবং দেশের বাইরের মিডিয়ায় বেশ আলোচনা হচ্ছে। জানাজায় অংশ নিতে কমপক্ষে পাঁচ জেলা হতে তার অনুসারীরা এসেছে, যা বন্ধ করতে প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে সরাইল থানার ওসিসহ বেশকিছু পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে একজন ওসিসহ এসব নিম্ন পদের কর্মকর্তার পক্ষে কী করা সম্ভব ছিল? একটি কাজ তারা করতে পারতেন, আর তা হচ্ছে বিষয়টি আগেভাগে উপরের প্রশাসনকে জানানো। কিন্তু জানা গেছে আগের দিন এই উপরের প্রশাসনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ মানুষ আইনমন্ত্রীর মায়ের জানাজায় উপস্থিত থাকার জন্য তাদের কর্মক্ষেত্রে ছিলেন না। আইনমন্ত্রীর মায়ের জানাজাটাও সরকারি বিধিনিষেধ মেনেই করা হয়েছিল, কিন্তু তারপরও গুজব রটনাকারীরা ফটোশপ করে সেই জানাজাকে বড় করে দেখিয়ে বলেছে—তিনি যদি তার মায়ের জন্য এত বড় জানাজার আয়োজন করতে পারেন, তাহলে আনসারীর মতো একজন ‘কামেল’ মানুষের জন্য জানাজা বড় হলে অসুবিধা কী। বাংলাদেশে এই মুহূর্তে করোনার চেয়েও বড় শত্রু হচ্ছে গুজব। তবে যে কোনও উপলক্ষেই জনসমাগম এড়ানোর জন্য সকলকে আরও সতর্ক থাকতে হবে, বিশেষ করে সরকারি দল ও প্রশাসনে যারা আছেন তাদের।

অনেকেই হয়তো এটি বুঝতে পারছেন না, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এই মুহূর্তে একটি বড় ধরনের ষড়যন্ত্র চলমান। যারা এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত, তারা সকলেই চেষ্টা করছেন কীভাবে এবং কতভাবে একজন শেখ হাসিনাকে কোণঠাসা করা যায়, এখানে সরকারের কথা বলছি না। বর্তমান করোনার যুদ্ধে একজন শেখ হাসিনা একাই লড়ে যাচ্ছেন, তার ধারেকাছে সরকারের যারা আছেন, তারা অনেকটা অন্তর্ধানে চলে গেছেন। সবকিছু দেখেশুনে মনে হয়, আরেকটা এক-এগারোর ক্ষেত্র প্রস্তুত করার জন্য একটি অদৃশ্য শক্তি কাজ করছে। শেখ হাসিনা যাদের ওপর আস্থা রাখেন, তাদের অনেকের কাজেও সন্দেহ জন্ম দিয়েছে স্বাভাবিক কারণে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে। সেটির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব নয়। সেই ফোনালাপে জামায়াতের এক শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকে শোনা যাচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইসলামী ঐক্যজোটের এক নেতাকে নির্দেশ দিতে, কীভাবে আনসারীর জানাজায় সরকার ঘোষিত লকডাউনকে উপেক্ষা করে মানুষ জড়ো করতে হবে এবং সরকারকে তাদের শক্তি দেখিয়ে দিতে হবে। এটির সঙ্গে গার্মেন্টস মালিকদের নির্দেশে লাখ লাখ শ্রমিক শত মাইল পাড়ি দিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম বা নারায়ণগঞ্জ আসার এবং ফেরত পাঠানোর মধ্যে খুব বেশি তফাৎ দেখি না। করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ঢাকা, নারায়ণগঞ্জে বেশি, তারপর গাজীপুরে।

বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল গং প্রায় সময় জিকির তোলেন বর্তমান সমস্যা মোকাবিলা করার জন্য একটি সর্বদলীয় জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন করা প্রয়োজন। ক’দিন আগে বিএনপির এক নেতা, যিনি কিনা আগে ছাত্রলীগের একজন বড় মাপের নেতা ছিলেন, তিনি এক টিভি টকশোতে বললেন সরকারের উচিত সব মসজিদের দরজা আবার পূর্বের মতো খুলে দেওয়া। তথাকথিত জাতীয় টাস্কফোর্স করলে কী হতে পারে, তা সহজে বুঝা যায়।

ভণ্ড যে শুধু বাংলাদেশে আছে, তা নয়। ভারতে হাজার হাজার মানুষ লকডাউন উপেক্ষা করে বিভিন্ন পূজা-পার্বণে শরিক হচ্ছেন। তামিলনাড়ুতে একটি গরুর শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছে কয়েক হাজার মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রের লস এনজেলসে লকডাউন সংবিধানের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী বলে কয়েক হাজার মানুষ রাস্তায় বের হয়ে পড়েছিল। সর্বশেষ খবরে দেখা গেছে সেখানে হাজারের ওপর মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমান অবস্থা চলতে থাকলে বাংলাদেশে বাঙালির অস্তিত্ব বিপন্ন হতে বেশি সময় লাগবে না। প্রার্থনা করি মানুষের বোধোদয় হোক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া আবার তার হৃত গৌরব নিয়ে ফিরে আসুক, জন্ম নিক আরেকজন সৈয়দ শামসুল হুদা বা ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ। করোনা যেন বাঙালির বিলুপ্তির কারণ না হয়। আল্লাহ সকলকে হেদায়েত করুক।

লেখক: বিশ্লেষক ও গবেষক

 

/এসএএস/এমএমজে/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

লাইভ

টপ