স্বপ্ন আর সাহসই এ যাত্রার নতুন অস্ত্র...

Send
ফাহমিদা নবী
প্রকাশিত : ১৬:১৪, মে ১৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:১৫, মে ১৯, ২০২০

ফাহমিদা নবীএকেক মানুষের জীবন, জীবনের অভ্যস্ততায় ভিন্নতায় জীবনযাপন করে। কারও একটু বেশি কিছু প্রয়োজন, কারও একটু কম, আবার কারও খুবই নিমিত্তেই চলে।
যেকোনও বিষয়ে দেখেছি সমস্যা সমাধানে তিন দিন ভাবতে ভাবতেই একটা সমাধান বিধাতার তরফ থেকে পেয়েই যাই।
সার্বিকভাবে দেখা যায়, সমস্যায় পড়লে সেই মুহূর্তে মনে হয় কত বড় ক্ষতিতে আছি, কিন্তু সেই সময়টা পার হয়ে গেলে ক্ষত সময়টা আর ফিরে আসে না, ভালোটাই ফিরে আসে।
এই মুহূর্তে আমাদের চিন্তা ভাবনা কিংবা করণীয় কী?

কারণ, যেকোনও কিছুর শেষ মানেই নতুন একটা শুরু। এই শুরুটা কেমন করে শুরু করছি তার ওপর জীবনের অনেক কিছুই নির্ভর করে।

প্রথমত সাবধানতার সঙ্গে একটু একটু করে এগিয়ে যাওয়া। পুরো বিশ্বই এখন আর ভয়ের জায়গাতে নেই। যেভাবেই হোক না কেন কাজকর্ম শুরু করেছে। হয়তো সামনে খাবারের দোকানগুলো খুলে দেবে। মানুষের ভিড় এবং করোনার একসঙ্গে চলাচল শুরু হবে।

আমরা সচেতনতায় পজিটিভ ভাবনায় থাকতে চাই। কারণ, যুদ্ধ যখন শুরু হয় ধাপে ধাপে, যোদ্ধারাও জয় করতে শিখে যায়। বুদ্ধি, খাপ খাওয়ানো এবং হাল ছেড়ো না খাতায় নাম লিখে ফেলে। করোনা পৃথিবীর যান্ত্রিকতাকে, ব্যস্ততাকে থামিয়ে দিয়ে গৃহবন্দি করেছে যেমন, মানুষও শিখে গেছে বাঁচতে তেমনি করে। প্রত্যেক মানুষ বাঁচতে চায় এ সত্যটা মানুষের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। বাঁচার আশায় মানুষ নানাভাবে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেয়, বাঁচার পথটাকে পরিষ্কার করে আলো দেখতে শুরু করেন।

বর্তমানে প্রত্যেক দেশেই কমে এসেছে করোনায় মৃত্যুর হার। হয়তো হেরফের হয়, মাঝে মধ্যে। কিন্তু করোনা চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন ডাক্তাররা। ভয়টা চলে গেছে। সাহসী হয়েছে মানুষ, আমার মনে হয় সাহসটাই এক ধরনের আশার আলো। এই ভাইরাসের ভ্যাকসিন বের হতে হতে কতদিন কতটা বছর লাগবে জানা নেই। তাই করোনার সঙ্গে অনাক্রম্য হয়ে মোকাবিলা করছে মানুষ। এই মুহূর্তে মানুষের সবচেয়ে বড় সমস্যা জীবিকা!

সেই সমাধানে মানুষ আর পিছিয়ে পড়তে চাইবে না। দিনশেষে তিনবেলার পেটের দায়কে কেউ উপেক্ষা করতে পারে না। একটা সমাধানের নিমিত্তে চাকা চলবেই। সেই ভরসার চাকাকে আমরা কতটা মানবিকভাবে চালানোর চেষ্টা করবো বা করছি তা-ই বিবেচ্য বিষয়।

আমাদের অনেক বেশি সচেতনতায় মানবিকতায় এবং খুব সামান্যতে চলতে হবে সামনের দিনগুলোতে। যেমন করে তিন মাসে শিখে গেছি অনেক কিছুই সম্ভব, যা অসম্ভব মনে হতো একসময়।

আমাদের সামনের দিনগুলোতে বিশ্বাস রাখতে হবে উন্নত দেশগুলোর মতো নতুন উদ্ভাবন, চিন্তার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বিষয়টিতে।

আজকের থমকে যাওয়া সময়ে যদি অনলাইনের সঙ্গে পরিচয় না থাকতো তাহলে পুরো বিশ্ব অচল হয়ে যেতো! কিন্তু আমরা নতুনের সঙ্গে পথে পথে এগিয়ে পুরো বিশ্বকে পাচ্ছি হাতের মুঠোয়। অনলাইনে চাকরি করছি, সবকিছুতেই নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারছি আরও বেশি।

পাশাপাশি সামাজিকতায় আমাদের অনেক বেশি মানবিক হতে হবে। প্রকৃতিকে বাঁচাতে আরও রক্ষণশীল হতে হবে। প্রকৃতি বাঁচলে বাঁচবে মানুষ।

আমাদের বাক্সবন্দি মানসিকতাকে ছেড়ে বাক্স খুলতে হবে, নতুন কিছুর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। ভালো থাকার জন্য যে তিন মাসের শিক্ষা, সেটার একটা ফল পাওয়া যাবে। আশার আলোটা জ্বেলেই সামনের দিকে আগাতে হবে। মানসিক চাপ কমাতে আমাদের  মোটিভিশনে মনোনিবেশ করতে হবে। বাচ্চাদের সঙ্গে বাবা-মায়ের দূরত্ব কমাতে হবে। পরিবারের সঙ্গে বসবাসে বোঝাপড়ায় উদাসীন হওয়া যাবে না।

ভালো থাকার জন্য হাসি-খুশি থাকতে হবে এবং সর্বোপরি খুব অল্পে তুষ্ট থাকতে হবে।

করোনা আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছে নতুন এক পৃথিবীকে স্বাগত জানাতে আমাদের নতুন করে শুরু করতে হবে জীবন।

যে জীবন নির্বাহে খুব নিমিত্তে চলার গল্পটা আমরা জেনে গেছি।

এমন অজানা যুদ্ধে কিছু স্বপ্ন হারিয়ে যায় মৃত্যুর মিছিলে, আবার কিছু স্বপ্নকে বাঁচিয়ে জীবনে চলার পথে বিভিন্ন সময় অনাকাঙ্ক্ষিত অনেক বিষয়ের সম্মুখীন হতে হয়, আমরা জেনেছি তা। মনে রাখতে হবে স্বপ্ন আর সাহসই এ যাত্রার নতুন অস্ত্র।

আমরা যে যার অবস্থান থেকে যার যার মতো করে অনেক কিছু ভেবে নিতে পারি। কিন্তু দিন শেষে আমাদের চাওয়াগুলো, আমাদের উপলব্ধিগুলো যদি এক জায়গায় এসে থামে তবে সেখানেই কিন্তু আমাদের সার্থকতা।

লেখক: সংগীতশিল্পী

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

লাইভ

টপ