আম্পানের আঘাত ও লোনাপানির জলোচ্ছ্বাস

Send
স্বদেশ রায়
প্রকাশিত : ১৪:২১, মে ২৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:২২, মে ২৪, ২০২০

স্বদেশ রায়২০ তারিখ রাত সাড়ে আটটার দিকে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ গ্রামের ডাক্তার শংকর সরকারকে ফোন করে ঝড়ের অবস্থা জানতে চাইলে তিনি বললেন, ঝড়ে ইতোমধ্যে তার বিশাল বাঁশ ঝাড়ের বাঁশগুলোর মূল সহ উপড়ে ফেলেছে। বাঁশ বাস্তবে এক প্রকার ঘাস। ঘাসের মতো এত সহজে নুয়ে পড়তে পারে আবার মাটিতে এর শিকড়ও বেশ শক্তভাবে আটকানো থাকে। আম্পানের ধাক্কায় সেই বাঁশ গাছ যখন উপড়ে পড়েছে তখন আর বুঝতে বাকি থাকে না ঝড়ের তীব্রতা কত। সাতক্ষীরার আরো কিছু সংবাদ নেওয়ার জন্যে ফোন করি, মোবারক, শিমুল ও বশিরকে। তারা সকলেই বলেন, ঝড় যেভাবে তিনটি ধাক্কা দিয়েছে, এভাবে আরো দু একটা ধাক্কা যদি দেয় তাহলে অনেক শক্ত ঘরও থাকবে না।
আম্পান সরাসরি সাতক্ষীরায় আঘাত করেনি এটা পশ্চিমবঙ্গের সাগর দ্বীপে আঘাত করে তারপরে তাদের অংশের সুন্দরবনে আঘাত করে পরে আমাদের অংশের সুন্দরবনের দিকে আসে এবং জনপদের মধ্যে সব থেকে বেশি শক্তি নিয়ে আঘাত করে সাতক্ষীরায়। সাগর দ্বীপে যখন আঘাত করে তখন কলকাতাতেও বেশ বড় আকারের ঝড় ছিল অর্থাৎ ১৩০ কিলোমিটার বেগে। কলকাতায় যখন এই ঝড় ১৩০ কিলোমিটার বেগে আঘাত করছে তখন সাতক্ষীরার শ্যামনগর, খুলনার কয়রা ও পাইকগাছায় এর গতিবেগ ১৬০ এর কাছাকাছি। শ্যামনগর ও কয়রায় যতজনকে ফোন করি তাদের সকলেরই উদ্বেগ ছিল বেড়ি বাঁধ নিয়ে। কারণ, তারা সাগরের ও সাগরবাহী নদীর পাশের মানুষ। বাতাসের ডাক ও পানির ডাক শুনলেই বুঝতে পারেন, কতটা ভয়াবহ হবে এটা। তাছাড়া ওই দিনটি ছিল অমাবস্যার আগের দিন। যাকে চতুর্দশী বলে। সাগরের পানির গতি প্রকৃতি যারা জানেন তারা সকলেই জানেন, অমাবস্যা ও পূর্নিমার দুই দিন আগে ও দুই দিন পরে সাগর তার সাগরবাহী নদীগুলোতে অনেক বেশি জোয়ারের পানি পাঠায়। এটা জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিষয়। তবে একটি বিস্ময়কর বিষয় হলো মানুষের ধারাবাহিক অভিজ্ঞতা। বন্যার রিপোর্টিং করতে গিয়ে যেমন দেখেছি, আবহাওয়াবিদদের থেকে পদ্মা পাড়ের, যমুনা পাড়ের মানুষ অনেক সঠিক বলতে পারেন, কবে কখন কীভাবে পানি বাড়বে আবার কোনদিন থেকে পানি নামা শুরু হবে। ১৯৮৪, ১৯৮৮, ১৯৯৮ সালের বন্যার রিপোর্ট  করার সময় দেখেছি, গ্রামের ওই অভিজ্ঞ মানুষেরা পানির গতি প্রকৃতি অনেক সঠিক বলতে পারেন আবহাওয়াবিদদের থেকে। আমি কোনও ক্রমেই আবহাওয়াবিদদের খাটো করছি না, তাদের জ্ঞানের অবমূল্যায়ন করছি না। তবে প্রতিটি দেশের প্রতিটি জনপদে দেখা যায়, মানুষের তার এলাকার প্রতিটি বিষয় নিয়ে এক ধরনের অভিজ্ঞতা থাকে। এটা তারা পুরুষানুক্রমে পেয়ে থাকে। এই শত শত বছরের অভিজ্ঞতা যে অনেক বেশি সঠিক সেটাই বলছি।

এবারও আম্পানের দুই তিনদিন আগে থেকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর, খুলনার কয়রা, পাইকগাছা, বাগেরহাটের মোংলা বন্দরের কাছাকাছি জনপদের যত মানুষের সঙ্গে কথা বলেছিলাম, সকলেরই বক্তব্য ছিল এবার ঝড়ের থেকে পানি ভোগাবে বেশি। কারণ, ঝড় এখন আর এসব এলাকার মানুষের ঘর বাড়ির খুব বেশি ক্ষতি করতে পারে না। কারণ, আগের থেকে এখন মানুষের ঘরবাড়ি অনেক উন্নত। কাঁচা মাটির ঘরের সংখ্যা এখন খুবই কম। গ্রামীন সেই দারিদ্র্য এখন আর নেই। তাই এখন ঝড়ে ঘর পড়ে কম। আগের মতো এখন কিন্তু আর ঘূর্নিঝড় হলে ওইভাবে ঘর চাঁপা পড়ে মানুষ মারা যাওয়ার ঘটনা বেশি ঘটে না। তার থেকে বেশি ঘটে গাছ চাপা পড়ে মানুষ মারা যাওয়ার ঘটনা। তাছাড়া এখন আবহাওয়া দফতর উন্নত হওয়ায়, গোটা পৃথিবী থেকে এসব ঘূর্নিঝড়ের আগামবার্তা প্রচার হওয়ায়, মানুষ সাবধান হওয়ার সুযোগ পায় অনেক বেশি। তাই বাস্তবে এখন যত মানুষের কথা বলা হয়, অত মানুষ সাইক্লোন সেন্টারে যায় না। এ কারণে এখন সাইক্লোন সেন্টার যে তৈরি করতে হবে না তা নয়। এটা বাড়াতে হবে। বহুমূখী কাজে ব্যবহার হবে এমন সাইক্লোন সেন্টার তৈরি করতে হবে ঠিকই তবে তার সঙ্গে সঙ্গে বেশি জোর দেওয়া দরকার, গ্রাম এলাকার বাড়ি ঘরগুলো তৈরি একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আনা। ইউনিয়ন পরিষদে একটি ঘরবাড়ি নির্মাণের রেগুলেটারি বডি করার প্রয়োজন রয়ে গেছে। তাছাড়া কৃষি জমি রক্ষার জন্যে গ্রামের বাড়ি ঘর ধীরে ধীরে ভার্টিকাল পদ্ধতিতে নিয়ে আসা দরকার। শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় যখন দেশ এসে যাচ্ছে তখন গ্রামের বাড়িগুলোকে  এই জনঘনত্বপূর্ণ দেশে কীভাবে টেকসই করা যায় তার জন্যে মাস্টার প্ল্যান নেওয়া দরকার। কারণ, এখন আর আলো, বাতাস ও পানি সরবরাহ নিয়ে চিন্তা নেই। বিদ্যুতের সাহায্যে শহরের মতই এগুলো মেটানো যাবে। তাই বাড়ি ঘরগুলো টেকসই হলে- বারবার এই যে বন্যা এবং ঘূর্নিঝড় হয় এগুলোর বিপদ থেকে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই রক্ষা পাবে। এ কারণে সাইক্লোন সেন্টারের থেকে এখন বেশি প্রয়োজন টেকসই গ্রামীন বাসস্থান গড়ে তোলা।

বাসস্থান টেকসই হলে মানুষ ঝড়ের হাত থেকে রক্ষা পাবে। যেমন রাত নয়টার দিকে যখন ঝড় বাগেরহাটে প্রবেশ করেছে বেশ বড় ভাবে তখন বাগেরহাট শহরের এক স্কুল শিক্ষিকাকে ফোন করে জানতে চাই, ঝড়ের গতি কেমন, তিনিও কেমন আছেন। তিনি খুব নির্বিকার চিত্তে বললেন, ভালোই ঝড় হচ্ছে, তিনি ব্যালকনিতে বসে ঝড় ও বৃষ্টি দেখছেন। একই ঝড়ে যে সময়ে মানুষ সাইক্লোন সেন্টারে কষ্ট পাচ্ছে সে সময়ে আরেকজন নিশ্চিন্ত মনে বাসায় বসে ঝড় ও বৃষ্টি দেখছেন। তাই সবাই যাতে ঝড়ে নিজ নিজ বাসস্থানে এমন নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন সেই চিন্তা ও উন্নয়নকে সেভাবে এগিয়ে নিতে হবে। সাইক্লোন সেন্টার গড়া, দরিদ্র মানুষ তাদের হাড়ি পাতিল ছাগল, হাস মুরগী নিয়ে সেখানে উপস্থিত হবে অতীতের এই ধারণা থেকে বের হয়ে আসার মনে হয় এখন সময় হয়েছে। অনেকে হয়তো মনে করতে পারেন, করোনায় যেখানে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্থ করছে সে সময়ে এ ধরনের কথা মানায় না। এক্ষেত্রে বলা যায়, করোনাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে যদি আরো এক দুই মাস লকডাউনের প্রয়োজন পড়ে তাতেও বাংলাদেশের অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যাবে না। করোনা পরবর্তী এক বছরের ভেতর অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানো শুধু নয় জোরে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে যদি সঠিক পথে পরিচালনা করা হয়। বিশেষ করে প্রধামন্ত্রী যে প্রণোদনা দিয়েছেন এগুলো যদি লুটেরারা লুটে না খায়।

যাহোক, আম্পানে সাতক্ষীরা ও খুলনার ওই অংশে ঝড়ের আঘাতটা মূলত গিয়েছে সুন্দরবনের ওপর দিয়ে। সুন্দরবনের একটি ক্ষয়ক্ষতির হিসাব ইতোমধ্যে বনবিভাগ দিয়েছে।  কাছাকাছি সময়ের ভেতর ১৯৮৮ সালের ঘূর্নিঝড়ে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয় সুন্দরবন। ওই সময়ে ঝড়ের পর পরই সুন্দরবনের ভেতর ও তার আশে পাশে গিয়ে ছিলাম রিপোর্ট করার জন্যে। আম্পানের একদিন আগে বা পরে বন্ধু চিত্র পরিচালক সুব্রত সেন তার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে জানায় সে সময়ে সেও পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবনের ভেতর গিয়েছিলো ঝড়ের পরের দিনই। তার দেখা অনেক ঘটনা সে উল্লেখ করেছে। সুব্রত’র ওই রিপোর্টের পরে তাদের রাজ্য সরকারের মন্ত্রীরা তাকে বলেছিলেন, তোমার রিপোর্ট না পড়লে আমরা জানতে পারতাম না বাস্তবে সুন্দরবনের ভেতর কী ক্ষতি হয়েছে। ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশে সামরিক সরকার ছিল। তাই সে সময়ে আমাদের লেখা ও রিপোর্টের কোনও গুরুত্ব সরকারের কাছে ছিল না। তবে সেদিনের বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনা ঝড় বিধ্বস্ত এলাকায় গিয়েছিলেন। তিনিই একমাত্র নেতা সেখানে যান আর কেউ যাননি। যাহোক, সেদিন সুন্দরবনে ও তার আশেপাশের গ্রামে ঘুরে যে চিত্র পেয়েছিলাম তাহলো জঙ্গলে অসংখ্য গাছ নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো। আর মারা পড়েছিলো বাঘ থেকে শুরু করে নানান প্রজাতির পশু ও পাখি। সেবারও সরকারি হিসাবে এর কোনও পরিসংখ্যান ছিল না। এবার কী অবস্থা তা এখনও সঠিক জানা যাচ্ছে না। কারণ, এবার করোনার কারণে ওইভাবে অভিজ্ঞ রিপোর্টারা সুন্দরবনের অভ্যন্তরে ঝড়ের পরে যাননি। তবে সুন্দরবনের ও তার জীব বৈচিত্রের যে বড় ক্ষতি হয়েছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। এ ক্ষয়ক্ষতি চিহ্নিত করে দ্রুত কীভাবে কাটিয়ে তোলা যায় তার জন্যে সরকারকে একটি পরিকল্পনা অবশ্যই নিতে হবে। কারণ, বার বারই আমরা বুঝতে পারছি সুন্দরবন বাঁচিয়ে রাখা ও বৃদ্ধি করা ছাড়া অন্য কোনও বিকল্প আমাদের হাতে নেই। তাই সুন্দরবনের স্বার্থে এখন আরও অনেক কিছুর ছাড় দেওয়ার প্রয়োজন আছে কিনা সেগুলোও ভাবতে হবে।

সর্বশেষ আসে জলোচ্ছ্বাসের বিষয়টি। সুন্দরবনের এই জলোচ্ছ্বাস ঠেকাতে ষাটের দশকে ওয়াপদার যে বাঁধ দেওয়া হয় সেই বাঁধ এখন বহুমূখী কাজে ব্যবহার হচ্ছে। বিশেষ করে এই সব বাঁধের ওপর দিয়ে এখন যানবাহন চলছে। এ অবস্থায় বাঁধগুলোতে কোনও ধরনের পরিবর্তন আনা দরকার কিনা সেটা এখন বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরিমাপ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার। উপকূলীয় এলাকার এই সাগরবাহী নদীগুলোর বাঁধের ক্ষেত্রে সব থেকে বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে, বাধের বাইরে পর্যাপ্ত জমিতে এখন আর বন নেই। যখন এই বাঁধ করা হয় তখন বাঁধের বাইরে পর্যাপ্ত জমি রাখা হয়েছিলো এবং সেখানে পানিতে জন্মে এমন গাছের বনায়নের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিলো। বাস্তবে বাধের বাইরে গাছ বা গোলাপাতার বন না থাকলে জলোচ্ছ্বাসের ধাক্কা শুধু নয় বড় বড় জোয়ার ভাটার ধাক্কা থেকে এই বাধ রক্ষা করা সম্ভব নয়। ষাটের ও সত্তর দশকে নদীপাড়ে এ সব এলাকায় যথেষ্ট গাছপালা ও পানিতে জন্মানো ঝোপঝাড় ছিল। এখন কিছুই নেই। মানুষ সব কেটে নিয়েছে। খুলনার পাইকগাছা এলাকার একজন বামপন্থী জনপ্রতিনিধি একবার আমার কাছে এসেছিলেন, তার একটি প্রকল্প নিয়ে। তিনি চেয়েছিলেন, সুন্দরবনে জন্মায় এমন গাছের ফল এনে তিনি নদীকূলে নার্সারি করবেন। এর পরে ওই চারা থেকে তিনি নদীকূলে বনায়ন করবেন। পরে শুনেছি ওই জনপ্রতিনিধি জমাজমি ও মাছ চাষ নিয়ে এত ব্যস্ত হয়ে পড়েন যে তার আর এগুলো করার মতো সময় নেই। যাহোক, তিনি এখন কোথায় আছেন জানি না। তবে বর্তমানে যারা জনপ্রতিনিধি এদের বেশিভাগ রাজনীতির ভেতর দিয়ে বেড়ে ওঠেননি। তাই দেশ ও মানুষের সমস্যা সম্পর্কে তারা খুব একটা কিছু জানেন না আর এগুলো নিয়ে মাথা ঘামানোর থেকে অন্য কাজে ব্যস্ত থাকেন বেশি। অবশ্য জন প্রতিনিধিদের বাদ দিয়ে এ কাজ কীভাবে হবে জানি না! তবে, নদীকূলের এই বনায়ন ছাড়া বাঁধ রক্ষা করার সত্যি অর্থে কোনও স্থায়ী পথ নেই। তবে এই বনায়নে এখন দুটো বাধা। এক, ফারাক্কা বাঁধের কারণে এখন দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলে আগের তুলনায় বিশভাগও মিষ্টি পানি নদীতে আসে না। বারো মাস নদীতে লবণপানি থাকলে সব গাছ বাঁচে না। তাই আগে যেসব গাছ ও ঝোপঝাড় নদীপাড়ে হতো সেগুলো সব আবার বর্তমানের এই অতিরিক্ত লোনা পানিতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব কিনা সেটা উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরা বলতে পারবেন। তবে যে কোনও মূল্যে হোক বনায়ন করতে হবে। এখন এই বনায়নের দ্বিতীয় বাধা চিংড়ি চাষ, বাধের বাইরে যে অতিরিক্ত জমি রাখা হয়েছিলো সেখানে এখন চিংড়ি চাষ হয়। লবণপানি ধরে রাখা হয় বারোমাস। অথচ এই জায়গাগুলো বনায়নের জন্যে রাখা। এ বিষয়েও একটা সিদ্ধান্তে আসতে হবে।

অন্যদিকে এই বেড়িবাঁধ গুলো ভেঙে যাবার আরো কয়েকটি কারণ আছে। যেমন অধিকাংশ স্থানে চিংড়ি চাষীরা লবণপানি তোলার জন্যে পাইপ বসিয়েছেন বাঁধের নিচ অংশ দিয়ে। তাতে বাঁধ দুর্বল হয়ে গেছে। এছাড়া যেসব জায়গা ভাঙন প্রবন নদী এলাকায় ওই সব স্থানে বাঁধ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও সংস্কার হয় না। এর পেছনে কাজ করে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের একটি অনৈতিক ঐক্য। তারা নিয়মিত টেন্ডার করিয়ে এ কাজগুলো করাতে চান না। তাতে কাজে স্বচ্ছতা থাকে এবং সেখান থেকে তাদের অর্থ তছরূপ করার সুযোগ থাকে না। তারা চায় যে কোনও দুর্যোগে রাস্তাগুলো ভেঙে যাক- তখন জরুরি ভিত্তিতে বিনা টেন্ডারে কাজ করিয়ে সরকারি অর্থ তছরূপ করার সুযোগ থাকে। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় রাস্তা সংস্কার করতে গেলে জমি অধিগ্রহণ করতে হয়। অধিগ্রহণ করতে গেলে তখন জমির মালিক আদালতে এসে স্টে অর্ডার নেন। সেটাও একটা বাধা হয়ে দাঁড়ায়। যাহোক এ সব কোনও সমস্যারই সমাধান অসাধ্য নয়। আর সমস্যা শুধু এগুলোই নয়, ভেতরে ঢুকলে আরো সমস্যা পাওয়া যাবে। কিন্তু এখন প্রশ্ন হলো সমস্যার ভেতরে যাবে কে? কাজটি জনপ্রতিনিধির, তিনি কি সেটা করবেন?    

লেখক: রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক

/এসএএস/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

লাইভ

টপ