যে-ই পারছে, সাংবাদিক মারছে!

Send
শান্তনু চৌধুরী
প্রকাশিত : ১৭:৪০, জুলাই ১৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৩৫, জুলাই ১৭, ২০২০

শান্তনু চৌধুরীকরোনাকালে যখন সবাই জীবন বাঁচানোর জন্য ছুটছেন, নিজেকে কতটা সুরক্ষিত রাখা যায় তা নিয়ে ভাবছেন, সেখানে অলক্ষে বেড়েই চলছে সাংবাদিক নির্যাতন, অন্য সময়ের চেয়ে বেশি। কারণ, দৈব-দুর্বিপাকে একশ্রেণির মানুষ সুযোগ খুঁজতে থাকে কীভাবে অন্যকে ঠকিয়ে নিজে লাভবান হওয়া যায়। সে কারণে এসব সুযোগসন্ধানী মানুষের দুর্নীতির খবর প্রকাশ পেলে তারা সাংবাদিক মারে, ত্রাণচোররা মারে, প্রধানমন্ত্রীর দরিদ্রদের অর্থসহায়তা লোপাটকারীরা মারে, ধর্ষকেরা মারে, হাসপাতালের অনিয়ম নিয়ে ছবি তুলতে গেলে আনসাররা মারে। বিষয়টা এমন দাঁড়িয়েছে, যেন সাংবাদিকরা ‘লাথি পিছার (ঝাড়ু) বস্তু’। যার ইচ্ছে দু’ঘা দিয়ে গেলো। এ তো গেল শারীরিক আঘাত। এরপর রাষ্ট্র মারছে আইন দিয়ে, আবার এতকিছু সহ্য করে স্রেফ ভালোবাসার তাগিদে যে সাংবাদিক কাজ করে যাচ্ছেন তাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবেও মারা হচ্ছে নানা উপায়ে। এ যেন সুকান্তের প্রিয়তমাষু কবিতার কয়েকটি লাইনের মতো, ‘আমি যেন সেই বাতিওয়ালা, সে সন্ধ্যায় রাজপথে বাতি জ্বালিয়ে ফেরে, অথচ নিজের ঘরে নেই যার বাতি জ্বালার সামর্থ্য, নিজের ঘরেই জমে থাকে দুঃসহ অন্ধকার’। এই অন্ধকার এতই গভীর আর ধীরে ধীরে এতটাই ঘনীভূত হচ্ছে যে, সহসা শেষ সুড়ঙ্গের পর আলোর দেখা মিলবে বলে মনে হয় না।

গেলো কয়েক মাসের কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করছি, মুগদা হাসপাতালে কোভিড টেস্ট করাতে আসা মানুষদের মেরেছে আনসার সদস্যরা। তাদের ছবি তুলতে গেলে দুই সাংবাদিককেও মারধর করা হয়। আনসার কোনও সরকারি বাহিনী নয়, এদের অর্থের বিনিময়ে যে কেউ নিয়োগ দিতে পারেন। তাদের মধ্যেও সাংবাদিককে পেশাগত কাজে বাধা দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হচ্ছে। গণধর্ষণের খবর প্রকাশ করায় কুমিল্লার চান্দিনায় যুগান্তর ও যায়যায়দিন প্রতিনিধিকে পেটানো হয়। সমকালের কুমিল্লা প্রতিনিধি দুর্নীতির খবর প্রকাশ করায় তাকেসহ পরিবারকে মেরে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার ছবিতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। মধ্যরাতে বাড়িতে হানা দিয়ে অনলাইন নিউজপোর্টাল বাংলা ট্রিবিউন-এর কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলামকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট। এ সময় আরিফুলের বাসায় আধবোতল মদ ও দেড়শ গ্রাম গাঁজা পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন তারা। অথচ আরিফুল নাকি সিগারেটই খাননি কোনোদিন! ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় সাংবাদিক সাগর চৌধুরীকে নির্যাতন ও ওই নির্যাতনের ঘটনা ফেসবুকে লাইভ করে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও স্থানীয় বড় মানিকা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন হায়দারের ছেলে নাবিল হায়দার।

বাংলাদেশের খবর-এর সাংবাদিকরা বেতনের দাবিতে মানববন্ধন করলে তাদেরও রাস্তায় গলাধাক্কা, টানাহেঁচড়া করার মতো অপমান করা হয়। দুই পা হারিয়ে কাঁতরাচ্ছেন জামালপুরের সাংবাদিক শেলু আকন্দ। হেনস্তার শিকার হয়ে গ্রেফতারের পর ছাড়া পেয়েছেন সাংবাদিক কিবরিয়া ও পান্নু। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় খুলনায় হাতকড়া পরিয়ে তুলে নেওয়া হয় একাত্তর টিভির সাংবাদিক রকিব উদ্দিন পান্নুকে। আর ঢাকায় অফিসে কর্মরত অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয় দৈনিক জাতীয় অর্থনীতি পত্রিকার সম্পাদক কিবরিয়া চৌধুরীকে। পটুয়াখালীর বাউফলে যুবলীগ কর্মী খুনের আসামি করা হয় সাংবাদিক মিজানুর রহমানকে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দিন সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে মোহাম্মদপুর ও নিকুঞ্জে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সন্ত্রাসীদের আক্রমণে আহত-রক্তাক্ত হয়েছেন ৬ সাংবাদিক। সবাই জানেন কারা মেরেছে। এমন উদাহরণ অনেক। সাংবাদিক কাজলের কথা আপনাদের মনে আছে তো? যিনি একজন সুপরিচিত আলোকচিত্রী। ডাকাত বা সন্ত্রাসী নন। কিন্তু তাকে আদালতে নেয়া হয়েছে পিছমোড়া করে  হাতকড়া পরিয়ে। ঘটনাটি এমন দিনে ঘটেছিল যেদিন ছিল মুক্তসাংবাদিকতা দিবস। ৩ মে। যার প্রতিপাদ্য ছিল ‘ভয় ও পক্ষপাতমূলক সাংবাদিকতা’। কিন্তু সেই ভয় ও পক্ষপাত আজ আমাদের সাংবাদিকতাকে বেশ পেয়ে বসেছে। কেন? বলা হয়ে থাকে, গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। যে দেশে গণমাধ্যম যতটা স্বাধীন সে দেশের গণতন্ত্র ততটা মজবুত। এসব স্রেফ এখন ছাপানো কথা মনে হয়। বিশ্বের কোনও শাসকই এখন চান না গণমাধ্যম শক্তিশালী হোক। তারা চান ভঙ্গুর ও অকার্যকর গণতন্ত্রের সাথে সাথে অকার্যকর গণমাধ্যম। তাহলে তাদের শাসন চালাতে বেশ সুবিধা হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাংবাদিকদের দলবাজি, তোষামোদি। এবং সংবাদমাধ্যমের মালিকপক্ষ এবং সাংবাদিক নেতাদের পকেটস্থ করে রাখা। এর ফলে রাষ্ট্র না চাইলে দেশে উৎপাদিত ডজন ডজন দুর্নীতিবাজদের খবর কখনোই সংবাদমাধ্যমে আসে না।  অনেকের হয়তো মনে আছে, ‘তেলবাজি’র কারণে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও তার বিরক্তির কথা জানিয়েছিলেন প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলনে। লজ্জাও দিয়েছেন। অথচ প্রয়াত অনেক সাংবাদিকের জীবনী থেকে জানি, তাদের মধ্যে আর্থিক সচ্ছলতা না থাকলেও নীতি নৈতিকতার প্রশ্নে তারা এতটাই আপসহীন ছিলেন যে, ক্ষমতাসীনরা সমঝে চলতেন।

এবার আসি আইন দিয়ে সাংবাদিক মারা বা হেনস্তা প্রসঙ্গে। এখানে ‘মারা’ শব্দটা রূপক অর্থে ব্যবহার হলেও যেভাবে হেনস্তা করা হয় সেটা এক প্রকার মৃতবৎ অর্থেই। ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ‘সভ্যতার বিবর্তনে সবচেয়ে বড় যে সংগ্রাম, সেটা হলো স্বাধীনতার সংগ্রাম। সবার প্রথমে গোষ্ঠী স্বাধীনতা। তারপরে আরও গভীরে ব্যক্তিস্বাধীনতা। সাংবাদিক যদি হতে চাও, তোমাকে সবচেয়ে আগে ভালোবাসতে হবে ব্যক্তিস্বাধীনতা। তুমি যদি প্রশ্ন করতে না জানো, তোমার যদি প্রশ্ন করার স্বাধীনতা না থাকে, তাহলে সাংবাদিকতার কোনও অর্থ নেই। তোমার ভালোবাসা থাকতে হবে স্বাধীনতার সঙ্গে। মেধা দিয়ে প্রশ্ন করে সমাজের মূল্যায়ন করতে হবে। রাষ্ট্রের, গণতন্ত্রের, স্বাধীনতার এবং জনগণের প্রয়োজনে তোমার সাংবাদিকতা। এর বাইরে যদি কোনও প্রয়োজন থাকে, তাহলে অচিরেই তুমি এই পেশা থেকে সরে যাও। সমাজসেবার স্পৃহা নিয়ে, মনে স্বাধীন চেতনাবোধ নিয়ে এই পেশায় আসতে হবে’। কিন্তু সবসময় কি জনগণের প্রয়োজনে সাংবাদিকতা হয়? প্রশ্ন করলেই কি জবাব আসে? জনাব মাহ্ফুজ আনামও বাধ্য হয়েছিলেন ওয়ান ইলেভেনের সময়। তিনি টিভি টকশোতে বলেছিলেন, শেখ হাসিনা সম্পর্কিত ওই প্রতিবেদনগুলো সেদিন ডেইলি স্টারে প্রকাশ করে তিনি সম্পাদক হিসেবে ভুল করেছেন।

আর এখন যেটি হচ্ছে তা ডিজিটাল আইনের অপপ্রয়োগ। এ ধরনের আইনগুলো যে ক্ষমতাবানদের স্বার্থরক্ষার জন্য করা হয় সেটি সাবেক মন্ত্রী ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদও বলেছেন। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জানুয়ারি থেকে ২২ জুন পর্যন্ত ডিজিটাল আইনে যত মামলা হয়েছে তার আসামির প্রায় ২৫ ভাগ সাংবাদিক। এসব মামলায় ৫২ জন গ্রেফতার হয়েছেন, যার মধ্যে ১২ জন সাংবাদিক। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন পুলিশ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বা তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ২০১৮ সালের ৯ অক্টোবর থেকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন (ডিএসএ) কার্যকর রয়েছে। বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা ব্রিটিশ সংস্থা আর্টিকেল ১৯-এর হিসাব অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২২ জুন পর্যন্ত মোট মামলা হয়েছে ১০৮টি। এসব মামলায় মোট আসামি ২০৪ জন। তাদের মধ্যে সাংবাদিক ৪৪ জন, আর অন্যান্য পেশায় কর্মরত ও সাধারণ মানুষ ১৬০ জন। ২০১৯ সালে এক বছরে মোট মামলা হয়েছে ৬৩টি। আর সেখানে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই মামলা হয়েছে তারচেয়ে বেশি, ১০৮টি। কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে, ৫ মে যে ১১ জনের বিরুদ্ধে র‌্যাব মামলা করে তাদের একজন মুশতাক আহমদ ছিলেন ‘আই এম বাংলাদেশ’ নামে একটি পেজের এডিটর। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ, করোনাভাইরাস নিয়ে গুজব, রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে অপপ্রচার চালান। কয়েকজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক চ্যাটিংয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়। দিদার নামে একজন গ্রেফতার হয়েছেন, যার কারণ হিসেবে আর্টিকেল-১৯ বলছে, তিনি নিজের প্রতিবেদনে বলছেন, গরিব মানুষরাই সরকারি ত্রাণ কম পেয়েছেন। ফেসবুকে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিমের মৃত্যু নিয়ে অবমাননাকর পোস্ট দেওয়ায় জিজিটাল আইনে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক গ্রেফতার হন। গ্রেফতার করা হয় নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকেও। ডিজিটাল আইনে গ্রেফতার করা হয় আমার হবিগঞ্জ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশককে। এই আইনটা নিয়ে যতটা মাতামাতি, ভিন্নমত দমনে যতটা রাষ্ট্রযন্ত্র আগ্রহী, ততটা চোখে পড়ে না প্রতারকদের গ্রেফতারে, তাই সাহেদের মতো অনেকের জন্ম হয়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণার পরও কমে না দুর্নীতি। বরং একেকজন টাকার পাহাড় বানিয়ে পুরো রাষ্ট্রকে চুষে খায়। অথচ কেউ একজন ফেসবুকে কী লিখলো বা কোথাও সমালোচনা করলো তাতে গাত্রদাহ শুরু হয়। পুলিশ ডেকে নিয়ে শাসন করে, ধমক দেয় আর নইলে গ্রেফতার। তার মানে স্বাধীন সাংবাদিকতা এখন স্রেফ জাদুঘরে। ফলে পেশায় থাকার সার্থকতায় খুঁজে পাচ্ছেন না অনেকে।

আর নীতি আদর্শ নিয়ে সাংবাদিকতা করতে আসা সাংবাদিকরা মার খাচ্ছেন নিজের প্রতিষ্ঠানেও। যেটা করোনাকালে এসে আরও বেশি সত্য হয়ে ফুটে উঠেছে। ডিএফপি থেকে জানা গেছে, করোনা সংক্রমণের আগে স্বাভাবিক সময়ে অধিদফতরের নিবন্ধন শাখায় প্রতিদিন কমপক্ষে ৩৫০টি পত্রিকা জমা হতো। এটি ৬০টিতে নেমেছিল, ১ জুলাইয়ের হিসেবে তা ১৩৪। অর্থাৎ সরকারি হিসাবেও দুইশ‘র বেশি পত্রিকা বন্ধ আছে। প্রায় প্রতিটি সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠানে নীরবে বা সরবে সাংবাদিক ছাঁটাই চলছে। কোথাও কোথাও বেতন কমিয়ে দেয়া হয়েছে। অর্ধেক করা হয়েছে। কোথাও বা কয়েক মাস ধরে বেতন বকেয়া। এ অবস্থায় যার একমাত্র জীবিকাই সাংবাদিকতা তারা কোথায় যাবেন? এমনিতে জীবন জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা সবসময় এই পেশায় ছিল। এখন সেটা আরও বেড়েছে। নিজেরা নিজেদের করোনার সম্মুখযোদ্ধা বললেও এ পর্যন্ত রাষ্ট্র খুব একটা গুরুত্ব দিয়েছে বলে দেখা যাচ্ছে না। শুধু হাজারখানেক সাংবাদিককে এককালীন ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া পর্যন্তই। তবে এরমধ্যে চট্টগ্রামের দৈনিক আজাদী, পূর্বকোণ ও পূর্বদেশ পত্রিকার একটি ঘোষণা সবার মনোযোগ কেড়েছে। পত্রিকা তিনটি বলেছে, ‘করোনার এই কঠিন সময়ে কোনও সাংবাদিক, কর্মচারীর চাকরিচ্যুতির ঘটনা ঘটেনি। সঠিক সময়ে বেতন ভাতা পরিশোধ করা হয়েছে এবং তা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করা হবে’।

বিজ্ঞাপনের ওপরই মূলত টিকে থাকে সংবাদমাধ্যম। এই সময়ে স্বভাবতই বিজ্ঞাপন কম, বিক্রি কম, তাছাড়া যেসব মালিক কোনও প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম ঠেকাতে বা সুযোগ সুবিধা পেতে ‘সাপোর্ট’ হিসেবে সংবাদমাধ্যম গড়েছিলেন, যেহেতু করোনাকালে সেসব প্রতিষ্ঠানও ভালো নেই, তাই সংবাদকর্মী ‘পোষা’র বিষয়েও আগ্রহ নেই। আর সবাই ইতোমধ্যে জেনে গেছে, সাংবাদিক মারলে, সাংবাদিককে ঠকালে কিছুই যায় আসে না। বড়জোড় একটা বিবৃতি, মানববন্ধন, ফেসবুকে লেখালেখি- এ পর্যন্তই। সবকিছুই কোনও না কোনোভাবেই ম্যানেজ হয়ে যায়।

সত্যজিৎ রায়ের হীরক রাজার দেশে ছবির শিক্ষকের একটা সংলাপ মনে পড়ছে এই প্রসঙ্গে। তিনি বলেছিলেন, ‘রাজক্রোধ বড় ভয়ঙ্কর’। কাজেই রাষ্ট্র যদি স্বাধীন গণমাধ্যম বা স্বাধীন সাংবাদিকতার পৃষ্ঠপোষক না হয় তাহলে সাংবাদিকরা তো রাষ্ট্রের পাশাপাশি দুর্বৃত্তদেরও শত্রু হয়ে উঠবে। আর যারা ভয় পায় তারা চাইবে নিজের পক্ষের সংবাদ। অন্যকে দমিয়ে রাখতে তারা শারীরিক, মানসিক বা আর্থিক ক্ষতিকে হাতিয়ার করবেই।

লেখক : সাংবাদিক ও সাহিত্যিক

 

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

লাইভ

টপ