নেগেটিভ মানেই কিন্তু পজিটিভ নয়!

Send
প্রভাষ আমিন
প্রকাশিত : ১৮:০৫, আগস্ট ২৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:০৮, আগস্ট ২৮, ২০২০

প্রভাষ আমিনমানুষ কতক্ষণ দম আটকে রাখতে পারে? এক মিনিট, দুই মিনিট, তিন মিনিট। এটাই সাধারণ হিসাব। পানিতে ডুবে গেলে আমাদের দম আটকে রাখতে হয়। মোটা মানুষ ছবি তোলার সময়ও পেট ঢাকতে দম আটকে রাখেন। তারপর যখন দম ফেলেন, তখন সেটা হয় স্বস্তির নিশ্বাস। নেওয়ার সময় আমরা বুক ভরে শ্বাস নেই মানে অক্সিজেন টেনে নিই। করোনা ভাইরাস গোটা বিশ্বে তেমনই এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।
সবাই যেন দম আটকে অপেক্ষা করছেন, কবে যাবে এই কুফা করোনা। বাংলাদেশের কথা যদি বলি, ৮ মার্চ প্রথম করোনা সংক্রমণের খবর পাওয়ার পর থেকে আতঙ্ক আমাদের গ্রাস করে নেয়। তবে ধীরে ধীরে মানুষ করোনার সাথে অ্যাডজাস্ট করে নিয়েছে। এখনও করোনার ভয়াবহতা আছে, তবে ভয়টা যেন কেটে গেছে। এই ভয় কেটে যাওয়াটা বিপজ্জনক। আবার করোনা আতঙ্কে কাবু হয়ে যাওয়াটাও কাজের কথা নয়। করোনা এমন এক শত্রু, যাকে একটু ভয় পেতে হবে, একটু সমীহ করতে হবে। একদম ড্যামকেয়ার ভাব দেখিয়ে করোনা থেকে বাঁচার উপায় নেই। গত ২০ মে ‘করোনার সাথে অ্যাডজাস্ট করে বসবাস’ শিরোনামে এই বাস্তবতার কথা লিখেছিলাম। কিন্তু ‘অ্যাডজাস্ট’ করলেই তো আর করোনা থেকে রেহাই পাওয়া যায় না। গেলে গোটা বিশ্বের সবাই করোনার সাথে ‘অ্যাডজাস্ট’ করেই চলতো। তবে এটা মানতেই হবে, যদিও করোনা এখনও যায়নি, তবু আতঙ্ক অনেকটা গা সওয়া হয়ে গেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আর সিনেমা হল ছাড়া সবই খুলে গেছে।

করোনার সঙ্গে মিলে মিশেই চলছে আমাদের দিনযাপন। করোনা আতঙ্কে শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে অনেককে বলতে শুনেছি, আর পারছি না। আমারও করোনা হয়ে যাক। তবু মুক্তি চাই। তাদের ভাবনাটা এমন, করোনা সংক্রমণ হলেও দেখে-শুনে দুই সপ্তাহ পার করে দিতে পারলেই তো হলো। তারপর করোনা নেগেটিভ হয়ে যাবে। ব্যস তারপর মুক্ত জীবন। আর কোনও ভয় নেই। তাদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে যাবে এবং তারা আগের মতো স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন। কিন্তু যারা এমন ভাবনা থেকে শরীরে করোনাকে আমন্ত্রণ জানাতে চান, তাদের জন্য সাবধানবাণী- নেগেটিভ মানেই কিন্তু সব সময় পজিটিভ নয়। করোনাভাইরাস নেগেটিভ হওয়া মানেই যে আপনি আগের মতো যা ইচ্ছা তাই জীবনযাপন করবেন, তা কিন্তু নয়। করোনা গোটা বিশ্বকে বদলে দেওয়া এক ভাইরাস। করোনা পূর্ব এবং করোনা-উত্তর পৃথিবী কখনও এক নয়, আমরা আর কখনোই করোনা পূর্ব বিশ্বে ফিরে যেতে পারবো না। শুধু বিশ্ব নয়, করোনা বদলে দেবে আমাদের শরীরকেও। করোনা আক্রান্ত হওয়ার আগের শরীর আর পরের শরীর এক নাও হতে পারে। করোনা পূর্ব সাবধানতা যেমন জরুরি, করোনা উত্তর ব্যবস্থাপনাটাও জরুরি। শরীরকে আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে হলে কখনও কখনও করোনা পরবর্তী ব্যবস্থাপনা বেশি জরুরি।

প্রথম কথা হলো, করোনা একবার হয়ে গেল, দুই সপ্তাহ পর নেগেটিভ হয়ে গেলেন। আর কোনও চিন্তা নেই। এই ভাবনাটা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন। তবে ভয় পাবেন না। বাংলা ট্রিবিউনে ‘করোনা পজিটিভ? বি পজিটিভ’ শিরোনামে লিখেছিলাম, করোনার সঙ্গে লড়াইয়ের সবচেয়ে বড় অস্ত্র, শক্ত এবং ইতিবাচক মনোবল। করোনার আগে যেমন, করোনার পরও আপনাকে ইতিবাচক থাকতে হবে। তবে ইতিবাচক মানে কিন্তু আমার কিছু হয়নি, আমার কিছু হবে না, আমার হয়ে গেছে আর ভয় নেই- এমন নয়। করোনা এমন এক ভাইরাস একে পাত্তা না দিয়ে উপায় নেই। করোনা নেগেটিভ মানেই আপনি মুক্ত নন।

এই কথাটা বলে কিন্তু আমি মোটেই আপনাকে ভয় দেখাতে চাচ্ছি না। আগেই লিখেছি, ভয় পেলেই কিন্তু করোনা আপনাকে পেয়ে বসবে। করোনার সঙ্গে লড়াই করতে হবে সাহসের সাথে। উপেক্ষা নয়, করোনার বাস্তবতা মেনে নিয়ে লড়াই করতে হবে। যারা ভেবে রেখেছেন, একবার করোনা হয়ে গেলে আপনার আর ভয় নেই, তাদের জন্য দুঃসংবাদ, দ্বিতীয়বার এমনকি তৃতীয়বার করোনা আক্রান্ত হওয়ার কথাও শোনা যাচ্ছে। তাই সাবধান থাকতেই হবে, এমনকি করোনা হয়ে যাওয়ার পরও আপনাকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতেই হবে। তার মানে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি উতরে নিশ্চিন্তে শ্বাস নেওয়ার সময় এখনও আসেনি। অনন্ত টিকা আসা পর্যন্ত এই শ্বাসরুদ্ধকর সাবধানতায় দিন কাটাতে হবে।

পোস্ট করোনা সিন্ড্রম কী, কী হতে পারে, তা কিন্তু এখনও পরীক্ষিত নয়। করোনা একটা নতুন ভাইরাস। এখন পর্যন্ত এর কোনও টিকা নেই, সুনির্দিষ্ট কোনও চিকিৎসাও নেই। লক্ষণ দেখে দেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। করোনাকালীন ম্যানেজমেন্ট নিয়েই এখনও ডাক্তাররা হিমশিম খাচ্ছেন, তাই পোস্ট কোভিড এলাকাটা এখনও অনেক ধূসর। করোনাভাইরাসের বয়সই মাত্র আট মাস। তাই পোস্ট করোনা প্রভাব কতদিনের হতে পারে, তা এখনও পরীক্ষিত নয়। তবে একটা ব্যাপার নিশ্চিত, করোনা চলে যাওয়ার পরও আপনি অনেক দিন নানা জটিলতায় ভুগতে পারেন। করোনাভাইরাস যখন আপনার শরীরে প্রবেশ করতে চায়, তখন আপনার রোগ প্রতিরোধী অ্যান্টিবডির সাথে তার লড়াই হয়। আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হলে করোনা ঢুকে পড়ে। কিন্তু তারপরও লড়াইটা চলতে থাকে। অ্যান্ডিবডি যদি শেষ পর্যন্ত হেরে যায়, তখন করোনা দখল করে নেয় মানুষের শরীর। তখন মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। আর দীর্ঘ লড়াইয়ে অ্যান্টিবডি জিতলে বিদায় নিতেই হয় করোনাকে।

কিন্তু করোনার সাথে অ্যান্টিবডির লড়াইয়ে যুদ্ধক্ষেত্র হলো আপনার শরীর। করোনা চলে গেলে যুদ্ধ থেমে যায় বটে, কিন্তু আপনার শরীর তখন বিধ্বস্ত যুদ্ধক্ষেত্র। ২০১৩ সালের ৬ মে ভোর বেলার মতিঝিলের কথা মনে আছে? আগের দিন হেফাজতে ইসলাম তাণ্ডব চালিয়েছিল আর রাতে পুলিশ হেফাজতের কর্মীদের তাড়িয়ে দিয়েছিল। ৬ মে ভোরের মতিঝিল ছিল পরিত্যক্ত এক যুদ্ধক্ষেত্র।

করোনার পর আপনার শরীরও তেমনি বিধ্বস্ত যুদ্ধক্ষেত্র। করোনা হলো আসলে একটা ঝড়ের মতো। মানুষের শরীরে ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়ার সময় যার শরীরে কাঠামো দুর্বল, তিনি কাবু হয়ে যান, যার কাঠামো সবল তিনি টিকে যান। তবে কাঠামো যেমনই হোক, করোনা ঝড় কিন্তু মানুষের শরীরে কোনও না কোনও ক্ষতচিহ্ন রেখে যাবে। হতে পারে সেই চিহ্নটা সাময়িক, হতে পারে দীর্ঘস্থায়ী, হতে পারে চিরস্থায়ী। ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডর আঘাত হেনেছিল উপকূলীয় অঞ্চলে। এই ১৩ বছরেও কিন্তু তার প্রভাব রয়ে গেছে। করোনার ক্ষেত্রেও তেমন হতে পারে। তবে সিডরের প্রভাব যেমন সব এলাকায় একইরকম নয়। তেমনি করোনার প্রভাবও সবার ক্ষেত্রে একই রকম নয়। গবেষকরা এখনও পোস্ট করোনা সিন্ড্রম নিয়ে নানা গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে যারা ভুক্তভোগী, তাদের তো আর গবেষণা লাগে না। তারা নিজের শরীর দিয়ে বুঝছেন, করোনা কত ভয়ঙ্কর। সাধারণ ভাইরাল জ্বরেও মানুষের দুর্বলতা থেকে যায় কয়েকদিন। আর এত করোনা। তাই করোনা নেগেটিভ হওয়ার পরও দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট, অল্প পরিশ্রমে হাঁপিয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা থাকতে পারে। করোনার আগে ১৬ ঘণ্টা কাজ করতে পারতেন, এমন মানুষও এখন ৫/৬ ঘণ্টায় হাঁপিয়ে উঠছেন।

মনোযোগ ধরে রাখতে পারছেন না। অনেকে স্মৃতি ভুলে যাচ্ছেন। ফেসবুক বা ক্রেডিট কার্ডের পাসওয়ার্ড ভুলে যাওয়ার ঘটনাও আকসারই ঘটছে। সারাক্ষণ মাথা ঝিম ঝিম করা, মাথা ধরে থাকা, মাথাব্যথা করাও নিত্য সমস্যা।

কেউ সারা দিন পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছেন, কারো সারা রাত ঘুম হচ্ছে না। যারা ঘুমাচ্ছেন, তারা আবার দুঃস্বপ্ন দেখছেন। তার মানে করোনা মানুষের স্বপ্নেও হানা দিচ্ছে। আসলে কাকে কীভাবে কাবু করবে, করোনা যেন সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। কারো চুল পড়ে যাচ্ছে। কারো জ্বর জ্বর ভাব থাকছে। কারো গায়ে ব্যথা সারছেই না।

অনেকের স্বাদ-গন্ধ ফিরে আসতে সময় লাগছে। অনেকের মেজাজ খারাপ হয়ে যাচ্ছে। কথা বলতে ভালো লাগছে না। কারো চামড়ায় নানা সমস্যা হচ্ছে। এসবই সাধারণ এবং স্বল্পস্থায়ী প্রভাব। তবে করোনা থেকে সেরে উঠে অনেকে ডায়াবেটিস বা হাইপারটেনশনের মতো দীর্ঘমেয়াদি সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে। বিষয়গুলো এখনও প্রমাণিত নয়, তবু সমস্যাগুলো হচ্ছে। কারো লিভার, কারো কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে হালকা পাতলা করোনার মতো, এর প্রভাবও যদি এমন নির্বিষ হয়, তাহলে তো ভালো, আপনি বেঁচে গেলেন। কিন্তু সবার ভাগ্য এত ভালো নয়।

কিছু কিছু পোস্ট করোনা সিন্ড্রম আপনার মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে। সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম করোনা পরবর্তী স্ট্রোকে মারা গেছেন। সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার অধ্যাপক গোলাম রহমানের স্ত্রী করোনা আক্রান্ত হওয়ার ৫২ দিন পর মারা গেছেন। সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম করোনামুক্ত হওয়ার পর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। পপুলার হাসপাতালের মালিকের স্ত্রীও করোনা নেগেটিভ হওয়ার পর মারা গেছেন। এমন অসংখ্য উদাহরণ আছে। তাই নিশ্চিন্ত হওয়ার উপায় নেই। সাবধান না হলে করোনা আপনাকে সহজে ছাড়বে না।

পোস্ট করোনা সিন্ড্রমের একটা বড় জটিলতা হলো রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়া। সেই জমাট বাঁধা রক্ত ফুসফুসে চলে গেলে হঠাৎ মৃত্যু হতে পারে, হতে পারে হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেইলিউর বা স্ট্রোকের মতো প্রাণঘাতী সমস্যাও। শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসে সমস্যা, ডায়াবেটিক বা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যাগুলো আপনাকে ভোগাতে পারে অনেক দিন। এছাড়াও আছে মানসিক এবং শারীরিক অবসাদ। এটুকু পড়ে যদি কেউ ভয় পেয়ে যান তাহলেই বিপদ। ভয় পেলে, এমনকি চলে যাওয়ার পরও করোনা আপনাকে কাবু করে ফেলতে পারে। প্রথম কথা হলো ভয় পেলে চলবে না।

করোনা নেগেটিভ হওয়ার পরও চিকিৎসকের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে। তার পরামর্শ মতো চলতে হবে। বাংলাদেশের কোনও কোনও হাসপাতাল নেগেটিভ হওয়ার সাথে সাথেই কোভিড-১৯ রোগী ছেড়ে দিচ্ছে। করোনা পরবর্তী প্রভাব মোকাবিলা বা পুনর্বাসনের ব্যাপারে তেমন কোনও পরামর্শই দিচ্ছেন না। তবে এর পুরোটা দায় তাদের নয়, পোস্ট করোনা ম্যানেজমেন্ট বা পুনর্বাসন নিয়ে ডাক্তাররাও অনেকে স্থিরসিদ্ধান্ত নন। অভিজ্ঞরা নানা কিছু মিলিয়ে একটি চিকিৎসা দেন বটে। কিন্তু পুরো ব্যাপারটাই যেহেতু এখনও স্থির নয়, তাই বিভ্রান্তি থেকেই যায়। করোনা নেগেটিভ হওয়ার পর হার্ট, ফুসফুস, কিডনি, লিভারসহ শরীরের সম্ভাব্য সব ঝুঁকির জায়গাগুলোর একটা পরীক্ষা করে নিতে হবে। রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি আছে কিনা সেটাও পরীক্ষা করে ডাক্তারের পরামর্শে ব্লাড থিনার সেবন করতে পারেন। কিন্তু সাবধান ভালো করে পরীক্ষা এবং ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ব্লাড থিনার তো নয়ই, কোনও ওষুধই খাবেন না। কারণ, রক্ত বেশি তরল হয়ে গেলে জমাট বাঁধার ঝুঁকি কমবে বটে, তবে বেড়ে যায় মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের শঙ্কা।

পোস্ট করোনা ম্যাজেমেন্টে আরও কিছু বিষয় আপনাকে মনে রাখতে হবে। শারীরিক দুর্বলতা দূর করতে আপনাকে পুষ্টিকর ও সুষম খাবার খেতে হবে। এমনকি খাওয়ার স্বাদ-গন্ধ না পেলেও। নিয়মিত খাওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত ঘুমটাও জরুরি। আর কোনও একজন ফিজিক্যাল মেডিসেনের ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে ফুসফুস এবং মাংসপেশীর কিছু ব্যয়াম জেনে নিন। করোনায় শরীরে যে ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে নিতে আপনাকে নিয়মিত ব্যয়াম করতে হবে। সব সময় আমরা সবচেয়ে অবহেলা করি আমাদের মনকে। আমাদের সকল ভাবনা শারীরিক সুস্থতা নিয়ে, মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টা আমরা গোনাতেই ধরি না। কিন্তু মানসিক সুস্থতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া মানেই আপনি পাগল, এমন ভাবনাও মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন। করোনা হলে মানুষ যে ট্রমার মধ্য দিয়ে যায়, তা থেকে সেরে উঠতে পোস্ট করোনায় মানসিক চিকিৎসকের কাউন্সেলিং অতি জরুরি।

আপনি ভয় পাবেন না। বিষয়গুলো মোটেই জটিল নয়। আর জটিল মনে হলেও কিছু করার নেই। করোনাকে তো আর আপনি ঠেকাতে পারবেন না। এখন আমাদের সবাইকে করোনার সাথে ‘অ্যাডজাস্ট’ করেই জীবনধারন করতে হবে। প্রথম চেষ্টা হবে, করোনা যাতে আসতে না পারে, সে জন্য স্বাস্থ্যকর মাস্কে মুখ নাক, চোখ ঢেকে রাখতে হবে। কারও তিন ফুটের মধ্যে যাওয়া যাবে না। আর করোনা হয়ে গেলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে। এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো করোনার পর একটা দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ও মানসিক পুনর্বাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। মনে রাখবেন, একটু খামখেয়ালি বা অবহেলা আপনার প্রাণ সংশয়ের কারণ হতে পারে। করোনা ভয়াবহ, তাই একে ভয় পেতেই হবে, তবে আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। মনে রাখবেন, করোনা এখনও ছোট গল্প- শেষ হইয়াও হইলো না শেষ।

(বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শের ভিত্তিতে লেখাটি তৈরি করা হয়েছে।)

লেখক: হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ

 

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

লাইভ

টপ