রোহিঙ্গা যখন ‘গলার কাঁটা’

Send
বিনয় দত্ত
প্রকাশিত : ১৭:০০, অক্টোবর ১০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:১১, অক্টোবর ১০, ২০২০



বিনয় দত্তরোহিঙ্গা বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান কী? কোনও কূটনৈতিক উত্তর নয়, সুনির্দিষ্টভাবে জানতে চাই রোহিঙ্গা বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান আসলে কী? এর উত্তর অবশ্যই আছে। কেউ দেবেন, কেউ বিভিন্ন উপমার আশ্রয় নেবেন, কেউ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার অনুরোধও জানাবেন। ইস্যুটা ঠিক এই জায়গায়।
ধরুন, আপনার ছোট একটা বাসা আছে। সেই বাসায় পরিবার নিয়ে থাকতে আপনার কষ্ট হয়। এরপরও আছেন। আপনার অর্থনৈতিক অবস্থা চলনসই। হঠাৎই একদিন অনাগত ক’জন অতিথি আপনার বাসায় আশ্রয় চাইলো। আপনার মধ্যে হঠাৎ আবেগ জেগে উঠলো। আপনি মানবিক হয়ে তাদের আশ্রয় দিলেন। তাদের তিন দিন পর চলে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তারা গেড়ে বসে তিন মাস পার করে দিলো। এই নিয়ে আপনাদের সংসারে প্রতিদিন অশান্তি হয়। অতিথিরা সেই অশান্তি দেখে, কিন্তু যায় না। আপনি বের করে দিতে চাইছেন, কিন্তু পারছেন না। আপনার মানবিকতা কাল হয়ে দাঁড়ালো। এরমধ্যেই তারা বিভিন্ন ধরনের অপরাধেও লিপ্ত হলো। আশেপাশের লোকজন আপনাদের শাসিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আপনারা কিছুই বলতে পারছেন না। দেখতে দেখতে তিন বছর পার হয়ে গেলো। অনাগত অতিথির জ্বালা-পীড়া আপনার কাছে স্বাভাবিক হতে লাগলো। আপনি প্রতিদিনই ভাবছেন কখন আপনি মুক্তি পাবেন, কিন্তু পাচ্ছেন না। একদিকে সবার চোখ রাঙানি, অর্থনৈতিক কষ্ট, পারিবারিক অশান্তি সব নিঃশেষ করে দিচ্ছে, কিন্তু আপনি কিছুই বলতে পারছেন না।

এই অবস্থা ঠিক বাংলাদেশের। মানবিকতার খাতিরে বিশাল রোহিঙ্গা গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে এখন গলার কাঁটা দাঁড়িয়েছে। না গিলতে পারছে, না বের করতে পারছে। ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে ২০১৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত কক্সবাজার এলাকায় সবচেয়ে বেশি মানুষ যাতায়াত করেছে। এই সময় সবচেয়ে বেশি দেশি-বিদেশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা গিয়েছে কক্সবাজার এলাকায়।

রোহিঙ্গারা বিপদে পড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এই আবেগ এক বছরের একটু বেশি সময় পর্যন্ত চলমান ছিল। যেই মুহূর্তে রোহিঙ্গারা মিয়ানমার ফিরবে না বলে জানিয়েছে, ঠিক সেই মুহূর্তে সবার আবেগ উধাও হয়ে গিয়েছে।

বাস্তবতা আসলে কী? উখিয়ার ৩৪টি আশ্রয় শিবিরে ১১ লাখ ১৮ হাজার ৯১৩ রোহিঙ্গা বসবাস করছে। এরই মাঝে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে কিছু গ্রুপ। ক্যাম্পের সড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পাহারায় থাকলেও অনিরাপদ হয়ে ওঠে ভেতরের চিত্র। ক্যাম্পের প্রতিটি ব্লকে দেশি অস্ত্র হাতে ২০-২৫ সদস্য পাহারা দেয়। ক্যাম্পে সচ্ছল রোহিঙ্গাদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়, ইয়াবার চালান, দেশের বিভিন্ন এলাকা ও সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাঠানোসহ নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত রোহিঙ্গারা। গৃহপালিত পশু, ফসল, ফলসহ স্থানীয়দের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরি-ডাকাতির সঙ্গেও জড়িত তারা। (সমকাল, ২৬ আগস্ট ২০২০)

ইয়াবা কেনা বাবদ ৯০০ কোটি টাকার বেশি পাচার করা হয়েছে মিয়ানমারে। ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই ১৪ মাসের হিসাব এটি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, ২০০৯ সালে সব সংস্থা মিলে ১ লাখ ৩২ হাজার ২৮৭টি ইয়াবা উদ্ধার করেছিল। ১০ বছর পর ২০১৯ সালে তারা ৩ কোটি চার লাখ ৪৬ হাজার ৩২৮টি ইয়াবা উদ্ধার করেছে। এর অর্থ, দেশে ইয়াবার জোগান বেড়ে চলেছে। (কালের কণ্ঠ, ২৬ আগস্ট ২০২০)

রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বাংলাদেশে আসার পর থেকে ইয়াবা চালান বেড়েছে। তাদের এসব অপরাধ নমুনামাত্র। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর ও ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) ইন্টার এজেন্সি এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপের (ইইটিডব্লিউজি) সঙ্গে মিলে একটা সমীক্ষা পরিচালনা করে। তাদের তথ্যানুযায়ী, রোহিঙ্গারা টেকনাফ ও উখিয়ায় আশ্রয় নেওয়ার পর ওই এলাকার প্রায় ছয় হাজার হেক্টর বনভূমি উজাড় হয়ে যায়। প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা তাদের রান্নার জ্বালানি কাঠ ও ঘর বানানোর সরঞ্জাম হিসেবে কক্সবাজার এলাকার বনভূমি কাটতে শুরু করে। এক বছরের মধ্যে ছয় হাজার হেক্টর বনভূমি উজাড় হয়ে যায়। (প্রথম আলো, ৬ জানুয়ারি ২০২০)

অপরাধের পাশাপাশি রোহিঙ্গারা যে বাঙালিদের সুখ-শান্তি কেড়ে নিয়েছে সরেজমিনে গেলে তার অহরহ প্রমাণ মেলে। সিডনিভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস ২০১৮ সালের ৬ জুন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাদের তথ্যানুযায়ী, রোহিঙ্গা সঙ্কটের কারণে বৈশ্বিক শান্তি সূচকে বাংলাদেশের বড় অবনমন ঘটেছে।

২.

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়া এবং ১৯৭১ সালে ভারতে শরণার্থী হিসেবে বাঙালি আশ্রয় নেওয়া কখনও এক নয়। কিন্তু অনেকেই এক করে ফেলেছেন। দুটোর রাজনীতিও আলাদা। সেই রাজনীতি সবাই বুঝবে না এটাও স্বাভাবিক। ২০২০ সালের আগস্ট মাসে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির একটি দল সম্প্রতি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে। তারা কিছু সুপারিশ দেয়। সুপারিশের একটি হলো, রোহিঙ্গাদের অলস বসিয়ে না রেখে কাজে লাগাতে হবে। (সমকাল, ২৬ আগস্ট ২০২০)

যে রোহিঙ্গাদের সীমানা দিয়ে আটকে রেখে অপরাধ দমন করা যাচ্ছে না। সেই রোহিঙ্গাদের যদি কাজের সুযোগ দেওয়া হয় তাহলে কী পরিস্থিতি হবে তা সহজেই অনুমেয়। তাই বলে কি তারা কাজ করছে না? করছে। বাঙালিরাই তাদের সহযোগিতা করছে!

প্রায় ৩০ হাজার রোহিঙ্গা ওয়ার্ল্ড ভিশন, ব্র্যাক, আদ্রা, ডিআরসি, অ্যাকটেড, এসনেপ, রিলিফ ইন্টারন্যাশনাল, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল, মুক্তি, কোডেকসহ বেশ কিছু এনজিওতে চাকরি করছে। এনজিওগুলোতে রোহিঙ্গাদের মাসিক বেতন ১৮ থেকে ৫০ হাজার টাকা। (কালের কণ্ঠ, ৩০ আগস্ট ২০১৯)

রোহিঙ্গাদের এনআইডি এবং পাসপোর্ট তৈরিতে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছে বাঙালিরা। তারা অর্থের বিনিময়ে এসব কাজ করছে। এতে করে তারা পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়ছে এবং বাংলাদেশের নাগরিকত্ব নিয়ে দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। এনআইডি এবং পাসপোর্ট নেওয়া সেইসব রোহিঙ্গা যে বাঙালিদের (যারা এই অপরাধ কাজে সহযোগিতা করছেন) জন্য প্রতিনিয়ত হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে সেই বিবেচনা বাঙালিদের নেই। নেই বলেই টাকার জন্য তারা রোহিঙ্গাদের আপন ভেবে এনআইডি এবং পাসপোর্ট তৈরি করে দিচ্ছে। এসব অপরাধ সরকার জানছে, তবে পরে।

২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট হাজার হাজার রোহিঙ্গা কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরে মহাসমাবেশ করে। এই তথ্য দেশের মন্ত্রী-এমপি কারোরই জানা ছিল না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেন বলেন, রোহিঙ্গা সমাবেশ সম্পর্কে আমাদের আগে থেকে জানানো হয়নি। (ঢাকা ট্রিবিউন বাংলা, ২৬ আগস্ট ২০১৯)

এই একটি বক্তব্য থেকে বোঝা গিয়েছিল এই দেশের কেউই আসলে রোহিঙ্গাদের গুরুত্ব দিয়ে দেখছে না। তাদের দৃষ্টি শুধু অনুদানের দিকে। এই বিষয়টা কারোরই নজরে নেই যে, প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে ৮ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশি সিম সংগ্রহ করেছে এবং তারা একত্রিত হতে পেরেছে, তারা চাইলে যেকোনও অপরাধ মুহূর্তেই সংঘটিত করতে পারে। আদতে হয়েছেও তাই। মহাসমাবেশের পরে রোহিঙ্গা শিবিরে অসংখ্য দেশীয় অস্ত্র পাওয়া গিয়েছে।

৩.

রোহিঙ্গাদের অপরাধপ্রবণতা শুরুতেই ছিল। বরং দিনে দিনে তা বেড়েছে। তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে কোনও ধরনের সংকেত কেউ দিতে পারছে না এবং বলতেও পারছে না। ফলে তারা যে এখানে থাকছে এইটা নিশ্চিত। দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির হিসাব তাদের ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখাচ্ছে না। বাংলাদেশের সরকার তাদের যে কারণে আশ্রয় দিয়েছিল, সেই কারণ যে আর পূর্ণ হবে না, তাও নিশ্চিত।

সরকার তার নিজস্ব তহবিল থেকে ২ হাজার ৩১২ কোটি টাকা ব্যয়ে রোহিঙ্গা স্থানান্তরের জন্য ভাসানচরের প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে। (প্রথম আলো, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০) রোহিঙ্গা নেতারা তা পরিদর্শন করে। এরপর তারা ভাসানচরে যাওয়ার ব্যাপারে অনাগ্রহী হয়ে ওঠে। যেসব রোহিঙ্গা নেতা ভাসানচর পরিদর্শন করেছিল তারাও এই বিষয়ে কোনও কথা বলতে রাজি হয় না। কক্সবাজারের রোহিঙ্গারাও এখন ভাসানচরে যেতে চায় না। (বিবিসি, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০)

এতেই পুরো বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে যায় যে, বাংলাদেশ সরকার আসলে রোহিঙ্গাদের নিয়ে কোনও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করতে পারছে না। তাদের পেছনে ব্যয়ও এখন বাংলাদেশ সরকারকে দিতে হচ্ছে। ২০১৯ সালে ৯২১ মিলিয়ন ডলার সাহায্য প্রত্যাশিত হলেও পাওয়া গেছে ৬৩৫ মিলিয়ন ডলার, যা চাহিদার মাত্র ৬৯ শতাংশ। (সমকাল, ২ জানুয়ারি ২০২০) প্রশ্ন হলো, তাহলে বাকি টাকা কে দিয়েছে? অবশ্যই বাংলাদেশ সরকার। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে অনুদান আরও কমবে। তখন এই বিশাল রোহিঙ্গাগোষ্ঠীকে সকল মৌলিকা চাহিদা সহ চাকরি দিতে হবে এই বাংলাদেশ সরকারকে। সংকট ঠিক তখনই তৈরি হবে।

প্রথমত সরকার তাদের পেছনে বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করছে। তার ওপর তাদের কাছ থেকে উৎপাদনশীল কিছু পাওয়া যাচ্ছে না এবং সর্বোপরি তারা বাংলাদেশের তরুণদের হটিয়ে চাকরির বাজার দখল করবে, তখন মূল সংকটটা বোঝা যাবে।

ইতোমধ্যে, কক্সবাজারে স্থানীয়দের শ্রম কেড়ে নিচ্ছে রোহিঙ্গারা। তারা ত্রাণও নিচ্ছে আবার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত হচ্ছে। এতে করে স্থানীয়রা কাজ পাচ্ছেন না। (সমকাল, ২ জানুয়ারি ২০২০)

পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশ সরকার প্রতিমাসে ব্যয় করছে তিনশ’ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকারও বেশি। গত তিন বছরে (৩৬ মাসে) রোহিঙ্গাদের পেছনে বাংলাদেশ সরকারের সরাসরি ব্যয় ৯০ হাজার কোটি টাকা। (বাংলা ট্রিবিউন, ২৫ আগস্ট ২০২০)

নব্বই হাজার কোটি টাকা! এ তো বিস্ময় নয়, ভয়ানক বিস্ময়। মাত্র তিন বছরে রোহিঙ্গাদের পেছনে বাংলাদেশ সরকার নব্বই হাজার কোটি টাকা খরচ করে ফেলেছে। এই টাকা থাকলে কী হতো? এই টাকা থাকলে বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে আরও তিনটা পদ্মা সেতু বানাতে পারতো। সর্বশেষ পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকার বেশি। (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, ২১ জুন ২০১৮)

৪.

সম্প্রতি সৌদি আরবে থাকা ৫৪ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশের পাসপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সৌদি সরকার। পাসপোর্ট না দিলে সৌদি আরব তাদের বাংলাদেশে পাঠানোর হুমকিও দিয়েছে। এর সঙ্গেই যুক্ত করেছে ২২ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশির বিষয়টিও। (ডয়চে ভেলে, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০)

অর্থাৎ এই ৫৪ হাজার রোহিঙ্গাকে যদি বাংলাদেশ সরকার পাসপোর্ট না দেয় তাহলে তারা ২২ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠিয়ে দেবে, এই ধরনের একটা হুমকি তাদের ভাষ্যে।

রোহিঙ্গাদের দেশ মিয়ানমার তা জানা সত্ত্বেও সৌদি আরব জোর করে বাংলাদেশে সেসব রোহিঙ্গাকে পাসপোর্ট দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। এই একরোখা আচরণে সৌদিরা আগেও ছিল, এখনও আছে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপের দিকে যাচ্ছে। যা হতো না। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, ‘৪৬২ জন রোহিঙ্গা আছে, যারা কিনা নিজেদের বাংলাদেশি বলছে। ওরা বিভিন্ন অপরাধের কারণে এখন জেলে।’ (ডয়চে ভেলে, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০)

শুরু থেকে যে বিষয়টি বলার জন্য এতো তথ্যপ্রমাণ হাজির করা, তা হলো, রোহিঙ্গারা এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা বাংলাদেশে যে ধরনের আচরণ করে বিদেশেও একই ধরনের আচরণ করে। অপরাধপ্রবণতা তাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। এই অপরাধের দায় ভোগ করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।

রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া এতো সহজ হবে না এটা নিশ্চিত। যদি তারা দেশে থেকে যায় এবং বাংলাদেশ সরকার তাদের ভরণপোষণ নিতে না পেরে অবমুক্ত করে দেয়, তাহলে সর্বোচ্চ বিপর্যয় আমাদের দেখতে হবে, এটাও নিশ্চিত। এখন সিদ্ধান্ত কূটনীতিকদের।


লেখক: কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক

[email protected]

 

/এসএএস/এমএমজে/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

লাইভ

টপ