সালাম ও আল্লাহ হাফেজের রাজনীতি

Send
মো. আবুসালেহ সেকেন্দার
প্রকাশিত : ১৭:৫৪, অক্টোবর ২৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৫৫, অক্টোবর ২৫, ২০২০

মো. আবুসালেহ সেকেন্দারঅক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ভাষা শিক্ষার ক্লাসে শিক্ষক আমাদের আরবি কথোপকথন শেখানোর সময় বলেছেন আরবিভাষীরা কথোপকথনের শুরুতে বলেন, ‘মারহাবা’ বা ‘আসসালামু আলাইকুম’ বা ‘আহলান’ বা ‘আহলান ওয়া সাহালান’। আর বিদায় নেওয়ার সময় বলেন, ‘মা আসসালামা’ বা ‘ইলাললিকা’। একইভাবে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন ফার্সি ভাষা শিখেছি তখনও ফার্সি ভাষার শিক্ষক বলেছেন, ফার্সিভাষীরা কথোপকথনের শুরুতে বলেন, সালাম এবং বিদায় নেওয়ার সময় বলেন, ‘খোদা হাফেজ’। আমার এই ভাষা শিক্ষার অভিজ্ঞতাকে আমলে নিয়ে আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন রেখেছিলাম, বিদেশি কোনও শিক্ষার্থী যদি বাংলা ভাষা শিখতে চায় তবে বাংলা ভাষার শিক্ষক ওই শিক্ষার্থীকে কী বলতে পারবেন, বাংলাভাষীরা কথোপকথনের শুরুতে ‘…’ বলেন এবং বিদায় নেওয়ার সময় ‘…’। এর কোনও সদুত্তর কেউ আমাকে দিতে পারেননি।

সদুত্তর না দিতে পারার কারণ হচ্ছে বাংলাভাষীরা কথোপকথনের শুরুতে সার্বজনীন কোনও সম্বোধনবাচক শব্দ ব্যবহার করেন না। সাধারণত তারা একে অপরের মনোযোগ আকর্ষণ করতে ‘কিরে, কী খবর, কী অবস্থা, কই যাও, কী করো/করেন’ ইত্যাদি টাইপের প্রশ্নবোধক বাক্য ব্যবহার করেন। আর বিদায়ের বেলায়, ‘তাহলে বেড়াতে যাইও বা যাইয়েন, আবার দেখা হবে’ ইত্যাদি বলেন। কোনও আনুষ্ঠানিক কথোপকথন হলে মুসলিমরা ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলেন। হিন্দুরা ‘নমস্কার’। তবে সার্বজনীনভাবে শুভ সকাল, শুভ রাত্রি বা এই ধরনের সময়বাচক বাক্য দিয়েও অন্যদের মনোযোগ আকর্ষণ করা হয়। অন্যদিকে অনেক সময় আনুষ্ঠানিক কথোপকথনও ওই সময়বাচক বাক্য শুভরাত্রি বা শুভ সকাল বলে শেষ করা হয়।

আমাদের ছোটবেলায় দেখেছি, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একে অপরের সঙ্গে কথোপকথনের জন্য প্রণাম বা আদাব বলা হতো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই বিষয়টি পরিবর্তন হয়ে ধর্মীয় বিভাজন প্রকট হয়েছে। মুসলিমদের মধ্যে ‘আসসালামু আলাইকুম’ স্বপ্রতাপে জায়গা করে নিয়েছে। অন্য ধর্মের মানুষরাও অবশ্যই মুসলিমদের সালাম দেওয়ার পদ্ধতি দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন। তাই এখন মুসলিম ছাড়াও অন্য ধর্মের অনেক মানুষই কথোপকথনের শুরুতে সালাম বিনিময় করেন। এক্ষেত্রে অবশ্যই মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে অনেকে পুরো আসসালামু আলাইকুম না বলে ‘স্লামালাইকুম’ বলেন।

ফার্সিভাষীদের অধিকাংশ মুসলিম হলেও তারা আসসালামু আলাইকুমকে সম্বোধন সূচক বাক্য হিসেবে গ্রহণ করেননি। তারা তাদের নিজস্ব পদ্ধতিতে অর্থাৎ ‘সালাম’ বলে কথোপকথন শুরু করেন। তাই বাংলাভাষীদের কেউ যদি ‘স্লামালাইকুম’ বলেন তাতে দোষের কিছু নেই। অবশ্যই ‘স্লামালাইকুম’কে অনেকে আরবি থেকে বাংলায় আক্ষরিক অনুবাদ করে বলতে চান যে, ‘স্লামালাইকুম’-এর বাংলা অর্থ ‘আসসালামু আলাইকুমে’র বাংলা অর্থের প্রতিনিধিত্ব করে না। তাদের জন্য বক্তব্য হচ্ছে, আরও অনেক আরবি শব্দের বিকৃত হয়ে বাংলা ভাষায় যুক্ত হওয়ার মতো ‘স্লামালাইকুম’কে আরবি নয়, বাংলা ভাষার শব্দ ভান্ডারের সম্বোধনসূচক শব্দ হিসেবে বিবেচনা করলে বিষয়টির সমাধান হয়। তখন বাংলা ‘স্লামালাইকুম’য়ের আরবি অনুবাদ হিসেবে ‘আসসালামু আলাইকুম’ লিখতে হবে। যেমন, ফার্সি সালাম আরবিতে অনুবাদ করলে মারহাবা বা আসসালামু আলাইকুম লিখতে হয়। সব সময় শব্দের অনুবাদ আক্ষরিক হয় না। বরং ওই ভাষার মানুষ ওই শব্দ কোন ভাব প্রকাশের জন্য ব্যবহার করেন, সেটা বিবেচনা করে অনুবাদিত ভাষার ভাব প্রকাশক একই শব্দ অনুবাদে ব্যবহার করতে হয়। বাংলাভাষী মুসলিমরা এই বিষয়টি উপলব্ধি করলে অনেক বিতর্কের অবসান হবে।

অন্যদিকে ইসলাম ধর্মের বিধান মতে, প্রত্যেক মুসলিম কথোপকথনের শুরুতে আসসালামু আলাইকুম বলবেন। যদিও আরবি ভাষায় আসসালামু আলাইকুম শুধুমাত্র মুসলিমরা সম্বোধনের জন্য ব্যবহার করেন না। আরবিভাষী অন্য ধর্মের মানুষরাও ব্যবহার করেন। তাই ‘আসসালামু আলাইকুম’কে ইসলামি সম্বোধনসূচক রীতি বলে ব্র্যাকেট বন্দি করা কঠিন। ধর্মীয় বিবেচনায় বিশ্বের বিভিন্ন ভাষাগোষ্ঠীর মুসলিমরা আসসালমু আলাইকুমকে ইসলামি সংস্কৃতির অংশ দাবি করলেও ভাষাতত্ত্বের বিবেচনায় আসসালামু আলাইকুম সেক্যুলার বা সার্বজনীন কথোপকথন রীতির প্রতিনিধিত্ব করে।

দুই.

আসসালামু আলাইকুম আরবিতে সার্বজনীন সম্বোধনসূচক শব্দ হলেও বাংলাভাষীরা কেবলমাত্র মুসলিমদের সম্পত্তি বলে মনে করেন। আর এমনটি মনে করে বিগত এক দশকে বাংলাভাষী মুসলিমদের মধ্যে স্বতন্ত্র ভাষা ও সংস্কৃতির একটি ডিসকোর্স চালুর আপ্রাণ চেষ্টা করছেন অনেক মুসলিম ব্যক্তি বা গোষ্ঠী। এক্ষেত্রে একটি বিশেষ ইসলামি রাজনৈতিক দল তার অনুসারীদের মনে এই ধারণা গেঁথে দিয়েছেন যে, প্রত্যেক মুসলিমকে কথোপকথনের শুরুতে শুদ্ধ আরবিতে আসসালামু আলাইকুম বলতে হবে এবং শেষে আল্লাহ হাফেজ বলতে হবে।

বাংলা ভাষার নিজস্ব সম্বোধনসূচক শব্দ না থাকায় বাংলাভাষী মুসলিমরা যদি কথোপকথনের শুরুতে আসসালামু আলাইকুম বলেন তাতে বাংলা ভাষার কোনও ক্ষতি হয়নি বা হবে না। বরং অন্য অনেক বিদেশি শব্দের মতো বাংলা ভাষায় নতুন সম্বোধনসূচক শব্দ যুক্ত হয়ে এই ভাষাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে বা করবে। তাই কেউ কথোপকথনের শুরুতে আসসালামু আলাইকুম বললে তাকে জঙ্গি বা অন্য কোনও অভিধায় বিশেষায়িত করা ঠিক নয়। বরং কথোপকথনের শুরুতে শুদ্ধভাবে আসসালামু আলাইকুম বলাকে বাংলাভাষী মুসলিমদের নিজস্বতা সেটি সবাইকে বুঝতে হবে। যেমন হিন্দুধর্মের অনুসারীরা নমস্কার বলে কথোপকথন শুরু করেন।

কিন্তু আপত্তির জায়গা হচ্ছে, যদি কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী দাবি করেন যে, ইসলামি সংস্কৃতি হচ্ছে, কথোপকথনের শুরুতে শুদ্ধ আরবিতে আসসালামু আলাইকুম বলা এবং কথোপকথনের শেষে আল্লাহ হাফেজ বলা। কারণ এই কথোপকথনের রীতি কোনোভাবেই ইসলামি নয় বরং পাকিস্তান থেকে আমদানিকৃত। আল্লাহ হাফেজ কথাটি মুসলিম বিশ্বের মধ্যে প্রথমে পাকিস্তানে প্রচলিত হয় উর্দু ভাষায়। উর্দু কবিতায় ব্যবহৃত এই আল্লাহ হাফেজকে পাকিস্তানি স্বৈরশাসক জিয়াউল হক রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করলে উর্দুভাষী মুসলিমদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। যদিও আল্লাহ হাফেজ প্রচলনের আগে উর্দুভাষীরা খোদা হাফেজ শব্দটি বিদায় বেলায় ব্যবহার করতেন। পাকিস্তানি স্বৈরশাসকের পৃষ্ঠপোষক উলেমারা যুক্তি প্রদান করেন যে, মুসলিমরা ‘খোদা’ নয়, আল্লাহর প্রার্থনা করেন। বিধায় তারা খোদা হাফেজ বলতে পারেন না। তারা এখন থেকে আল্লাহ হাফেজ বলবেন।

পাকিস্তানি উর্দু ভাষার ওই আল্লাহ হাফেজ নব্বইয়ের দশকে বর্তমানে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত একজন ব্যক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রচারিত হয়। তিনি তার ওয়াজে বলেন, তিনি একবার পাকিস্তানের এক মজলিশে আলোচনা শেষে খোদা হাফেজ বলেন। তখন উপস্থিত এক বিজ্ঞজন ওয়াজ শেষে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করে উপরোক্ত কথা বলেন, মুসলিমরা খোদা নয় আল্লাহর প্রার্থনা করেন বিধায় কথাটি শুদ্ধ হবে আল্লাহ হাফেজ। তিনি বাংলাদেশে বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে এই কথা বলায় তার অনুসারী রাজনৈতিক দলের কর্মীরা ‘খোদা হাফেজে’র বদলে ‘আল্লাহ হাফেজ’ প্রতিষ্ঠিত করাকে তাদের ‘ঈমানি দায়িত্ব’ মনে করে ব্যাপকভাবে ব্যবহার ও প্রচার শুরু করেন। অন্য মুসলিমদের আল্লাহ হাফেজ বলতে উদ্বুদ্ধ করেন।

যদিও আরবিভাষী মুসলিমরা বিদায় সম্বোধন হিসেবে আল্লাহ হাফেজ ব্যবহার করেন না। আগেই বলেছি তারা বলেন, ‘মাসআসসালামা’ বা ইলাললিকা। আর হাফেজ শব্দটি আরবি নয়, ফার্সি, উর্দু বা হিন্দি শব্দ। আরবি ‘হাফিজ’ শব্দ বিকৃত হয়ে ফার্সি, উর্দু বা হিন্দিতে ‘হাফেজ’ হয়েছে। পাকিস্তানিরা আরবি আল্লাহ আর ফার্সি হাফেজ শব্দটি নিয়ে ফার্সি ‘খোদা হাফেজে’র বদলে ‘আল্লাহ হাফেজ’ চালু করেছেন। তাই পাকিস্তানিদের চালুকৃত আল্লাহ হাফেজকে যারা ইসলামি সংস্কৃতি বলে চালানোর জন্য চেষ্টা করছেন তাদের বিশেষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে।

সত্যিকার বাংলাদেশি মুসলিমরা যদি ইসলাম ধর্মের কথোপকথন পদ্ধতি অনুসরণ করতে চায় তবে তাদেরকে জানতে হবে ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কী রীতি অনুসরণ করতেন, সেই বিষয়টি। হজরত মুহাম্মদ (সা.) কথোপকথনের শুরুতে আসসালামু আলাইকুম বলতেন এবং বিদায়ে আস্তাউদি উল্লা-হা দ্বীনকা, ওয়া আমা-নাতাকা ওয়া খাওয়া তীমা আলদীকা (অর্থ: তোমার দ্বীন, ঈমান ও সর্বশেষ আমলের ব্যাপারে আল্লাহকে আমানতদার নিযুক্ত করলাম। (সহীহ তিরমিযী)।

অন্যদিকে আল্লাহ হাফেজের সংস্কৃতি নতুন সৃষ্টি। ইসলাম ধর্মে আছে এমন কোনও বিধানকে নতুন করে সৃষ্টি করা ও অনুসরণ করা ভ্রষ্টতা। মুসলিম শরিফের হাদিসে বলা হয়েছে, নিঃসন্দেহে সর্বোত্তম কথা হচ্ছে, আল্লাহর কিতাব, সর্বোত্তম পদ্ধতি হচ্ছে রাসুলের পদ্ধতি। আর নিকৃষ্ট কাজ হচ্ছে, শরিয়াতে নতুন কিছু সৃষ্টি করা। তাই মুসলিমদের উচিত বাংলাদেশে ইসলাম ধর্মের নামে আল্লাহ হাফেজ চালু করতে চায় এমন ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাকা। তারা ইসলাম ধর্মের নামে সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতেই এমন কাজ করছেন। তাদের ধারণা ইসলাম ধর্মের নামে এভাবে ধীরে ধীরে যদি নতুন নতুন পাকিস্তানি সংস্কৃতি চালু করা যায় তাহলে বাংলাদেশের মুসলিমরা এক সময় পাকিস্তানি মানসিকতায় গড়ে উঠবে। ইসলাম ধর্মের নামে পাকিস্তানি মনন ও চিন্তার প্রচার ও বিকাশের বিষয়ে বাংলাদেশি মুসলিমরা সতর্ক থাকবেন বলে আশা করি।

তিন.

বাংলাদেশের ইসলাম আবরদের চেয়ে পারসিয়ান, তুর্কি, মোগল, পাঠানদের কাছে বেশি ঋণী। সেই কারণে বাংলাদেশের মুসলিমরা ধর্মের ক্ষেত্রে আরবি নয়, ফার্সি নামাজ, রোজা, কোরবানি ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করেন। আল্লাহ হাফেজ নয়, যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশি মুসলিমরা খোদা হাফেজ ব্যবহার করছেন। এখন খোদা হাফেজ ফার্সি হওয়ার কারণে তা বদলাতে হবে এমন দাবি জোরালো হলে ভবিষ্যতে হয়তো ফার্সি হওয়ায় নামাজ, রোজা, কোরবানি শব্দ ব্যবহার করা যাবে না এমন দাবি উঠবে। আর এভাবে বাংলাদেশের সমাজকে ‘আরবীয় করণ’ করা হবে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দেশে উগ্রপন্থী ইসলামী গোষ্ঠীগুলো বিশুদ্ধ ইসলামের নামে এমন আরবীয় করণের চেষ্টা করছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশেও তার প্রভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। এভাবে বিশুদ্ধ ইসলামের নামে বাংলাদেশে আরবীয় করণ ঘটলে উগ্রপন্থীর প্রসার ঘটবে। বাংলাদেশি মুসলিমদের এই বিষয়ে সতর্ক থাকা দরকার।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে সব ধর্মের মানুষের নিজস্ব ধর্ম ও ধর্মীয় বিধান পালনের অধিকার রয়েছে। তাই সম্ভাষণের ক্ষেত্রে যদি কোনও মুসলিম ইসলামি রীতি অনুসরণ করতে চায় তবে তাকে ওপরে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দেখানো পথে চলা উচিত। আর সেই মতে চললে তাকে জঙ্গি বলা বা অন্যভাবে হয়রানি করা যাবে না। এইকভাবে কোনও মুসলিম যদি নিজের মতো করে সম্বোধন করতে চায় তাকেও জোর করে ইসলামি রীতিতে কথোপকথন করতে বাধ্য করা যাবে না, সেই বিষয়টি মুসলিমদের মনে রাখতে হবে। প্রত্যেকের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি অন্যরা সম্মান প্রদর্শন করবেন বলে আমরা আশা করি।

পরিশেষে, মুসলিম বা অন্য ধর্মের মানুষরা শুধুমাত্র তাদের নিজস্ব বলয়ে নিজেদের ধর্মীয় রীতিতে একে অপরকে সম্বোধন করলেও সবচেয়ে ভালো হতো। আর আরবিভাষী, ফার্সিভাষী বা অন্য ভাষার মানুষের মতো সার্বজনীন বা সেক্যুলার সম্বোধন রীতি চালু করা দরকার। কারণ ধর্মের ভিত্তিতে ভাষা ও সংস্কৃতির বিভাজন হলে সমাজও এক সময় বিভক্ত হয়ে পড়বে। সমাজের ওই বিভক্তিরোধে বাংলা ভাষায় সার্বজনীন সম্বোধন রীতি চালুর বিষয়ে ভাষাতাত্ত্বিক, বুদ্ধিজীবী ও সরকার ভাববেন বলে আশা করি।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]

 

 

/এসএএস/এমএমজে/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

লাইভ

টপ