‘কন্ডিশনাল’ সম্পর্ক কিংবা বন্ধুত্বের ‘প্ল্যান বি’

Send
পান্থ রহমান
প্রকাশিত : ১৬:৩১, অক্টোবর ২৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৩৩, অক্টোবর ২৭, ২০২০

পান্থ রহমানকূটনীতিতে কতগুলো শব্দ খুব কমন, নিত্য-ব্যবহৃত। কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শব্দগুলো অতি ব্যবহৃত, বহুল আওড়ানো বুলি। বাংলা-ইংরেজি মিলিয়ে সমমনা সেই কূটনৈতিক শব্দগুলো (জারগন) কূটনীতিকদের মুখস্থ। এই যেমন, বন্ধুত্ব, সহযোগিতা, বন্ধুরাষ্ট্র, কূটনৈতিক বা আঞ্চলিক জোট, সহযোগিতা, দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যু, সমঝোতা, কমফোর্ট জোন, ডায়ালগ, উইন-উইন পজিশন ইত্যাদি।
এই শব্দগুলো কিংবা কূটনৈতিক শব্দকোষে এমন আরও যত সমমনা শব্দ আছে তার বেশিরভাগের মোদ্দা হলো—সহযোগিতা। দ্বিপাক্ষিক হোক বা বহুপাক্ষিক, দ্বি-রাষ্ট্রীয় হোক বা বহুরাষ্ট্রীয় অথবা জোটকেন্দ্রিক; কূটনীতি শুরু হয় সহযোগিতার নাম নিয়েই।
এই যেমন এ অঞ্চলে (দক্ষিণ এশিয়া) কোনও এক সময়, সহযোগিতার নামে একটা জোট হয়েছিল—সার্ক। ধারণা করা হয়েছিল দক্ষিণ এশিয়ার সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নিয়ে এই জোট একে অন্যের পাশে থাকবে। দুনিয়ার সামনে একটা উদাহরণ তৈরি করবে। ভালো সময় তো বটেই, খারাপ সময়েও কেউ কারও হাত ছেড়ে দেবে না। শুরুটা খারাপও ছিল না। নির্দিষ্ট লক্ষ্য অনুযায়ী চলছিল সার্ক। কিন্তু সেই ‘স্বপ্ন-জোট’-এর দম এখন যায় যায়। জোটের গাঁট ঢিলে হয়ে গেছে আগেই। বাঁধনও হালকা হয়ে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পথে। ক’দিন টিকবে সেটা কেবল সময়ই জানে। এখনও যে টিকে আছে, সে কথাই বা বলি কী করে।

এত পরিকল্পনায় সৃষ্টি এই জোট খাপ-ছাড়া হওয়ার কী কারণ? সহযোগিতার নামে সৃষ্টি এই জোটে ‘সহযোগিতা’ শব্দটিই কেন অস্তিত্ব সঙ্কটে? এখন কেন উল্টো অসহযোগিতাই মুখ্য হয়ে উঠলো? এসব প্রশ্নের সরাসরি কোনও উত্তর নেই। তাছাড়া ইস্যুটি এতই স্পর্শকাতর যে যারাও টুকটাক এ নিয়ে কথা বলেন, তারাও আমতা আমতা করেই বলেন। তাদের মতে, এ অঞ্চলের বড় রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত ভারত-পাকিস্তানের পুরনো দ্বন্দ্বই আঞ্চলিক শান্তি আর সহযোগিতার প্রসঙ্গটিকে উহ্য করে রেখেছে। সে কারণেই হতে হতেও হয়নি আন্তঃরাষ্ট্রীয় এই জোটটি। সব মিলিয়ে সহযোগিতা শব্দটি আপাতত মিসিং। আর ‘সার্ক’ কোমায়।

২.

সহযোগিতার ইস্যু ছাড়াও কূটনীতিতে আরেকটি শব্দের বেশ কদর—‘বন্ধুত্ব’! মোটামুটি সব দেশের কূটনৈতিক পরিভাষায় এই শব্দটির গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও ব্যবহার রয়েছে। কূটনৈতিক নীতিমালার বাইবেল হিসেবে পরিচিত ‘ভিয়েনা কনভেনশন’-এও ঘুরিয়ে ফিরিয়ে এই বন্ধুত্বের কথা বলা আছে বারবার। আর দ্বিরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের প্রশ্নে এই শব্দটির বহুল ব্যবহার হয়ে থাকে। দ্বিপাক্ষিক তো বটেই আঞ্চলিক জোটগুলোও বেশ কায়দা করে এবং নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী ‘বন্ধুত্ব’ শব্দটি ব্যবহার করে থাকে।

অথচ কখনও কখনও এই শব্দটির অতিরঞ্জিত ব্যবহার ধন্দে ফেলে দেয়। কোনও কোনও দেশের বেলায় এই শব্দের ব্যবহারে হাসিরও উদ্রেক ঘটায়, কোনও দেশের বেলায় জাগায় সন্দেহ। আন্তঃরাষ্ট্রীয় কূটনীতির এই বৈশ্বিক-খেলায় বন্ধুত্ব শব্দটি এখন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ‘বলার জন্য বলা’ একটি চৌকশ, কিন্তু চটুল শব্দ। সে কারণেই দুনিয়ার বড় বড় দেশ যখন ‘অর্থনৈতিক কূটনীতি’ নিয়ে স্ট্রেইট লাইনে; তখন অনেক ইস্যুতেই ‘বন্ধুত্ব’ শব্দটি আমাদের জন্য অনেকটা এয়ার ট্রাভেলের সময়ে এক্সট্রা লাগেজ বহন করার মতো ব্যাপার, ‘না উগড়ানো যায় না যায় গেলা!’

সে কারণেই হয়তো হঠাৎ করে কোনও রাষ্ট্র বন্ধু বলে ডেকে উঠলে আনমনেই আমাদের চোখ ইতিউতি করে। চোখ দু’টো একটু ঘুরে দেখে আসতে চায়; কেউ আবার সন্দেহ করে ফেললো না তো?

বন্ধু শব্দটার প্রতি এই ভীতি জন্মানোর একটা বড় কারণও কিন্তু বৈশ্বিক কূটনীতি। বন্ধুত্বের বরাত দিয়ে কূটনৈতিক পরিমণ্ডলে ঠকবাজির ঘটনা তো আর কম ঘটেনি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো—এসব ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ছোট দেশগুলো। ‘বন্ধুরাষ্ট্র’র দোহাই দিয়ে ঠকে যাওয়ার তালিকায় নাম আছে বাংলাদেশেরও। তাই শব্দটি নিয়ে একটু বেশিই সতর্ক সবাই!

সন্দেহ কিংবা সতর্কতায় দোষের কিছু নেই। এতে মন খারাপেরও কিছু দেখি না। কারণ, ‘বন্ধুত্ব’ বিষয়টি তো আর টার্গেটেড হতে পারে না। এটা হয়ে যায়, হয়ে যেতে হয়। এই শব্দটি আসলে সহযোগিতা আর আবেগের মিশেল। তাই কোনও রাষ্ট্র যদি বন্ধুত্বের বন্ধন শক্ত না হওয়া পর্যন্ত সতর্ক পা ফেলতে চায়, তাতে দোষের কিছু কেন থাকবে?

আর সতর্কতার ব্যাপারটি কেবল নতুন বন্ধু তৈরির ক্ষেত্রেই নয় বরং পুরনো বন্ধুত্বের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। পুরনো বন্ধুদেরও একে অন্যের ‘আস্থা’ ধরে রাখতে ফি-বছর পরীক্ষা দিতে হয়। আর সেই পরীক্ষায় প্রতিবারই পাস করাটা জরুরি, নইলে যে বন্ধুত্বে ফাটল ধরে!

রাষ্ট্রের সঙ্গে রাষ্ট্রের বন্ধুত্বের বিষয়টাই এমন। এখানে বন্ধুত্ব ‘নট ফর গ্র্যান্টেড’। একবার বন্ধুত্ব হলো আর সারাজীবনের জন্য তারা ‘সুখে শান্তিতে বসবাস করতে লাগলো’ টাইপ নয় একেবারেই। বিষয়টাও এমন সরল নয়। এর সঙ্গে অনেক অনুঘটক জড়িয়ে থাকে। একদিকে যেমন রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি জড়ানো, তেমনি থাকে বৈশ্বিক কূটনীতির প্রভাব। অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বা রাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন আসলে কিংবা বৈশ্বিক-কূটনীতি ওলট-পালট হলে সম্পর্কে উত্থান-পতন ঘটবেই! আর তাতে করে কখনও-সখনও ভুল বোঝাবুঝি হয়, হতে পারে। কখনও দেখা দিতে পারে মতের পার্থক্য। কূটনীতিতে এগুলো স্বাভাবিক ও ধারাবাহিক বিষয়। খারাপ চোখে দেখার সুযোগ নেই। বরং চেষ্টা করতে হয় সেই পার্থক্য দূর করে চলমান বন্ধুত্বটাকে টিকিয়ে রাখার। কিন্তু সেই পার্থক্য যদি বাড়তেই থাকে তখন কিন্তু দীর্ঘদিনের পুরনো বন্ধুত্বেও চিড় ধরতে পারে।

মনে রাখা উচিত সেই মতপার্থক্য যদি কেবলই একতরফা হয় এবং চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতায় পূর্ণ হয় তবে সেখানে বন্ধুত্ব শব্দটি খুব একটা সুবিধা করতে পারে না। তৈরি হয় দূরত্ব। সে দূরত্ব মেটানো খুব সহজ হয় না।

৩.

একটু যাদের চোখ-কান খোলা তারা হয়তো ধরতে পেরেছেন কূটনৈতিক পরিভাষার গুরুত্বপূর্ণ দুই শব্দ ‘সহযোগিতা’ এবং ‘বন্ধুত্ব’ নিয়ে হঠাৎ কেন এত নাড়াচাড়া হচ্ছে। তবে যারা এখনও ভ্রু কুঁচকে আছেন তাদের শুধু মনে করিয়ে দেওয়া; সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের আশেপাশে এই শব্দ দু’টি বেশ উচ্চারিত হচ্ছে। এতটাই বেশি যে মনে হচ্ছে, হুট করেই আমাদের বন্ধু বেড়ে গেছে। অথবা হঠাৎ আমাদের সহযোগিতা করার এবং ‘পাশে থাকার’ মতো শুভাকাঙ্ক্ষীর সংখ্যা বেড়েছে।

বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখেও এর মধ্যে বেশ ক’ধরনের যতি চিহ্ন’র অস্তিত্ব টের পাওয়া যাচ্ছে!

তাতেই শব্দ দু’টির অতি-ব্যবহারকে ‘বাহুল্য’ ঠেকছে। সে কারণেই প্রতিবার ওই শব্দ দু’টির উচ্চারণে সচেতন মানুষের ভ্রু কুঁচকে যাচ্ছে। এটা ঠিক যে বিষয়টি নিয়ে এতটা তটস্থ হওয়ার কিছু হয়নি, তবে সাবধানের মার নেই। তাই সতর্ক হতেও দোষ নেই।

তাছাড়া নিজেদের কূটনৈতিক নীতির কারণেই বাংলাদেশ সব সময় অন্য রাষ্ট্রগুলোর দিকে বন্ধুত্বের এক হাত বাড়িয়ে রাখে। আর হাত বাড়ানো রাষ্ট্রগুলোকে সব সময় স্বাগত জানানোর কথাই বলা আছে স্বাধীন বাংলাদেশের কূটনীতিতে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কূটনৈতিক আদর্শ ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়’ই বাংলাদেশের কূটনৈতিক মূলনীতি। সেই আদর্শ থেকে বিচ্যুত হওয়ার তো সুযোগ নেই, উচিতও নয়। তাই বলে বিষয়টা এমনও নয় যে আমরা বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে রাখবো আর কেউ এসে তার অন্যায় সুযোগ নেবে। সে কারণেই বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন।

আমরা বন্ধু হতে চাই। আমরা যেমন দুর্বলের জন্য সহায়ক হতে চাই, তেমনি বিপদে অন্যের সহযোগিতাও চাই। তাই বলে সেই চাওয়াকে ‘দুর্বলতা’ ভাবলে সেটা কি অন্যায় হবে না? মনে রাখা উচিত বাংলাদেশের উদারতা, বন্ধুত্বের বার্তার সঙ্গে দুর্বলতার কোনও সম্পর্ক নেই। তাই বন্ধুত্ব কিংবা সহযোগিতার নামে বাংলাদেশের কাছ থেকে অন্যায় সুবিধা নেওয়ার চিন্তাটা অন্তত এখনই মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলা উচিত।

মনে রাখা উচিত, বঙ্গবন্ধু শুধু বন্ধুত্বের বার্তাই দেননি হুঁশিয়ারিও দিতে শিখিয়েছেন। বন্ধুর জন্য সব কিছু করা যেমন আদর্শ তেমনি শত্রুকে এতটুকু ছাড় না দেওয়ার দীক্ষাও সেই জাতির পিতাই দিয়ে গেছেন। ফলে আগ বাড়িয়ে শত্রুতা হয়তো করতে চাইবে না বাংলাদেশ, তাই বলে অন্যায় আচরণ সহ্যও করবে না, এটুকু নিশ্চিত। তাতে বন্ধুত্বও টিকবে না। 

৪.

বর্তমান সময়ে বৈশ্বিক-কূটনীতির বড় নীতি হলো অর্থ ও বাণিজ্য সহযোগিতা। সেই সহযোগিতা ইদানীং না চাইতেই মিলছে। পার্শ্ববর্তী দেশগুলো তো বটেই হাজার ক্রোশ দূরের দেশগুলোও কেমন জানি যেচে পরে সহযোগিতা করতে চাইছে। এই চাওয়া নেতিবাচক নয়। কিন্তু এই আগ বাড়িয়ে দেওয়া অর্থনৈতিক সহযোগিতার পেছনে যদি কোনও বিশেষ উদ্দেশ্য থাকে কিংবা এর বিনিময় যদি ‘অতি খরুচে’ হয় তখন কিন্তু সেটা আর সরলরেখা থাকে না। সেটা হয়ে যায় কন্ডিশনাল। বাংলাদেশ সেই কন্ডিশনাল সহযোগিতা থেকে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ থেকে বিশ্ব ব্যাংককে ছিঁড়ে ফেলা দিয়েই বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়া দৃশ্যমান হয়েছে।

ফলে পুরনো বাংলাদেশকে মাথায় রেখে কেউ বা কোনও রাষ্ট্র যদি ‘কন্ডিশনাল বন্ধুত্ব’ করতে আগ্রহী হয়, তাদের বরং ফিরে যাওয়াই ভালো। আমি অন্তত সেই রাষ্ট্রগুলোর এখানে কোনও ভবিষ্যৎ দেখি না। অন্তত বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা যতদিন ওই পদে আসীন আছেন। তাকে একটু বিশ্লেষণ করলেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাওয়ার কথা; এক্ষেত্রে সরকার প্রধানকে বেশ কড়াই মনে হয়েছে!

৫.

... এবং ক’টা সোজা কথা

এতক্ষণের কূটনীতির চাল কিংবা প্যাঁচালগুলোকে একটু সাজিয়ে-গুছিয়ে যদি কিছুটা সোজাসাপ্টা লাইন তৈরি করা যায় তবে দেখবেন, বিষয়গুলো কেমন মিলে যাচ্ছে!

গত কিছুদিনের সংবাদগুলোকে একটু খেয়াল করলে আপনার চোখে বাংলাদেশের দুই পুরনো পার্টনার এবং বন্ধু চীন ও ভারতের আগ্রাসী কূটনীতি আমাদের চোখে পড়বে। যা নিয়ে নানা জনে, নানা মনে, নানা কথা চলমান। করোনার সঙ্কটের মাঝেও এই দু’দেশের কূটনীতিকে আগ্রাসী বলার মূল কারণ অবশ্য তারাই। দেশ দু’টি বাংলাদেশের জন্য বেশ কিছু সহযোগিতার ঘোষণা দিয়েছে, দিয়ে চলেছে। কূটনীতির প্রশ্ন উঠলে একে ভিন্ন চোখে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটা কূটনীতির ধারাবাহিকতার একটা ধরন। কূটনীতিতে যা খুব স্বাভাবিক।

তবুও এ নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। ঘর থেকে শুরু করে সরকারি অফিস, করপোরেট কর্তাদের আড্ডা থেকে একেবারে টঙ দোকানের আড্ডায়ও বেশ রসালো জায়গা পেয়েছে চীন-ভারত ইস্যু। আর চরিত্র অনুযায়ী এ নিয়েও আম-বাঙালির মাঝে ভিন্নমত তৈরি হয়েছে। আছে রাজনৈতিক ভিন্নতাও। অনেকের কাছে আবার এই ইস্যুটি ফায়দা লোটার উপসর্গও। 

ইস্যুটি নিয়ে আলোচনাও দোষের নয়। প্রকৃত উদ্দেশ্য না জানা পর্যন্ত এদিকে বাঁকা দৃষ্টি দেওয়াও অন্যায়। সেই অন্যায় বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ করলেও ডিপ্লোম্যাটদের অন্তত করা ঠিক হবে না। কেননা, বন্ধুরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি কিংবা সম্পর্ক ধরে রাখার ক্ষেত্রে তারাই তো অনুঘটক।

তবে তাদের হাত গুটিয়ে শুয়ে-বসে থাকাটাও অনুচিত হবে। বরং এমন সময় চোখ-কান খোলা রাখা জরুরি। এমন সময় ‘সতর্ক’ থাকা জরুরি। কারণ যতক্ষণ পর্যন্ত কেউ ঝেড়ে কাশছেন ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি কারও উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানেন না। তাই সতর্কতায় দোষ নেই। বরং অসতর্ক হলে রাষ্ট্রের ক্ষতির শঙ্কা আছে। সেটাই বরং দোষের। সেটাই অন্যায়। যে অন্যায় রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল।

যদিও ব্যক্তিগত মত হলো এ নিয়ে খুব একটা চিন্তা করার প্রয়োজন আছে বলেও মনে হয় না। অন্তত যদ্দিন শেখ হাসিনা মসনদে। তার রাজনীতি যতটা খুরধার, তার থেকে বহুগুণে শক্ত তার কূটনৈতিক ক্যারিশমা। সেখানে বন্ধুর জন্য আবেগ আছে ঠিকই কিন্তু সেই আবেগ রাষ্ট্রের ঊর্ধ্বে নয়। তা অন্তত আমাদের বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর এবং বন্ধু হতে চাওয়া রাষ্ট্রগুলোর এতদিনে বুঝে ফেলা উচিত! 

কারণ শেখ হাসিনা ভালো করেই জানেন, বন্ধুত্বের কোনও ‘প্ল্যান বি’ হয় না। বন্ধুত্ব হলো সম্পর্কের সবচেয়ে সরল অবস্থা, ভালো কিংবা খারাপ সব সময়ই যার ওজন সমান হতে হয়। বন্ধুত্ব কখনও কন্ডিশনাল হতে পারে না।

লেখক: ডিপ্লোমেটিক করেসপন্ডেন্ট, চ্যানেল আই

 

 
/এমএমজে/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

লাইভ

টপ