কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার অভাবে এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। রবিবার রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু ঘটে।
নিহত শিশুর নাম অনন্যা। সে উপজেলার বকবান্দা ব্যাপারি পাড়া গ্রামের আনিছুর রহমানের কন্যা।
জানা যায়, গত শনিবার উপজেলার সীমান্ত ঘেষা বকবান্দা ব্যাপারি পাড়া গ্রামের একই পরিবারের ১৩ জন কাঁঠাল খেয়ে অসুস্থ্য হয়ে রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। এসময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দেড় বছরের শিশু অনন্যা ডাইরিয়ায় ভুগতে থাকে। রবিবার রাত ৩টার দিকে হাসপাতালেই শিশুটি মারা যায়।স্বজনদের অভিযোগ, শিশুটি বিনা চিকিৎসায় মারা গেছে।
শিশুটির পিতা আনিছুর রহমান জানান, ডাক্তার থাকলে হয়তো আমার সন্তান চিকিৎসার অভাবে মরতো না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১১জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও দীর্ঘদিন থেকে ২জন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন। গত ১০মে হাসপাতালের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহফুজুল হক ও একজন মাত্র মেডিকেল অফিসার এহসানুল কবির একই সঙ্গে কর্মস্থল ত্যাগ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের এক কর্মচারী জানান, কর্মরত ওই দুই চিকিৎসক কর্মস্থলে বেশ কিছু দিন থেকে অনুপস্থিত রয়েছেন। ওই কর্মচারী আরও জানান, বড় স্যার মাসের বেশির ভাগ সময়ই ছুটিতে থাকেন। হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রম চালাচ্ছেন দু’জন উপসহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার।
এ বিষয়ে জানতে মেডিকেল অফিসার এহসানুল কবিরের মোবাইলে ফোন দিলে তিনি বলেন, আমি ছুটিতে আছি। স্বাস্থ্য ও পপ কর্মকর্তা মাহফুজুল হক বলেন, আমি তো রবিবারে অফিসে গিয়েছিলাম। এখন অফিসিয়াল কাজে কুড়িগ্রামে আছি।
কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন জয়নাল আবেদীন শিশু মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করে জানান, প্রত্যন্ত অঞ্চল হওয়ায় রৌমারী ও রাজিবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোনও চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করতে চান না। কাউকে দায়িত্ব দিলে তিনি বদলি নিয়ে অন্যত্র চলে যান। ফলে প্রায়ই চিকিৎসা সংক্রান্ত সমস্যায় পড়তে হয়।আমরা চিকিৎসকের চাহিদা জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরকে অবহিত করেছি।
/এমএসএম /








