নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ২৮ নম্বর বড়খানকিবাড়ি খারিজা বিলুপ্ত ছিটমহলের বাসিন্দা ময়মনা বেওয়া। নিজেই জানালেন তার বয়স ১২০ বছর। জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা এক নারীর শেষ ইচ্ছা বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একবার দেখার, দুটি কথা বলার।
ময়মনা বলেন, ‘শেখের বেটি হাসিনা হামাক ছিটমহলের ৬৮ বছরের বন্দিদশা থেকে উদ্ধার করিছে। মুই (আমি) প্রধানমন্ত্রীকে দুই চোখ দিয়া প্রাণ ভরি দেখিবার চাও। মোর ম্যালা (অনেক) দিনের শখ। মোর বয়স হইছে ১২০ বছর। আর কতদিন বাঁচিম। মরণের আগত শেখের বেটির দুই নয়ন ভরি দেখিলে মোর জীবনের শ্যাষ (শেষ) আশা পূরণ হইবে।’
বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও মনোবল হারায়নি এই বৃদ্ধা। লাঠিতে ভর দিয়ে নিজেই চলাফেরা করেন। তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বামী বাবর আলী দেওয়ান মারা যান। ১৪ বছর বয়সে তার বিয়ে হয়েছিল। ৭ ছেলে ও ৭ মেয়ের জননী তিনি। এর মধ্যে ২ ছেলে ও ৪ মেয়ে মারা গেছে। বেঁচে আছে ৫ ছেলে ৩ মেয়ে।
বড় ছেলে লাল মামুদ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি এখন পরিবার পরিজন নিয়ে ডিমলা উপজেলার গয়াবাড়ী ইউনিয়নের পশ্চিম খড়িবাড়ীর পূর্ব পাড়া গ্রামে বসবাস করছে।
সবার মাথার ছায়া হয়ে বেঁচে আছেন ময়মন বেওয়া। যার নির্দেশে এখনও চলে পুরো পরিবার। বড় ছেলে লাল মামুদ বলেন, ‘ছিটমহলবাসীদের দুঃখ আর দুর্দশা আমার মায়ের স্মৃতিতে গাঁথা আছে।’
ময়মনার ইচ্ছে থাকার পরও ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া করাতে পারেনি। কারণ ছিটমহলে ছিল না স্কুল, কলেজ, মাদ্রসা। এছাড়া হাসপাতাল, রাস্তা-ঘাটও ছিল না। ছিল না বিধবা কিংবা বয়স্ক ভাতা। বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় তাদের সারা জীবন কেটেছে অন্ধকারে। হতে পারেননি ভারতের নাগরিক কিংবা বাংলাদেশের নাগরিক।
ময়মনা এখনও স্বামীর ভিটায় বাস করেন। মেজ ছেলের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৫৫), দুই নাতি জিন্নু ও আবুল হোসেনসহ ৯ সদস্যের পরিবারের তার বাস।
স্বামীর কবর বিলুপ্ত ছিটমহলের ভেতরে থাকায় স্বামীর ভিটা ছাড়েননি তিনি। জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা এই বৃদ্ধা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে চান, দুটি কথা বলতে চান।
/এসটি/
আরও পড়ুন: পরিবেশ ছাড়পত্র নেই খুলনার ক্লিনিক ও ডায়গনস্টিক সেন্টারগুলোর








