সিলেট মহানগরীর ভিআইপি সড়কের রিকাবীবাজার পয়েন্ট থেকে চৌহাট্টামুখী রাস্তার মধ্যবর্তী অংশের কালভার্টের নিচ থেকে ১১ টন ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করেছে সিটি করপোরেশন। ৪৫ ফুট লম্বা ও ১২ ফুট চওড়া এই কালভার্টের নিচ থেকে এই বিপুল পরিমাণ আবর্জনা পরিস্কারের ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন খোদ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
জানা গেছে, ১ নম্বর ওয়ার্ডের দরগাহ’র পশ্চিমের ছড়া এবং ২নং ওয়ার্ডের জেলা স্টেডিয়াম ঘেঁষা প্রবাহমান মুঙলীছড়ার মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছে এই কালভার্টটি। গত সোমবার থেকে মুঙলীছড়া পরিস্কার করতে নামে সিলেট সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা। বৃহস্পতিবার পরিচ্ছন্নতা কাজ পরিদর্শন করতে যান সিটি করপোরেশনের প্রধান নিবার্হী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব। কালভার্টের নিচ থেকে বের করা ময়লা-আবর্জনা তখন পাশ্ববর্তী জায়গায় জড়ো করে রাখা ছিল। এত বিপুল পরিমাণ আবর্জনা কালভার্টের নিচে জমা ছিল জেনে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি দ্রুততার সঙ্গে আবর্জনা সিটি করপোরেশনের ট্রাক যোগে সরানোর নির্দেশনা দেন।
এনামুল হাবীব বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, মুঙলী ছড়াসহ সিলেট মহানগরীর অন্যান্য ছড়া ও খাল যাতে পরিস্কার থাকে সেজন্য সিটি করপোরেশন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। মুঙলীছড়াকে খনন করে আরও সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখার স্বার্থে শিগগিরই এস্কেভেটর নামিয়ে কাজ করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
আগামী রবিবার থেকে মহানগরীর আরও পাঁচটি স্পটে একযোগে ছড়া ও ড্রেন পরিচ্ছন্ন করা হবে জানিয়ে এনামুল হাবীব বলেন, শুধু সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে এ সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হবে না। এজন্য নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে। ছড়া-খাল ও ড্রেনে অবাধে পলিথিন, হোটেল-রেঁস্তোরা, বাসা-বাড়ির আর্বজনা ফেলা বন্ধ করতে হবে।
কালভার্টের নিচের আবর্জনা প্রসঙ্গে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান কনজারভেন্সি অফিসার মো. হানিফুর রহমান জানান, কালভার্টের নিচ দিয়ে পানি, গ্যাসসহ বিভিন্ন সংস্থার বড় সাইজের পাইপ থাকার কারণে এবং ছড়া ও খালের পানিতে অনবরত আবর্জনা বিশেষ করে পলিথিন ফেলার কারণে কালভার্টের নিচে ময়লা ও আবর্জনার স্তূপ জমে যায়। এবার প্রায় ১১ টনের মত বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা একাধিকবার কালভার্টের নিচ পরিস্কার করলেও কিছুদিন পর পুনরায় একইরকম আবর্জনার স্তূপ জমে যায়। এক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন অনেকটা অসহায়।
সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ তৌফিকুল হাদী বলেন, নগরবাসী যাতে ছড়া ও খালে আবর্জনা না ফেলেন সেজন্য আমরা বারবার আহ্বান জানাচ্ছি। ছড়া ও খালের পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতার অন্যতম কারণ হচ্ছে এই ময়লা-আবর্জনা। জলাবদ্ধতা নিরসন করতে হলে ছড়া ও খালের পানির প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে।
পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) নূর আজিজুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী আলী আকবর, কনজারভেন্সি ইন্সপেক্টর আনোয়ারুল হক, সুপারভাইজার জালাল আহমদ, মনির আহমদসহ আরও অনেকে।
আরও পড়তে পারেন: হাসনাতের মোবাইলে ছিল জঙ্গিদের বিশেষ অ্যাপ
/এমও/এমএসএম /








