‘জঙ্গি সম্পৃক্ততার’ অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইব্রাহীম আদহাম নামের এক শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের সদস্যরা। আটক ইব্রাহীম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি’র (আইআইটি) ৪৩ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। শনিবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত ও পরিসংখ্যান ভবনের তৃতীয় তলা থেকে তাকে আটক করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম রাত সোয়া নয়টার দিকে বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। উপাচার্য বলেন, ‘এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানার জন্য আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি।’
এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহসিনুল কাদিরকে ফোন করা হলে তিনি এ ব্যাপারে অবগত নন বলে জানান। তবে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, দুপুরে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের কয়েকজন সদস্য ক্যাম্পাসে এসে ইব্রাহীম আদহামের খোঁজ করে। তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানান, সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে ইব্রাহীমের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হবে।
পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনুমতি দিলে দুজন ছাত্রলীগ নেতার সহায়তায় তাকে আটক করা হয়।
ইব্রাহীমের সহপাঠীরা জানিয়েছে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আগে তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। জাহাঙ্গীরনগরে চান্স হলে তিনি শাহজালালের ভর্তি বাতিল করেন।
আইআইটি’র পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) কে এম আককাছ আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে গণিত ও পরিসংখ্যান ভবনে ইব্রাহীমের ক্লাস চলছিল। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়দানকারী কয়েকজন ব্যক্তি বিভাগে এসে ইব্রাহীম কোথায় আছে জানতে চায়। ওই ব্যক্তিরা আমাকে জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া হয়েছে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। পরে তাকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলে ইব্রাহীমের আসন বরাদ্দ থাকলেও তিনি রাজধানীর কল্যাণপুর থেকে ক্যাম্পাসে যাতায়াত করতেন বলে তার সহপাঠীরা জানিয়েছে।
সহপাঠীরা আরও জানায়, ইব্রাহীম সৌদি আরব ও বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিক। তার জন্ম সৌদি আরবে। তিনি পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত পরিবারের সাথে সেখানে থাকতেন।
/এমপি/







