খাগড়াছড়ির লক্ষিছড়ি উপজেলার জনবলের অভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রম। এ উপজেলায় ১৭টি সরকারি অধিদফতরে মাত্র একজন কর্মকর্তা আছেন। ফলে নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন লক্ষিছড়িবাসী।
জানা যায়, জেলার নয় উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে দুর্গম উপজেলা লক্ষিছড়ি। লক্ষিছড়ি, বর্মাছড়ি ও দুল্যাতলী ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই উপজেলায় লোকসংখ্যা প্রায় এক লাখ। জনগণকে সেবা দিতে এই উপজেলায় ১৭টি সরকারি দফতর আছে। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ১৬ দফতরে নেই উপজেলা পর্যায়ের কোনও কর্মকর্তা। শুধু উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা থাকলেও তিনি কোনও কারণে বাইরে থাকলে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড অচল হয়ে পড়ে।এছাড়া বুধবার ও বৃহস্পতিবার কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপজেলা সদরে থাকেন না।। ফলে সব ধরনের সেবা থেকে বঞ্চিত হন এলাকাবাসী।
লক্ষিছড়ি উপজেলার দুল্যাতলী এলাকার রতন চাকমা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তিনি প্রায় ১০ কিলোমিটার দূর থেকে উপজেলা হেডকোয়ার্টারে এসেছেন গবাদিপশু এবং কৃষি বিষয়ক কিছু পরামর্শ নিতে। কিন্তু উপজেলায় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এবং কৃষি কর্মকর্তার কেউ নেই। এমনকি দু’অফিসে কোনও কর্মচারীও না থাকায় হতাশা ব্যক্ত করেন তিনি।’
লক্ষিছড়ি উপজেলা সদরের বাসিন্দা তাতুমনি চাকমা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জনবলের অভাবে ১৫ আগস্টের কর্মসূচি পালন করেছেন শুধুমাত্র উপজেলা চেয়ারম্যান ও যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা। ফলে লক্ষিছড়ি, দুল্যাতলী ও বর্মাছড়ির লোকজন কোনও সেবা পাচ্ছেন না।’
লক্ষিছড়ি উপজেলার ময়ূরখীল এলাকার ছাত্র রহমান ফরহাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তিনি রবিবার বিভিন্ন কাগজপত্র সত্যায়িত করতে লক্ষিছড়ি উপজেলায় গিয়ে কোনও গেজেটেড কর্মকর্তাকে পাননি। ফলে এগুলো সত্যায়িত করতে তাকে পাশের মানিকছড়ি উপজেলায় যেতে হয়েছে।’
লক্ষিছড়ি উপজেলার বাজার এলাকার বাসিন্দা দেবু বিকাশ দে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘লক্ষিছড়িবাসী খুবই অবহেলিত। এখানে ভারপ্রাপ্ত ছাড়া আর কিছুই নেই। বুধবার-বৃহস্পতিবার অফিসের কোনও কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকেন না। ফলে সেবা বঞ্চিত হন জনগণ।’
লক্ষিছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান সুপার জ্যোতি চাকমা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জনবলের অভাবে উপজেলা প্রশাসন স্থবির হয়ে আছে। এই এলাকার জনসাধারণ কোনও সেবা পান না। এমনকি উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা না থাকায় অনেক সরকারি কর্মচারীরাও ঠিকমতো বেতন পাননা।’
তিনি আরও বলেন, ‘উপজেলায় প্রশাসনিক অবস্থা যেমন নাজুক, তেমনি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডও নেই বললেই চলে। তিনি একাধিকবার খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখলেও কোনও ফল হয়নি।’
এই বিষয়ে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘লক্ষিছড়ি উপজেলায় বেশ কয়েকটি বিভাগ জেলা পরিষদে হস্তান্তর করা হয়েছে। জনবল নিয়োগ দিতে চিঠি দেওয়া হলেও কোন ফল হয়নি।’
এ সময় তিনি উপজেলায় জনবল নিয়োগ দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
/এসএনএইচ/








