বগুড়ার শেরপুরে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত দুই জঙ্গির লাশ চারদিন ধরে মর্গে রয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত তাদের লাশ স্বজনদের কেউ দেখতে আসেনি। ময়নাতদন্ত শেষে তাদের মরদেহ শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গের হিমঘরে রাখা হয়েছে। কেউ নিতে না এলে দুই এক দিনের মধ্যে দাফনের জন্য আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামকে দেওয়া হবে।
নিহত জঙ্গিরা হলো নিষিদ্ধ ঘোষিত জেএমবির উত্তরাঞ্চলের সামরিক শাখার কমান্ডার চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার হামিদপুর গ্রামের এনামুল হকের ছেলে খালেদ হাসান ওরফে বদর মামা (৩২) ও তার সহযোগী রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানার পাঠানপাড়ার মৃত গোলাম সবুরের ছেলে ইব্রাহিম গোলাম তারেক ওরফে রিপন (২৮)।
পুলিশ জানায়, নিহত জঙ্গি বদর মামা দিনাজপুরে ইতালীয় চিকিৎসক পিয়ারী হত্যাচেষ্টা, কান্তজির ও ইস্কন মন্দিরে হামলা এবং একটি পেট্রোল পাম্পে ডাকাতি মামলার আসামি। তার সহযোগী রিপন জেএমবির আত্মঘাতী স্কোয়াডের সদস্য ও ‘আনসার রাজশাহী’র প্রধান। গত ২৩ এপ্রিল তার বাড়িতেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক এএফএম রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে হত্যার পরিকল্পনা করে জঙ্গি সুবাস, খালিদ, বাইক হাসান ও গুলশান হামলায়জড়িতবগুড়ার শাজাহানপুরের খায়রুল ইসলাম পায়েল ওরফে বাঁধন। সেখান থেকে বের হয়ে ওই শিক্ষককে হত্যা করা হয়েছিল।
ছিলিমপুর পুলিশ ফাঁড়ির টিএসআই শাহআলম জানান, নিহত দুই জঙ্গির লাশ গত চারদিনে কেউ দেখতে আসেনি। লাশ দুইটি মর্গে রয়েছে। কেউ নিতে না এলে ২-১ দিনের মধ্যে দাফনের জন্য আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামকে দেওয়া হবে। একই মন্তব্য করেছেন, সিনিয়র এএসপি (মিডিয়া) গাজিউর রহমান সাগর।
গত ২৮ আগস্ট গভীর রাতে বগুড়ার শেরপুরের সিরাজনগর নয়লাপাড়া মোড় এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ জেএমবির জঙ্গি বদর মামা ও রিপন নিহত হন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চার রাউন্ড গুলিভর্তি একটি বিদেশি পিস্তল, একটি বিদেশি চাকু ও গ্রেনেড তৈরির কিছু সরঞ্জাম উদ্ধার করে। পরদিন পুলিশ শেরপুর থানায় নিহত ওই দুই জঙ্গি ছাড়াও অজ্ঞাত ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে অস্ত্র, বিস্ফোরক, পুলিশের ওপর হামলা ও হত্যার দায়ে পৃথক তিনটি মামলা করে।
এমএসএম/








